গুজবের কারণে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্থিতি নষ্ট হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস :  গুজবের কারণে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্থিতি নষ্ট হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।  বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে গুজববিরোধী একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের (টিভিসি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য সঠিকভাবে যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা যাবে না। গুজব একটি দেশলাইর মত। দেশলাইর কাঠি যেমন বিশাল একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে পারে, তেমনি একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্থিতি নষ্ট হতে পারে। র‌্যাবের সাইবার ক্রাইম সেল গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় সুযোগ সন্ধানী চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অরাজকতা তৈরি করে অপচেষ্টা করেছিল, যা ছিল আইনের দৃষ্টিতে দণ্ডনীয় অপরাধ। র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃক্সখলা বাহিনী এই গুজব রটনাকারীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, এখন আমাদের এমন একটি সময় আসছে, যে সময় গুজব রটনার একটি বিশেষ ক্ষেত্র তৈরি হয়ে যেতে পারে। আপনারা সবাই সোশাল মিডিয়ায় দেখেছেন যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও ছবি আপলোড করা হচ্ছে। দেখলেও লজ্জায় মাথানত হয়। এটা দণ্ডনীয় অপরাধ, যারাই করুক তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি এবং করছি। র‌্যাবের উদ্যোগের প্রশংসা করে অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, আপনারা দেখেছেন রামুর একটা ঘটনায় গুজবের কারণে সংঘর্ষ কতটুকু ছড়িয়ে পড়েছিল। আবার দেখেছেন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়ও একইভাবে গুজব ছড়িয়ে বিশৃক্সখলা সৃষ্টি করা হয়েছিল। গুজব রোধের মাধ্যমে সামাজিক শান্তি বজায় রাখা যায়। তাই র‌্যাবের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। নিঃসন্দেহে এটা ভালো কাজ। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশে একটা ইন্টারনেট বিপ্লব ঘটে গেছে। সাত কোটি মানুষ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখছি এক শ্রেণির কুরুচির কতিপয় ব্যক্তি উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে গত তিন-চার মাস ধরে লক্ষনীয়ভাবে ইন্টারনেটে গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, গুজব ছড়ানোর অপরাধে এ পর্যন্ত র‌্যাব ১৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত বুধবার  রাতেও আমরা ছয়জনকে গ্রেফতার করেছি। এসব কর্মকাণ্ড যারা ঘটাচ্ছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের আওতায় আনবই। ¯^রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

আপনার মতামত জানানঃ