মরে গেছে সুন্দরবন উপকূলের ২৩টি নদী

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা : সুন্দরবন উপকূল সন্নিহিত এলাকায় মরে গেছে অন্তত ২৩টি নদী। মোংলা ও রামপালসহ আশপাশের এলাকার উপর দিয়ে বহমান এসব নদীতে এখন আর লঞ্চ স্টিমার, কার্গো-কোস্টারসহ কোন ধরণের নৌযানই চলাচল করতে পারছেনা। এ নদী গুলোর অবস্থা এতোটাই শোচনীয় যে ভাটার সময় নদীতে হাটু পানিও থাকে না। সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা ও রামপালসহ বাগেরহাট এলাকায় মরে যাওয়া ২৩টি নদীর মধ্যে রয়েছে পুটিমারী, বিশনা, দাউদখালী, ঘাষিয়াখালী, ভোলা, কালিগঞ্জ, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা, বলেশ্বর, ভৈরব, তালেশ্বর, ভাষা, বেমরতা দোয়ানিয়া, কুচিবগা, ছবেকী, রাওতি, বেতিবুনিয়া, কলমী ,দোয়ানিয়া, যুগীখালী, কুমারখালী, কালীগঙ্গা ও চিত্রা নদী। এছাড়া অতিরিক্ত পলি পড়ে মরে গেছে এ এলাকার ৩ শতাধিক ছোট-বড় খাল।
এসব নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলার সাথে সারা দেশের স্বাভাবিক নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আর চলছে না মোংলা-খুলনা-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস। নদী খাল শুকিয়ে যাওয়ার ফলে কৃষকরা চাষাবাদ করতে শুস্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় পানিও পাচ্ছেনা। আর বর্ষা মৌসুমে জলাদ্ধতায় প্রতি বছরই কৃষকের ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে।
এ এলাকার লাখ লাখ হেক্টর ফসলি জমি ও খালে বাধ দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষের ফলে ফসলি জমিতে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি উঠতে পারছেনা। পানি উন্নয়ন র্বোডের (ওয়াপদা) ৫ টি পোল্ডারের ১৬৫ টি স্লুইস গেটে সরকারীভাবে কোন লোকবল নিয়োগ না থাকায় ভাটার পানি নামার সময় ফ্লাপগেট (স্লুইস গেটের নিচের অংশ) গুলো সব সময় বন্ধ থাকায় ভরাট হয়েছে নদী। অন্যদিকে ফারাক্কা বাধের কারণে এসব নদী গুলোতে উজানের পানি না আসার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে জোয়ারের পানি স্থির হয়ে থাকায় অতিরিক্ত পলি জমেও ভরাট হয়ে গেছে নদী খাল। এ কারণে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দ্রুত ভাটায় নেমে যেয়ে ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। হ্রাস পাচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি। মরে শুকিয়ে যাচ্ছে এ এলাকার সবুজ প্রকৃতি ।
পলি জমে শুকিয়ে যাওয়া নদী ড্রেজিং ও খননের বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাঈনুদ্দিন বলেন, মোংলা বন্দর থেকে ঘাষিয়াখালী চ্যানেল হয়ে বন্দরের সাথে সহজ যোগাাযোগের এই রুটটি সচল রাখতে রামপাল উপজেলা সদর হয়ে দাউদখালী নদীতে এ বছর ড্রেজিং করা হয়েছে। জুনে এই চ্রানেলটি খুলে দেয়া হবে।
বাগেরহাট জেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র মন্ডল বলেন, নদী-খাল ভরাট হওয়ার ফলে দেশি প্রজাতির মাছ উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। অপরদিকে সমুদ্রের লোনা পানি বদ্ধ হয়ে দেশি প্রায় অর্ধশত প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে।

