বিনা টেন্ডারে বেসরকারি ট্রেন চালাচ্ছেন পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে! রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

রিটন দে লিটন, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অনবোর্ড ক্যাটারিং, বেসরকারি ট্রেন, আবাসিক হোটেল, দোকান, রেস্টুরেন্ট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি ২০০৭ হতে পূর্বাঞ্চল রেলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে বিনা টেন্ডারে নবায়ন করার ফলে প্রতি বছর চার কোটি  টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায় পূর্বাঞ্চল রেলের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান না করে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই লিজ নবায়ন করে নিচ্ছেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র।

উক্ত সিন্ডিকেটের নিকট হতে পূর্বাঞ্চল রেলের চিফ কমার্শিয়াল কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অবৈধ ভাবে লিজ নবায়ন করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

পূর্বাঞ্চল রেলের অধীনে পরিচালিত অন বোট ক্যাটারিং ও বেসরকারি ট্রেন পরিচালনাকারী এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রের অসাধু ঠিকাদাররা  ট্রেনে মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত মাদক পাচার চোরাচালান করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রেলওয়ে স্টেশনের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান বেসরকারি ট্রেন, অন বোর্ড ক্যাটারিং, আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও দোকান উক্ত সিন্ডিকেট সদস্যদের নামে-বেনামে নামমাত্র মূল্যে ইজারার সময় শেষ হওয়ার পূর্বে পুনরায় নবায়ন করে বছরের পর বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে “আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেলও” তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না রেল মন্ত্রণালয়। তারা আরও জানান উক্ত সিন্ডিকেটের সদস্যরা মন্ত্রী- সচিব- ডিজি- জিএম ও প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট প্রধানদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন যাবত এই অপকর্মের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত করার জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নং ৯৪৮-সি/পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা / সি আর ডি-৩/২০১৯ তারিখ-০৩-০৯-২০১৯ মূলে দরপত্র আহ্বান করা হলেও রহস্যজনক কারণে টেন্ডার স্থগিত করে গত ০৬-১০-২০১ ইংরেজি তারিখে “ইতি ধর” ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সি)(পূর্ব), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পূর্ব) এর পক্ষে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি কারণে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে রেল।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ   আমরা বছরের পর বছর লাইসেন্স নবায়ন করে সরকারকে রাজস্ব প্রদান করলেও একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চিফ কমার্শিয়াল কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই পুনরায় টেন্ডার না দিয়ে লীজ নবায়ন করার ফলে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন রেলওয়ে ঠিকাদারী লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত কাজ না পাওয়ার কারণে আর্থিক সঙ্কটে পড়েছি।

এ বিষয়ে চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান আমি নতুন যোগদান করেছি এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত জানানঃ