গাইবান্ধায় খোকন হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর চরে নিহত খোকন আকন্দের ২ হত্যাকারীকে ঘটনার ৩ বছর পর পিবিআই সদস্যরা গ্রেফতার করেছে। নিহত খোকন খন্দকার গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের কিশামত ফলিয়া গ্রামের বাবু খন্দকারের ছেলে। গতকাল শনিবার প্রকৃত আসামি মো. সান্টু ও মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে ফুলছড়ি থানার তদন্তকারি পুলিশ কর্মকর্তা এবং ডিবি কর্মকর্তা দু’দফা এ হত্যার সাথে জড়িত বলে যাদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দিয়েছিলেন তাদের কেউই এ ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে জানা গেছে। আদালতে দেয়া প্রকৃত অপরাধী মো. সান্টু ও মোসলেম উদ্দিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ি ওই ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়। হত্যাকারি মো. সান্টু ও মোসলেম উদ্দিন গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের গোদারহাট গ্রামের বাসিন্দা।
২০১৫ সালের ১৩ মে খোকন আকন্দের লাশ ফুলছড়ির রসুলপুর চরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই সময় নিহত খোকনের পিতা বাবু আকন্দ অজ্ঞাতনামা ৭ জনকে আসামি করে ফুলছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ আদালতে ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সেসময় উল্লেখ করা হয়, প্রেম ঘটিত কারণে খোকন আকন্দকে খুন করা হয়েছে। আদালতে দেয়া চার্জশীটের বিরুদ্ধে বাদী বাবু খন্দকার না রাজি করলে পরবর্তীতে আদালত পিবিআই গাইবান্ধার উপর মামলার তদন্তভার অর্পন করেন। পিবিআই’র এসআই চন্দ্রন কুমার রায় বিভিন্ন সুত্র এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলাটি তদন্ত করে নিশ্চিত হন, এই ঘটনায় সান্টু ও মোসলেম উদ্দিন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
উল্লেখ্য, খোকন আকন্দসহ তারা তিনজনই গাজীপুর জেলার সফিপুরে শ্রমিকের কাজ করতো। সেখানে সান্টু ও মোসলেম উদ্দিনের সাথে খোকন আকন্দের ঘনিষ্টতা ছিল। তারা জানতে পারে খোকন আকন্দের বেশকিছু টাকা রয়েছে। তার কাছে সবসময় নগদ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা থাকে। এছাড়া ডাচবাংলা ব্যাংকে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা জমা রয়েছে তার। ওই টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য খোকন আকন্দকে ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর চরে ঘটনার রাতে সুকৌশলে নিয়ে এসে তাকে তারা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পিবিআই গাইবান্ধা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা সরকার সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

আপনার মতামত জানানঃ