বটিয়াঘাটা বালিয়াডাঙ্গার ইউপি চেয়ারম্যানের অনুসারীদের হামলায় আহত ৩

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা : বটিয়াঘাটা উপজেলার ভাদালবুনিয়া আশ্রায়ন প্রকল্পের পুকুর অবৈধভাবে লীজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সালিশি বৈঠকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের অনুসারীদের হামলায় ৩ জন গুরুত্বর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার রাত ৮ টায় দিকে বিরাট খেওয়াঘাট নামক স্থানে সালিশী বৈঠকের মধ্যেই। অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলার ভাদালবুনিয়া এলাকায় সরকার ৪০টি পরিবারের জন্য আশ্রায়ন প্রকল্প তৈরী করে। ৪০টি পরিবারের জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবাসন ঘর, ল্যাটিন সহ মৎস্য চাষের জন্য ৩টি পুকুর খনন করে। কিন্তু বালিয়াডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম হাসান সম্প্রতি আশ্রায়ন প্রকল্পের মধ্যে ভূমিহীনদের কার্য্যে ব্যবহার্য্য ৩টি পুকুরের মধ্যে ১টি গত ৩ বছর যাবৎ তার আপন সহোদর ভাই সাবেক মেম্বর মনিরুজামান(মনি) কে দিয়েই নিজে ভোগদখল করে। অপর একটি পুকুর জনৈক খোকন হালদারকে অবৈদভাবে লীজ প্রদান করে। শুধু তাই নয়, পুকুর নামক অন্য একটি খাল জনৈক রেজওয়ান মল্লিককে লীজ প্রদান করে। উক্ত দফায় দফায় লীজ প্রদান করায় প্রকল্পের ভিতরে বসবাসকারী ভূমিহীনরা ইউপি চেয়ারম্যান ও লীজ গ্রহনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান তার গ্রাম্য পুলিশ ইবাদতকে দিয়ে উপকারভোগীদের সালিশী বৈঠকের কথা বলে বিরাট খেওয়া ঘাটে ডেকে এনে সালিশী বৈঠক শুরু করে। সালিশে ভূমিহীনরা তাদের পুকুর নিজেরাই ভোগদখলে থাকবেন বলে জানালে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা ভূীমহীনদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় গুরুত্বর আহত হয়ে প্রকল্পের অধিবাসী মোক্তার সেখ(৭০) বিল্লাল ইজাদ্দার(৫৫) ও মুসা সেখ ঐ রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। পরবর্তীতে আশ্রায়ন প্রকল্পের অধিবাসীরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এক লিখিত অভিযোগ গত ইং ৪ নম্ভেবর সোমবার জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করে। বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বটিয়াঘাটা খুলনাকে ব্যাবস্থা নিতে নিদের্শ প্রদান করলে ইউএনও আহমেদ জিয়াউর রহমান, সিঃ মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল মামুনকে প্রধান করে সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ অমিত কুমার সমাদ্দার ও ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে দ্বায়িত্ব প্রদান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৫ কার্য্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম হাসান জানান সামনে নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ মিথ্যা জিনিষকে পূঁজি করে আমার ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে সাপেক্ষ্যে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পের পুকুর সুফল ভোগীদের বাহিরে লীজ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

আপনার মতামত জানানঃ