সুন্দরবনে থেমে নেই জেলে-বাওয়ালীসহ বনজীবি অপহরণ

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা : আসত্মসমর্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পেলেও থেমে নেই দস্যুতা। র‌্যাব-৮ এর প্রচেষ্টায় সুন্দরবনের জেলে ও বনজীবীদের কাছে মুর্তিমান আতঙ্ক আরও ৩টি বনদস্যু বাহিনীর সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আজ রবিবার আত্মসমর্পন করছে। সুন্দরবন দাঁপিয়ে বেড়ানো বনদস্যু ডন, ছোট জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনীর ২৭ জন সদস্য আজ সকাল ১১টায় বাগেরহাটের স্বাধীনতা উদ্যানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলা বারুদ তুলে দিয়ে আত্মসমর্পন করবেন। র‌্যাব-৮ ও বাগেরহাট জেলা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, সুন্দরবনে গত ৩ বছরে ২০টি বনদস্যু বাহিনীর ২শ ২৭ জন সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পন করলেও এখনও থামেনি জেলে-বাওয়ালী, মৌয়ালীসহ বনজীবীদের মুক্তিপণের দাবীতে অপহরণ বাণিজ্য। আত্মসমর্পন করা বা বন্দুকযুদ্ধে নিহত বাহিনীগুলোর দলছুট সদস্যরা নতুন নামে নতুন নতুন বাহিনী গঠন করে নেমে পড়ছে দস্যুতায়। সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব সুন্দরবনসহ উপকূলীয় এলাকায় জেলে বহরে হানা দিয়ে মাছ লুট ও অপহরণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শুধু মার্চ মাসে বনদস্যুদের হাতে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলেদের মুক্তিপণের দাবীতে একাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে গত ২৮ মার্চ পূর্ব সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট্ট বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা তিন জেলে মুক্তিপণ দিয়ে ৬দিন পর ছাড়া পেয়েছেন। জেলে ও মহাজনেরা বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগে গত ২৪ মার্চ রাতে পূর্ব সুন্দরবনে চাঁদপাই রেঞ্জের ভাইজোড়া খালে স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের সাথে অজ্ঞাত বনদস্যুদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আধ ঘন্টা গুলিবিনিময় শেষে ঘটনাস্থল থেকে বনদস্যুদের ব্যবহৃত ১টি নৌকা ও ২টি মোবাইল সিম উদ্ধার করে স্মার্ট টিমের সদস্যরা। গত ৩ মার্চ পূর্ব সুন্দরবনে বনরক্ষী ও কোষ্টগার্ডের যৌথ অভিযানে ৭ জেলে, ৩টি ফিশিং ট্রলার ১টি নৌকা উদ্ধার হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের গাতারখাল এলাকায় বনদস্যু মামা-ভাগ্নে বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে ওই জেলেদের উদ্ধার করা হয়। একইদিন দুপুরে কটকা বনরক্ষী এবং ওই বনদস্যু বাহিনীর মধ্যে প্রাায় আধ ঘন্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় বনরক্ষীরা বনদস্যুদের কবল থেকে ৬ জেলেকে ৪টি মাছ ধরা নৌকা উদ্ধার করেন। এ নিয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৩ জেলে, ৩টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও ৫টি মাছ ধরা নৌকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ১৩ জেলের বাড়ী খুলনার দাকোপ, কয়রা, সাতক্ষীরা, বরগুনার পাথরঘাটা ও বাগেরহাটের ফরিকহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রাামে। এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: মাহামুদুল হাসান বলেন, সুন্দরবনে দস্যুতা অনেকাংশেই কমে গেছে, এক কথায় তেমন নেই বললেই চলে। তারপরও বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট দুই একটি বাহিনীর কথা শুনা গেলেও তারাও স্বল্প সময়ের মধ্যেই হয়তো আত্মসমর্পন না হলে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নির্বৃত হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

ঝালকাঠিতে প্রশাসনের নাকের ডগায় অর্ধশত অবৈধ ইটের পাজা

মো:নজরুল ইসলাম,ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলতি বছরে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশত অবৈধ ইটের পাজা। প্রশাসন নিরব ভূমিকার নেপথ্যে রয়েছে স্ব-ঘোষিত তৈরি করা একটি ফান্ড । ওই ফান্ডে টাকা জমা দিলেই সব বৈধ বলে একটু সুত্র জানিয়েছেন। এসকল পাজায় ব্যবহার করা হচ্ছে জ্বালানী কাট সহ হাজার হাজার মণ বিভিন্ন প্রকার দেশীয় জ্বালানী কাঠ। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুগুলী দেখিয়ে কৃষি জমিতেই এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব ইটভাটা ও পাজা অনেকটা বাঁধাহীনভাবেই নির্মাণ করে চলছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করেই তৈরী করা হচ্ছে শহর সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ্য ইটের পাজা। অপরদিকে সম্প্রতি স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভে ফুঁসে উঠলে এবং লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রশাসনের লোক দেখানো ভ্রম্যমান অভিযানে দু একটা পাজায় মাত্র ৫০০০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এবং পুণরায় ওই অভৈধ পাজা আরো গর্জে উঠে চলছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় অর্ধশত অবৈধ ইটের পাজা চললেও প্রশাসন নিরব ভূমিকার নেপথ্যে কি প্রশ্ন সচেতন মহলে।

