ফুলতলায় মোবাইল ফোন মার্কেটে আগুনঃ ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি: শনিবার ভোররাতে ফুলতলায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে শপিং মার্কেটের অন্ততঃ ৬টি মোবাইল ফোনের দোকানের মালামাল ভস্মিভুত হয়। এ সময় ফায়ারসার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এতে ক্ষতির পরিমান ২০ লক্ষাধিক টাকা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, স্থানীয় মুসল্লিরা ফুলতলা বাজার মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে বেরুতেই রফিক সড়কস্থ এভি সুপার মার্কেটের বন্ধ দোকানের ভিতর থেকে কালো ধোয়া দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে সংবাদ দেন। খানজাহানআলী ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসির সহায়তায় দোকানের সার্টারের তালা কেটে পানি মেরে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ততক্ষনে মার্কেটে আকুঞ্জী মোবাইল নেট, নেহা মোবাইল সার্ভিসিং, নিউ লামিয়া টেলিকম, রিটু কম্পিউটার, লামিয়া টেলিকম ও ন্যাশনাল টেলিকমের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এ সময় পার্শ্ববর্তী বিসমিল্লাহ স্টোর ও স্বর্ণা গিফট কর্ণারের মালামালেরও ক্ষতি সাধিত হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে মাসুদ আকুঞ্জী’র মালিকানাধিন আকুঞ্জী মোবাইল নেট থেকেই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে এ অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত। সৃষ্ট আগুনের তাপ, কালো ধোয়াচ্ছন্ন এবং আগুন নিভাতে ব্যবহৃত পানির কারণে অন্য দোকানগুলির মোবাইল, কম্পিউটার ও অন্যান্য মালামালসামগ্রীর ক্ষতি সাধিত হয়। এ ছাড়াও আগুনের তাপে ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। লামিয়া টেলিকমের স্বত্তাধিকারী সরদার তাহেরুল ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে গত সপ্তাহে আধুনিক এন্ড্রয়েড সেট উঠানো হয়। সে সব সেটগুলি ভস্মিভুত হওয়ায় তিনি হতাশ।

 

শ্বশুরকে গরু বিক্রিতে বাধা দেয়ায় জেএসসি পরীক্ষার্থীসহ বিধবা গৃহবধুকে পিটিয়ে জখম

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি: শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্রহরে জেএসসি পরীক্ষার্থী কন্যাসহ বিধবা গৃহবধু রহিমা বেগম (৩২) গুরুতর জখম হলে তাদেরকে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। নির্মম এ ঘটনা ঘটে শুক্রবার দুপুর অভয়নগর প্রেমবাগ পালপাড়া এলাকায়।
ফুলতলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রহিমা বেগম জানান, গত দেড় বছর পূর্বে প্রেমবাগ পালপাড়া গ্রামস্থ স্বামী মফিজুর গাজী অসুস্থ্যতার কারণে মৃত্যবরণ করলে ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে নিয়ে স্বামী ভিটাতেই অবস্থান করেন। তিনি নিজে দিনমজুর হিসাবে অন্যের ক্ষেতে কাজ ওগরু পালন করে নিজেদের ভরনপোষন এবং ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগান। শুক্রবার দুপুরে শ্বশুর ঐ গৃহবধুর পালিত গরু জোর পূর্বক বিক্রির চেষ্টা করে। এতে বাধা দেয়ায় শ্বশুর আবু তালেব জমিদার গাজী (৬০), দেবর মোস্তাক গাজী (৪০) ও ননদ লুৎফুন্নাহার (৩৫) রহিমা বেগমকে মারপিট করতে থাকে। এ সময় তার জেএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে সুমা খাতুন (১৪) ঠেকাতে আসলে তাকেও বেদম মারপিট করে। পরে এলাকাবাসি তাকে উদ্ধার করে ফুলতলাস্থ তার পিত্রালয়ে পাঠালে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

টানা বর্ষণে ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া রাস্তা ৩ ফিট পানির নিচে

