প্রেমের কারণে খুন হলো যশোরের চায়েরদোকানদার সাগর

যশোরঃ যশোর পুরাতন বাসটার্মিনাল এলাকার চায়ের দোকানদার ছুরিকাহত সাগর হোসেন খুলনায় নেয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে তার লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে। নিহত সাগর যশোর সিটি কলেজপাড়ার বৌবাজার এলাকার জালাল হোসেনের ছেলে।
নিহতের বোন সুমা খাতুন জানান, সাগর মণিহার বাসস্ট্যান্ডে দ্রুতি পরিবহনের সামনে তার বাবার চায়ের দোকানে কাজ করতেন। বুধবার বিকেলে তাকে প্রতিবেশী সিরাজুলের প্রতিবন্ধী ছেলে রিয়াজুল ইট মারে। এই ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে রিয়াজুলকে একটি থাপ্পড় মারেন সাগর। এরপর রাত সাড়ে সাতটার দিকে রিয়াজুলের চাচা মুরাদ হোসেন ফোনে সাগরকে ডেকে নেন বাড়ির পাশে মাদরাসার সামনে। এসময় মুরাদ ও তার সঙ্গে থাকা ফুরাইয়া আশিক ও তাপস উপর্যুপরি ছুরি মারে সাগরকে। পরে স্থানীয় লোকজন সাগরকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সাগরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালের ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসা দিতে খুলনায় রেফার করেন। ওই রাতেই সাগরকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে দৌলতপুরের কাছে তিনি মারা যান।
অপরদিকে নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেন জানান, সাগরকে মোল্যা পাড়া এলাকার ফল ব্যবসায়ী জনির মেয়ে নদী ভালবাসে। আবার নদীকে ভালবাসে তাদের প্রতিবেশি মুরাদ। মুরাদের প্রেম প্রত্যাখান করেছে নদী। পরে সে জানতে পারে নদী সাগরকে ভালোবাসে। সাগরই তার প্রেমে বাধা ভেবে মুরাদ, হুরাইয়রা, আশিক পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে এলাকার এক বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোনে তাকে ডেকে এনে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ডাক্তার তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। খুলনায় পৌছানোর পথে তার মৃত্যু হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোন অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানিয়েছেন নিহতের ভাই বিল্লাল হোসেন।
যশোর কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আবুল বাশার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খুনিদের ধরতে পুলিশ অভিযানে আছে।

আপনার মতামত জানানঃ