অবৈধ ইট পাজার মালিকরা ফসলি জমি দখল করে প্রতি বছর নানা অজুহাতে ইট পুড়িয়ে পরিবেশের ক্ষতি করে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়না তেমন কোন উদ্যোগ। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রশাসনের এল আর ফান্ড বলে অভিযোগে জানাগেছে। এ অবৈধ ড্রামচিন্মি দিয়ে তৈরি করা ইটেরবাটা ও পাজা ব্যাবসায়ীরা প্রশাসনের ঐ এলআর ফান্ডে তাদের চাহিদা মত অর্থ জমা দিয়ে বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে এ অবৈধ ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা বন কর্মকর্তাদের চারপাশে ঘিরে থাকা কিছু অসাধু কর্মচারী ওই সকল অবৈধ ইটভাটার মালিকদের নিকট প্রশাসনের নাম ভঙ্গিয়ে মাসোয়ারা গ্রহণ করে প্রতিবছর ইট পোড়ানোর কাজে উৎসাহ দিয়ে আসছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সচেতন মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া।

সচেতন মহলের দাবি ইটভাটার নির্গত ধোঁয়ায় বায়ু দূষিত হয়ে নানা রোগ ব্যাধিসহ কৃষিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮৯ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোন ধরণের ইটের ভাটা বা পাজা স্থাপন করা যাবে না। এর বাইরে করতে হলে আইনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে করতে হবে।

যেমন ভাটায় ১২০ ফুট উচ্চতার ধোঁয়া নির্গমনের চুল্লি স্থাপন করা বাধ্যতামূলক হলেও তার কোন বালাই নেই। বিধি নিষেধ রয়েছে জনবহুল এলাকা বা ফসলি জমিতে ইট ভাটা নির্মাণের। ইট পোড়াতে দেশী বা বনজ কোন ধরণের কাঠ ব্যাবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও বাঁধ বিচার ছাড়াই বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছ কর্তন করে যাচ্ছে।

এসবের তোয়াক্কা না করে ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন গ্রামে এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে ইট পোড়াচ্ছেন।

এ ছাড়া দেশী কাঠেরও বেশি মূল্য দেয়ায় দরিদ্র লোকেরা ছোটবড় গাছ নির্বিচারে কেটে বিক্রি করছে। ফলে উজাড় হচ্ছে বনজ ও স্থানীয় গাছপালা। বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ। চলতি বছরে একমাত্র ঝালকাঠি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইট পোড়ানোর জন্য অর্ধশত ইট ভাটার পাজা স্থাপন করা হয়েছে ঘন বসতি এলাকাসহ ফসলি জমিতে।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে জানায়, আমরা গতদিন বিকনা এলাকার বেশ কয়েকটি অবৈধ ইটের পাজায় অভিযান পরিচালনা করে আর্থিক জরিমানা করেছি। পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ ইটের বাটা ও পাজায় অভিযান অব্যহত থাকবে।#

সুন্দরবনে নৌকাসহ বিপুল পরিমান মাছ আটক

কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ সুন্দরবনে নিষিদ্ধ এলাকায় বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের স্মাট টিম অভিযানে চালিয়ে নৌকাসহ বিপুল পরিমান মাছ আটক করেছে। জানা গেছে গত বুধবার সন্ধার সময় সুন্দবনের কালির খাল নিষিদ্ধ এলাকায় খুলনা রেঞ্জের স্মাট টিম লিডার মোঃ সুলতান মাহমুদ হাওলাদারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দুটি নৌকা,কয়েক হাজার বড়শি সহ বিপুল পরিমান বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আটক করে। আটককৃত মাছ গতকাল শনিবার দুপুর ২ টার দিকে কাশিয়াবাদ স্টেশনে কয়রা উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহিদুল ইসলামের উপস্থিতে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৮ হাজার ৪ শ ২৭ টাকায় বিক্রয় করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক(এসিএফ) এস এম শোয়াইব খান, স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী,সাংবাদিক,জনপ্রতিনিধি সহ গর্নমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

