যশোরে কৃষক হত্যাকান্ড নৈশ্যপ্রহরী আটক  

যশোর: যশোর সদর উপজেলার আন্দোলপোতা গ্রামের আজিজুল সরদান (৩২) নামে এক কৃষক খুন হয়েছে। খুনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীকে আটক করেছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই নিচার আলী সরদার বাদি হয়ে আটক তরিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন উল্লেখ করে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলার  দায়ের করেছেন। মামলা নং ১৭ তারিখ ৫/৩/১৮ ইং। আজিজুল আন্দোলনপোতা গ্রামের আলাউদ্দিন সরদারের ছেলে।

নিহত আজিজুল সরদারের চাচা শোর জেলার সাবেক স্যানিটারি ইনসপেক্টর শাহজাহান আলী সাংবাদিকদের জানায়,আজিজুল একজন কৃষক। সে আন্দোলপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী তরিকুল ইসলামের কাছে র্দীঘদিন যাবত ১লাখ ৩৬ হাজার টাকা পেত। উক্ত টাকা লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার ৪ মার্চ রাত আনুমানিক ৯ টায় তরিকুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে আজিজুল সরদারের কাছে ফোন করে টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। আজিজুল সরদারকে আন্দোলপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ডাকলে টাকা আনতে আজিজুল সরদার ওই রাতে যান। রাত আনুমানিক ৯ টার পর থেকে আজিজুল সরদারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে বের হয়। সোমবার রাত আনুমানিক ২ টায়  পুলিশ উক্ত বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকের ভিতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ওই বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী তরিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তরিকুল ইসলাম এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে পুলিশের কাছে প্রথম পর্যায় মুখ খোলেনি। আজিজুল সরদারকে উক্ত বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের মধ্যে নিয়ে ৫/৬জন সংঘবদ্ধভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। আজিজুল সরদার সুদের কারবার করতো।  তরিকুর ইসলাম তার কাছ থেকে সুদে  টাকা নিয়ে ফেরত দেওয়ার নানা ভাবে তালবাহনা করছিল। আজিজুল সরদারকে হত্যা করতে দেনাদারগন সংঘঠিত হয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারনা করেছে। নিহত আজিজুল সরদারের গলায়,ঘাড় ও কপালে অস্ত্রের আঘাতের বেশ কয়েকটি চিহ্ন রয়েছে। কোতয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আবুল বাশার মিয়া সাংবাদিকদের জানান, রোববার রাতে আজিজুল সরদার হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অভিযোগে পুলিশ ওই বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী তরিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। সে আন্দোলপোতা গ্রামের আয়নাল বিশ্বাসের ছেলে। গতকাল নিহতর ভাই নিছার আলী সরদার বাদি হয়ে তরিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে ৭  জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪জন উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানাগেছে।

যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল ছাত্র নিহত

যশোর: যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুর রহিম (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে । সে মণিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মোহাম্মদ খোকনের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ রাসেল জানান, আব্দুর রহিম সোমমার সকালে যশোর থেকে বাসে যোগে খুলনা যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বসুন্দিয়া বাজার এলাকায় আসলে সে বাসের মধ্যে থেকে জানালা দিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করে। তখন সে মাটিতে পড়ে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনলে জরুরি বিভাগের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জাফর ইকবালের ওপর হামলা মানেই মুক্তচিন্তার ওপর হামলা

খুলনা :  অধ্যাপক জাফর ইকবালকে তরুণদের স্বপ্ন দেখানোর পথিক, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে তরুণদের সামনে আনার পথপ্রদর্শক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার উজ্ঝ¦ল নক্ষত্র, জাতির বিবেক হিসেবে আখ্যায়িত করে খুবি শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁর ওপর হামলা মানেই আমাদের বিবেকের ওপর হামলা, মস্তিস্কের ওপর হামলা, মুক্তচিন্তার ওপর হামলা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর হামলা, আমাদের মননের ওপর হামলা। ভবিষ্যতে যাতে কোনো পরাজিত অপশক্তি এ ধরনের হামলা না করতে পারে সেজন্য শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে, তারা জেগে উঠলে আর কোনো পরাজিত, ধর্মান্ধ শক্তি হামলার সাহস পাবে না।

