আত্মমর্পনের পরও বেপরোয়া সুন্দরবনের দস্যু তরিক 

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা : আত্মসমর্পনের পরও বেপরোয়া হয়ে পড়েছে এক সময়ের সুন্দরবনের দস্যু তরিক। সুন্দরবনের নোয়া/নওয়া ভাই বাহিনীর সদস্য ছিল সে। বছরখানেক আগে দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনের আশায় অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তরিক। আনুষ্ঠানিকভাবে বনে দস্যুতা ছাড়লেও এখন সে উপকূলে বিভিন্ন চিংড়ি ঘের লুটপাট, হুমকি-ধামকি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ সাধারণ লোকজনকে নির্যাতন করে যাচ্ছেন তরিক। এ ব্যাপারে মোংলা থানায় একাধিক অভিযোগও দায়ের হয়েছে।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের বৈদ্যমারী এলাকার মৃত আঃ মজিদ শেখের ছেলে তরিক শেখ (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে দস্যু বাহিনী গড়ে জেলেদের নির্যাতন করে করে আসছিল। কিন্তু বছরখানেক পূর্বে তরিক তার নিজের ভুল বুঝতে পেরে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তবে তিনি জেলেদের উপর নির্যাতন হামলা ও লুটপাটের প্রশিক্ষণ ভুলেননি। চিলা ইউনিয়নের বৈদ্যমারী বাজার এলাকার বাসিন্দা দুলাল শেখ, বাবুল শেখ, মহিউদ্দিন মল্লিক ও মোঃ সোহাগ বলেন, তরিক শেখ সুন্দরবনের দস্যুতা ছাড়লেও তার ভিতরে দস্যুতার হিংস্রতা রয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত সে এলাকার বিভিন্ন চিংড়ি ঘের লুটপাট, সাধারণ লোকজনকে অহেতুক হয়রানী ও নির্যাতনসহ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করে থাকেন। এছাড়াও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তার গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে চায়ের দোকানীদের টাকা পর্যন্ত দেন না তরিক। চিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন ও ওই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর সোহরাব শেখ বলেন, তরিকের কর্মকান্ড সম্পর্কে আমরা আতংকে আছি। সে এক সময় সুন্দরবনের ডাকাত ছিল। ডাকাতি ছাড়লেও সে এলাকায় নানা রকম অপকর্ম করছেন। এজন্য তাকে আমরা সতর্ক করেছি। তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তারা জানান। তবে এ বিষয়ে তরিক শেখের মোবাইল ফোনে ( নম্বর ০১৭২৬ ৮৬৫৭৮৪) একাধিক বার কল করেও তার সাথে কথা বলা যায়নি। এ ঘটনায় মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, তরিক শেখের বিরুদ্ধে শনিবার দুপুরে থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত স্বাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত জানানঃ