রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছে শত শত মরা গাছ : আতঙ্কে শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা

সোহেল রানা,(হিলি),দিনাজপুর : দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে ১ টি পৌরসভা ও ৩ টি ইউনিয়নের রাস্তার দুপাশে দাড়িয়ে আছে শত শত মরা গাছ। ১০ বছর মেয়াদে রোপন করা হয় এসব গাছ। গাছ গুলো মেয়াদ উত্তীন হলেও কাটার কোন উদ্দ্যেগ না নেওয়ায় আতঙ্কের মধ্য রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও রাস্তার সূন্দর্য্য বৃদ্ধি লক্ষে সামাজিক বননায়ন কর্মসূচির আওয়তায় ২০ বছর আগে বেসরকারী বিভিন্ন এনজিও সংস্থা স্থানীয় ৩ শতাধিক নারী-পুরুষকে অংশীদার করে ৩৬ কিলোমিটার রাস্তার দু-পাশ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ৩৬ হাজার গাছ রোপন করে। গাছ গুলো মেয়াদ উত্তীন হওয়ায় বেশির ভাগ গাছ মরে গেছে। আর এ সুযোগে রাতের আধারে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র,এতে করে প্রাপ্প অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপকার ভোগীরা। অন্যদিকে এসব মরা গাছ রাস্তার পাশের জমি গুলোতে পড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে আর এতে করে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে এখানকার কৃষকদের।
৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী বন্যা আক্তার বলেন,এই রাস্তার দু-পাশ দিয়ে অনেক মরা গাছ রয়েছে। আমরা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে স্কুলে,এসব গাছের ডাল কখন ভেঙ্গে আমাদের মাথায় পড়ে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি এই গাছ গুলো দ্রুত কর্তন করার জন্য।
ছাতনী চারমাথা গ্রামের কৃষক সারোয়ার বলেন,আমি কষ্ট করে ধান আবাদ করেছি।আমার জমি রাস্তার পাশে হওয়ায় মরা গাছ গুলো বার বার জমির ফসলের উপর ভেঙ্গে পড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।এই গাছ গুলো দেখার মত কি কেউ নাই,বার বার আমাদের এই ক্ষতি গুলো হচ্ছে এগুলো কে দিবে?
পথচারীরা বলেন,আমরা জীবনের ঝুকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। কখন যে মার গাছ গুলো আমাদের মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ে এই ভয় সবসময় মনের মধ্যে থাকে। এর আগে একজনের মাথায় উপর ডাল ভেঙ্গে পড়ে ছিলো,আল্লাহর রহমতে বেচেঁ গেছে।আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান সহ সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি গাছ গুলো দ্রুত কর্তনের ব্যবস্থা করার জন্য।
একজন ভুক্তভোগী জানান,গাছ গুলো লাগার সময় এনজিও আমাদের অংশীদার করে নিয়েছিলো। ২০ বছর আগে এই গাছ গুলো রোপন করা হয়েছে।আমরা এখান থেকে ৬০ ভাগ অর্থ পাবো।কিন্তু গাছ গুলো বেশির ভাগ মরে গেছে ।গাছ না কাটায় রাতের আধারে কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছেন এসব মরা গাছ। এতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে প্রাপ্প অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমার।এনজিও সংস্থার কাছে আকুল আবেদন গাছ গুলো দ্রুত কর্তন করে আমাদের প্রাপ্প অর্থ গুলো বুঝে দেওয়ার।
আরেক ভুক্তভোগী জানান, নিয়ম আছে মেয়াদ শেষে গাছ কেটে বিক্রি করে মোট অংশ থেকে এনজিও পাবে ২০শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ২০শতাংশ ও ভুক্তভোগীরা পাবে ৬০শতাংশ।

৩নং আলীহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম রসূল বাবু জানান,্আমি ৭ বছর ধরে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই ৭ বছর গাছের সাথে সর্ম্পকৃত বিভিন্ন দপ্তরে গাছ গুলো কর্তনের বিষয়ে বার বার কথা বলেছি। তারা গাছ গুলো কর্তনের জন্য বার বার চিহিৃত করে কিন্তু আজও গাছ গুলো কর্তনের কোন ব্যবস্তা গ্রহন করে নি।তবে আমি আলীহাট ইউনিয়নের সাধারন মানুষের পক্ষে ও আমার পক্ষ থেকে সরকার মহদয় ও এই দপ্তরের সাথে যারা যুক্ত আছেন তাদের অনুরোধ করছি গাছ গুলো দ্রুত কর্তন করে আবারও গাছ লাগানো সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য। নতুন করে করে গাছ লাগালে পথচারীরা যেমন ছায়া পাবে,তেমনি পরিবেশে বয়বে আগের মত সবুজ গাছের বাতাস। পাশাপাশি লাভবান হবেন ভুক্তভুগিরাও।
বন বিভাগ দিনাজপুর চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার,এই গাছ গুলো আমাদের বন বিভাগের নয়। সব গাছ যে বন বিভাগের হবে তাও না। তবে এসব রাস্তার গাছ কিছু এনজিও লাগিয়েছে।আমাদের গাছ কাটারও কিছু আইন আছে।আসলে সেগুলো তাদের হইতো জানা নেই,আর এই কারনে হইতো গাছ গুলো কর্তনে তাদের বিল্মব মধ্য পড়তে হচ্ছে। তারা যদি আমাদের কাছে আসে তবে গাছ গুলো কর্তনের জন্য সব ধরনের পরার্মশ ও সহযোগীতা আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে দিয়ে যাবো।

আপনার মতামত জানানঃ