জামিন বাতিল হতে পারে মিন্নির

ঢাকা অফিস : রিফাত হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুরে, বাদি দুলাল শরীফের স্বাক্ষ্য গ্রহনের মধ্য দিয়ে রিফাত হত্যা মামলার মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়ষ্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য গহন করেন আদালত। বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমানের বাদির স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন। এ সময় ছেলে রিফাত হত্যার বিবরণ দিতে গিয়ে এজলাসে কান্নায় ভেঙে পড়েণ দুলাল শরীফ। এদিকে, সাক্ষীদের হুমকি দেয়ার অভিযোগে জামিনে থাকা আসামি মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বাদির নিয়োজিত আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু বলেন, প্রথম দিনেই বাদির স্বাক্ষ্যগ্রহন করেন আদালতের বিচারক মোঃ হাফিজুর রহমান। এ সময় দুলাল শরীফ আদালতের কাছে তাঁর ছেলে রিফাত হত্যার বিবরণ পেশ করেন। তিনি ছেলে হত্যার বিবরণ দিতে গিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পরলে আদালত বাদির স্বাক্ষ্য গ্রহনে বিরতি দেন। পরবর্তিতে আবারো দুলাল শরীফ রিফাত হত্যার বিবরণ তুলে ধরেন এবং আবারো তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ফের বিরতি দিয়ে বাদির স্বাক্ষ্য গ্রহন করেণ আদালত। কিসলু বলেন, মামলার এজাহার অনুসারে দুলাল শরীফ আদালতের কাছে রিফাত শরীফ হত্যার বিবরণি সঠিকভাবে তুলে ধরে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেণ। দুলাল শরীফ আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনার মধ্য দিয়ে স্বাক্ষ শেষ করেন।

এদিকে, সাক্ষীদের হু্মকি দেয়ার অভিযোগ এনে আদালতে মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারি কৌসুলী (এপিপি) সনজিব দাস বলেন, গত ৪ জানুয়ারী বিকেল চারটার দিকে জামিনে থাকা আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ৬নং সাক্ষী জাকারিয়া বাবু ও ৭নং সাক্ষী হারুণ মৃধার বাড়িতে তিনটি মোটরসাইকেলযোগে পাঁচজন লোক সাথে নিয়ে গিয়ে সাক্ষীদের বাড়িতে উপস্থিত হন। এ সময় তারা হারুন ও বাবুকে স্বাক্ষ্য দেয়া থেকে থেকে বিরত থাকতে বলেন এবং সাক্ষী দিলে রিফাতের মত পরিণতি হবে’ বলে হুমকী দেন। আদালত মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন গ্রহন করে আগামীকাল বৃহষ্পতিবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানান সনজিব দাস।

মিন্নির জামিন বাতিল হতে পারে কিনা জানতে চাইলে, রাষ্ট্রপক্ষের কৌসূলি ভুবন চন্দ্র দাস বলেন, জামিনের শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে মনে করলে আদালত মিন্নির জামিন বাতিল করে তাঁেক ফের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারেন।

স্বাক্ষ্য শেষে আদালত থেকে বের হয়ে মামলার বাদি দুলাল শরীফ বলেন, আমি আদালতের কাছে আমার ছেলের হত্যার বিবরণ তুলে ধরে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেছি। আশা করি আমি আমার ছেলের নির্মম হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার পাবো।

জামিন বাতিলের আবেদন প্রসঙ্গে মিন্নির পক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল বারি আসলাম বলেন, এটা হাস্যকর ও কাল্পনিক গল্পের মত। আমরা আদালতের কাছে মিন্নির জামিনে থাকার বাস্তবতা তুলে ধরেছি। উচ্চাদালতের নির্দেশনা মেনেই মিন্নির বাবার জিম্মায় বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি বাড়ি থেকে তো দূরে থাক ঘর থেকেও বাইরে বের হননা। আমরা মহামান্য আদালতের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছি।

উল্লেখ্য, চার্জ গঠন উপলক্ষে বুধবার সকালে এ মামলার কিশোর ১৩ আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এছাড়াও আদালতে উপস্থিত হন জামিনে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোল্লা। পরে আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শুনানো হয়। চার্জ গঠন শেষে কারাগারে থাকা ১৩ আসামিকে ফের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। চার্জ গঠন হয়েছে এমন ১৩ আসামি হলেন- মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী , মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, মো. আবু আবদুল্লাহ রায়হান, মো. ওলিউল্লাহ অলি, জয় চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাইম, মো. তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ মহিবুল্লাহ , মারুফ মল্লিক, প্রিন্স মোল্লা এবং রাতুল সিকদার জয়।

এছাড়া অপর কিশোর আসামি আরিয়ান হোসেন শ্রাবণের (১৬+) বিরুদ্ধে হত্যকাণ্ডের ষড়যন্ত্র, সহযোগিতা এবং আসামিদের পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ৩০২ এবং ১২০ (বি) ১ এবং ২১২ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। আগামি ১৩ জানুয়ারি কিশোর ১৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে আদালত।

একই দিনে প্রাপ্তবয়ষ্ক আসামিদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ নেয়ার তারিখ ধার্য ছিল। আদালত মামলার বাদির স্বাক্ষ্যগ্রহন শেষে আগামীকাল,২ ও ৩নং আসামির স্বাক্ষ গ্রহনের তারিখ ধার্য করেণ।

আপনার মতামত জানানঃ