ক্রাইস্টচার্চে তখন কী হচ্ছিল-বললেন, খালেদ মাসুদ পাইলট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে যে মসজিদে হামলা হয়েছে, সেখানেই নামাজ আদায়ের কথা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদের। সংবাদ সম্মেলনের কারণে মসজিদে যেতে একটু দেরি হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন তারা। তবে চোখের সামনে সন্ত্রাসী হামলা চলছে, রক্তাক্ত অবস্থায় মানুষ পড়ে আছে- এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

ঘটনাস্থল থেকে ৫০ গজ দূরে ছিল তামিম-মুশফিকদের বাস। আরেকটু আগে মসজিদে ঢুকলেই ভয়ানক ঘটনা ঘটে যেতে পারতো ক্রিকেটারদের জীবনে। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট।

নিউজিল্যান্ডে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘এই ধরনের দুর্ঘটনা আমরা কেউই আশা করি না। বাসে আমরা ১৬-১৭ জন ছিলাম। ঘটনাস্থল থেকে আমরা ৫০ গজের মতো দূরে ছিলাম। আর ৩-৪ মিনিট আগেই যদি আমরা আসতাম, তাহলে হয়তো মসজিদের মধ্যে থাকতাম।‘

তিনি আরও বলেন, ‘বাস থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসছে। আমরা প্রায় ৮-১০ মিনিট বাসেই ছিলাম। সবাই মাথা নিচু করে ছিলাম, যদি কোনো কারণে গুলি হয়! যারা আক্রমণ করছে তারা যদি বেরিয়ে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে।’

‘শুকরিয়া আদায় করবো যে আমরা ওই জায়গায় ছিলাম না। আমরা ভিডিওর মতো দেখছিলাম, সিনেমায় যেমন দেখা যায়, বাসের ভেতর থেকে দেখছিলাম।’

পাইলট বলেন,‘এটা খুবই স্বাভাবিক, সামনে যখন এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে, সরাসরি দেখছেন রক্তাক্ত মানুষ বেরিয়ে আছে, এসব দেখে যে কারও ভেঙে পড়ার কথা। নিজের গায়েও লাগবে কিনা, কেউ নিশ্চিত ছিল না ওই মুহূর্তে। ক্রিকেটাররা বাসের ভেতর অনেকেই কান্নাকাটি করেছে, কি করলে বেরিয়ে আসতে পারি, এসব কথা হয়েছে। খুবই কঠিন ছিল। এসব তো মানসিকতার ওপর প্রভাব ফেলে। ম্যানেজার হিসেবে চেষ্টা করেছি সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরিয়ে আনতে।‘

আপনার মতামত জানানঃ