যশোরে সৎ বাবার হাতে প্রতিবন্ধী মেয়ে খুন

যশোর : সৎ বাবার হাতে সুমি নামে এক প্রতিবন্ধী মেয়ে (২৫) খুন হয়েছে। ঘুমন্ত অবস্থায় গভীর রাতে দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে খুন করা হয়। সুমি যশোর সদর উপজেলার আঘ্রাইল গ্রামের হারুনের মেয়ে। সৎবাবা নাজমুল হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের গ্রামের বাসিন্দা। সুমি খাতুন (উচ্চতা ২ ফুট) ঢাকায় মায়ের সাথে ভিক্ষা করতো।
সুমির খালু একই এলাকার এনায়েতপুর গ্রামের রেজাউল ইসলাম জানান, সুমি খাতুনের বাবা হারুন দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর তার মা রেশমা খাতুন বাঘারপাড়া উপজেলার নাজমুল হোসেনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর নাজমুল ঢাকায় রিকসা চালায় এবং সুমিকে নিয়ে তার মা রেশমা ভিক্ষা করে। নাজমুলের পক্ষে রেশমার ৪টি ছেলে ২টি মেয়ে হলেও একটি ছেলে হারিয়ে যায়। নাজমুলের প্রথম পক্ষের ৩টি ছেলে মেয়ে রয়েছে।
কোরবানী ঈদের এক সপ্তাহের আগে তারা রেশমার পিতা আগ্রাইলের মোজাহার সর্দারের বাড়িতে ওঠে। ঈদের পর ২৫ হাজার টাকা খরচ করে সুমির মেঝবোনের বিয়ে দেয়। সুমির ভিক্ষা করে জমানো ১ লাখ টাকা রেশমার কাছ থেকে নাজমুল টাকা ধার নেয়। মেয়ের বিয়ের পর সেই টাকা চাওয়ায় রেশমা ও নাজমুলের সাথে গন্ডগোল বাঁধে। এতে ক্ষিপ্ত হয় নাজমুল।
বুুধবার সন্ধ্যার পর নাজমুল তার শ্বশুর বাড়ি থেকে বের হয়। রাতে সুমি তার নানীর সাথে বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিল। রাত ২টার দিকে নাজমুল দা দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রাত ৩টার দিকে নিয়ে আসে। হাসপাতালের ডাক্তার মনিরা রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
কোতয়ালি থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে।
যশোর কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার সৎ বাবার হাতে প্রতিবন্ধী মেয়ে খুন হয়েছে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাজমুলকে আটকের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত জানানঃ