দাকোপে প্রতারণা মাধ্যমে দেড়লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

দাকোপ প্রতিনিধি : প্রতারণার মাধ্যমে জাল-জালিয়াতি করে ৩ শত টাকার স্ট্যাম্পে ০.৩৮০ একর জমি আন-রেজিষ্ট্রী বায়না পত্র দলিল করে দিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাকোপের নলিয়ান এলাকার গুনারী গ্রামের মৃত বাবর গাজীর পুত্র বিতর্কিত মামলাবাজ কুদ্দুস গংয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নলিয়ান নৌ-পুলিশ, স্থানীয় পরিষদ ও সর্বশেষ থানায় বসাবসিতে কুদ্দুস গং জমির দালিলিক প্রমানে ব্যর্থ হয়েছে।
ভূক্তভোগী আজিজুল সরদারের ভাষ্য ও কাগজ পত্রের দৃষ্টান্তে ওই জমির প্রকৃত মালিক গুনারী গ্রামের মৃত শীলত চন্দ্র সরদারের পুত্র দীনেশ সরদার। বায়না পত্র দলিলের পর আজিজুল সরদার এক বছর পূর্বে ঘরবাড়ী নির্মাণ করে। এসময় নলিয়ান এলাকার মৃত আমজাদ ফকিরের পুত্র আসাদ ফকির ওই জমির মালিক দাবী করে নলিয়ান নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাদী পক্ষ কুদ্দুস গং এবং দীনেশ সরদারকে নিয়ে সুতারখালী ইউনিয়ন পরিষদে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শালিস বৈঠকে বাদী বিবাদীর কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং বক্তব্য শোনার পর দেখা যায় জে,এল ১১ নং মৌজার গুনারীর মধ্যে এস,এ ৪৩২ নং খতিয়ানের স্থলে এস,এ ২৪৯০ (দুই হাজার চারশত নব্বই) নং দাগে বাস্ত ০.৩৮০ একর জমি। সকল কাগজ পত্র ওইদিন পর্যন্ত দীনেশ সরদারের অনুকুলে বলে শালিসদারদের অভিমত প্রকাশ করে। বিবাদী আজিজুল সরদার শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে বলে জমির প্রকৃত মালিক দীনেশ সরদার, কুদ্দুস গং ও আসাদ ফকির মেনে নেয়। শান্তিপূর্ণ বসবাস অবস্থায় কুদ্দুস গাজীর ভাই জাহাঙ্গীর গাজী বাদী হয়ে গত ২০/১২/২০১৮ তারিখ বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ‘গ’ অঞ্চল দাকোপ আদালতে আজিজুল সরদার বিরুদ্ধে একটি সাত ধারা মামলা রুজু করে। ওই ঘটনা সম্পর্কে সরেজমিনে তদন্তে গেলে বাদীর ভাই সালাম গাজীসহ এলাকাবাসী এ ধরনের অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি বলে এই প্রতিনিধিকে জানায়। বাদীর অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা বলে স্থানীয়রা দাবী করেন। আজিজুল সরদারের ঘর নির্মাণের বিষয়টি সালাম গাজী বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। জমি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়টি আজিজুল সরদার দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানালে তিনি সব পক্ষকে নিয়ে ১৯/০১/২০১৮ থানায় বসাবসি করেন। এসময় ভূয়া বায়না পত্র দলিলসহ কুদ্দস গং এর জারিজুড়ি ফাঁস হয়ে যায়। তখন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কুদ্দুস গাজীর ভাই জাহাঙ্গীরকে মিথ্যা ৭ ধারা মামলা তুলে আনতে নির্দেশ দিলে আগামী ১০ই ফেব্রুয়ারী তুলে আনবেন বলে স্বীকার ও সাক্ষর করেন। উপস্থিত মুল মালিক মৃত শীতল চন্দ্রের পুত্র দীনেশ সরদার আজিজুল সরদারকে বসবাস করার অনুমতি এবং আকার-আকৃতি পরিবর্তনের সম্মতি দেন। ওই খতিয়ানে মোট জমির পরিমান ৪২ বিঘা। এর মধ্যে ০.৩৮০ একর জমি আজিজুল সরদারকে ভূয়া বায়না পত্র দলিল করে দেয় কুদ্দস গং। যাহা শালিস বৈঠকে প্রতীয়মান হয়েছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে কুদ্দুস গং গত ২০/০১/২০১৯ তারিখ সকাল ১১টায় কুদ্দুস গং তাদের নিজেদের দোষ ঢাকতে আজিজুল সরদারকে হুমকি-ধামকি লাঠিসোটা নিয়ে মারতে উদ্যত হয়। এ ব্যাপারে আজিজুল সরদার বাদী হয়ে দাকোপ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। যার নং-৮৬৪, তারিখ ২৩/০১/২০১৯। ভূয়া বায়না পত্র দলিলের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বর্তমানে কুদ্দস গং নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে বলে জানা গেছে। যে কারনে আজিজুল সরদার ও তার আত্মীয়-স্বজনরা মিথ্যা মামলা-হামলার স্বীকার হতে পারে বলে আশংকা করছেন। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত জানানঃ