দুই কাধে দুই কুলাঙ্গার!!!

আবুল কাশেমঃ ১. মানুষের দুই কাধে যে দুজন ফেরেস্তা চেপে আছে একথা প্রথম জানতে পারি সম্ভবত ৮ বছর বয়সে। এই গুপ্ত খবরটা দিয়েছিলেন আমার প্রিয়তমা গ্রান্ডমাদার। একথা শুনেই আমি বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম, তখন থেকে কাধদুটো একটু করে বেশি ভারি ভারি লাগতো। তার বসার সময় তাদের ওজন কতো ছিলো জানিনা, আমার ওজন দিনে দিনে বেড়েছে, তাদের ওজনের কি অবস্থা কে জানে?
২. আমার বোন জাহেদা স্বামীর ঘরে দারিদ্র্যের থাবা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখতে দেখতে দুটো বাচ্চার জননী হয়েছে, দারিদ্র তাকে ছাড়েনি। অতঃপর সে এক সুযোগ পেয়ে গেলো সৌদিআরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যাওয়ার। ৭ বছর বয়সী বড় ছেলেটা তাকে ছাড়তে চাইলো না, মাকে সে বড় ভালোবাসে। জাহেদা ছেলেকে বুঝালো, নবী সঃ এর জন্মভুমি, গেলে শুধু জীবীকা না, ফ্রি হজ পালন করে পরকালের সওয়াব কামায় হবে। সব বাধা কাটিয়ে সন্তানদের মায়ার বাধন ছেড়ে জাহেদা এক সন্ধ্যায় চলে গেলো রিয়াদ হয়ে পবিত্র ভুমি মদিনায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো, একটা গাড়িতে করে জাহেদাকে তার কর্মগৃহে নিয়ে যাচ্ছে দুজন আরব শেখ। জানালা দিয়ে সোনালী শহর দেখে আনন্দে জাহেদার মন ভরে গেলো, চোখে ভেসে উঠলো অভাবক্লেষ্ট দুই ছেলেমেয়ের জ্বলজ্বলে চোখগুলো। জাহেদাকে একটা বাসায় নিয়ে যাওয়া হলো, গোসল করিয়ে একটা ড্রইং রুমে বসানো হলো, কিছুক্ষণ পর তাকে একটা রঙ্গিন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হলো, তারপর…. রক্তাক্ত স্তন, দুচোখ বেয়ে নেমে আসা জলশ্রোত, ক্ষতবিক্ষত জননাঙ্গ, ভাঙ্গা গলার চাপা আর্তনাদ। কাধে তারর চেপে আছে দুই ফেরেশ্তা। তারা শুধু লিখেই চলেছে, কি যে লিখছে তা কেউ জানেনা। পবিত্র নগরীর মানুষদের কাধের ফেরেস্তারাও মনে হয় পবিত্র। আমার বোনের চিৎকার আর সতীত্ব রক্ষার আর্তনাদের সময় পবিত্র মানুষগুলোর কাধের ফেরেস্তারা কি লিখেছে আমি তা জানতে চাই না। আমি জানতে চাই আমার বোন জাহেদার কাধের দুজন তখন কি লিখেছে, আমার বোনের পাপ নাকি পূণ্য? আমার বোন জীবীকার টানে, সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় পবিত্র নগরকে বিশ্বাস করে যদি পাপ করে থাকে, তবে যারা তাকে খুবলে খেয়েছে তারা কি তাহলে পুণ্য করেছে? কি লিখেছে দুই কাধের দুই কুলাঙ্গার? কি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি আমরা? জবাব চাই, হে পবিত্র নগরীর শ্রষ্টা, তোমাকে জবাব দিতেই হবে। আমার বোনের সন্মান লুন্ঠনের দৃশ্য দেখে কাধে বসে বসে তোমার দুই প্রতিনিধি মুচকি হেসেছে, এজন্য আমি তোমাকে কাঠগড়ায় দাড় করাবো, তুমি তৈরি থাকো।

আপনার মতামত জানানঃ