সুন্দরবনের নলিয়ান রেঞ্জে ফের সক্রিয় ৩ বনদস্যু বাহিনী

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : চলতি গোলপাতা মৌসুমে নলিয়ান রেঞ্জ এলাকায় ৩ টি বনদস্যু বাহিনী নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যে কারনে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক পরিবারগুলো দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
সুন্দরবন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবিদের সুত্রে জানা যায়, চলতি গোলপাতা আহরন মৌসুমকে ঘিরে নতুন করে ৩ টি পৃথক বনদস্যু বাহিনী ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দস্যুবাহিনীর তৎপরতায় গোলপাতা আহরনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক পরিবার গুলোতে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে ব্যবসায়ীদের লক্ষ লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ অপরদিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে তারা চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে আছে। সক্রিয় বাহিনী গুলো যেমন নানানাতি বাহিনী, ছোটভাই ও রাঙা বাহিনী। এদের মধ্যে নানানাতি বাহিনী সুন্দরবনের আলকি, হাডডোরা, ছাচানাংলা এলাকায়, ছোটভাই বাহিনী ভদ্রা, পাতকোষ্টা এলাকায় এবং রাঙাবাহিনীর বিচরন কালাবগী, হাডডোরা, শরবতখালী এলাকার খালে অবস্থান করে চাঁদাবাজি করে চলেছে। নানানাতি বাহিনীর ৮/১০ জন সদস্য, ছোটভাই বাহিনীর ৬ এবং রাঙাবাহিনীর ৬/৭ জন সদস্য আছে বলে জানা গেছে। এদের হাতে বন্দুক, পাইপগান, চাইনিজ কুড়াল ও চাপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয় অস্ত্র আছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে বাহিনী গুলো ইতিমধ্যে বিভিন্ন বহর মালিকদের সাথে যোগাযোগ করে নৌকা প্রতি ৪/৫ হাজার টাকা ধার্য্য করে আল্টিমেটাম দিয়েছে। এ ব্যাপারে নিজিদের বিনিযোগকৃত পুঁজি এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বহর মালিকরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। উল্লেখ্য এক সময় গোটা সুন্দরবন বনদস্যুদের অবাধ বিচারন ও চাঁদাবাজিতে পেশাজীবিরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছিলো। কিন্তু সরকারের কঠোর অবস্থানে একে একে ৪১ টি দস্যু বাহিনী র‌্যাবের কাছে আতœসমর্পন করলে পেশাজীবিদের মাঝে স্বস্থি ফিরে আসে। কিন্তু সম্প্রতি ফের দস্যুবাহিনীর অপতৎপরতায় পেশাজীবিরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবিরা আইনশৃংক্ষলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতা কামনা করেছে।

আপনার মতামত জানানঃ