নুসরাত হত্যা: সোনাগাজী থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা অফিস : অসৎ উদ্দেশ্যে থানায় নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি ভিডিও করে ছড়িয়ে দেয়া এবং আপত্তিকর প্রশ্ন করার অভিযোগে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেছেন আইনজীবী ব্যারিষ্টার সায়েদুল হক সুমন।

এদিকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে দুই আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম। কারাগারে থাকা মাদ্রাসা অধ্যক্ষের নির্দেশেই নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হয় বলে জবানবন্দি দিয়েছে তারা।

রবিবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নেয় হয় জবানবন্দি। দীর্ঘ ৯ ঘন্টার জবানবন্দিতে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনসহ জড়িত অন্যদের নামও উল্লেখ করেছে তারা। নূরকে ময়মনসিংহের ভালুকা এবং শামীমকে মুক্তাগাছা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ‘শ্লীলতাহানির’ অভিযোগ এনে চলতি বছরের মার্চে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করে নুসরাতের পরিবার। মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষের অনুসারীরা গত ৬ই এপ্রিল সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে নুসরাত জাহান রাফির গায়ে পরিকল্পিত ভাবে আগুন লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় । তারা নুসরাতকে মিথ্যা বলে পরীক্ষা কেন্দ্রের ছাদে নিয়ে যায় এবং তার শরীরে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেদিনই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী উন্নত চিকিৎসার জন্য নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার নির্দেশ দিলেও তার অবস্থা শংঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া সম্ভব হয়নি। ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ই এপ্রিল মারা যান নুসরাত।

আপনার মতামত জানানঃ