শিশু হাসপাতালে বেড সংকট, তাপদাহে শিশুর ত্রাহি অবস্থা : বাড়ছে রোগ-বালাই

কামরুল হোসেন মনি : ঘূর্ণিঝড় ফনীর বিপদ দূর হতেই গরম শুরু। এখন রীতিমতো দাবদাহ পরিণত হতে চলেছে। ভ্যাপসা গরমে কাহিল সবাই। শিশুদের ত্রাহি অবস্থা। এ পর্যন্ত পুরো মাস খুলনা জেলায় তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ড্রিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করছে। খুলনা বিভাগের তাপমাত্রা বিরাজ করে ৩৮-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। অসহনীয় গরমে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ভাইরাসজনিত রোগে। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ঠে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। শিশু হাসপাতালে পানিবাহিত শিশু রোগী বিগত কয়েক দিনে কয়েকগুন বেড়েছে। ডায়ারিয়া, টাইফয়েড ও ফুসফুস জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা বেশি।
খুলনা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ রোববার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, পুরো মে মাস জুওে খুলনায় তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করছে। আর খুলনা বিভাগের মধ্যে ছিলো ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। গতকাল রোববার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোনিম্ন ছিলো ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দির শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে বলে তিনি ওই আবহাওয়াবিদ জানান।
গতকাল রোববার নগরীর শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশুর রোগীর সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে কোন বেড খালি নেই। এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪১-৪৮ জন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিদিন বহিঃ বিভাগে ৪২৪-৫০০ শিশু রোগীদের সেবা নিচ্ছেন।
শিশু কন্যা নিলা ৮ মাস বয়স। গত কয়েকদিন ধরে কাশির সাথে সাথে জ্বরও আসছে। শনিবার কাশির তিব্রতা বেড়ে যায়। ওই দিন রাত ১২ টায় শিশু হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়। শিশুর মা শারমিন বলেন, খুশখুশি কাশি হচ্ছিল গত কয়েকদিনে। গতকাল কাশির সাথে বমি চলে আসায় ভয় পেয়ে যাই। দেরি না করে শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
খুলনা শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, গরমে শিশুদের ডায়ারিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া রোগ বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে পানিবাহিত ডায়ারিয়া, টাইফছেরি রয়েছে। ২-৩ বছরের নিচের বয়সী শিশুরা বেশির ভাগে ফুসফুস ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। ৩ বছরের উপরে বয়সী শিশুরা শ্বাসকষ্টো, ডায়ানিয়া ও টাইফয়েড এ আক্রান্ত বেশি হচ্ছেন। এই ভাইরস জনিত রোগের কারণে সুস্থ হতে ৫-৭ দিন সময় লাগছে। এমন অবস্থায় পরামর্শ হিসেবে ডাঃ সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, শিশুরা ঘেমে গেলে ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগেই মুছে দিতে হবে। মশার কয়েল যতদুর সম্বভ না জ্বালানো ভালো, জ্বর না থাকলে গোসল নিয়মতি করাতে হবে। গরমে শিশুদের ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়। এ জন্য প্রচুর পানি পনা করাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন বিশুদ্ধ হয়। বাসার তৈরি শরবত ছাড়াও ডাবের পারি খাওয়াতে হবে। খাওয়ার আগে শিশুদের সাবান অথবা হ্যান্ডওয়ায়ে অভ্যস্ত করতে হবে। ৬ মাসে নিচের শিশুদের মায়ের বুকের দুধ নিয়মিত খাওয়াতে হবে। ৬ মাসে ওপরে শিশুদের বুকের দুধের পাশাপশি বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রচন্ড গরম আর ধুলাবালিতে শিশুদের ইনফুয়েঞ্জা বেশি হচ্ছে। এ কারণে শিশুদের এ সময়ে বেশি একটা বাইরে না নেওয়া ও বাইরে খাবার থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
খুলনা শিশু হাসপাতাল সূত্র মতে, গতকাল রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বহি:বিভাগের শিশুরা রোগীর সংখ্যা ছিলো ৪২৪ জন। এ সময়ের মধ্যে ভর্তি করানো হয় ৪১ শিশুকে। হাসপাতালে মোট ২৬০ বেড সংখ্যার মধ্যে একটি সিট খালি নেই। অনেকে বেড সংকট থাকার কারণে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

আপনার মতামত জানানঃ