খুলনা বিভাগে আরও ১৪০ আক্রান্ত : জেলায় ৩৭

শিশুদের জ্বর নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৪০ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে খুলনায় জেলায় ৩৭ জন। এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭১ জন, যার মধ্যে খুলনায় রয়েছে ২২৯ জন। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছে ৫ জন।
এদিকে দেশে ডেঙ্গু প্রাদুুর্ভাব দেখা দেওয়ায় শিশুদের জ্বর হওয়ায় উদ্বিগ্ন, উৎকন্ঠিত অভিভাবকরা। শিশুদের জ্বর হওয়ায় শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। জ্বর হলে শিশুদেরকে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। মঙ্গলবার খুলনা জেনারেল হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সূত্র মতে, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় নতুন করে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪০ জন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় রয়েছে ৩৭ জন। সূত্র মতে, গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের মধ্যে রয়েছে খুলনা জেলায় ৩৭ জন, বাগেরহাটে ৬ জন, সাতক্ষীরায় ১২ জন, ঝিনাইদহে ১৪ জন, মাগুরায় ১ জন, নড়াইলে ২ জন, কুষ্টিয়ায় ১৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৮ জন ও মেহেরপুরে ৪ জন।
খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডাঃ ফেরদৌসী আক্তার মঙ্গলবার বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সূত্র মতে, গত ২৪ ঘন্টায় খুলনায় নতুন করে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে ৩৭ জন। এ পর্যন্ত খুলনা জেলায় মোট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৯ জন। এর মধ্যে মারা যায় ৩ জন। সোমবার থেকে মঙ্গলবার ১২টা পর্যন্ত খুলনা জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে ৩৭ জন। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ জন, জেনারেল হাসপাতালে ৩ জন, সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, আদ-দ্বীন হাসপাতালে ২ জন ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সিভিল সার্জন দপ্তর সূত্র মতে, ১ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা জেলায় মোট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৯ জন। এ সময় মারা যায় ৩ জন। এদের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসা নেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫০ জন, খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন, আদ-দ্বীন হাসপাতালে ১০ জন, সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ জন, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ৫ জন, ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ও পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন। এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ৩ জন। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন ও সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন।
রূপসা উপজেলা থেকে আসা শিশু আফসানা (৭)কে নিয়ে আসেন শিশুটির মা আমেনা বেগম। তিনি বলেন, দুই-তিন দিন ধরে তার বাচ্চার জ্বর হয়েছে। কিন্তু তার মেয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত নন। তবে তার মনে আশঙ্কা, মেয়ের আবার এই জ্বর হয় কি না। তিনি বলেন, ডেঙ্গু যে অবস্থায় গেছে, তাতে তো আমরাও চিন্তায় আছি।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন গার্মেন্টস কর্মী মোঃ মারুফ বিল্লাহ (২২)। এর আগে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ৩১ আগস্ট রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু জ্বর সনাক্ত হয়। খুলনায় আসার পর গত ৫ আগস্ট আবার জ্বর হলে তিনি খুলনা জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি হন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিনে-রাতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ শরাফাত হোসাইন গতকাল মঙ্গলবার এ প্রতিবেদককে বলেন, শিশুদের জ্বর নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। যারা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের হিস্ট্রি ঘেটে জানা গেছে, অধিকাংশই ঢাকায় অবস্থানকালে এই ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ালে ওই মশা যদি একজন সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ায় তাহলে তারও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ জন্য ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশারির মধ্যে রাখা হচ্ছে। শিশুদের বর্তমানে যারা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে এটা সিজন্যাল ভাইরাস। তবে দুই-তিন একাধারে জ্বর থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়াতে হবে। এছাড়া বেশি করে তরল জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।

আপনার মতামত জানানঃ