দাকোপে আইনশৃংক্ষলা পরিস্থিতির চরম অবনতি

হত্যাসহ ঘটেছে একাধীক দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : দাকোপে সম্প্রতি আইনশৃংক্ষলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। গত ১ মাসে খুন চুরিসহ একাধীক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার থানা সদরে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় উপজেলা চেয়ারম্যানের ভবনসহ ৪ টি পৃথক দূর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। হত্যাসহ এ সব ঘটনায় জড়িত কোন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।
গত ৮ আগষ্ট বুধবার সকাল ১০ টা থেকে বেলা ২ টার মধ্যে উপজেলা সদর চালনা এলাকায় পৃথক ৪ টি দূর্ধষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেনের আবাসিক ভবনের ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া বি এম এ্যানার্জি কোম্পানীর ম্যানেজার মাসুদুর রহমানের বাসার তালা ভেঙে নগত ৫০ হাজার টাকা, আনুমানিক ৬ ভরি স্বর্ণালংকর নিয়ে যায়। ভবনের নীচ তলায় সোনালী ব্যাংক, দোতলায় চেয়ারম্যানের বাসভবন। চোরেরা চেয়ারম্যানের বাসভবনের প্রধান গেটের তালা ও ভেঙে ফেলে। কিন্তু এরপর আর ভীতরে প্রবেশ করতে না পারায় সেখানে কোন ঘটনা ঘটেনি। এদিন দাকোপ উপজেলা হাসপাতাল কোয়ার্টার থেকে দন্ত চিকিৎসক আঃ সাত্তার শেখের বাসার তালা ভেঙে ৩ টি স্বর্ণের চেইন, ২ টি আংটি, ১ টি বেসলেট, ১ জোড়া কানের দুল এবং নগত ৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়। সব চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে একই কোয়ার্টারে হাসপাতালের আয়া সুফিয়া বেগমের বাসায় চুরির ঘটনা। তার বোন লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত রুগী মরিয়ম বেগমের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগীতা নিয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ঘরে ছিল। সেই টাকাসহ ৪ টি স্বর্ণের বালা, ২ টি চেইন, ১ টি হার, ৫ টি আংটি ও ১ টি লকেট নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দু বোনই এখন হাসপাতালে শষ্যাসায়ী। এ ছাড়া দাকোপ উপজেলা পরিষদ কোয়ার্টার থেকে পল্লী দারিদ্র বিমোচনের মাঠ কর্মি স্বরসতীর বাসা থেকে অনুরুপ নগত টাকা ও স্বর্ণালংকর চুরি করে নিয়ে। সব গুলো ঘটনা দাকোপ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। কিছুদিন আগে আছাভুয়া বাজারের লোড বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ী গনি টেলিকমের বাড়ীতে অনুরুপ চুরি সংগঠিত হয়। অপরদিকে গত ১০ জুলাই দিবাগত রাতে জয়নাগর গ্রামে জেলে নাসির সানা নির্মমভাবে খুন হয়। এ ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে দাকোপ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন একটি ঘটনার আসামী গ্রেফতার বা মালামাল উর্দ্ধার হয়নি। প্রশাসনের এমন ব্যর্থতায় সাধারন মানুষ আতংকিত। প্রতিটি ঘটনার শেষে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশের দায়িত্ব শেষ বলে মনে করা হচ্ছে। রাতের বেলায় পুলিশি টহল জোরদার এবং সংগঠিত ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে প্রশাসনের জোর তৎপরতার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।

আপনার মতামত জানানঃ