মেহেদী হাসান, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ গত ৩ দিনের মাঝারী ও ভারী বর্ষণে এবং বড়পুকুরিয়া খনির ভূমি অবনমন হয়ে তলিয়ে গেছে প্রায় ৩ ফিট পানির নিচে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া সড়কটি। ফলে চলাচলে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে বড়পুকুরিয়া এলাকাসহ ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। একইসাথে ৪টি গ্রামের শিক্ষার্থীরা বড়পুকুরিয়া বাজারে অবস্থতি স্কুল, কলেজ মাদ্রাসায় যেতে বিড়ম্বনায় পড়েছে।  বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টির ফলে বড়পুকুরিয়া বাজার থেকে দক্ষিন দিকে প্রায় অর্ধকিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ওই রাস্তায় চলাচলকারীরা জানায় ভারী বর্ষন ও খনির কারণে ভূমি অবনমন হওয়ায় এই রাস্তাটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় খালাখন্দে পরিনত হয়েছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বড়পুকুরিয়ার পাতিগ্রাম, জিয়াগাড়ী, পাথরাপাড়া, বাঁশপুকুর, শিবকৃষ্ণপুর, হামিদপুর, ধুলাউদাল, পলাশবাড়ী, কাজিপাড়, সর্দারপাড়াসহ ১০ গ্রামের মানুষকে। এসব গ্রামের মানুষ তাদের নিত্য প্রয়োজনে প্রতিদিনই ফুলবাড়ীতে আসা যাওয়া করতে হয় এই রাস্তা দিয়ে। কিন্তু রাস্তাটির এমন অবস্থার কারণে বিপাকে পড়েছে তারা। একইসাথে তারা বলছে যদি এধরনের বৃষ্টি চলতে থাকে তাহলে রাস্তাটিদিয়ে আর চলাচল করা যাবে না। পক্ষান্তে তাদের প্রয়োজনে ২০ কিলোমিটার ঘুরে ফুলবাড়ী আসতে হবে।
এদিকে বৈগ্রাম, কাশিয়াডাঙ্গা, রসুলপুর ও মোবারকপুর গ্রাম থেকে অনেক শিক্ষার্থীই ওই রাস্তাদিয়ে বড়পুকুরিয়া বাজারে অবস্থিত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যায়। এক্ষেত্রে রাস্তাটি চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বড় বিপাকে পড়বে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।
হামিদপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মন্ডল বলেন, হামিদপুর ইউনিয়নটি পার্বতীপুর উপজেলার অর্ন্তগত হলেও ভৌগলিক কারণে ফুলবাড়ী পৌরশহরের একেবারে সন্নিকটে। যা ফুলবাড়ী শহর থেকে মাত্র ৩কি.মি. দুরত্বে অবস্থিত। যার কারণে এই ইউনিয়নের বাসিন্দারা হাট বাজারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় বিক্রয়ের জন্য ফুলবাড়ী পৌরশহরের উপর নির্ভরশীল। আর এই সড়কটি হচ্ছে এই এলাকার যাতায়াতের প্রধান সড়ক। এই সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় হামিদপুর ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের চরম দূর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি সুত্রে জানা গেছে, খনির কারনে ভূমি অবনমন হওয়ায় গত ২০১১ সালে বড়পুকুরিয়া বাজারসহ ওই এলাকাটির সাড়ে ৬শ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তাটি এখন পর্যন্ত স্থানান্তর করা হয়নি। ফলে এই সমস্যার সৃস্টি হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী রাস্তাটি অতিসত্তর মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, এই জায়গাটির কিছু অংশ অধিগ্রহন করলেও এলাকাবাসীর যাতায়াতের জন্য আলাদা কোনো রাস্তা করে নাই। ফলে এই রাস্তা দিয়েই তাদেরকে প্রতিদিনই চলাচল করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, রাস্তাটি একটু বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে নিত্যপ্রয়োজনে যাতায়াত করা চরম অসুবিধার সৃষ্টি হয়। রাস্তাটি খয়েরপুকুর হাট দিয়ে ফুলবাড়ী থেকে বদরগঞ্জ উপজেলার একটি সংযোগ সড়ক। ফলে এ রাস্তা দিয়ে ফুলবাড়ী পার্বতীপুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে।

