তালায় সাংবাদিকতায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

সেলিম হায়দার, তালা : সাতক্ষীরার তালার সাংবাদিকদের জন্য বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট’র (পিআইবি) তিন দিন ব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ১২ মার্চ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। বে-সরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উত্তরণ ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রনব ঘোষ বাবলুর সভাপতিত্বে উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন,তালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান,উত্তরণ পরিচালক শহিদুল ইসলাম,পার্লামেন্ট জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নিখিল ভদ্র,পার্লামেন্ট নিউজের সম্পাদক শাকিলা রুমা,রিসোর্সপার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী,পিআইবির প্রতিবেদক(অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ) জিলহাজ উদ্দিন নিপুন। সমগ্র অনুষ্ঠনটির সঞ্চালনা করেন তালা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরদার মশিয়ার রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তালা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ। কর্মশালায় তালা উপজেলার মোট ৩৫ জন সাংবাদিক অংশগ্রহন করেন। ১২ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ তিন দিনব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সংবাদের সংগা,বৈশিষ্ঠ্য ও উপাদান,সংবাদ মূল্য ও সংবাদ চেতনা,সংবাদ সূচনা থেকে শুরু করে শিরোনাম,কাঠামো,সংবাদ সংগ্রহের কৌশল ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তথ্য সংগ্রহের কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা ও তা প্রশিক্ষনার্থী সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

রামপাল সুন্দরবন মহিলা কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুিষ্ঠত

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : রামপাল সুন্দরবন মহিলা কলেজে ৩দিন ব্যপি ২৪তম বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরনী অনুিষ্ঠত হয়েছে। সুন্দরবন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শেখ খালিদ আহমেদের সভাপতিত্বে ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোল্ল্যা গোলাম ইয়াছিন এর সঞ্চালনায় রবিবার বিকাল ৫টায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। বিশেষ অতিথি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোল্ল্যা আঃ রউফ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ শেখ খালিদ আহমেদ, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ (অবঃ) শেখ মোতাহার রহমান, প্রভাষক গৌতম কুমার রায়, প্রভাষক অশোক ইজেদ্দার প্রমুখ। এ সময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেষে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরন করা হয়।

বটিয়াঘাটায় আইন শৃংঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটা উপজেলা আইন শৃংঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা সোমবার বেলা ১০ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই চন্দ্র গাইন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রামপদ সাহা, থানা অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক মামুন,চেয়ারম্যান হাদী-উজ জামান হাদী, প্রধান শিক্ষক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, মোঃ ফিরোজুর রহমান, মাদ্রাসা সুপার বোরানউদ্দিন, আব্দুর রউফ,দেবপ্রসাদ বিশ্বাস, মনোরঞ্জন মন্ডল প্রমূখ।

ঠাকুরগাঁওয়ে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

জয় মহন্ত অলক, ঠাকুরগাঁও : আগামী ২৯ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁওয়ে আগমন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগ।

“বিশ্ব শান্তির দর্শন,জনগনের ক্ষমতায়ন সুদৃঢ় করাই আমাদের অঙ্গীকার”এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রোববার রাতে ঠাকুরগাঁও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেলের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমির, সাবেক দপ্তর সম্পাদক প্রশান্ত কুমার, জেলা পরিষদের সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন রিপা,সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বাবু ,সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হামিদুর রহমান,সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রশীদ, সা:সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুব্রত সরকার, পৌর শাখার আহ্বায়ক আমির হোসেন রুবেল সহ জেলা উপজেলার সকল নেতাকর্মীরা।

