খুলনায় ২শ’ শয্যা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র হচ্ছে

কামরুল হোসেন মনি : খুলনায় মাদকাসক্ত বাড়লেও, বাড়েনি সরকারিভাবে পরিচালিত নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা। রয়েছে জনবল ও অর্থ সঙ্কট। এই সুযোগে বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোয় যথেচ্ছভাবে সেবা দেওয়া হয়। নিরাময় নামে রোগীদের মারধর, আটকে রেখে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যায় এদের বিরুদ্ধে। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে খুলনায় ২ একর জমির ওপর ২শ’ শয্যা মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আবুল হোসেন বলেন, খুলনায় ২ একর জমির ওপর ২শ’ শয্যা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই খুলনায় ২ একর একটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই জমির কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় থেকে আরও ২ একর জমি দেখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। নিরাময় কেন্দ্রের পাশাপাশি পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছেন। জমির বিষয়টি চূড়ান্ত হলেই একনেকে পাস হওয়ার অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেন, বেসরকারিভাবে পরিচালিত মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যে সব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চিকিৎসক থাকছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হচ্ছে।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, খুলনার খুলনা-সাতক্ষীরা রোডে বটিয়াঘাটা মৌজায় প্রাথমিকভাবে ২ একর জমি সিলেকশন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জমিটি পছন্দ হলেই জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বলেন, ওই জমির ওপর ২শ’ শয্যা ও চিকিৎসকদের আবাসিক ভবনসহ নানা পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে খুলনায় সরকারি নিরাময় কেন্দ্রটি ৫ বেড থেকে ২৫ বেডে উন্নীত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মাদকাসক্তরা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অভাবে আলোর পথে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন না। তারা পথ হারিয়ে জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধে।
খুলনায় সরকারিভাবে পরিচালিত নিরাময় কেন্দ্র এর চিকিৎসক ডাঃ তড়িৎ কান্তি ঘোষ সোমবার এ প্রতিবেদককে বলেন, দুইটি পেইং বেড ও তিনটি সাধারণ বেড নিয়ে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে। দিনকে দিন রোগীর চাপও বেড়েছে, সে হিসেবে বাড়েনি শয্যা সংখ্যা। এসব দিক বিবেচনা করেই সরকার খুলনায় ২৫ বেড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি ৪ একর জমির ওপরে ৫০ শয্যা নিরাময় কেন্দ্র হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার এমন সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরেছি। ইতোমধ্যে নগরীর সিটি কর্পোরেশন এলাকার জিরোপয়েন্ট এর আশপাশে ২ একর জমির সিলেকশন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন আরও ২ একর জায়াগা দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে রোগীদের ভর্তির ক্ষেত্রে পেইং বেডের জন্য প্রতিদিন ৭২ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া সাধারণ বেডের রোগীদের জন্য কোন টাকা পয়সা নেওয়া হয় না। শুধু ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫শ’ টাকা ও চুল-দাড়ি কাটানোর জন্য মাসিক ২শ’ টাকা নেওয়া হচ্ছে। রোগীর দ্বারা কোন ক্ষতিসাধন না হলে যাওয়ার সময় ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। ২৫ বেডের জন্য আপাতত বাড়ি খোঁজাখুঁজি চলছে, অনেকে ভাড়া দিতে চায় না। আবার পেলেও ভাড়া বেশি হওয়ায় তা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, ১৯৯০ সালে ভাড়া বাসাতে সরকারিভাবে ৫ শয্যার খুলনায় আঞ্চলিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে চিকিৎসক না থাকায় এ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করা হয়। বর্তমানে জনবল সঙ্কটের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি। মাত্র ২১ জনের বিপরীতে জনবল রয়েছে মাত্র ১১ জন। এর মধ্যে চিকিৎসক একজন, তিনজন নার্স, ওয়ার্ড বয় ২ জন, সহকারী বাবুর্চি ১ জন ও পরিচ্ছন্ন কর্মী ১ জন।
সূত্র মতে, খুলনায় সরকার অনুমোদিত বেসরকারিভাবে ৬টি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আরও ৩টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছেন। ওই সব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকা, নিরাময় নামে রোগীদের মারধর, আটক রেখে টাকা আদায়সহ নানান অভিযোগের বিষয় শোনা যায়।