বিষয়টি নিয়ে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটিডের এমডি প্রকৌশলী মো. হাবিব উদ্দিন এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, রাস্তাটি মেরামতের জন্য এলাকাবাসী আমাদের কাছে ইতিপূর্বে খনি রাবিশ চেয়েছিল যাদিয়ে আমরা রাস্তাটি মেরামত করে দেই। বর্তমানে খনিতে রাবিশ না থাকায় এই সমস্যা। তাছাড়া রাস্তাটি নিয়ে স্থায়ী সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং দ্রুত যাতে এই সমস্যার সমাধান হয় সেই চেষ্টা করছি।

কেশবপুরে দেয়াল পত্রিকা উদ্বোধন

এস আর সাঈদ, কেশবপুর, যশোরঃ কেশবপুরে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার মুলগ্রাম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শনিবার দুপুরে দেয়াল পত্রিকা উদ্বোধন করা হয়েছে। মুলগ্রাম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার মুখার্জীর সভাপতিত্বে ও প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মন্ডলের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে দেয়াল পত্রিকা উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম সাইফুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচীর প্রোগ্রাম অফিসার মিজানুর রহমান পলাশ।

যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ এসএমসি কমিটির সভাপতি হারুনার রশীদ

এস আর সাঈদ, কেশবপুর, যশোরঃ কেশবপুরের হারুনার রশীদ বুলবুল যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ এসএমসি কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, কেশবপুর উপজেলার প্রতাপপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির সভাপতি হারুনার রশীদ বুলবুলকে ৩য় বার যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ এসএমসি কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পাড়া রোধ, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, প্ররিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষার্থীদের নৈশ কালীন কোচিং চালু, উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএমসি কমিটিকে উদ্বুদ্ধ করা ও প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা রাখায় তাঁকে যশোর জেলার শ্রেষ্ঠ এসএমসি কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

নীলফামারীতে টানা বৃষ্টি, ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ  টানা বৃষ্টি হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। এতে নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে চলেছে। গত বহস্পতিবার (১০ আগষ্ট) সন্ধ্যা থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টির কারনে নীলফামারী জেলার বিভিন্ন এলাকা ও তিস্তা নদী অববাহিকার গ্রাম গুলো তলিয়ে গেছে। ভারী বর্ষনে আজ শনিবার এ পরিস্থিতি সৃস্টি হয়। এতে প্রায় তিন হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় ওই সব পরিবারকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