ঝালকাঠির গ্রমীন যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্ভোগ চরমে

মো:নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি: ঝালকাঠি জেলায় এলজিইডির আওতাধীন আয়রন ব্রীজগুলো একের পর এক ভেঙ্গে গিয়ে গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। জেলার মোট ৪শ’ আয়রন ব্রীজের ২১৪ টিই ব্যবহার অনুপযেগী। এগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধশত বিদ্ধস্ত। এরমধ্যে সিডরে বিদ্ধস্ত ব্রীজ ও রয়েছে। ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে নির্মিত এসব ব্রীজ সংস্কার কিম্বা প্রতিস্থাপন না করায় এ পরিস্থিতির সৃস্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানিয়েছে ব্রিজগুলো পুনর্বাসনের জন্য মন্ত্রনালয়ে বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পোনাবালিয়া খালের ওপর অবস্থিত দুই ইউনিয়নের সংযোগ রক্ষাকারি এই ব্রীজটি ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে বিদ্ধস্থ হয় (ফুটেজ-১ এর প্রথম ব্রীজ)। এর পরে ভাঙ্গা অংশে স্থানীয়রা বাঁশ এবং সুপারি গাছ দিয়ে যোগাযোগ সচল রেখেছে। জেলায় বিভিন্ন সময় বিধ্বস্ত এধরনের ব্রীজের সংখ্য অন্তত ৫০টি। নড়বড়ে ব্যবহার অনুপযোগী ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ রয়েছে আরো ১৬৪টি। এসব ব্রীজের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দুরে থাক শিশু এবং বৃদ্ধরাও চলাচল করতে পারে না। কোথাও বিকল্প ব্যবস্থায় নৌকায় আবার কোথাও ঝুঁকি নিয়ে লোকজন যাতায়াত করছে। স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত রোগী এবং পন্য আনানেয়া করা কষ্টসাধ্য হয়ে পরেছে, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জানান, ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত জেলায় ৪০০টি আয়রন ব্রীজ নির্মান করা হয়। এরমধ্যে সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় কয়েকটি সড়ক সংস্কার করা হলেও সিডরে বিধ্বস্ত ২০টি সেতু ১০ বছরেও সংস্কার কিংবা পুননির্মান করা হয়নি। এসব সেতুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো নলছিটির টেকেরহাট-পোনাবালিয়া সংযোগ সেতু, নাচনমহল-রানাপাশা সংযোগ সেতু, সরমহল-পুনিহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সেতু। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আমুয়া হাসপাতালে যাতায়াতের প্রধান সড়কে অবস্থিত আমুয়া খালের ওপর অবস্থিত আয়রন ব্রিজটির মাঝের অংশ প্রায় দেড় বছর আগে বালিভর্তি কার্গোর ধাক্কায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে হাসপাতাল এবং খালের দুই পাড়ের স্কুল-কলেজ ও হাটবাজারে যেতে হচ্ছে নৌকায় করে। বন্ধ হয়ে গেছে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী আনা-নেয়া। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ট্রলারের ধাক্কায় আমুয়া ছোনাউটা এলাকার চান্দের খালের ওপর আয়রন ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে আছে। একইভাবে ঝালকাঠি সদর ও রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ব্রীজ ভেঙে থাকলেও নেই কোন সংস্কারের উদ্যোগ।

দীর্ঘদিন ধরে ব্রীজগুলো ভেঙে থাকলেও সংস্কার বা পুননির্মানের কোন উদ্যোগ নেই, ফলে সাধারন মানুষ ও স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। জেলার এসব ব্রীজ দ্রুত পুননির্মান করে তৃনমূল মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল হবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

এদিকে ঝালকাঠি এলজিইডির সিনিয়র সহকারি প্রকৌশলী মোঃ ফুলকাম বাদশাহ দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে এলজিইডির কর্মকর্তা জানালেন এগুলোর মধ্যে ২১৪টি প্রতিস্থাপনের জন্য ২৩৪ কোটি টাকা বড়াদ্দ চেয়ে মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

খুলনা সিটিতে মশার রাম রাজত্ব

নগরবাসীর অভিযোগ ‘ড্রেন-নর্দমা আবর্জনায় পরিপূর্ণ’

মেয়রের দাবি ‘ক্রাশ প্রোগ্রামে শীঘ্রই হবে সমাধান’