খুলনায় ইয়াবাসহ আটক ১

খুলনা : খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর ‘খ’ সার্কেলের একটি টিম অভিযানে ১শ’ পিস ইয়াবাসহ ইসরাফিল শেখ (৩২) নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকালে  খুলনার দৌলতপুর থানাধীন ৪নং ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্র মতে, সংস্থার উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামানের তত্ত্বাবধায়নে ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক মোঃ সাইফুর রহমান রানার নেতৃত্বে একটি টিম নগরীর দৌলতপুর থানাধীন ৪নং ওয়ার্ডের দেয়ানা পুর্ব পাড়ায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ওই এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইয়াছিন শেখের পুত্র ইসরাফিলকে শেখকে ১শ’ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডুমুরিয়ার অধিকাংশ স্কুল ছেয়ে গেছে নিষিদ্ধ নোট-গাইডে

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্টানে নোট-গাইডে ছেয়ে গেছে। সরাকারি ভাবে এই বই নিষিদ্ধ করা হলেও উপজেলার অধিকাংশ প্রতিষ্টান কর্তারা এটা মানেননি। বিনিময়ে তারা হাতিয়ে নিয়েছেন অনেক টাকা। প্রতি বছর উপজেলা শিক্ষক সমিতি এ সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করলেও এবার আভ্যন্তরীন মত-পার্থক্যের কারনে কর্মকর্তারা রয়েছেন নীরব দর্শকের ভুমিকায়।
জানা গেছে, সরকারি ভাবে নোট-গাইড বই নিষিদ্ধ করা হলেও ডুমুরিয়া উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রধানরা এটা মানেননি। প্রায় প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীদের অধিক মূল্যে এই বই কিনতে হয়েছে। আর এ থেকেই প্রত্যেক স্কুল প্রধানরা আয় করেছেন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।
জানা গেছে, বছরের শুরুতে পাঞ্জেরি, জুপিটার, পপি, আশার আলো, ফুলকুড়ি, অনুপম নামক এইসব প্রকাশনীর লোকেরা ডুমুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে সমিতির মাধ্যমে উপজেলার ৬৩টি বিদ্যালয়ে নোট ও গাইড বই প্রচলনের সিন্ধান্ত হয়। কিন্তু সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু’টি প্যানেলের মত-পার্থক্যর কারণে কিছু দিন পরেই তা ভেস্তে যায়। এরপর কোম্পানীর লোকেরা স্ব স্ব প্রতিষ্টান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির লোকদের সাথে গোপনে অর্থ চুক্তির বিনিময়ে বই বিক্রি করেন। এ বছর উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার নিষিদ্ধ এই বই বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানান, জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখে স্যারেরা আমাদের হাতে বুকলিস্ট দিয়ে বলেন এ মাসের মধ্যে এই বই কিনবে। তবে এই বই কিনতে এবার বাজারে যেতে হয়নি স্কুলে বসেই কেনা গেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার শেখ আমজাদ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান মোড়ল জানান, বই বিক্রেতারা আমার স্কুলে এসে ৩০ হাজার টাকা অপার করেছিল। কিন্তু ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোন প্রলোভনে রাজি হয়নি এবং আমার স্কুলের কোন শিক্ষার্থী নোট গাইড কিনতে দেওয়া হয়নি।
ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সরদার আরজান আলী জানান, বই পরিবেশকদের সাথে আমরা বৈঠক করেছিলাম। একটা সিন্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার পরে আমাদের ভিতরের প্যানেলগত মত-পার্থক্যর কারনে তা বন্ধ করে দিই। এখন শুনছি স্ব স্ব স্কুলকে ম্যানেজ করে বই বিক্রি হচ্ছে। তবে কোন কোন স্কুল এটা করছে তা বলা সম্ভব না।
ডুমুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, শিক্ষার্থীদের নোট-গাইড কিনতে উৎসাহিত করা আইনত অপরাধ। ডুমুরিয়ায় নোট গাইড কেউ কিনছে কিনা আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরণখোলায় ইউপি সদস্যসহ আটক ৩ : ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা : বাগেরহাটের শরণখোলায় মাদকবিরোধী অভিযানে এক ইউপি সদস্যসহ পুলিশের হাতে তিন জন আটক হয়েছে। শনিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ তাফালবাড়ি এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২১ পিচ ইয়াবা, ৫০ গ্রাম গাঁজা ও মাদকসেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটক তিন জন হলেন, উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ি গ্রামের মৃত আনসার আলী হাওলাদারের ছেলে ও সাউথাখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং দক্ষিণ তাফাবাড়ি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ওবায়দুর রহমান (৩৮), উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামের কাঞ্চন হাওলাদারে ছেলে আসলাম হাওলাদার (৩২) এবং একই গ্রামের আইউব খানের ছেলে আরিফ খান (২৫)।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবিরুল ইসলাম জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এসআই শফিকুল আলম ও এসআই কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে যান। এসময় গোপন সংবাদ পেয়ে তারা দক্ষিণ তাফালবাড়ি গ্রামের সুখরঞ্জন বিশ্বাসের পরিত্যাক্ত বাগানে অভিযান চালিয়ে মাদকসেবনের সময় ওই তিন জনকে আটক করেন।
ওসি জানান, আটক তিন জনের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রি করে আসছেন বলে জানান তিনি।

