‘গড়ে প্রতি ঘন্টায় কিডনি বিকল পাঁচজন রোগী মারা যাচ্ছেন’

ঢাকা অফিস : দেশের দুই কোটি মানুষ কিডনির নানান রোগে ভুগছেন। আর গড়ে প্রতি ঘন্টায় কিডনি বিকল পাঁচজন রোগী মারা যাচ্ছে। ২০১৮ সালে কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত, এইসব রোগীদের বাঁচাতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন পাশ হলেও, সচেতনতার অভাবে তার বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব কিডনি’ দিবস।

এলিনা আজিজ নামের এক নারী গত ১৩ বছর ধরে ভুগছেন কিডনির জটিল রোগে। এখন তার দুটি কিডনিই নষ্ট। সপ্তাহে তিনদিন ডায়ালাইসিস করে বেঁচে আছেন। তেরো বছরে কিডনির চিকিৎসা করাতে গিয়ে খরচ হয়েছে কোটি টাকার বেশি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশের দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনির নানা রোগে ভুগছে। তাদের অন্তত একলাখ রোগীর ডায়ালাইসিস দরকার কিন্তু তা করাতে পারছেন মাত্র দশভাগ।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এর প্রধান কারণ আমাদের দেশে এখনও নেফ্রাইটিস বা নেফ্রোটিকস সিনড্রোম জাতীয় কিডনি রোগ। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভোগা এবং উচ্চ রক্তচাপ। এছাড়া কিডনিতে পাথর হলে প্রস্টেট গ্ল্যানডের কারণে বড় হলে যদি সঠিক চিকিৎসা না করানো হয়, তাহলে কিডনি বিকল হতে পারে।’

চিকিৎসকরা বলছেন, ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষ কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে রোগী বুঝতেই পারে না যে তিনি অসুস্থ।

এদিকে, ডোনারের অভাবের কারণ কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারেন মাত্র এক শতাংশেরও কম মানুষ। এমন অবস্থায় কিডনি প্রতিস্থাপনের হার বাড়াতে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন পাশ করা হয়। যাতে ডোনার হিসেবে মা, বাবা, ভাই বোনের সাথে দাদা-দাদি, নানা-নানী, চাচা, মামা, চাচাতো-মামাতো-খালাতো-ফুপাতো ভাই-বোনদেরও কথা যোগ করা হয়।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নুরুল হুদা লেলিন বলেন, ‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের কথা বলা আছে। অর্থাৎ অনুমতি সাপেক্ষে আইসিইউতে ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা রোগীর কিডনি, লিভারসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রোগীকে সংযোজন করা যাবে। যা দিয়ে বাঁচানো সম্ভব একাধিক মৃত্যুপথ যাত্রীকে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে এখনও তা শুরু করা যায়নি।’

ডা. মোহাম্মদ নুরুল হুদা লেলিন বলেন, ‘মানুষ মারা গেলে কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এমনিতেই পচে যাবে, তো সেইটা নষ্ট হয়ে যাওয়া ভালো নাকি আপনার ভাই বা বোনের কিডনি আরেকজন মৃত্যু পথযাত্রীকে বাঁচাবে সেটা ভালো?’

ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট আইন বাস্তবায়ন করতে হলে, সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি বলেও জানান এই কিডনি বিশেষজ্ঞ।

আপনার মতামত জানানঃ