খুলনায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি : কামড়ের শিকার শিশুসহ বয়স্করা

কামরুল হোসেন মনি : মোঃ হোসেন। সাড়ে ৩ বছর বয়স। গত মঙ্গলবার খেলার ছলে রাস্তায় আসামাত্রই একটি বেওয়ারিশ কুকুর তার ডান হাতে কামড় দিয়ে খাবলে নিয়ে যায়। নগরীর লবণচরা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বেওয়ারিশ কুকুর তার ওপর এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুকুরের উৎপাতে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভুক্তভোগী। স্কুলগামী শিশুরা নির্বিঘ্নে পথ চলতে ভয় পায়। প্রতিদিনই নগরীতে ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে কুকুরে কামড়ের শিকার ব্যক্তিরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মে মাসে ১২ তারিখ পর্যন্ত শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ মোট ১৯৫ জন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন। এছাড়া পূর্বে কুকুরের আক্রমণের শিকার ৩৪৫ জন ব্যক্তি ওই তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত দিনে (ভ্যাকসিন) টিকার ডোজ নিচ্ছেন।
হোসেন এর পিতা মোসলেম শিকদার বলেন, মঙ্গলবার তার শিশুপুত্র হোসেন খেলা করছিল। এ সময় সে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে রাস্তায় বের হলে এক বেওয়ারিশ কুকুর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি বলেন, দিনকে দিন বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে।
রূপসা ঘাটভোগ ইউনিয়নের বাসিন্দা সুধাং বৈরাগী। স্কুলে পড়াশোনা করে। শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কুকুড় তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আঁচড় দেয়। বাবা সুকুমার বৈরাগী বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে দিনের বেলায় যেমন তেমন রাতের বেলায় চলাটাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, পথেঘাটে কুকুরের হামলায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। খুলনা ও এর আশপাশে যত মানুষকে কুকুরে কামড়ায়, তারা নগরীর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ হাসপাতালের তথ্যনুযায়ী কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার এ পরিসংখ্যান আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে ভ্যাকসিন রুমে দেখা যায়, কুকুরে কামড়ানো ব্যক্তিরা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। ওইখানে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সাথী ম-ল এ প্রতিবেদককে বলেন, কুকুরে কামড়ানোর রোগীর চাপ গত কয়েক বছরের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার থেকে হাসপাতাল থেকে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ১ হাজার অ্যাম্পল সরবরাহ করা হয়েছে। একটি অ্যাম্পল ৪ জনের শরীরে দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসে এ পর্যন্ত নতুন করে ১৯৫ জন ব্যক্তি কুকুরে কামড়ের জন্য প্রতিশোধক টিকা নিয়েছেন। এছাড়া পূর্বে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন পর্যায়ক্রমে এ পর্যন্ত ৩৪৫ জনকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, কুকুরে কামড়ের শিকার ব্যক্তিদের ২৮ দিনের মধ্যে তাদের ৪টি (ডোজ) টিকা সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে প্রথম দিন একটি ডোজ, তার তিন দিনের মাথায় ২য় (ভ্যাকসিন) ডোজ, ৭ দিনের মাথায় আরেকটি ডোজ ও ২৮ দিনে আরও একটি ভ্যাকসিন দিতে হয়।
চিকিৎসকদের মতে, কুকুর কামড়ালে প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। এই কাজগুলো করা হলে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কুকুরের কামড়ালে প্রথমে একটি পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ক্ষতস্থানটি চেপে ধরুন। তারপর কুকুরের কামড় দেওয়া স্থানে বেশি করে সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা ভাল। এটি ব্যবহারে ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু দূরে থাকে। তবে ক্ষত পরিষ্কার করার সময় খুব বেশি ঘষাঘষি করা যাবে না।

আপনার মতামত জানানঃ