সোমবার সকাল ১১টায় ক্যাম্পাসের হাদী চত্বরে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বতস্ফুর্ত এ মানববন্ধনের সাথে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান সংহতি প্রকাশ করেন। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ শিক্ষার্থীদের এই মানবন্ধনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে পরিষদের পক্ষে সভাপতি প্রফেসর ড. অনির্বাণ মোস্তফা বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধন থেকে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীসহ এর নেপথ্য সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রুপক সাহা, নোমান, স্বাধীন, মোক্তাদিরুল কাদের, শারমিন আক্তার সুবহা, আজবীয়া খান এশা, কাঞ্চন রায়, গণেশ চক্রবর্তী, অর্ণব, শাহরিয়ার, আল আমিন হাজরা, মুশফিক, সুচিরা দাশ প্রমুখ।

অপরদিকে সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলা চত্ত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. সোবহান মিয়া এর সভাপতিত্বে মানববন্ধন চলাকালে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর।

এসময় শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মিহির রঞ্জন হালদার, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদার, আইএম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আজিজুর রহমান, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) মনিকা গোপ প্রমুখ।

হত্যা মামলার আসামিদের বাদ দেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

যশোর: মোটা অংকের টাকা নিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বাদ দিয়েছে কেশবপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা। স্বামীর প্রকৃত খুনিদের বিচারের দাবিতে সোমবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রেহেনা এ অভিযোগ করেন। তিনি কেশবপুর উপজেলার ব্রক্ষ্মণকাটি গ্রামের মৃত কামরুজ্জামানের স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তার নবম শ্রেণি পড়–য়া মেয়ে শারমিন আক্তার। এসময় উপস্থিত ছিলেন নিহত কামরুজ্জামানের চাচা আব্দুস সালাম, প্রতিবেশি রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে রেহেনা বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমার মেয়ে শারমিন আক্তারকে বিভিন্ন সময় একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আল আমীন বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মেয়ে নাবালিকা থাকায় আমরা এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিই। এছাড়া তাদের সাথে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। এজন্য গত বছর ৫ আগস্ট আল আমীন, আলম রাজমিন্ত্রী, আছির উদ্দিন দফাদার, জাহাঙ্গীর হোসেন ও খাদিজা বেগমসহ আরো কয়েকজন আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এজন্য আমার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। পরে রড দিয়ে আমার পায়ে আঘাত করে। এজন্য আমার স্বামী বাড়িতে আসলে তারা আমার স্বামীকে বেদম প্রহর করে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়। তখন তাকে প্রথমে কেশবপুর হাসপাতালে ও পরে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার একদিন পর তিনি মারা যান।

এ ঘটনার ৭ আগস্ট আমি কেশবপুর থানায় একটি মামলা করি। কিন্তু মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আকরামের মতো দ্বিতীয় কর্মকর্তা কেশবপুর থানার ওসি (তদন্ত) শাহাজাহানও আসামীদের গ্রেফতার করেননি। পরে তিনি শুধুমাত্র আল আমীন ও খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন। আর এজারহারভুক্ত আসামী আলম রাজমিন্ত্রী, আছির উদ্দিন দফাদার ও জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তাদের চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছেন।

এব্যাপারে আমি থানায় গেলেও কোন সদুত্তর পাইনি। পরে আমি জেলা পুলিশ সুপার ও ডিআইজির কাছে লিখিত আবেদনও করেছি। কিন্তু সেখান থেকেও আমার স্বামী আমার অনাগত সন্তানের পিতার প্রকৃত খুনিদের বিচারের কোন সাড়া পাইনি।’

এব্যাপারে অভিযুক্ত কেশবপুর থানার ওসি (তদন্ত) শাহাজাহান বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। তদন্ত করে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আর যারা জড়িত নয় তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।’

