আব্বু আম্মুকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে 

বাগেরহাট অফিস: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে‘আব্বু প্রথমে আম্মুকে মারপিট করে। পরে আমাকে বলে পুকুরে গিয়ে গোসল করে আস। আমি ছোট ভাই তাহ্মিদকে নিয়ে চলে যাই। এর পরে ঘরে ফিরে দেখি দরজা বন্ধ। আম্মুকে ডাকি কিন্তু সে সাড়া দেয়না। পরে দেখি জানালা খোলা। আব্বু ঘরে নেই। আম্মু ঝুলে আছে। ডাকি কিন্তু কথা বলেনা। আব্বুই আমার আম্মুকে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। পরে পুলিশ আম্মুর লাশ নিয়ে যায়। আব্বুকেও আর দেখিনা’। চিরতরে মাতৃহারা হবার ঘটনার বর্ণনা এভাবেই দিলেন ৯ বছরের শিশু তামিম।

৩ এপ্রিল ২০১৮ইং তারিখের ঘটনা। ঘটনাস্থল মোরেলগঞ্জের জিউধরা ইউনিয়নের বরইতলা গ্রাম।

পেশাদার মটরসাইকেল চালক এমদাদুল হক বাচ্চু সকাল থেকে ঘরে অবস্থান করে। ২য় স্ত্রী রেশমা বেগমের সাথে ঝঁগড়া ঝাটি প্রায় হয়ে থাকে। মারপিটও করে তাকে। এদিনও ব্যাতিক্রম হয়নি। সন্তানদের সামনেই স্ত্রীকে পিটায় বাচ্চু। কিছুক্ষন পরে সন্তান তামিমকে পাঠিয়ে দেয় গোসলে। নির্জন ঘরে ওই সময় স্ত্রী রেশমার জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেয় স্বামী বাচ্চু। হত্যার এই ঘটনাটি আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করতে লাশ ঝুলিয়ে রেখে ঘরের ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে জানালা খুলে পালিয়ে যায় বাচ্চু।

লাশ ঝুলন্ত থাকার খবরই জানানো হল থানায়। সে মোতাবেক অপমৃত্যু মামলা রেকর্ডও হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশেরও নজরে আসে বেশ কিছু আলামত। যা মারপিট ও হত্যার প্রমান বহন করে। খুজে পাওয়া গেলনা রেশমার স্বামীকে। কিআর করার। মামলাতো অপমৃত্যুরই হয়েছে। আপাতত আর কিছুই করার নেই।

নিহত রেশমার শরীরে প্রচুর কালো দাগের কথা উল্লেখ করেছেন সুরতহাল প্রস্তুতকারি কর্মকর্তা পিএসআই মো. তরিকুল ইসলাম। লাশ দাফনের ২/১দিন পরেই মুখ খোলেন শিশু তামিম। বর্ণনা দিলেন তার মাকে কিভাবে তার পিতা হত্যা করেছে। তামিমের মুখের কথা বিভিন্ন জন শোনার পরে চেষ্টা চালানো হয় হত্যা মামলা দায়েরের জন্য। কিন্তু পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তা আর হবার নয়।

এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছেন শিশু তামিমও। তার পিতা লোক লাগিয়ে দিয়েছে তামিমকে তুলে নেওয়ার জন্য। বিষয়টি বুঝতে পেরে তামিমকে খুলনায় নিয়ে রেখেছেন তার মামা ও নানী। ঘটনার পর থেকে আজ অবধি রেশমার ঘাতক স্বামী বাড়ি ফেরেনি। জানা গেছে, সে মোংলায় মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরধের সাথে জড়ি

আপনার মতামত জানানঃ