বটিয়াঘাটায় প্রতিপক্ষের হামলায় একজন নিহত : আহত ২

বটিয়াঘাটা : বটিয়াঘাটায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাই রেজাউল শেখ (৫০) তার ছোট ভাই রবিউল ইসলাম(৪৫) গুরুত্বর জখম হয়েছে। তাদেরকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। এর মধ্যে রেজাউল শেখ ঘন্টাখানেক পর মারা যান। রবিউলকে মাথায়ও গুরুত্বর জখম হন। গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলা ৬নং বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের ঝালবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে নিহতের সেঝ ভাই মোঃ মেসবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে বটিয়াঘাটায় থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটা থানার ওসি মোঃ মোজাম্মেল হক মামুন বলেন, এক শতক জমি-জমা সংক্রান্ত জের ধরে আপন চাচাতো ভাইদের সাথে বিবাদ ছিলো। এরই জের ধরে হত্যাকান্ডটি ঘটে। নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বটিয়াঘাটা উপজেলা ঝালবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রহমানের পুত্র রেজাউল শেখ তার দোকান দেখাশুনা করার জন্য বাজারে ঘুরঘুরি করছিল। এ সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষ আঃ ছালাম শেখের দুই পুত্র মোঃ খুরশিদ আলম (৩৫) ও মোঃ খায়রুল শেখ (২৮), মৃত কলম বক্সের পুত্র আঃ ছালাম শেখ (৫৮), কালাবাবুর পুত্র এরশাদ(৩২) হাতে বাশের লাঠি নিয়ে তার ভাই রেজাউলকে খুন করার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ সময় ছোট ভাই রবিউল শেখ তার ভাইকে বাচানোর জন্য এগিয়ে আসলে তাকেও বাশ দিয়ে বেদম মারপিট করে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় রেজাউল শেখে মাথা, বুক ও বিভিন্ন শরীরের আঘাত প্রাপ্ত হন। রবিউলের বাশের আঘাতে মাথায় ফেটে যায়। তাদের মারধর করার সময় স্থানীয় বাসিন্দা এগিয়ে আসলে আসামিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে ত্যাগ করেন।
এ সময় রেজাউল এর সেঝ ভাই মোঃ মেসবাহ উদ্দিন খুলনায় অবস্থান করছিলো। তার বোন রিনার মোবাইলে মাধ্যমে তার ভাইকে মারপিট করার খবর শুনতে পান। তাদের দুইভাইকে গুরুত্বর জখম অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে। এর ঘন্টাখানেক পর রেজাউল শেখ মারা যান। অপর ভাই রবিউল শেখ হাসপাতালে চিকিৎসা সাধীন রয়েছেন।
নিহতের ভাই শেখ রহমত আলী খুমেক হাসপাতালে এ প্রতিবেদককে বলেন, শাপল ও বাশের আঘাতের চিহৃ রেজাউল শেখ ও রবিউল ইসলামের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুত্বর জখম রয়েছে। এর মধ্যে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘন্টাখানেকের মধ্যে রেজাউল শেখ মারা যায়। অপর ভাই রবিউল ইসলাম মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তাকে ওই হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সাঁথিয়ায় শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ফারুক হোসেন,সাঁথিয়া : পাবনার সাঁথিয়ায় কালবৈশাখি ঝড়ে ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে গাছপালা ঘরবাড়ীসহ উঠতি ফসলের। এলাকার বিভিন্ন সড়কগুলোতে গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে যোগাযোগ ব্যাবস্থা বিঘিœত হয়েছে। ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক খুটি উপড়ে পড়াসহ বিদ্যুতের তার ছিড়ে যাওয়ায় বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন ছিল সাঁথিয়া।
জানা গেছে বাংলাদেশের প্রায় ৭০ ভাগ পেঁয়াজের চাহিদা পূরনে সক্ষম পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলায় গতবারের শিলাবৃষ্টির ক্ষতির ধকল শেষ হতে না হতেই আবারও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের রক্তঝরা শ্রমে-ঘামে ফলানো বিভিন্ন উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক শিলা বৃষ্টি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। লন্ডভন্ড ফসলের ক্ষেতে দঁড়িয়ে কৃষকের আক্ষেপ ছাড়া আর করার কিছুই নেই। কৃষক যে ফসলের বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন, সেই ফসল বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না এবং মহাজনের ঋণ শোধ হবে কিনা এ চিন্তায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে না বিধায় কৃষক সঠিক মুল্য পাবে না। এতে খরচ ওঠা নিয়ে শংকায় এলাকার কৃষকেরা। সাঁথিয়া ভবানীপুরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমার পেঁয়াজের কদম আর ২/৩ দিন পরেই ঘরে তুলবো। শুক্রবারের শিলাবৃষ্টিতে আমার সবশেষ হয়ে গেছে। অর্ধেক ও ঘরে তুলতে পারবো কিনা আল্লাহ জানে। আফড়া গ্রামের কৃষক উজ্জল,কালু জানান, গতবারে শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার কারণে একটি পেঁয়াজ ও বিক্রি করতে পারিনী । এবারও একই অবস্থা কিভাবে যে এ ঋণ শোধ করবো।
পাবনার সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলায় এবার শিলাবৃষ্টিতে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে ও রাতে প্রচন্ড বৃষ্টির সাথে শিলাপাতে সাঁথিয়া উপজেলায় পেঁয়াজ, পেঁয়াজবীজ (কদম), রসুন, আলু, কাউন, শসা, বাদাম, সাজনা, গম, জব, মরিচ, পটল, বেগুন, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, বাঙ্গি, তরমুজ, করলা, লাউসহ বিভিন্ন উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ রঞ্জন কুমার প্রাং জানান, সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে সাঁথিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার নন্দনপুর,ভুলবাড়িয়া,ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নে। শিলা বৃষ্টিতে ফলনের উপর প্রভাব পড়বে না তবে ফসলের সংরক্ষণ ক্ষমতা থাকবেনা বলেও তিনি জানান।

