তালায় ভূয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি : এলাকাবাসী অতিষ্ঠ!

সেলিম হায়দার, তালা : সাতক্ষীরার তালায় সম্প্রতি অপ ও হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাতœ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে! প্রতি দিন সকাল থেকে মধ্য রাত অবধি সাংবাদিকতার পরিচয়ে ঘাড়ে ক্যামেরা,গলায় আইডি কার্ড ও দামি বাইক চেপে দাপিয়ে বেড়ায় উপজেলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলেই হানা দেয় তার দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাজির হয় ঐ চক্র। নিজেদের অপকর্মকে আঁড়াল ও অযোগ্যতায় অল্প সময়ে বিনা পরিশ্রমে অধিক অর্থ উপার্জনের সহজতর পন্থা হিসেবে নাম সর্বস্ব পত্রিকা কিংবা অনলাইন পোর্টালের কার্ড সংগ্রহ করে তারা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগীরা জানায়,এসব ভূঁই-ফোঁড় অপ-সাংবাদিকদের কাতারে রয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী,মেকানিক,চা বিক্রেতা থেকে শুরু করে সেটেল মেন্ট’র দালাল,ভাড়ায় চালিত মোটর চালক ও অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্তরা রয়েছেন এ কাতারে। এদের প্রত্যেকেই নিজেদের মূল পেশায় মন্দা ও আঁড়াল করতে নিজেদের নাম লিখিয়েছে মফস্বল সাংবাদিকতায়। এদের অনেকে আবার স্কুলের গন্ডি পেরুতে পারেনি।
অনেকে আবার গলায় কার্ড ঝুলিয়ে দালালির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে খবরদারির পাশাপাশি শালিশ-বিচার করে বেড়ান। বিবাদমান জমি কিংবা ঘের জবর দখলেরও টেন্ডার নেন কেউ কেউ। ঐসকল ভূঁই-ফোঁড় মিডিয়ার কার্ড ঝুলিয়ে তারা নিজেদের এলাকায় বিশেষ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান করে ছাড়ছেন। এদের ভয়ে সম্মানি ব্যক্তিরাও রয়েছেন আতংকে।
তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যেকোন সম্মানি ব্যক্তির সম্মানহানির চেষ্টা করেন। এমনকি কোথাও কোন ঘটনা ঘটলে নিজেরাই বানোয়াট অভিযোগ পত্র লিখে হানা দেন অভিযুক্তর বাড়িতে। এদের অপতৎপরতায় মূল পেশাজীবিরাই আজ কোন-ঠাঁসা হয়ে পড়েছেন। এদের নিজেকে বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তার নিজের কোন কাগজ বা মিডিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই সারা দিনের আয়োজন দালালির খোরাক সন্ধ্যা নামতেই পৌছে দেন সমমনা বিভিন্ন সাংবাদিকদের মেইলে।

এছাড়া আরেক টাউট জনৈক সম্প্রতি নিজেকে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি জোরদার রেখেছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে তিনি একটি অনলাইন টিভি পোর্টালের সংবাদদাতা হিসেবে ঐমিডিয়ার একটি কার্ড সারাক্ষণ গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ান উপজেলার এপ্রান্ত থেকে শুরু করে ও প্রান্ত পর্যন্ত।

সূত্র জানায়,সম্প্রতি নিজস্ব অর্থায়নে তিনি ঐ চ্যানেলটির একটি বুম তৈরী করে তা জনসম্মুখে দেখিয়ে বেড়ান আর ভাব নেন যে তিনি একজন বড় মাপের একজন সাংবাদিক। এরকম জানা অজানা অনেকেই রয়েছেন যারা কাক ডাকা ভোরে বেরিয়ে মধ্য রাত অবধি দাপিয়ে বেড়ান মফস্বলের তৃণমূল পর্যন্ত।
এলাকার প্রকৃত সাংবাদিক থেকে শুরু করে তাদের দ্বারা নির্যাতিতরা এসকল অপসাংবাদিকদের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় প্রশাসন,সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও তাদের স্ব স্ব পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল মালিকদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যাপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতিদিনিই বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূক্তভোগীরা নানা অভিযোগ জমা হচ্ছে আমাদের দপ্তরে। যা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে পত্রিকার পাতায় ততক্ষণে আমাদের সাথেই থাকুন।

আপনার মতামত জানানঃ