খুলনা : খুলনা নগরীতে দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে মশার উপদ্রব। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই বাড়িঘর-সংসার সব মশার দখলে চলে যায়। সন্ধ্যার আগেই ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দিতে হয়। না হলে বিদ্যুতের আলোয় বাইরে থেকে শত শত মশা এসে ঘরে আশ্রয় নেয়। যদিও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কনজারভেন্সি বিভাগ দাবি করছে মশা নিধনের জন্য নগরীতে ৪১টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো কাগজে কলমে রয়েছে বলে মত নগরবাসীর। নগরবাসীর অভিযোগ, নগরীর অধিকাংশ ড্রেন-নর্দমায় ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ। ড্রেনের আবর্জনা সময়মত পরিস্কার করা হয় না। সেখানে মশার বংশ বৃদ্ধি হলেও তা ধ্বংস করা হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সিটি হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অবস্থান। এর আয়তন ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা ১৫ লাখের উপর। ৩১টি ওর্য়াডে বিভক্ত। বৃহৎ আয়তনের এই সিটির অধিবাসীরা বর্তমানে মশার জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। দিনে রাতে সব সময়ই মশার উৎপাত রয়েছে। বাসাবাড়িতে দিনের বেলায়ও শিক্ষার্থীদের মশারি টানিয়ে পড়ালেখা করতে হচ্ছে। তাছাড়া সরকারি বেসরকারি অফিস আদালতে কাজ করতে হচ্ছে মশার কয়েল জ্বালিয়ে বা মশা নিধক এরোসল ব্যবহার করে।
নগরীর আযমখান সরকারি কমার্স কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমার তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছে। এখন দিনের বেলাতেও বই পড়া যায় না। মশার কামড় থেকে রেহাই পেতে গুডনাইট স্প্রে ব্যবহার করি। কিন্তু বিদ্যুৎও অনেক সময় পাওয়া যায় না। মশার কয়েল জ্বালালে চোখ পড়ে, কাশি হয়। এলার্জির মধ্যেই কয়েল জ্বালাতে হয়।
আনছারুল হক স্বপন নামের একজন এনজিও কর্মচারী জানান, অফিসিয়াল সকল কাজ করতে হয় তাকে ল্যাপটপে। কীবোর্ডে হাত রেখে কাজ করতে গিয়ে তাকে বার বার হাত নেড়ে মশা তাড়াতে হচ্ছে। অনেকর এলার্জি থাকায় মশার কয়েল জ্বালিয়ে কাজ করতে পারেন না। অফিস কক্ষটিতে কাজ করতে হয় জ্বানালা খুলে তাই এরোসল ব্যবহার করতে পারেন না। মশার উৎপাত ভনভনানি আর কামড়ে শুধু ইব্রাহিম কিংবা স্বপন নন প্রায় প্রতিটি নাগরিকই যন্ত্রণায় রয়েছেন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কঞ্জারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, সিটি কর্পোরেশন নগরীতে মশার উপদ্রব কমাতে বদ্ধপরিকর। নগরীর ৩১টি ওর্য়াডে ৪১টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধনের জন্য ওষুধ স্প্রে করা হয়। তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশ এখন নিজেরাই পদ্মা অয়েল থেকে ডিজেল ও কেরোসিন কিনে থাকে। প্রতি লিটার ডিজেলে ৮০ মিলিলিটার সাইফারমেথ্রিন কীটনাশক মিশিয়ে স্প্রে করা হয়। তাছাড়া এক ধরনের কালো তেল ছিটানো হয়। কালো তেল আঠালো হওয়ায় মশা তেলে আটকে যায়।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুজ্জামান মনি বলেন, শীতের শেষে গ্রীষ্মের শুরুতে মশার উপদ্রব বাড়ে। এখন মশার প্রজনন মৌসুম। আগামী বর্ষা মৌসুম শুরু আগ পর্যন্ত এ অবস্থার মোকাবেলা করতে হবে। মশা নিধনে নগরীর ড্রেন, নর্দমা পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত স্প্রে করা হচ্ছে মশা নিধক ওষুধ। তিনি বলেন, মশার বংশ বিস্তাররোধে শীঘ্রই নগরীতে শুরু করা হবে ক্রাশ প্রোগাম।

পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের তালা ভেঙ্গে চুরির চেষ্টা

পাইকগাছা : পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের সিসি ক্যামেরার আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের ৪টি কক্ষের তালা ভেঙ্গে চুরির চেষ্টা করেছে দূর্বৃত্তরা। শনিবার গভীর রাতে ভূমি অফিসের নৈশ প্রহরীকে তালাবদ্ধ রেখে দূর্বৃত্তরা হিসাব রক্ষণ অফিস, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, পেশকারের কক্ষ ও সহকারী শিক্ষা অফিসারের একটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে চুরির চেষ্টা চালায়। এ সময় নৈশ প্রহরীর ডাক চিৎকারে দূর্বৃত্তরা দপ্তরের বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ভোর রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসের আব্দুল হাই জানান, আমাদের অফিসের নৈশ প্রহরী মামুন ঘটনার দিন রাতে অডিটরিয়ামের প্রবেশ দ্বারের সিঁড়ি ঘরের নীচে অবস্থান করছিল। গভীর রাতে দূর্বৃত্তরা তাকে ক্লবসিকল গেটে তালাবদ্ধ রেখে কয়েকটি দপ্তরের কক্ষে চুরির চেষ্টা করে। এ সময় মামুন আমাকে ভোর ৪টার দিকে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবহিত করলে আমি সহ আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে আসি। তবে আমরা ঘটনাস্থলে এসে কাউকে দেখতে পায়নি। বিভিন্ন দপ্তরের তালা ভাঙ্গা দেখে বিষয়টি সাথে সাথে থানা পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ ভোর রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, কারা এর সাথে জড়িত বিষয়টি নিবিড় ভাবে অনুসন্ধান করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফকরুল হাসান জানান, শনিবার গভীর রাতে কে বা কারা পরিষদের হিসাব রক্ষণ অফিস, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, পেশকার হাকিমের কক্ষ ও সহকারী শিক্ষা অফিসার ইসলামুল হক মিঠুর কক্ষের তালা ভেঙ্গে কিছু আসবাবপত্র তছনছ করে। তবে কোন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেনি। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ টেকনিশিয়ান দ্বারা সিসি ক্যামেরার ধারণকৃত ফুটেজ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাহী এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