রামপালে আওয়ামীলীগের আয়োজনে জনসভা ও সংগীত সন্ধ্যা

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : রামপাল উপজেলার বাঁশতলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে জনসভা ও সঙ্গীত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। উপজেলার গিলাতলা স্কুল মাঠ চত্তরে, শনিবার বিকাল ৫ টায় বাঁশতলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি হাওলাদার আবু তালেবের সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তালুকদার আঃ খালেক । অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মোঃ আবু সাইদ, ভাইস চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগ সহসভাপতি মেল্লা আঃ রউফ, উপজেলা আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি ও রামপাল ইউপি চেয়ারম্যান জামিল হাসান জামু, অধ্যাপক মিজানুর রহমান, হাওলাদার হাফিজুর রহমান, বাঁশতলী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ আলী, বাইনতলা ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ,ছাত্রলীগ সভাপতি হাফিজুর রহমান,সাধারন সম্পাদক শেখ সাদী প্রমুখ।

খুমেক হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে রোগীর চাপ বৃদ্ধি

বেড স্বল্পতায় রোগীদের ঠাঁই মেঝেতে

গত ২৯ দিনে শিশুসহ ৯৯ জন রোগী ভর্তি, শিশুসহ মৃত্যু ৫

কামরুল হোসেন মনি : শিশু কন্যা সানজিদা। বয়স সাড়ে ৩ বছর। গত ২৯ দিন ধরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। মেঝেতে তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মেয়েটির সারা শরীর ঝলসে যায়। মেয়েটির মা রাবেয়া খাতুন বলেন, মেয়েটি গরমে ছটফট করে। সিট না থাকায় ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখন ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
অপর রোগী কালাম মুন্সী। গত দুইদিন আগে নিরালায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তার চোখ-মুখ ও বুক ঝলসে যায়। হাসপাতালে বেড না থাকায় তাকে মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কালামের খালাতো বোন চায়না বেগম বৃহস্পতিবার রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, শুধু গ্যাসের ট্যাবলেট ছাড়া তেমন ওষুধ পায়নি। প্রায় ওষুধই বাইরে থেকে নিয়ে আসা লাগে। প্রতিদিন ৪ হাজার টাকার ওপরে ওর চিকিৎসার পেছনে খরচ হচ্ছে। দিনমজুরের পরিবার তার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। শুধু এরাই নয়, খুমেক হাসপাতালে বার্ন ও প্লাস্টিক ইউনিটে দিনকে দিন রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া, গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে ঝলসে যাওয়া রোগীরা এখানে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। গত ২৯ দিনের শিশুসহ ৯৯ জন রোগীকে এই ইউনিটে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে শিশুসহ ৫ জন মারা যায়। ওই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন ৩ জনের বেশি রোগী নতুন করে ভর্তি হচ্ছে। মাত্র ২৮ বেডের মধ্যে পুরুষ ১৪টি, মহিলা ৬টি ও শিশু সার্জারিতে ৮টি বেড রয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, খাতা-কলমে রয়েছে ৫০০ বেড। দিনকে দিন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালের জনবল সেই অনুযায়ী বৃদ্ধি পায়নি। ২৫০ বেডে থাকা অবস্থায় জনবল পূরণ হয়নি; ৫০০ বেডের কথাই বাদ দিলাম। এর মধ্যে আবার কেউ বদলি হয়ে গেছে, কেউ বা মারা গেছে আবার কেউ বা অবসরে চলে গেছেন। অল্প সংখ্যক জনবল ও চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সূত্র মতে, গত ১ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত বার্ন ও শিশু সার্জারি মিলে শিশুসহ মোট ৯৯ জনকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে শিশু রয়েছে ১৮ জন। এই সময়ের মধ্যে ৫ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর মধ্যে শিশু রয়েছে ৩ জন। যাদের বয়স ২ থেকে সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ মোঃ ফরিদ উদ্দীন বৃহস্পতিবার রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, এই সময়ে আগুনে পোড়া, গ্যাস বিস্ফোরণ, গরম পানিতে ঝলসে যাওয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেড স্বল্পতার কারণে রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ৬৫৩ জন পোড়া রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ২২ জন। আর ৫১ জন ঢাকা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে রেফার্ড করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪৫৪ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে মারা গেছে ১১ জন। ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে ৩ জনকে।