গত বুধবার (৯ আগষ্ট) হতে আজ শনিবার পর্যন্ত বৃস্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। টানা বৃস্টিতে নাখাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। এদিকে আজ শনিবার সকাল ৬টা হতে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পানি উনয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র এ সুত্র জানায়।
শুক্রবার তিস্তা অববাহিকায় ডালিয়া পয়েন্টে ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৩২ মিলিমিটার।
 এতে রোপা আমন ক্ষেত সহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃস্টিপাতের কারনে জেলার বিভিন্ন নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলা সদরের ইছামতি শাখা নদীর পানি উপচে ওই ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামটিকে তলিয়ে দিয়েছে। গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট ও আবাদী জমির উপর দিয়ে প্লাবনের পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে। বন্যা কবলিত পরিবারগুলোকে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় দেয়া হয়েছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান।
এ ছাড়া গত রবিবার (৬ আগষ্ট) ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বখড়িবাড়ি এলাকায় তিস্তা নদীর ডানতীরে স্বপন বাঁধ বিধ্বস্থ্য হয়। বৃস্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই গ্রামে হুহু করে নদীর পানি প্রবেশ করে সব ছিল তলিয়ে দিতে শুরু করেছে। গ্রামের ৭শত পরিবারের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ১৫টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। ৫০ পরিবার বসতঘর সরিয়ে নিয়েছে বলে জানায় ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন।
ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিঙ্গেশ্বর গ্রামে ৭৪৫টি পরিবারের ঘরবাড়িও তলিয়ে গেছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান। খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের কিছামত গ্রামে ২৩০টি পরিবারের বসত ঘরের ভেতর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন। জলঢাকা উপজেলার খুটামারী ইউনিয়নের বুড়িখোড়া নদীর পানি উপচে জেলেপাড়া গ্রামের ৫৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ শামীম।
ডিমলা উপজেলার ছোটখাতা কুমলাই মৎস্য খামার চাষী সমবায় সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, টানা বর্ষন ও উজানের ঢলের কারনে তার সমিতির ৪শ একর পুকুরের ৫ লক্ষাধিক টাকার মাছ ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, তার এলাকার পুকুরের ২ লক্ষাধিক টাকা মাছ ভেসে গেছে। নাউতরা ইউনিয়নের নাউতরা নদীর বাঁশের সাকো ভেঙ্গে পড়ার এলাকাবাসীকে চরম দুভোগে পড়তে হচ্ছে। নাউতরা ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম লেলিন বলেন, জরুরী ভিত্তিতে চলাচলের জন্য নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে।
নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহিনুর আলম ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ডিমলার বন্যা কবলিত এলাকার পরিদর্শনে আছেন। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, টানা বৃষ্টির কারনে ডিমলাসহ আশেপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানান, আজ শনিবার তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি সকাল ৬টা হতে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উজানের ঢল ও বৃস্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

সাতক্ষীরায় জামায়াত শিবিরের ১১ নেতা-কর্মীসহ আটক ১০৮

সেলিম হায়দার, সাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের সন্ত্রাস,নাশকতা ও মাদক বিরোধী বিশেষ আভিযানে জামায়াত-শিবিরের ১১ নেতা-কর্মীসহ ১০৮ জানকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৫১টি লিফলেট,২১টি জিহাদি বই ও ২০৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানান,সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ৫৪ জন,কলারোয়া থানা ০৮ জন,তালা থানা ০৬ জন,কালিগঞ্জ থানা ০৪ জন,শ্যামনগর থানা ০৮ জন,আশাশুনি থানা ০৪ জন,দেবহাটা থানা ১১ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে,পাটকেলঘাটা আল-আমিন ফাজিল মাদ্রাসা থেকে পাটকেলঘাটা থানা শিবির সভাপতি নগরঘাটা গ্রামের মুন্তাজ সরদারের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩),সুরুলিয়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি কাশিপুর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে ইমামুল হোসেন (২০),আল-আমিন ফাজিল মাদ্রাসা শাখা শিবিরের সভাপতি বাউখোলা গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত (১৯) প্রমুখ। এসময় তাদের নিকট থেকে “আন্দোলন জোরদার করার জন্য শিবিরের ভূমিকা” শিরোনামে ৫১টি লিফলেট ও ২১টি জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন-আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।

ঝালকাঠিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ২২৬

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে তিন দিনের বিশেষ অভিযানে ২২৬ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে ৭৪জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৮জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামী। বাকী ১৫২জনকে জামিনে থাকায় তাদের রিকল দেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃত ৭৪ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়াও কাগজপত্র বিহীন অবৈধ ৩০টি যানবাহন আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ঝালকাঠি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) এমএম মাহমুদ হাসান(পিপিএম-সেবা) বলেন, জেলাব্যাপী পলাতক আসামী ও অপরাধের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে তিন দিন ব্যাপী বিশেষ অভিযানে জেলার ৪টি থানা থেকে পুলিশ মোট ২২৬জনকে আটক করে। জেলা পুলিশ প্রতিনিয়ত অপরাধ ও জঙ্গী দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বলে তিনি জানান।