সুন্দরবনে জবাইকৃত হরিণের মাংসসহ পাচারকারী আটক

খুলনা :  সুন্দরবনে হরিণের ৫০ কেজি মাংস ও ২টি মাথাসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা। রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত এ অভিযান চলে। আটককৃত মোঃ শামীম মিস্ত্রী (৩৩) পাইকগাছা থানাধীন পাটকলপটা গ্রামের বোদর উদ্দিন মিস্ত্রীর ছেলে।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সিজি আউটপোস্ট নলিয়ান এর একটি টহল দল খুলনা জেলার দাকোপ থানার কালাবগি খাল সংলগ্ন মুচির দোয়ানি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত স্থান থেকে হরিণের মাংস ৫০ কেজি ও হরিণের মাথা ২টি এবং ইঞ্জিন চালিত বোট ১টি, দেশীয় নৌকা ১টি উদ্ধার করে এবং পাচারকারীকে আটক করা হয়।

হামলার ঘটনায় আদালতে করতে গিয়ে আবারও হামলার শিকার

যশোর: হামলার ঘটনায় কোর্টে মামলা করতে যেয়ে আবারও হামলার শিকার হয়েছেন লিপি খাতুন (২১) নামে এক নারী। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি যশোর চৌগাছা উপজেলার মাশিলা গ্রামের মৃত হানিফ আলীর মেয়ে। বর্তমান তিনি শহরের  মাইকপট্টির ভাড়া বাড়িতে থাকেন।

আহত লিপি খাতুন জানিয়েছেন, তার মামা শাহাজালালকে পুলিশে চাকরি দেবার কথা বলে স্থানীয় ওমর ফারুক নামে এক দালাল ৫লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। দালাল ওমর ফারুক চাকরি দিতে ব্যর্থ হলে শাহাজালালের পরিবার পওনা টাকা দাবি করে আসছিলো। এতে দালাল ওমর ফারুক ও শাহাজালালের পরিবারের বিরোধ হয়। ১ তারিখ দালাল ওমর ফারুককে পুলিশে আটক করে। পরে দালাল ওমর ফারুক পুলিশকে মোটা আংকের টাকা দিয়ে ওই দিন মুক্তি পায়। বৃস্পতিবার সকালে লিপি খাতুন যশোর থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে চুড়ামনকাটি বাজরে আসলে দালাল ওমর ফারুকের নের্তৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত তাকে গতিরোধ করে। তার সন্দেহ লিলি খাতুন তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। কথাকাটাকাটির এক পর্যায় দৃর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে কাছে থাকা মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতলে ভর্তি থাকলে লিপি বেগমকে মোবাইলে হত্যা ও গুমের হুমকি দিয়ে আসছিলো ওমর ফারুক সিন্ডিকেট। ২ মার্চ তিনি প্রাণ বাঁচতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। ৪ মার্চ দুপুরে লিপি খাতুন ওমর ফারুক গংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করতে কোর্টে আসেন। এ সময় কোর্টের গেটে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্ত ওমর ফারুকের নেতৃত্বে ৪/৫ জন লিপি বেগমকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মাথা ফাঁটিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত লিপি বেগমের অভিযোগ, এখনো মামলা না করার জন্যে ওমর ফারুক তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। একাধিক বার তাকে হাসপাতালে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন তিনি।

ঝালকাঠি সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে জেলহাজতে প্রেরণ

মো:নজরুল ইসলাম,ঝালকাঠি : ঝালকাঠি সদর উপজেলা আ’লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক নথুল্লাহবাদ ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন সরদার সহ ৪জনকে জেলা হাজতে প্রেরন করেছে আদালত। সোমবার জোরপূর্বক অর্থ ছিনিয়ে নেয়া ও ষ্টাম্পে স্বাক্ষর আদায়ের মামলার এজাহার ও চার্জশীটভূক্ত আসামী হিসাবে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আত্মসমার্পন করলে তাদের জেল হাজতে পাঠান হয় মামলার বাদীর আইনজীবী এড.ফয়সাল খান নিচ্ছিত করেন। একই এলাকার মোঃ বেল্লাল লস্কর বাদী হয়ে গত ৯ মে ২২০১৭ইং তারিখ ঝালকাঠির তৎকালীন সদর সাবরেজিষ্টার, আ’লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন সরদার, পিয়ন এনায়েত, স্থানীয় কাওসার ও মারুফ সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিল। তবে এ মামলার প্রধান আসামী তৎকালীন সাবরেজিষ্টার নিজেকে রক্ষার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলে তদবীর চালিয়ে ও তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করায় চার্জশীট থেকে তার নাম কাটাতে সক্ষম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বিবরনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ মে ২০১৭ইং তারিখ নথুল্লাহবাদ ইউনিয়নের মোঃ বেল্লাল লস্করকে জোরপূর্বক আটক করে মারধর ও হুমকি দিয়ে সাথে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সাবরেজিষ্টার অফিসে নিয়ে রেভিনিউ ষ্টাম্পে সই-স্বাক্ষর রেখে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় বেল্লাল লস্কর বাদী হয়ে তৎকালীন সদর সাবরেজিষ্টার, আ’লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন সরদার, পিয়ন এনায়েত, স্থানীয় কাওসার ও মারুফ সহ ৫জনকে আসামী করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযোগ করলে বিচারক ঝালকাঠি থানার ওসিকে তা এজাহার হিসাবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