দাকোপে জনপ্রিয়তা পেয়েছে পার্চিং পদ্ধতি

গোলাম মোস্তফা খান, দাকোপ : পার্চিং হচ্ছে ফসলি জমিতে লম্বা খুঁটি বা বাঁশ পুঁতে রাখা, যাতে এসব খুঁটিতে সহজে পাখি এসে বসতে পারে। এতে ফসলের ক্ষতিকর পোকার মথ বা কীড়া খাইতে পাখির সুবিধা হয় এবং তার সাথে জৈবিকভাবে পোকা দমন হয়ে যায়। ফলে বালাইনাশক ব্যবহার করা লাগেনা। এ পদ্ধতিতে পরিবেশের ভারসাম্যের কোন ক্ষতি না। এভাবে ধানের জমিতে স্থাপন করা খুঁটি বা বাঁশ দিয়ে পাখির বসার সু-ব্যবস্থা করে দেওয়াই হচ্ছে পার্চিং পদ্ধতি।
পার্চিং পদ্ধতি বোরো ধান খেতের পোকা দমনের মধ্য দিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে খুলনার দাকোপ উপজেলার কৃষকদের কাছে।
গতকাল শুক্রবার উপজেলার সুতারখালী, কৈলাশগঞ্জ, কামারখোলা ও বাজুয়া গ্রামের কয়েকটি ধানখেত ঘুরে দেখা গেছে, অনেকের খেতের মাঝে কিছু দূরে-দূরে বাঁশের আগা, কঞ্চি, গাছের ডাল পুঁতে রাখা। কৃষকদের সাথে কথা হলে তারা জানায়, ধানের ক্ষতিকর পোকা দমনে বিশেষ করে মাজরা পোকা দমনে নির্দিষ্ট ব্যবধানে কঞ্চি পুঁতে রেখেছি। এতে খুবই উপকার হচ্ছে। এসব ডালে ফিঙে এসে বসে। আর পাখিগুলো ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে ধরে খাচ্ছে। ধান খেতে তেমন কোন কীটনাশক ব্যবহার করা লাগচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, প্রতিবছর বোরো আবাদে জমির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে কৃষকদের পার্চিং পদ্ধতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর উপজেলার ২৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে পার্চিং করা হয়েছিল ১২ হেক্টর জমিতে। সুত্রে আরও জানা যায়, এবছর ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯শতাংশ জমিতে পার্চিং করা হয়েছে।
উপজেলার লাউডোব গ্রামের সফল চাষী ও আ’লীগ নেতা শেখ যুবরাজ এবার ১৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। তিনি সম্পূর্ণ খেতে পার্চিং করেছেন। তিনি বলেন, ১৫ বিঘা ধানখেতে ৪৮টি ডাল ও ৪২টি কঞ্চি পুঁতে দিয়েছি। এতে ফিঙে ও শালিক পাখি এসে বসে এবং ক্ষতিকর পোকা ধরে খেয়ে ফেলছে। এ পদ্ধতি ভালো কাজ হচ্ছে।
উপজেলার পশ্চিম বাজুয়া গ্রামের কৃষক ফনিভূষণ মন্ডল বলেন, এবছর ধানের ধান ভালো হওয়ায় ১৫ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। কৃষি অফিসের পরামর্শের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ ধানখেতে পার্চিং করেছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এসএম এনামুল ইসলাম বলেন, খেতের ক্ষতিকর পোকা দমনে এটা প্রাকৃতিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতির নাম পার্চিং। যা পাখি বসার জন্য দাঁড়। এ পদ্ধতিতে খেতে পাখি বসার উপযোগী বাঁশের আগা, কঞ্চি, গাছের ডাল পুঁতে দিতে হয়। এই পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকার মধ্যে মাজরা পোকা দমনে বেশ উপকর। বোরো ধান রোপণের ২০দিনের মধ্যে ধান খেতে পার্চিং করতে হয়। এটি ১ বিঘা জমিতে ১০টি বাঁশের আগা, কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁততে হয়।