কয়রায় গাজাসহ আটক ১

কয়রা (খুলনা) : কয়রায় বার গ্রাম গাজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এস আই শেখ গোলাম আজম অভিযান চালিয়ে উপজেলার মদিনাবাদ গ্রামের (বাসষ্টান্ড সংলগ্ন) মোঃ ছন্নত গাজীর পুত্র মনিরুল ইসলাম গাজী (৪০)কে ১২ গ্রাম গাজাসহ আটক করে। কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এনামুল হক জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

গাইবান্ধায় খোকন হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর চরে নিহত খোকন আকন্দের ২ হত্যাকারীকে ঘটনার ৩ বছর পর পিবিআই সদস্যরা গ্রেফতার করেছে। নিহত খোকন খন্দকার গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের কিশামত ফলিয়া গ্রামের বাবু খন্দকারের ছেলে। গতকাল শনিবার প্রকৃত আসামি মো. সান্টু ও মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে ফুলছড়ি থানার তদন্তকারি পুলিশ কর্মকর্তা এবং ডিবি কর্মকর্তা দু’দফা এ হত্যার সাথে জড়িত বলে যাদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দিয়েছিলেন তাদের কেউই এ ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে জানা গেছে। আদালতে দেয়া প্রকৃত অপরাধী মো. সান্টু ও মোসলেম উদ্দিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ি ওই ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়। হত্যাকারি মো. সান্টু ও মোসলেম উদ্দিন গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের গোদারহাট গ্রামের বাসিন্দা।
২০১৫ সালের ১৩ মে খোকন আকন্দের লাশ ফুলছড়ির রসুলপুর চরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই সময় নিহত খোকনের পিতা বাবু আকন্দ অজ্ঞাতনামা ৭ জনকে আসামি করে ফুলছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ আদালতে ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সেসময় উল্লেখ করা হয়, প্রেম ঘটিত কারণে খোকন আকন্দকে খুন করা হয়েছে। আদালতে দেয়া চার্জশীটের বিরুদ্ধে বাদী বাবু খন্দকার না রাজি করলে পরবর্তীতে আদালত পিবিআই গাইবান্ধার উপর মামলার তদন্তভার অর্পন করেন। পিবিআই’র এসআই চন্দ্রন কুমার রায় বিভিন্ন সুত্র এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলাটি তদন্ত করে নিশ্চিত হন, এই ঘটনায় সান্টু ও মোসলেম উদ্দিন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
উল্লেখ্য, খোকন আকন্দসহ তারা তিনজনই গাজীপুর জেলার সফিপুরে শ্রমিকের কাজ করতো। সেখানে সান্টু ও মোসলেম উদ্দিনের সাথে খোকন আকন্দের ঘনিষ্টতা ছিল। তারা জানতে পারে খোকন আকন্দের বেশকিছু টাকা রয়েছে। তার কাছে সবসময় নগদ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা থাকে। এছাড়া ডাচবাংলা ব্যাংকে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা জমা রয়েছে তার। ওই টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য খোকন আকন্দকে ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর চরে ঘটনার রাতে সুকৌশলে নিয়ে এসে তাকে তারা ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পিবিআই গাইবান্ধা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা সরকার সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডুমুরিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক রক্তাক্ত জখম

