খুলনায় ছিনতাই চক্রের সদস্যসহ আটক ৬

শিক্ষিত যুবক ও কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাই চক্রে : কেএমপি’র অভিযান জোরদার

কামরুল হোসেন মনি : খুলনায় শিক্ষিত যুবক থেকে শুরু করে কিশোররাও জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাইয়ের মত অপরাধে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা মাদকের অর্থ সংগ্রহ ও নানা কারণে এই অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। ২৭ মে রাতে হরিণটানা পুলিশ জয়বাংলা হতে ইজিবাইক ছিনতাই চেষ্টাকালে ৪ জনকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাদের স্বীকারোক্তিতে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক বেচাকেনার সাথে জড়িত চক্র ও বিক্রয় সহযোগি হিসেবে আরও ২ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হচ্ছে শেখ নাঈম উদ্দিন (২৩), মোঃ হাসিব (১৮), বিজয় বিশ্বাস ওরফে হৃদয় বিশ্বাস (১৯), কাজী মেহেদী হাসান এবং ছিনতাইকৃত ইজিবাইক বেচাকেনার জড়িত চক্রের সদস্য সুব্রত সরকার ও নয়ন সরকার (২২)।
আটককৃতদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ৩টি ধারালো ছুরি, একটি খেলনা পিস্তল, একটি স্কসটেপ উদ্ধার করা হয়। ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
এদিকে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) নগরীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও ছিনতাই রোধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কগুলোতে টহল জোরদার করেছেন।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ এহ্সান শাহ্ মঙ্গলবার বিকেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নগরীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কগুলোতে টহল জোরদার করেছে। ছিনতাই রোধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তাদের এই তৎপরতার কারণে ইজিবাইক চক্রের ছিনতাইকারী সদস্যরা গ্রেফতার হয়েছে। একটি পরিচ্ছন্ন খুলনা শহর গড়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কেএমপি’র পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে ও তার তত্ত্ববধানে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছি।
হরিণটানা থানার ওসি আশরাফুল আলম বলেন, ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত যাদের আটক করা হয়েছে তারা কেউ কলেজে পড়ে, কেউ বা এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। যাদের বয়স ১৮-২০ বছরের মধ্যে। পারিবারিক আর্থিক অনটন, সমাজে স্ট্যাটাস বজায় রাখতে ও সঙ্গদোষে এইসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।
জানা গেছে, সোমবার (২৭ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে হরিণটানা থানাধীন মোবাইল-৪ এর ফোর্স এবং চেক-৪১ এর সহযোগিতায় জয়বাংলা হতে ময়ূর ব্রিজের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাই চক্রের সদস্য শেখ নাসির উদ্দিনের পুত্র শেখ নাঈম উদ্দিন, কুদ্দুস মোল্লার পুত্র হাসিব, কুমারেশ বিশ্বাসের পুত্র বিজয় বিশ্বাস ওরফে হৃদয় বিশ্বাস ও কাজী ফারুক হোসেনের পুত্র কাজী মেহেদী হাসানকে আটক করেন। আটককৃতরা ফুলতলা উপজেলা পয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ৩টি ধারালো ছুরি, একটি খেলনা পিস্তল, একটি স্কসটেপ উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক বিক্রি চক্রের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে সাধন সরকারের পুত্র সুব্রত সরকার ও মোহন সরকারের পুত্র নয়ন সরকারকে আটক করা হয়। আটককৃতরা ফুলতলা উপজেলার পয়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, খুলনার ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে বেশি তৎপর এই ছিনতাইকারী চক্রগুলো। রাত নেমে আসলে এ আতঙ্ক বাড়ে কয়েক গুণ। খুলনার কিছু এলাকায় অনটেস্ট বা নম্বরপ্লেট বিহীন মোটরসাইকেল বা গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে এই ছিনতাই করতে। এদের মাধ্যমেই চলে মাদক ব্যবসা। ছিনতাইয়ে জড়িত বেশিরভাগই কিশোর বয়সের। বেকারত্ব ছাড়াও মাদকের কারণে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে যাওয়া অন্যতম কারণ বলছে অপরাধের সাথে জড়িতরা। এছাড়া আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্র কেনাকাটাও হয় এই অর্থে।

আপনার মতামত জানানঃ