এগিয়ে চলেছে দাকোপের ভদ্রা ব্রীজের নির্মান কাজ

দাকোপ(খুলনা) : এগিয়ে চলেছে দাকোপের ভদ্রা ব্রীজের নির্মান কাজ।খুলে যাবে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত।
তিনটি দ্বীপের সমন্ময়ে গঠিত দাকোপ উপজেলা। দ্বীপ ৩টি ৩১,৩২ ও ৩৩ নং পোল্ডার নামে পরিচিত। ৩১ নং পোল্ডারে আছে পানখালী, তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন এবং চালনা পৌরসভা। ৩২ নং পোল্ডারে আছে কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন ৩৩নং পোল্ডারে রয়েছে দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া ও বানীশান্তা ইউনিয়ন। এই ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জনসংখ্যা-১লক্ষ ৭৫ হাজার ৪০৯জন (২০১১-এর আদমশুমারী অনুযায়ী)। একটি পোল্ডার থেকে অণ্য পোল্ডারে যেতে হলে অবশ্যই নদী পার হতে হবে। খেয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। বর্ষাকালে তো যাত্রীদেও ভোগান্তির সীমা থাকে না। স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল বড়ই বিচ্ছিন্ন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এ এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। সাবেক সাংসদ ননীগোপাল মন্ডলের সময় বেশকিছু পাকা রাস্তা এবং ছোট ছোট নদীতে ব্রীজ কালভার্ট নির্মিত হওয়ায় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছে। তাঁর সময়ে দাকোপে তিনটি ব্রীজের প্রস্তাব ছিল। সেগুলি হল ঝপঝপিয়া নদীর উপর পানখালী ব্রীজ, চুনকুড়ী নদীর উপর পোদ্দারগঞ্জ এবং কালিনগরের ভদ্রা নদীর উপর ব্রীজ। ৩টির মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে দাকোপের কালিনগরে ভদ্রা নদীর ব্রীজ।
৬ জানুয়ারী ২০১৭ তারিখে খুলনা-১ এর বর্তমান সাংসদ পঞ্চানন বিশ্বাস কালিনগর জিসি-খুটাখালী জিসি রাস্তায় ভদ্রা নদীর দীর্ঘ পিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
গুরুত্বপূর্ন ৯(নয়টি) ব্রীজ নির্মান প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ব্রীজটি নির্মান করা হচ্ছে। এ ব্রীজ নির্মানের বরাদ্দকৃত অর্থ-৪২কোটি ৩৫ লক্ষ এবং এর চুক্তি মূল্য ৩৭ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। ব্রীজটি লম্বায় ৩০১.৪০ মিটার এবং ভায়াডাক হবে ১৪০.১৬ মিটার। ব্রীজটি নির্মান করছে পি,টি,এস,এল মৈত্রী প্রাইভেট লিমিটেড নামক একটি নির্মান প্রতিষ্ঠান। কাজটি বাস্তবায়ন করছে এলজিইডি দাকোপ। ব্রীজটির কাজ ১৫ আগষ্ট ২০১৭ তারিখে শুরু হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখাযায় ব্রীজটির মূল ৭ স্প্যানের ৫টি সম্পন্ন হয়েছে এবং আর দু’টির কাজ দ্রুত চলছে। অবশ্য উপজেলা এলজিইিডি অফিস বলছে ব্রীজের কাজ ৩০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ব্রীজটি সম্পন্ন হলে পাইকগাছা,কয়রা ও মোংলার সাথে সড়ক ব্যবস্থার নতুন যোগসূত্র স্থাপন হবে। যোগাযোগ ও পরিবহন সুবিধা পাবে কয়েক লক্ষ মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ তৌহিদুল হক জোয়দ্দার প্রতিবেদককে বলেন, ব্রীজটির কাজ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছে, আশাকরি বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে।
এদিকে দাকোপের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, চালনা- খুলনা মহাসড়কে ঝপঝপিয়া নদীর উপর পানখালী ব্রীজের কাজটি শুরু না হওয়ায় হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন অনেকে। দাকোপবাসীর দাবি যত দ্রুত সম্ভব পানখালী ব্রীজটি নির্মানের কাজ শুরু করা হোক।

আপনার মতামত জানানঃ