ঝালকাঠি থানার ওসি মামলা রেকর্ড করে তদন্তের জন্য এসআই সরোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দিলে গত ১০ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখ প্রধান আসামী তৎকালীন সাবরেজিষ্টারকে মামলা থেকে অব্যহতি দিয়ে অপর আসামী সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন সরদার, পিয়ন এনায়েত, স্থানীয় কাওসার ও মারুফ সহ ৪জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ০৫ মার্চ সোমবার উক্ত মামলার আসামীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক কবির আহম্মেদ তাদের জেলহাজতে প্রেরন করেন।

বেনাপোলে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

বেনাপোল প্রতিনিধি: দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪ এর বেনাপোল প্রতিনিধি ও বিশিষ্ঠ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী আলহাজ্ব বকুল মাহবুব এর বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনার নিন্দা ও ডাকাতদের আটকের দাবীতে সোমবার দুপুরে বেনাপোল কাষ্টম হাউসের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচি ও আলোচনা সভা করেছেন শার্শা উপজেলা সাংবাদিক সমাজ। প্রেসক্লাব বেনাপোলের সভাপতি আলহাজ্ব মহাসিন মলিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আলহাজ্ব বকুল মাহবুব, একুশে টিভির আলহাজ্ব জামাল হোসেন, সমকালের সাজেদুর রহমান, যমুনা টিভির রাশেদুর রহমান রাশু, বাংলাদেশ সময়ের এনামুল হক, এটিএন বাংলার আহম্মদ আলী শাহিন, স্পন্দনের শেখ কাজিম উদ্দিন, সময় টিভির আজিজুল হক প্রমুখ।
বেনাপোলে মানববন্ধনে উপজেলার সকল সাংবাদিকরা অংশ গ্রহন করেন। সাংবাদিক নেতারা এসময় বলেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ডাকাতদের আটক করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে আগামী ১২ মার্চ হতে সাংবাদিকরা কলম বিরতী পালনসহ কঠোর কর্মসুচির ডাক দিবেন।
উল্লেখ্য ১০/১৫ জনের একটি ডাকাত দল শনিবার গভীর রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ ২৪ এর বেনাপোল প্রতিনিধি বকুল মাহবুব এর বাড়ীর দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় বকুল মাহবুব, তার স্ত্রী ও ছেছেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারী থেকে ৪০ ভরি সোনা ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

কেশবপুরে হত্যা করে ছিনিয়ে নেওয়া মোটর সাইকেল উদ্ধার

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) : যশোরের কেশবপুরে ব্যাবসায়ী মামুনকে হত্যা করে ছিনিয়ে নেওয়া মোটর সাইকেল গতকাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানাগেছে, কেশবপুর উপজেলার হিজালডাঙ্গা গ্রামের সোহরাব মোড়লের পূত্র ব্যাবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫)কে ২৭ ফেব্রুয়ারী রাত ১০ টার দিকে ছিনতাইকারীরা কুপিয়ে হত্যা করে পৌরসভার সফরাবাদ গ্রামের মৃত সিফাত উল্লাহ মোড়লের পূত্র সিদ্দিকুর রহমানের কচুখেতে পুতে রাখে। ছিনতাইকারীরা মামুনের নিকট থেকে তার ব্যবহৃত একটি ১৫০ সিসি অন টেস্ট পালসার মোটর সাইকেল ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এঘটনায় মামুনের পিতা সোহরাব মোড়ল বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার নং- ২০, তারিখ ২৮-০২-২০১৮। ২ মার্চ সকালে হত্যামামলার সন্দেহভাজন আসামী উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের আফাজ আলীর ছেলে জামাল হোসেন (৪০) কে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে প্রেরণ করেছে।
এদিকে থানার এস আই আব্দুর রহমান গতকাল সকালে উপজেলার ত্রিমোহিনী ঘাট এলাকার মতিয়ার মাষ্টারের মৎস্য ঘেরের মধ্য থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ব্যাবসায়ী মামুনের মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করেছে।

