কেসিসিতে ভোট কাল : শেষ হাসি হাসবে কে?

খুলনা : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ আজ। নগরীর প্রায় ৫ লাখ ভোটার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন নবম নগর পিতা। ৩১ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের ১০ মহিলা কাউন্সিলরকে। প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল) ও সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)। মেয়র পদে পাঁচজন প্রার্থী হলেও মূলত লড়াইটা হবে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে। এবারই প্রথম কেসিসি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার হওয়ায় নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ২৮৯ টি কেন্দ্রে এ ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটারদের সুবিধার্থে এক হাজার ৪২৮টি স্থায়ী বুথ ছাড়াও ৩৩ টি অস্থায়ী বুথ নির্মাণ করা হয়েছে। এবার ২০২টি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৬টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, আনসার ব্যাটেলিয়ান ও আনসার ভিডিপির মোট ২৪ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৪ হাজার ৯৭২ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন।

এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নগর জুড়ে নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশনও এই নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে নগরীতে পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি গত সোমবার সকাল থেকেই বিজিবি টহল দেয়া শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, কেসিসি নির্বাচনে গত ২৪ এপ্রিল থেকে ৫ জন মেয়র, ১৪৮ জন সাধারণ ও ৩৮ মহিলা সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীসহ মোট ১৯১ জন প্রতীক পেয়েই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। ভোট গ্রহণের ৩২ ঘন্টা আগে সকল প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ হওয়ায় রোববার রাত ১২টায় সকল প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগসহ সকল প্রকার প্রচারণা বন্ধ হয়ে যায়।

র‌্যাব-৬ এর পরিচালক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম ও কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন জানান, নির্বাচনে তিন হাজার ৪৩৭ জন পুলিশ, ১৬ প্লাটুন বিজিবি ও ৩০০ এপিবিএন সদস্য এবং আনসারের চার হাজার ৮৪৫ জন দায়িত্ব পালন করছে।

এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ান আনসারের সমন্বয়ে ৩১টি মোবাইল ফোর্স, ১১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ৩২টি সেক্টর পার্টি, ৪টি স্ট্রাইকিং ফোস আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্রানুযায়ী, কেসিসি নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। ২৪ নং ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্রে ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে মোট ১০টি ইভিএম থাকবে।

নির্বাচনের আগে সহিংসতা বন্ধে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য শনিবার মধ্যরাতের মধ্যে বহিরাগতদের নগরী ত্যাগ করার এবং ইঞ্জিন যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নগরীর প্রবেশদ্বারে পুলিশের বাড়তি চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা টহল শুরু করেছে। ভোট গ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নগরীতে ২৪ ঘন্টা সাত প্লাটুন বিজিবি’র টহল জোরদার থাকবে। গত শুক্রবার থেকে অনুমোদনহীন সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির পিপিএম বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সকল পুলিশ ফোর্সদের ইতিমধ্যে সকল প্রকার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। গত রোববার মধ্যরাত থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে দাবি করে তিনি বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সব শ্রেণী পেশার মানুষ সহযোগিতা করছেন। মঙ্গলবার সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্নের মাধ্যমে খুলনাবাসীকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত জানানঃ