মামলায় জামিন নিয়ে বাড়িতে আসামীরা !

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দাসবায়সা গ্রামে পারভেজ (১৪) নামে এক শিশুকে অকথ্য নির্যাতনের পর পুরুষাঙ্গে পেরেক ঢুকিয়ে হত্যা প্রচেষ্টা মামলার আসামীরা এখন জামিন নিয়ে বাড়িতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঘটনার ১০ দিন পর গত সোমবার সন্ধ্যায় মামলা রেকর্ড করতে বাধ্য হয় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় তিনজন আসামী। কিন্তু পর দিন মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃত ৩ আসামী ও বুধবার বাকী আসামীর সকলেই ঝিনাইদহের একটি আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাড়ি চলে যায়।

এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বুধবার শিশু নির্যাতনের নায়ক দামোদরপুর গ্রামের সাগর বিশ্বাসকে পুলিশ আটক করলেও তাকে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী নির্যাতিত শিশুর মা পারভিনা খাতুন অভিযোগ করেন, আমরা গরীব বলে দুর্বল ধারা দিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ জন্য তিনি কালীগঞ্জে থানার সাবেক ওসি আমিনুল ইসলামের কারসাজিকে দায়ী করেন। পারভেজের নানা জিল্লুর রহমান ও চাচাতো নানা লিটন চৌধুরীরও একই অভিযোগ। তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নিষ্ঠুর ভাবে একটি শিশু নির্যাতনের পরও আসামীদের একদিনও জেলের ভাত খেতে হয়নি। বরং দুই দিনের মাথায় তারা জামিন নিয়ে বাড়ি এসে ক্ষমতা ও প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করে চলেছে।

এদিকে ভয়াবহ নির্যাতনের ক্ষত চিহ্ন নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শিশু পারভেজ। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হচ্ছে পারভেজের জন্য। পারভেজের চাচাতো নানা লিটন চৌধুরী বলেন, ঢাকা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই টাকার প্রায় সবই গ্রামবাসী সহযোগিতা করেছেন। আমাদের কিছু নেই, যে তাই দিয়ে পারভেজকে ওষুধ কিনে খাওয়াবো। কালীগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: প্রফুল্ল কুমার মজুমদার বলেন, ঢাকা মেডিকেল থেকে যে ওষুধ লিখে দিয়েছে সেটাই চলছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমি বুধবার এ থানায় যোগদান করি। যোগদান করার পরই আমি হাসপাতালে পারভেজকে দেখতে গিয়েছি।

আদালত আসামিদের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন। এখন আমাদের কিছুই করার নেই। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ছাদেকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে পারভেজকে দেখতে উপজেলার দামোদারপুর গ্রামে যায়। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার চিকিৎসার জন্য পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করি। এছাড়া বাড়িতে চিকিৎসার পরিবেশ ভালো না হওয়ায় এ্যাম্বুলেন্স ডেকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। তিনি আরো জানান, এমন নির্যাতন আসলেই অমানবিক। পারভেজের পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা ব্যয় চালানো সম্ভব নয়। এলাকার জনগণও তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে। মুমুর্ষ এই ছেলেটির জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান ইউএনও।

আপনার মতামত জানানঃ