ফুলতলার জামিরায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় পরিবারের প্রতি ষড়যন্ত্র ও হুমকি

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ ফুলতলার জামিরাার ৫নং পিপরাইল ওয়ার্ডের ইউপিও সদস্য মোঃ ওলিয়ার বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেছেন সরকার যখন দেশব্যাপী মাদক নির্মূলে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে ঠিক সেই সময়ে জামিরা এলাকায় মৃত তৈয়েব আলী আকুঞ্জীর স্ত্রী মেহেরুন্নেছা, তার পুত্র হিমেল আকুঞ্জী ও পার্শ্ববর্তী হামোদ আলী আকুঞ্জীর পুত্র আহাদ আলী আকুঞ্জী তাদের পোষ্য ক্যাডারদের দিয়ে মাদক ব্যবসা, চুরি ও ছিনতাই কাজে লিপ্ত। তাদের অসামাজিক কর্মকান্ডে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষুন্ন করতে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার, মামলা , হামলাসহ নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমার ভাইপো আল মামুন বিশ্বাসকে জড়িয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য সরবরাহ করে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব ফুলতলায় অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতাকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তার ভাইপো মোঃ মাসুদ বিশ্বাস ও মারুফুল ইসলাম মিঠু উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন গত ২৭ জুলাই/ ২০১৪ দিবাগত রাতে সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়েব আলী আকুঞ্জী দুর্বৃত্তদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা বাদি হয়ে একই গ্রামের নায়েক ওরফে নাজিম, মোঃ আরিফ মোল্যা, আব্দুল কুদ্দুস ও জাহাঙ্গীর সরদারকে আসামী করে ফুলতলায় থানায় মামলা (নং -১০, তারিখ ২৮ জুলাই২০১৪ইং) দায়ের করেন। কারণ হিসেবে তিনি আরিফ মোল্যার সাথে অর্থের লেনদেন এবং কুদ্দসের সাথে ঘেরের মাছ লুট সংক্রান্ত বিরোধের জের উল্লেখ করেন। পরে চার আসামী আটক ও বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। পরবর্তীতে আদালতে মামলার চার্জশীটে আল মামুন বিশ্বাসকে জড়ানো হয়। যদিও বিষয়টি অবিশ্বাস্য ও অগ্রহনযোগ্য উল্লেখ করে মামলার বাদি মেহেরেুন্নেছা তদন্তকারী সংস্থা (সিআইডি) পুলিশ সুপার মহোদেয়ের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। এদিকে বিচারাধীন এ মামলার বাদির সাক্ষ্য গ্রহনের তারিখ আগামী ২৫ জুন / ২০১৮ আদালত ধার্য্য করেছেন। বাদি মেহেরুন্নেছা আমার ভাইপো মামুনের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দিবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আমার বড় ভাই মোঃ মকবুল বিশ্বাসের কাছে ২লাখ টাকার দাবি করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতের কার্যক্রমের উপর আস্থা রেখে তার দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। প্রসংগতঃ গত ১৩ এপ্রিল /২০১২ মেহেরুন্নেছার স্কুল পড়–য়া কন্যা মোঃ সুরাইয়া খাতুন প্রেমের টানে প্রতিবেশী মুকুল বিশ্বাসের সাথে চলে গেলে মুকুল বিশ্বাস, মাহমুদ কলি, স্কুল শিক্ষক বিএম রফিকুল ইসলাম ও বিজিবি সদস্য জসিম বিশ্বাসকে আসামী কে থানায় মামলা (নং-০৮, ১৪ এপ্রিল/২০১২) করেন। যদিও পরবর্তীতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ষড়যন্ত্রমূলক ঐ মামলা থেকে স্কুল শিক্ষক বিএম রফিকুল ইসলাম ও বিজিবি সদস্য জসিম বিশ্বাসকে অব্যাহতি দেয়া হয় বলে তাদের দাবি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয় মৃত তৈয়েব আলী আকুঞ্জীর পুত্র হিমেল আকুঞ্জীর নেতৃত্বে পিপরাইল গ্রামে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। গত ২০ নভেম্বর/ ২০১৭ তারিখ সন্ধ্যায় পিপরাইল হাসপাতালে সামনে জনৈক আমিরুল ইসলাম লিচুর ওপর হামলা করে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করা হয়। এ ব্যাপারে হিমেল সহ ঐ চক্রের ১০ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ফুলতলা থানায় মামল্ া(নং-১১, তারিখ ২১নভেম্বর/২০১৭) দায়ের করা হয়। এদিকে গ্রামের আহাদ আলী আকুঞ্জী, হিমেল ও মেহেরুন্নেছা সিন্ডিকেট করে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এর প্রতিবাদ করায় প্রতিনিয়ত হুমকির শিকার হচ্ছে বলে তার দাবি । তিনি অবিলম্বে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন এবং পরিবারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও হামলা থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত জানানঃ