খুলনায় ১২শ’ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী রাজু আটক

খুলনা : খুলনা নগরীতে অভিযান চালিয়ে ১২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী রাজু আহম্মেদ (৩২) কে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত শনিবার মধ্যরাতে তাকে আটক করা হয়। সে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন ৮১ পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার মোঃ ফেরদৌস আহম্মেদ এর ছেলে।
ডিবি পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন যাবত একটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্রকে অনুসরণ করে আসছিল গোয়েন্দা পুলিশ। এই চক্রটি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অভিনব কায়দায় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট বহন করে এনে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকারী ও খুচরা দরে সরবরাহ করে থাকে। এই সূত্র ধরে শনিবার রাতে ডিবি’র অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার এ এম কামরুল ইসলাম পিপিএম এর তত্ত্বাবধায়নে এসআই মোঃ আহসান কবির এর নেতৃত্ব সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন ৮১ পশ্চিম বানিয়াখামার ক্লাবের মোড়, আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের বাড়ীর ভাড়াটিয়া মোঃ রাজু আহম্মেদ’র ঘরের সামনে ওৎ পেতে থাকে। এসময় আসামী রাজু তার ভাড়াটিয়া বসত ঘর থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট সরবরাহের উদ্দেশ্যে বের হলে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে গেলে সে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে সে তার কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট আছে এবং বিক্রয় করে বলে স্বীকার করে।
তখন গ্রেফতারকৃত আসামী তার পরনের লুঙ্গির কোমরের কোঁচা থেকে ১২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট নিজ হাতে বের করে দিলে উক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট শনিবার রাত ২:৩০ টায় জব্দ করা হয়। আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়-বিক্রয়ের সত্যতা স্বীকার করে। আসামীর নিকট থেকে আরোও তথ্য উৎঘাটনের জন্য ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালত বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

খুলনায় শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা : আটক ৩

খুলনা : খুলনা নগরীর শিরোমনি বিএডিসি’র সার গোডাউন সংলগ্ন ভৈরব নদের ঘাট এলাকায় গতকাল রবিবার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এক নৌযান শ্রমিককে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত মো. আমিরুল ইসলাম ওরফে আমিরুল্লাহ (১৮) খুলনার তেরখাদা উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের শেখ ইসমাইল হোসেনের ছেলে। সে এমভি লুবনা নামক কার্গোতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল। পুলিশ ডুবুরি দিয়ে অভিযান চালিয়ে বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এমভি লুবনা নামক কার্গোর ভাড়াটিয়া মালিক শামীম মিয়াসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, আমিরুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না- মর্মে রবিবার সকালে কার্গোর ভাড়াটিয়া মালিক শামীম মিয়া ফোন করে তার ভাই শহীদুলকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলেও তাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো তৎপরতা ছিল না। যে কারণে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি খানজাহান আলী থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশ খবর পেয়ে ডুবুরি দিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শামীম মিয়া, খোকন সরদার ও আব্দুর রশীদকে আটক করেছে পুলিশ।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, নিহতের কপাল, কান ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরার তালায় ৭ বছরের শিশু ধর্ষনের শিকার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় ৭ বছরের এক শিশু ধর্ষনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে তালা উপজেলার উত্তর নলতা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত লম্পট ধর্ষক বাহারুল ইসলাম (১৯) পলাতক রয়েছে। সে উপজেলার উত্তর নলতা গ্রামের নুরুল সরদারের ছেলে। এদিকে, ধর্ষিতা শিশুটিকে দেখতে সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহামান।

শিশুটির বাবা (হজরত আলী) জানান, বিকালে লম্পট বাহারুল তার শিশু কন্যাকে একা পেয়ে তাকে খাবার দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে তাকে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। এ সময় তার আত্মচিৎকারে প্রথমে তার মা ঘটনাস্থলে গেলে ধর্ষক তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল্লাহ আল-কাফী জানান, শিশুটির অধিক রক্তক্ষরন হয়েছে। তাকে অপারেশর থিয়েটারে ঢুকানো হয়েছে।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান, ইতিমধ্যে তালা থানার ওসিসহ পুলিশের কয়েকটি টিম ধর্ষককে ধরতে মাঠে নেমেছে। খুব দ্রুত তাকে আটক করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।