ঐক্যে গতিশীল রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদল

আল-আমিন মিন্টু , রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে সংগঠনটি ঐক্যের ও সাংগঠনিক ক্ষমতার প্রমান রেখেই রাজপথ কাপিয়ে চলছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বয়সে তরুণ বলে সংগঠনের নেতৃত্বও শক্ত। বিগত ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ছাত্রদল ঐক্যের দূর্বলতা ও বয়স্কদের দিয়ে দায়িত্ব পালন সংগঠনটির অগ্রগতিতে নানাবিধ প্রতিকূলতা সম্মূখীন হতে হয়েছে বলে অভিমত প্রবীণ রাজনীতিবীদদের। ছাত্র দলের তরুণদের দিয়ে রাজপথ কাপাতে হয়। গোড়ায় গলদ ছিল বলেই আন্দোলন বেগবান করতে পারেনি দলটি।
২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগেই রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদল তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও সংগঠন গুছানোর কাজ শেষ করেছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন দলটির অনেক প্রবীন নেতা। তারা আরও বলেন, দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কারনে ছাত্রদল তাদের ঐক্যের শক্তি দেখাতে ও প্রমান করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার নেপথ্যের কারন হিসেবে একাদিক ছাত্রদলের নেতারা জানিয়েছেন, রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদলের কমিটি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি পাশাপশি ও একি ইউনিয়নে ছিল। এছাড়া থানা কমিটির একাদিক নেতার বাড়িও ভূলতা ইউনিয়নে ছিল। কমিটির প্রথম সারির পদগুলো থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে বসবাসরত ত্যাগী নেতাদের দিয়ে গঠন না করার কারণে সংগঠনটি নিস্কৃয় হয়ে পড়ে। বিগত দিনের থানা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা নিজের আখের গুছাতেই ব্যস্থ সময় পার করেছেন। সংগঠনের পদের বলয় ও প্রভাব দেখিয়ে ভূসম্পত্বির মালিকসহ নগদ টাকার মালিক হয়েছেন। অভিযোগ করে বলেন, সে সময় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ছাত্রদলের কমিটি পেতে গুনতে হতো লাখ লাখ টাকা। টাকার বিনিময়ে কমিটি দেয়ার কারণে অযোগ্যরা ও অছাত্ররা ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পায়। সাধারন ছাত্রদের কাছে সংগঠনটি গ্রহনযোগ্যতা হারাতে বসে।
বিগত ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের কমিটির বাহিরে থেকেও দলীয় এবং সংগঠনের জন্য কাজ করে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেন, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা আবু মোঃ মাসুম, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের আজিম সরকার, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সুহেল মিয়া, মাসুম মিয়া, দাউদপুর ইউনিয়নের সুলতান, তারাব পৌরসভার আহাম্মেদ রাসেল। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায় ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন কাঞ্চন পৌর এলাকার ছাত্রদল নেতা আমিরুল ইসলাম ইমন। এ সংগঠনকে শক্তিশালী করতে রাজ পথে মিটিং মিছিলসহ অনেক কর্মসূচি পালন করেছেন। দলীয় কর্মসূচি ও সরকার পতনের আন্দোলন, সংগ্রাম করতে গিয়ে কারা বরনসহ বহু মামলার আসামীও হয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাহাফুজুর রহমান হুমায়ূন আকন্দ বলেন, আমিরুল ইসলাম ইমন ছাত্র দলের পরিক্ষিত নেতা। প্রায় এক যুগ ধরে সে ছাত্র দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন। বর্তমানে এ আলোচনা দলের নীতি নির্ধারকদেরসহ কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন দক্ষ নেতাদের আলোচনায় আমিরুল ইসলাম ইমন। আমি বিশ্বাস করি আমিরুল ইসলাম ইমন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র দলের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
কাঞ্চন পৌরসভার সাবেক মেয়র মজিুবুর রহমান বলেন, আমিরুল ইসলাম ইমন রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদল সুসংগঠিত করার কারিগর। আমি জানতে পেরেছি সে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছাত্রদল সুসংগঠিত করতে শুরু করেছেন। তার মতো পরিশ্রমী ছাত্র নেতা দলের জন্য বেশ প্রয়োজন।
কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট গোলজার হোসেন বলেন, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা আবু মোঃ মাসুম, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের আজিম সরকার, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সুহেল মিয়া, মাসুম মিয়া, দাউদপুর ইউনিয়নের সুলতান, তারাব পৌরসভার আহাম্মেদ রাসেলদের মতো নেতাদের থানা ছাত্র দলের দায়িত্ব দেয়া হলে দলের সঠিক মূল্যায়ন হবে।
রূপগঞ্জ থানা তাঁতী দলের সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লা বলেন, ছাত্র দলের যত নেতা আছে তাদের সবাইকে পদ দেয়া নাও হতে পারে। সংগঠনের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হলে ছাত্র দলের আমিরুল ইসলাম ইমনকে মূল্যায়ন করতে হবে। সে খোব পরিশ্রমী নেতা। পাশাপাশি তার সাথে যে সকল নেতারা আছেন তারা দলের প্রান ও ছাত্র দলের শক্তি।

আপনার মতামত জানানঃ