কুষ্টিয়ায় সুজন-লাকীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী শুরু

এস এম জামাল, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার সুজন রহমান ও তার সহধর্মীনি
রোকসানা পারভীন লাকীর শতাধিক চিত্রকর্ম নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ৩ দিনব্যাপী চিত্রকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১লা মার্চ পর্যন্ত।
প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমীর ২য় তলার সম্মেলন কক্ষে সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মঙ্গলবার সকালে শিল্পকলা একাডেমীর ২য় তলার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পকলা একাডেমীর সাধারন সম্পদক মো: আমিরুল ইসলাম। এসময় শিল্পকলা একাডেমীর সহসভাপতি আশরাফুজ্জামান নজু, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাহীন সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
লাকী সুজনের হস্তশিল্পের তৈরী নানান জিনিসে ভরপুর শিল্পকলা একাডেমীর ২য় তলার সম্মেলন কক্ষে সাজানো অসম্ভব সুন্দর জিনিসপত্রে। কি নেই সংগ্রহে- টিস্যুবক্স,ফুলদানী, পেয়ারা, আনারস, ডাব, ঝাড়বাতি, লতাগাছ,দোতলা বাড়ী, কাঠের থৈরী বাড়ী, এইচএস টাওয়ার সবকিছুই নিঁখুত হাতের তৈরী।
লাকী জানালেন, “পুঁথি আর নাইলন সুতার মাধ্যমে কিছু কারুকাজ তৈরী করে থাকি, পুরোপুরি শখের বসেই করা এসব করা।” এছাড়াও কাগজ, পেনসিল, কাঠ,সহ বিভিন্ন দ্রব্য দিয়ে নানান কারুকাজ সম্পন্ন করেছি। এতে করে তার স্বামী সুজন রহমান যথেষ্ট আন্তরিক বলওে জানান তিনি।
সুজন রহমান বলেন, আমি ছেলেবেলা থেকেই এসব হাতের কাজের প্রতি দুর্বল ছিলাম। সৃজনশীল কাজের প্রতি আমার আগ্রহ থাকায় এবং বিয়ের পর আমার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে একসাথে কাজ করেছি।এসব হস্তশিল্পীর কারুকাজের ভরপুর প্রতিটি পণ্যই প্রদর্শণীর জন্য রাখা হয়েছে। বিক্রি করবো বলে ভাবনা নেই। তবুও যদি কেউ ক্রয় করতে চাই অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি। তাদের চিত্রকর্মগুলো প্রকাশে যদি আনন্দ পায় কিংবা দর্শনার্থীরা আগ্রহ প্রকাশ করে তাহলে প্রতিবছরই এমন প্রদর্শনী আয়োজন করা হবে।
শিল্পকলা একাডেমীর সাধারন সম্পদক মো: আমিরুল ইসলাম বলেন, মানুষের অন্তর্জগৎজুড়ে কত যে বোধের ব্যাপ্তি। বস্তুজগতের নানা অভিজ্ঞতা সেই বোধের সংস্পর্শে বিচিত্র সব অনুভূতির জন্ম দেয়। শিল্পী মাত্রই সেসব অনুভূতি প্রকাশে বড় ব্যাকুল। সব অনুভূতি আবার একটি মাধ্যমে প্রকাশ সম্ভব নয় – শিল্পীর বেলায় তো নয়ই। তাঁকে বেছে নিতে হয় শিল্পের নানা মাধ্যম, সেসব মাধ্যমের নানা ধারা। সুজন রহমান একজন ভালো শিল্পীই নয়, তিনি ও তার স্ত্রী মিলে একাধিক শিল্প মাধ্যমের স্বত্তা প্রকাশ করছে।আজকের এই চিত্রকলা বা হস্তশিল্পীর নানান আয়োজন মানুষকে অবাক করে বৈকি।
দিনব্যাপী অনেক দর্শনার্থী সেখানে গিয়ে উপভোগ করেছেন হস্তুশিল্পীর নানান কারুকাজ। দর্শনার্থী আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

আপনার মতামত জানানঃ