৯০ শয্যা চালু ও চিকিৎসক সঙ্কট দূর হলে পূর্ণাঙ্গরূপে দাঁড়াবে আবু নাসের হাসপাতাল

৫২ চিকিৎসক পদ শূন্য
প্রয়োজন চিকিৎসাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি
হাসপাতালটি ইন্সটিটিউট করার দাবি

কামরুল হোসেন মনি :শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট উদ্দেশ্যেই এই হাসপাতালটি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্মাণ হয়। খুলনাবাসীর আন্দোলনের ফসল এই হাসপাতালটি চারদলীয় জোট সরকার এসেই শুধু নামের কারণে সার্বিক উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। পুনরায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা চালু করেন। বর্তমানে ১৬০ শয্যা চালু থাকলেও চিকিৎসক সঙ্কট থাকায় বাকী শয্যাগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এই হাসপাতালটি চালুর পর থেকে খুলনাঞ্চলের মানুষেরা লাখ টাকার চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে পাচ্ছেন। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার পরিবর্তে ৫০০ শয্যায় রূপান্তরিত করার দাবি এই অঞ্চলের মানুষের।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী বৃহস্পতিবার বিকেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে হলে হাসপাতালের ৫ম তলা বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন পূর্ণাঙ্গ শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি বরাদ্দের প্রয়োজন। তিনি বলেন, খুলনা বিভাগের সাড়ে ৩ কোটি মানুষের জন্য ২৫০ শয্যায় সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে। বর্তমানে ১৬০ বেড চালু আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুলনাবাসীর চিকিৎসাসেবা চাহিদা বিবেচনা করেই এই ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য মূল দাবি হিসেবে প্রস্তাবনা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, কার্ডিওলোজিতে পুরুষ ও মহিলা মিলে ৩০টি বেড রয়েছে। এই অল্প বেড দিয়ে খুলনা বিভাগের সাড়ে তিন কোটি মানুষের চিকিৎসার চাহিদা তুলনায় খুবই নগণ্য। যদি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয় তাহলে রোগীর সংখ্যাও বাড়বে আর সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, এই হাসপাতালটি ইন্সটিটিউটে রূপান্তরিত করা হলে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে পারবে। চিকিৎসকরাও থাকবে এতে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ৩০ মার্চ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু হয়। বর্তমানে সিসিইউতে ৩০ বেড, আইসিইউতে ১০ বেড, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে ২০ বেড, নিউরো মেডিসিন বিভাগে ৪০ বেডসহ অন্যান্য বিভাগ মিলে মোট ১৬০টি বেড চালু রয়েছে। সূত্র মতে, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বেড খাতা কলমে থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সঙ্কট ও জনবল কম থাকার কারণে বাকী বেডগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া সঙ্কট রয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সরঞ্জামগুলোর। বর্তমানে হাসপাতালে চিফ কনসালট্যান্ট, সিনিয়র কনস্যালট্যান্ট, জুনিয়র কনস্যালট্যান্টসহ অন্যান্য পদে মঞ্জুরিকৃত ৯৯টি পদের বিপরীতে মাত্র ৪৭টি পদ পূরণ করা হয়েছে। বাকী ৫২টি পদ এখনো পর্যন্ত শূন্যই রয়েছে। এছাড়া ২য় শ্রেণি পদে ফিজিওথেরাপিস্টসহ ৪টি পদ, ৩য় শ্রেণিতে মঞ্জুরিকৃত ১৯টি পদ ও চতুর্থ শ্রেণিতে মঞ্জুরিকৃত ২০টি পদ খালি রয়েছে।
জানা গেছে, খুলনায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একজন রোগীর ২৪ ঘন্টার জন্য আইসিইউ সাপোর্ট পেতে রোগীর আত্মীয়দের গুণতে হয় ২২ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এই কারণেই গরিব অসহায় পরিবারের টাকা যোগান দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। অনেক সময় বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। বর্তমানে ওই সেবাটি বিনামূল্যে শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে অসহায় গরিবরা নিচ্ছেন। গরিব মানুষের বেসরকারি হাসপাতালে কার্ডিয়াক, কিডনী, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি, নিউরো, কিডনী, এমআরআই বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা গরিব অসহায় মানুষের সাধ্যের বাইরে ছিল। বর্তমানে ওই সব সেবা বিনামূল্যে আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে দেওয়া হচ্ছে। গত বছরের ১ ফেব্রæয়ারি থেকেই ওই হাসপাতালে আইসিইউ এবং বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি চিকিৎসাসেবা শুরু হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোঃ নাসিম এ দুইটি ইউনিট উদ্বোধন করেন। লাখ টাকা খরচের এসব চিকিৎসাসেবা এখানে বিনা টাকায় পাচ্ছেন মানুষ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর আত্মীয় আহসান হাবিব বলেন, এই হাসপাতালে কার্ডিওলোজিতে তার চাচাকে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ও ওষুধপাতি নিয়ে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে ভর্তির জন্য সিরিয়াল দেওয়ার পর ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এখানে তেমন কোনই টাকা খরচ হচ্ছে না। তিনি বলেন, বেড সংখ্যা বৃদ্ধি ও ৫০০ বেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের মতো অসহায় গরিব মানুষের জন্য সরকারি এ সুবিধা আশীর্বাদ স্বরুপ।

আপনার মতামত জানানঃ