প্রক্টর ও ছাত্রলীগ নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদ ছাত্রসমাজের

ঢাকা অফিস : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের অংশগ্রহণ নিয়ে মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত খবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রসমাজের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় ছাত্রসমাজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আবদুর রহমান ও সদস্যসচিব নকিবুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘১০ বছর ধরে দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি যেখানে যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, সেখানে মহাজোটের অন্যতম প্রধান শরিক ও জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠনকে প্রতিহত করার আহ্বান সাদ্দাম হোসেনের ব্যক্তিগত নাকি ছাত্রলীগের দলীয় সিদ্ধান্ত, তা আমরা জানতে চাই এবং এই বিষয়ে তাঁদের একটি সুস্পষ্ট দলীয় বিবৃতি চাই। অন্যথায় তাঁর এমন মন্তব্য আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি তথা ছাত্রলীগ ও ছাত্রসমাজের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি করবে। ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল কারও পক্ষে এমন মন্তব্যের আমরা প্রতিবাদ জানাই।’

জাতীয় ছাত্রসমাজের ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মঙ্গলবার ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আমরা জাতীয় ছাত্রসমাজকে প্রতিহত করার আহ্বান জানাই।’ বুধবার ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘মৌলবাদ ও সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী চেতনার শপথ। সামরিক স্বৈরাচারের পক্ষে থেকে ধারাবাহিকভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কাজ করা জাতীয় ছাত্রসমাজকে নিষিদ্ধ করা শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি।’

জাতীয় পার্টি সংসদে থাকতে পারলে ছাত্রসমাজ কেন ক্যাম্পাসে থাকতে পারবে না—ছাত্রসমাজের এমন যুক্তির জবাবে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিচ্ছিন্ন দুটি বিষয়। জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে সমন্বয় করে থাকে। জাতীয় ছাত্রসমাজ সামরিক স্বৈরাচারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাই তাদের প্রতিহত করা শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি।’

আর প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেছিলেন, জাতীয় ছাত্রসমাজ সংগঠনগতভাবে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু সংগঠনের কেউ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়ায় প্রক্টর বলেন, ‘শিক্ষার্থী হিসেবে যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। সংগঠনগতভাবে কাউকে প্রার্থিতার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি যার যার নির্বাচনী বিষয়।’

প্রসঙ্গত, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য ১৯৯০ সালে জাতীয় ছাত্রসমাজকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদ। সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর জাতীয় ছাত্রসমাজের নির্বাচনে অংশগ্রহণের খবরে ক্ষোভ জানায় ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো।

আপনার মতামত জানানঃ