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ার পল্লীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় ফেরদৌস শেখ নামের এক যুবক রক্তাক্ত জখম হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মলমলিয়া গ্রামে। গুরুতর আহত যুবক ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের মলমলিয়া গ্রামের ফেরদৌস শেখের (৩৭) সাথে প্রতিপক্ষ আদিল মোল্যার (৫০) জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আদিল মোল্যা, তার দুই ছেলে আলামিন মোল্যা (৩৫) ও স্বাধীন মোল্যা (২০) জোর করে ফেরদৌসের জমির ওপর বিচেলীর ঘর নির্মাণ করতে যায়। এ সে বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা ফেরদৌসকে লোহার রড ও কাঠের চলা দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। রডের আঘাতে তার মাথায় কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের ডাঃ শাহিন জানান, রোগীর মাথায় প্রচন্ড আঘাত করায় ৭টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম দেখা গেছে।

গাইবান্ধায় ওয়ারেন্টভূক্ত মামলার আসামি গ্রেফতার

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ ওয়ারেন্টভুক্তসহ ৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত একাধিক মামলার আসামি শিপুল হাসান (২৮) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, শিপুল হাসান ওয়ারেন্টভুক্ত মামলা এবং ৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সদর থানায় একাধিক মাদক দ্রব্য মামলা রয়েছে।

কলেজের সুনাম আছে কিন্তু উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সুযোগ নেই

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলা শহরের কেন্দ্র স্থলে স্থাপিত একমাত্র মহিলা কলেজের সুনাম আছে। কিন্তু ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সুযোগ-সুবিধা এখনো বাড়েনি। বিশেষ করে ডিগ্রী কলেজের পর্যায়ে থাকলেও তার উন্নয়ন পিছিয়ে পড়েছে। পূর্ণাঙ্গতা অর্জিত হয়নি। যার অন্যতম অন্তরায় প্রয়োজনীয় শিক্ষক সংকট সরকারি নজর দারির অভাব। লেখালেখি হলেও কাজে নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিসহ নারী শিক্ষার প্রতি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও গাইবান্ধা মহিলা কলেজটি তা থেকে বঞ্চিত। গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে ১৯৬৯ সালে ৬৮ শতাংশ আয়তন বিশিষ্ট জায়গা-জমিতে এই একমাত্র মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠি হয়। প্রতিষ্ঠা কালে কলেজটি ছিল বে-সরকারি। অনেক চেষ্টা চালিয়ে ১৯৮৪ সালে ১ নভেম্বর তারিখে তা সরকারি করণ করা হলেও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন নেই। এক সরকার বিদায় নেয়-নতুন সরকারের আগমন ঘটে। এরপরও কলেজটির কোন পরিবর্তন ঘটেনি। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একমাত্র মহিলা কলেজের উন্নয়নে খুব একটা আন্তরিক হয়নি। উচ্চ মাধ্যমিক থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত উন্নীত হলেও বি-এসসি’র গ্রুপ খোলা নিয়ে অনীহা চলছে। তদুপরি ধীর গতিতে পর্যায়ক্রমে কলেজটি অনার্স কোর্সে রূপান্তরের আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর ডঃ মোঃ আব্দুল কাদের। কলেজটিতে বর্তমান ছাত্রীর সংখ্যা ১ হাজার ৭’শ জন। এরা সকলেই উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষারত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, ডিগ্রী ক্লাসে নানা জটিলতা কারণে ছাত্রীর ভর্তির হার কম। কলেজটিতে মহিলা আবাসিক হোস্টেল এখনো কাজে লাগছে না। তবে অনার্স কোর্স চালু হলে ছাত্রীরা মহিলা হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতো।
উপাধ্যক্ষ শামছুল হক জানান, উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হলেও ডিগ্রী ছাত্রীর ভর্তি হওয়ার সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
অধ্যক্ষ উল্লেখ করেন, কলেজে অনার্স কোর্স চালু হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। অনার্স কোর্স চালু হলে অত্রালাকার শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেত। কলেজটির ফলাফল অন্যান্য কলেজের তুলনায় আশানুরূপ হওয়ায় বিগত বছর গুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্রীদের গড় পাশের হার ৮৫%। এই হার ক্রমাগত বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু শিক্ষক সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো উল্লেখ করেন, বতর্মান শিক্ষক সংখ্যা ২৪ জন। শূন্য পদের সংখ্যা ৯ জন। তবে শূন্য পদের মধ্যে ৭টি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হলে অনার্স কোর্স চালুর জটিলতা কেটে যেতে পারে। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ইতোপূর্বে কয়েক বার আবেদন পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। কলেজটি সমস্যা গুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার সুধীজন।