ঝালকাঠি গনপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা

মো:নজরুল ইসলাম,ঝালকাঠি : অনিয়ম, দূর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সহ নানা অনিয়মে অবশেষে ঝালকাঠি গনপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হারুন অর রশিদ’র বিরুদ্ধে আদালতে এক ঠিকাদার মামলা দায়ের করেছে। ঝালকাঠি যুগ্নজেলা জজ ১ম আদালতে ঠিকাদার কামাল শরীফ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং- দেং মোং নং- ০৭ / ২০১৮। অন্যদিকে অনিয়ম, দূর্নিতী ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে, বাংলাদেশ দূর্নিতী দমন কমিশন (দুদক),জেলা প্রশাসক,ঝালকাঠি, প্রেস ক্লাব,জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা,ঝালকাঠি বরাবরে একটি আবেদনপত্র দাখিল করা হয়েছে।

মামলা সুত্রে ও বাদীর অভিযোগে জানাগেছে, ঝালকাঠিতে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এনে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। নিম্ম দরদাতাকে কাজ না দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর ইচ্ছেমত কাজ বন্টন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ দিলেই কাজ পাওয়া যায় তাঁর দপ্তরে। সঠিক প্রক্রিয়ায় দরপত্র জমা দিলেও যারা ঘুষের টাকা দিতে অপারগ তাদের কাজ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ ঠিকাদারদের। এতে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনৈতিক কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। যুবলীগ নেতা ঠিকাদার মো. কামাল শরীফ নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এনে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশীদকে শো-কজ করেন। তাকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে শো-কজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঠিকাদার মো. কামাল শরীফ অভিযোগ করে বলেন , ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ থেকে গত বছরের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠিতে প্রায় ৬৩ লাখ টাকার সাতটি কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সংস্কারের জন্য এক লাখ টাকা, জেলা ও দায়রা জজের বাসভবন সংস্কারে চার লাখ, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক নির্মাণে এক লাখ ৭০ হাজার, সার্কিট সাউসের দেয়াল বর্ধিত করণে ১৯ লাখ, সিভিল সার্জ কার্যালয়ে রংয়ের কাজে এক লাখ ৫০ হাজার, জেলা প্রশাসকের বাসবভনের সামনে ড্রেন নির্মাণে ১৩ লাখ ও আনসার বিডিপির ব্র্যাক নির্মাণে ২২ লাখ টাকার কাজ রয়েছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ধার্য করা হয়। দরপত্রে সর্বনিন্ম দরতাদাকে কাজ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর পছন্দমত ঠিকাদারকে সাতটি কাজ দিয়েছেন। সর্বনিন্ম দরদাতা হয়েও মেসার্স এমপি বিল্ডার্সের সত্বাধীকারী মো. কামাল শরীফকে কাজ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি কামাল শরীফ গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চান। নির্বাহী প্রকৌশলী ওই ঠিকাদারকে এ ব্যাপারে পরে জানানো হবে বলে জানান। এভাবে একাধিকবার তাঁর কাছে গেলে তিনি একই কথা বলে কালক্ষেপন করেন। এক পর্যায়ে ওই ঠিকাদার বাদী হয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠির যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গণপূর্তের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়নের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক আজ সোমবার দুপুরে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে শো-কজ করেন। একই সঙ্গে তাকে স্বশরীরে হাজির হয়ে শো-কজের জবাব দিতে বলা হয় বলে বাদীর আইনজীবী নিচ্ছিত করেন।