দাকোপে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গ্রাম আদালত

দাকোপ প্রতিনিধি : খুলনার দাকোপ উপজেলার গ্রাম আদালত যেভাবে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং এলাকার মানুষের দ্রুত বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে যে ভূমিকা রাখছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গ্রাম আদালত কার্যক্রম। স্থানীয় পর্যায়ের ছোটখাটো বিরোধ ও সমস্যা সমাধানে মানুষ এখন থানা-পুলিশে না গিয়ে গ্রাম আদালতে যেয়ে সুবিচার পাচ্ছেন।
সূত্রমতে, বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প শুরু হয়। এর আওতায় ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই থেকে উপজেলার লাউডোব ইউনিয়ন পরিষদে এর কার্যক্রম চলছে। গত বছরের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত এ আদালতে ১১৩টি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ১০৮টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি পাঁচটি মামলার বিচার চলমান। এ পর্যন্ত আদালতের রায়ে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা এক লাখ ৯১ হাজার নয়শ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। এ ছাড়াও জমি উদ্ধার করা হয়েছে। ইউনিয়ন কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত এ আদালতে ফৌজদারি, দেওয়ানি ও যে সব মামলার বিচার কাজ ৭৫ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে হবে না এমন সব মামলা এখানে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। সাধারণত সপ্তাহের প্রতি শনিবার বার এখানে গ্রাম আদালত বসে। সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়।
লাউডোব ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব উদ্যোগে গ্রাম আদালত কার্যক্রম শুরু করা হয়। গ্রাম আদালতের প্রধান হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। এ ছাড়া বাদী-বিবাদীদের একজন করে মনোনীত দুজন, একজন ইউপি সদস্য ও একজন গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ পাঁচজনকে নিয়ে শুরু হয় এ আদালতের বিচারিক কার্যক্রম।
লাউডোব ইউনিয়নে কালিকাবাটি গ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ মন্ডল,রফিকুল শেখ,অলিয়ার রহমান,বুড়ির ডাবর গ্রামের মোসলেম গাইন,খুটাখালী গ্রামের অসিমা মন্ডলসহ অনেকেই এই আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ করার কয়েকদিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান পেয়েছেন তারা। এতে করে তাদের আর থানা পুলিশে যেতে হচ্ছে না।
গ্রাম আদালত দাকোপ উপজেলা সমন্বয়কারী সবুজ আলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, মূলত গ্রাম আদালতে ছোট ছোট দেওয়ানী ও ফৌজদারী যা ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতির অধিক নয় এ মামলা ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদে গ্রাম আদালত বসিয়ে নিষ্পতি করে থাকেন।
লাউডোব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরোজিৎ কুমার রায় বলেন, গ্রামের মানুষরা দিন দিন গ্রাম আদালতের প্রতি আস্থা রাখতে শুরু করেছেন। ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে আর মামলা মোকদ্দমায় যাচ্ছেন না তার ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তিনি বলেন জনবহুল এলাকায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে গণসচেতন করার লক্ষে উঠান বৈঠাক, ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী, শর্ট ফ্লিম, কমিউনিটি শেয়ারিং মিটিং, যুবকর্মশালা ও র‌্যালি করা হয়।

আপনার মতামত জানানঃ