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ১৮ জন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানায়, পার্চিং পদ্ধতিতে বোরো খেতের ক্ষতিকর পোকা দমন হচ্ছে। তাছাড়া বাড়তি খরচ আর কীটনাশকের ব্যবহার না থাকায় দিন দিন এ পদ্ধতি আমাদের অঞ্চলে জনপ্রিয় পাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, পার্চিং পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা দমন করার জন্য বেশ ভালো কার্যকারী। মাজরা পোকা দমনে এ পদ্ধতি ব্যবহার করলে কীটনাশক ব্যবহার করা লাগে না। এছাড়া কৃষকদের বাড়তি খরচ হয় না। উৎপাদন ব্যয়ও কম হয়। তাছাড়া এ পদ্ধতিটি পরিবেশবান্ধব। তাই বোরো ধানখেতে বাঁশের আগা, কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে কৃষকেরা পার্চিং করতে আগ্রহী হয়েছে।

ঝালকাঠিতে র‌্যাবের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন মঞ্জুর

মো:নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে কলেজছাত্র লিমন হোসেনকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেছে ঝালকাঠি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
রোববার ৪২ তম শুনানী শেষে এ আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক এসকেএম তোফায়েল হাসান। ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার কলেজছাত্র লিমন হোসেন র‌্যাবের গুলিতে একটি পা হারিয়ে পঙ্গত্ব বরণ করে। এ ঘটনায় লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর ৬ সদস্যের বিরুদ্ধে ছেলে লিমনকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ওই বছরের ১০ এপ্রিল ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ ওই মামলায় র‌্যাব সদস্যদের নির্দোষ উল্লেখ করে আদালতে চুরান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি পুর্ন:বিচেনার জন্য রিভিশন আবেদন করেন লিমনের মা। অবশেষে দীর্ঘ ৪২তম শুনানী শেষে আদালত র‌্যাবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। আবেদন মঞ্জুর করায় লিমনের আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে লিমনের মা বাদী হেনোয়ারা বেগমের আইনজীবী আককাস সিকদার জানান।
প্রসঙ্গত, এক অভিযানে লিমন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে লিমনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছিলো র‌্যাব। লিমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ঘটনায় গণমাধ্যমসহ সারা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে ২০১৩ সালে ঝালকাঠি আদালত র‌্যাবের করা মামলা থেকে লিমনকে অব্যহতি দেয়।