যশোরে প্রাইমারী স্কুলমাঠ দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন

যশোর : যশোরের শহীদ স্মরণী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখলের অভিযোগে মানববন্ধন হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় শহরের উপশহর এলাকায় ঢাকা-মাগুরা মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী অংশগ্রহন করেন। মানববন্ধনে অংশ গ্রহনকারীরা  স্কুলের মাঠ দখলমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানব বন্ধনে বক্তারা জানান, বিদ্যালয়ের ১ ও ২ নম্বর প্লটে বিদ্যালয়ের শিশুদের দৈনিক সমাবেশ ও খেলাধুলাসহ স্থানীয়রা ঈদের নামাজ আদায় করেন। কিন্তু জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ১৯৭৮ সালের ৮ এপ্রিল ১ নম্বর প্লটটি হাসিনা বেগম নামে এক নারীকে বরাদ্দ দেন। যার স্মারক নং-৪৫৬/এইচ,ই তাং-০৮/০৪/১৯৭৮। এরপর ১৯৮৪ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হওয়ার পর বিদ্যালয়ের সামনের ১ ও ২ নম্বর প্লটটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। তৎকালীন বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাড. রফিউদ্দিন এ আবেদন করেন ঢাকার জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও যশোর জেলা প্রশাসক অফিসে। এর প্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সালের ৩১ মার্চ জাতীয় গৃহায়নের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী এবং রাজশাহীর গৃহায়নের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও তৎকালীন যশোর জেলা প্রশাসক বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন। তারা প্লট মালিককে দু’টি প্লটের পরিবর্তে যশোর হাউজিং এস্টেটের অধীনে নতুন প্লট বরাদ্দের আশ্বাস দেন। ওই সময় সংসদ সদস্য আব্দুল হাই বিদ্যালয় পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসককে বিদ্যালয়ের পক্ষে প্লট দুটি বরাদ্দ দেয়ার সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মনিরুজ্জামান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রবিউল আলমের মধ্যস্থতায় প্লট মালিক ও বিদ্যালয় র্কর্তৃপক্ষের সাথে আপোশনামায় স্বাক্ষর করা হয়। কিন্তু ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি প্লট মালিক হাসিনা বেগম প্লটটি এনামুল হক নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। ওই সালে প্লট মালিক তার প্লটে নির্মাণ কাজ শুরু করলে স্থানীয় জনগণের বাধায় কাজ বন্ধ করে দেন। ওই সময় সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটো উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারসহ স্থানীয় চেয়ারম্যান বিদ্যালয়ের নামে প্লট বরাদ্দ দেয়ার সুপারিশ করেন হাউজিং কর্তৃৃপক্ষকে। এতকিছুর পরও বিদ্যালয়ের সামনে মাঠ দখল হয়ে যাওয়ায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক আওয়ামীলীগ নেতা সুখেন মজুমদার, ৭ নম্বর সেক্টরের মেম্বর হাসান জহির, যুবলীগ নেতা মুনসুর আলম, প্রাক্তন ছাত্র হাবিবুর রহমান বাবুল, প্রধান শিক্ষক শাহাজাদ হোসেন বাবু, এলাকাবাসীর পক্ষে রফিকুল ইসলাম মিলন, নিয়ামত উল্লাহ, জাবের হোসেন জাহিদ, মোস্তাফিজুর রহমান কবির, রকিব মোস্তফা প্রমুখ।

আপনার মতামত জানানঃ