ঠাকুরগাঁওয়ে সড়কের ওপর ইট-বালু রেখে মার্কেট নির্মাণ

জয় মহন্ত অলক, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের যে সড়কগুলি রয়েছে তাদের মধ্যে সবথেকে বেশি ব্যস্ততম হল বঙ্গবন্ধু সড়ক, নরেশ চৌহান সড়ক ও শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়ক । ইটের খোয়া, পাথর ও বালু রেখে বহুতল মার্কেট নির্মাণ করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাস্ততম এ সড়কগুলিতে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় পথচারীরা ও সাধারণ মানুষ।

শুক্র ও শনিবার ঠাকুরগাঁও শহরে বিভিন্ন উপজেলা থেকে সাধারণ মানুষ ডাক্তার দেখানোর জন্য, পরিবার নিয়ে ঘুরার জন্য বের হয় তাই শহরে মানুষের চাপ থাকে বেশি। এই দিনেই শহরের দুটি ব্যাস্ত রাস্তা দখল করে মার্কেট নির্মানে ব্যবহার করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

শহরের তাঁতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহামুদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় মার্কেটের মালিক ইট ও বালু এনে ব্যস্ততম রাস্তার ওপর জমা করেন। শুক্রবার লোকজন নিয়ে এসে রাস্তা বন্ধ করে কাজ শুরু করেন তিনি। শনিবারেও একই চিত্র দেখা যায়। মার্কেট নির্মান করছেন সড়কের উপরে ইট বালু রেখে। শহরের প্রধান দুটি রাস্তাতো সবসময় ব্যাস্ত থাকেই তার উপরে মার্কেট নির্মান কাজে ব্যবহার করলে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌছায়। নির্মাণ কাজ যতদিন শেষ না হবে ততদিন এই দুর্ভোগ সকলকে পোহাতে হবে।

আমতলা লাইব্রেরী মোড় এলাকার বাসিন্দা মজিবর বলেন, শহরের রাস্তা গুলোর এমনিই বেহাল অবস্থা। আবার রাস্তার উপর যদি নির্মান কাজ করা হয় তাহলে এসব রাস্তা বেশিদিন ভালো থাকবে না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এতে দীর্ঘস্থায়ী হবে।

পৌর কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নজরদারির অভাবে মার্কেট নির্মাণের সময় মালিকরা রাস্তার সামনে কোনো জায়গা না ছেড়ে রাস্তার জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করার কারণে জনগণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

কয়েকজন পথচারী বলেন, রাস্তার ওপর নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায় পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হলেও রহস্যজনক কারণে এসব বিষয়ে নীরব থাকছে পৌর কর্তৃপক্ষ। শহরে যানজট তো এখন এমনেই বেশি তার উপর রাস্তা বন্ধ করে কাজ করায় যানজট আরো বাড়ছে।

নির্মাণাধীন মার্কেটের মালিকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, রাস্তার ওপর ইট, খোয়া ও বালু রেখে নির্মাণ কাজ করায় যানজট হলেও জনগণের তেমন সমস্যা হচ্ছে না। আর এটা করতে তো বেশিনি সময় লাগবেনা।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাস্তার ওপর ইট, খোয়া ও বালু রেখে পথচারীদের চলাচলে যেন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা হয় সেজন্য আমরা পৌরসভা থেকে অনেকবার মাইকিং করেছি। আমরা অনেক মার্কেট মালিককে নোটিশ করেছি যেন তারা রাস্তায় কাজ না করে। এর পরেও অনেকে নির্মান কাজ করতেছে তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবো ।