বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীতে এগিয়ে সাবেক ছাত্রনেতা ফরিদ রানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ফেডারেশ সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য,বটিয়াঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক,বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি, ছাত্রলীগের সোনালী অর্জন এসএম ফরিদ রানা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বটিয়াঘাটায় থেকে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রত্যাশা করে সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতে তার নাম উঠে এসেছে জোরে-সোরে।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে নবম শ্রেণীতে অধ্যায়নকালে ফরিদ রানা ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বটিয়াঘাটা উপজেলার গাওঘরা বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মনোনীত হন। এসএসসি পাসের পর ১৯৯৮ সালে ডুমুরিয়া উপজেলার মাওলনা ভাসানী মোমোরিয়াল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তী বছর ওই কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচীত হন। ঘটনাক্রমে তিনি ডুমুরিয়ার বানিয়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় আওয়ামীলীগ আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্যকালে খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ এর দৃষ্টিতে আসেন। জিজ্ঞাসা করেন, ছেলেটির বাড়ি কোথায় ? এসময় তার এলাকার প্রবীন এক আওয়ামীলীগনেতা মরহুম আবুল কাশেম বিশ্বাস পরিচয় করিয়ে বলেন, ভাই ওর বাড়ি আপনারই উপজেলার গাওঘরা গ্রামে। সেদিন শেখ হারুন ওকে বাসায় নিয়ে আসতে বলেন। বিরামহীন ভাবে চলতে থাকে বঙ্গবন্ধু আদর্শের উদিয়মান এই ছাত্রনেতার কাজকর্ম। এরই মধ্যে সে নিজ উপজেলা বটিয়াঘাটার ৪নং সুরখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনি: সহ-সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মনোনীত হন। যার ফলে সে উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ব্যাপক সক্রিয় হয়ে পড়েন। পরবর্তী কমিটিতে তাকে উপজেলা ছাত্রলীগের সমাজ সেবা সম্পাদক মনোনীত করা হয়। যে পদেই মনোনীত করা হোক না কেন ফরিদ রানার কর্মকান্ড সকলের দৃষ্টিতে। শুধু ছাত্রলীগ নয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, শ্রমিকলীগ যে সংগঠনের মিছিলে ফরিদ রানা’র দীপ্ত কন্ঠের জয়বাংলার স্লোগান এবং সভা-সমাবেশ পরিচালনা আজও নেতাকর্মীদের কাছে স্মরনীয়। ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে অবস্থান করাকালীন ফরিদ রানার রাজপথের অবদান ছিলো অভাবনীয়। যার প্রেক্ষিতে তাকে বটিয়াঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সস্মেলন প্রস্তুত কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মনোনীত করা হয়। মাত্র দুই মাসের মাথায় ফরিদ রানা নেতৃত্ব দিয়ে বর্ণঢ্য আয়োজনে উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন সম্পন্ন করেন। অসংখ্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর সমার্থন, রাজপথে উল্লেখযোগ্য অবদান আর সেদিনে শেখ হারুনুর রশীদের সাথে পরিচয়ে এবং জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজকের উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান, তৎকালীন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম আব্দুল আজিজ গোলদার এবং বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রনেতা শেখ মোঃ হাদি-উজ-জামান হাদী ও উপজেলা আ’লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আঃ হাদী সরদারের সহযোগীতায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচীত হন। রাজপথের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি সরূপ তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মোঃ আবু হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুজ্জামান মেধাবী ছাত্রনেতা ফরিদ রানাকে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মনোনীত করেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচীত হয়ে সে দায়িত্ব এবং কর্তব্যের প্রতি অটল ছিলো। আওয়ামীলীগ ঘোষিত যৌতিক হরতাল-অবরোধে তার উপর অর্পিত দায়িত্বে ছিলো অবিচল। শুধু বটিয়াঘাটা সদর নয় কখনও কখনও তাকে ভোর বেলায় দেখা গেছে গল্লামারী, জিরোপয়েন্ট ও কৈয়া বাজারে পিকেটিং করতে। এসময় বিএনপি-জামাতের গোন্ডা বাহিনী দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন একাধিকবার। ১/১১ সরকারের শাসন আমলে তাকে দেখা গেছে মাত্র ৫/৬ জন কর্মীকে সাথে নিয়ে দেশরতœ শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনে বটিয়াঘাটার রাজপথে মিছিল করতে। এভাবেই চলেছে ফরিদ রানার ছাত্ররাজনীতির কর্মকান্ড। ২০০৯ সালে এমএ পাশের মাধ্যমে শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি এবং বৈবাহিক জীবনে যাওয়ায় ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ খুলনা জেলা শাখার আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হন। অল্পদিনেই জেলার নয়টি উপজেলায় সৈনিকলীগের কর্মকান্ড ছড়িয়ে দেয়। দুই বছরের ব্যবধানে এক সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি সে সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। যেখানে সে লেখাপড়া করেছে সেই বিদ্যাপিঠ গাওঘরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুইবার সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘ বছর বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, গাংচিল সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং লবণ পানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। ফরিদ রানা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য, খুলনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিঃ এর নির্বাচিত ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, শেখ হারুনুর রশীদ পাবলিক লাইব্রেরী, গাওঘরা সাং¯কৃতিক সংগঠন, সোনালী সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া তিনি খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু ফাউন্ডেশন আজীন সদস্য। রয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা।
সংগঠনের পাশাপাশি তিনি নিজ ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। যার ফলশ্রুতিতে গত ২৮জানুয়ারী’১৯ সোমবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় মনোনায়ন প্রাপ্তির জন্য প্রস্তাব আনা হয়। সুরখালী ইউনিয়ন আ’লীগের ৩ যুগেরও অধিক সময়ের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ সরকার সাবেক এই ত্যাগী ছাত্রনেতা ফরিদ রানাকে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব করেন। উক্ত প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ দাঁড়িয়ে সমার্থন করেন। এসময় উপজেলা আ’লীগের সভাপতি বলেন আপনাদের সমার্থন আমরা বুঝতে পেয়েছি, কিন্তু নাম দিতে হবে একজনের। নিজ জন্মভূমি গাওঘরা ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি সরদার ওয়াহেদুজ্জামান বলেন আমার নাম লেখেন। এভাবেই আসন্ন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাচনে ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসএম ফরিদ রানা। দলীয় মনোনয়নে কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্ন করতেই ফরিদ রানা বলেন, দীর্ঘ দিন সংগঠনের প্রতি ত্যাগ, সময়, মেধা ও শ্রম দিয়ে এসেছি। এরপরও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যে সিদ্ধান্ত নিবেন বিশেষ করে আমার রাজনৈতিক অভিভাবক খুলনা জেলা আ’লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ’র সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত বলে আমি মনে করি।

আপনার মতামত জানানঃ