উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

* দুর্নীতি করেই কারাগারে খালেদা জিয়া

* ভোলার গ্যাস আসবে খুলনা-বরিশালে

* ২০২১ সালের মধ্যে প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ

* খুলনাঞ্চলকে অচল করেছিলো বিএনপি

* খুলনা আজ শান্তির শহরে পরিণত

* খুলনাঞ্চলে ১শ’ প্রকল্পের উদ্বোধন

 

 

খুলনা : উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আসন্ন জাতীয় সংসদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামীতেও নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ মাস আমাদের ঐতিহাসিক মাস। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিন। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের বাঙালি জাতির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপর আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। আমরা বিজয়ী হই।

বিজয়ী জাতি হিসেবে আজ বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আপনারা জানেন, পদ্মাসেতু থেকে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট হয়ে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেলসেবা চালুর উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছি আমরা। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ফিরিস্তি তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত সরকারের হত্যা-লুটপাট কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছে, আদালতের রায়ে সে কারাগারে, আমাদের কিছুই করার নেই। দুর্নীতি করেছে, তাই খালেদা জিয়া কারাগারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভোলা থেকে পাইপ লাইনে বরিশাল এবং খুলনায় গ্যাসের ব্যবস্থা করা হবে। অচিরেই এর প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভোলায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়াকে সুখবর বলে তিনি জাতিকে অবহিত করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে আমরা বদ্ধ পরিকর। তিনি বলেন, ১৬শ’ মেগাওয়াট থেকে এখন ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হবে।

প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, বন্ধ কলকারখানা চালু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট, পুল-ব্রিজ নির্মাণ, মংলা বন্দর পর্যন্ত রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৬৮ লাখ মা-বোন ভাতা পাচ্ছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের বই কিনতে হয়না, বই কেনার দায়িত্ব আমি নিয়েছি। বিনা পয়সায় জানুয়ারির ১ তারিখে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় এসে মোংলা বন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল, মিল কলকারখানা বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা এগুলো চালু করেছি। খুলনাঞ্চলে বিএনপির আমলে নিহত মঞ্জুরুল ইমামসহ বিভিন্ন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ কঠোর হস্তে দমন করেছি।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ’র সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তৃতা করেন কেন্দ্রিয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, আবু সাইদ আল মামুন এমপি, খালিদ মামুন চৌধুরী এমপি, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রিয় নেতা সুজিৎ রায় নন্দি, কেন্দ্রিয় নেতা অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম মিলন, পঙ্কজ দেবনাথ এমপি, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম কাওছার, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এমপি, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ, অ্যাডভোকেট শেখ মো. নূরুল হক, সাবেক ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী, কেন্দ্রিয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হোসনে আরা রুনু, পারভীন জামান কল্পনা, মাহমুদা বেগম, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নাজমা আক্তার, ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিৎ অধিকারী, সদর থানা সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি বুলু বিশ্বাস, শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আনিছুর রহমান পপলু, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আশরাফুজ্জামান বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বিএম জাফর, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক লুৎফুন্নেছা লুৎফা, হোসনে আরা চম্পা, মালিক সরোয়ার উদ্দিন, রণজিৎ কুমার ঘোষ, অ্যাডভোকেট রাবেয়া অলি করবী, সেলিমা আক্তার প্রিয়া, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি সভাপতি শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন, সাধারণ সম্পাদক এসএম আসাদুজ্জামান রাসেল, জেলা সভাপতি পারভেজ হাওলাদার।

এর আগে ২ হাজার ৪১ কোটি টাকার ১শ’ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে সার্কিট হাউজ ময়দানের জনসভার পূর্বে মঞ্চের পাশে তৈরি করা একটি বোর্ডে সুইচ টিপে তিনি এর উদ্বোধন করেন। ৩টা ৩২ মিনিটে তিনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষন শুরু করেন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৬৭৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ৪৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১ হাজার ৩৩৬ কোটি ৪ লাখ টাকার ৫৩টি নতুন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। উদ্বোধন হওয়া ৪৮টি প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে সকাল ১১টায় মহানগরীর খালিশপুরস্থ আইইবি কেন্দ্রে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর ৫৮তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি প্রকৌশলীদের সরকারের উন্নয়র পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের ওপরই বর্তায়। কাজেই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আপনারা পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, আইইবির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত জানানঃ