মায়মুনা রহিম ঋতু বৃত্তি পেয়েছে

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মায়মুনা রহিম ঋতু ফুলতলার ডাউকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বৃত্তি পেয়েছে। সে অভয়নগরের দত্তগাতী গ্রামের বাসিন্দা ও জামিরা বাজার আসমোতিয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক আঃ রহিম মোল্যা এবং গৃহিনী রিমা বেগমের একমাত্র কন্যা। আলহাজ¦ আঃ সাত্তারের দৈহিত্র ঋতু ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হতে চায়। সে সকলের দোয়া প্রার্থী।

ইস্মিতা হোসেন রেশা ডাক্তার হতে চায়

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ইস্মিতা হোসেন রেশা ফুলতলার আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে ফুলতলার আলকা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেনাসদস্য এম ডি হোসেন আলী গাজী এবং গৃহিনী রিমা হোসেন চায়নার জ্যেষ্ঠ কন্যা। রেশা ভবিষ্যতে একজন ডাক্তার হতে চায়। সে সকলের দোয়া প্রার্থী।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাশেদের রোজগারে সংসার চলে

ফারুক হোসেন,সাঁথিয়া : সাঁথিয়ায় জন্মান্ধ রাশেদ অনেক কষ্ট করে এইচএসসি পাশ কর্ওে প্রতিবন্ধী কোঠায় চাকরি পায়নি। তবে তাই বলে তার জীবনসংগ্রাম থেমে নেই। অদম্য ইচ্ছেশক্তি ্ও পরিশ্রমবলে সে বিস্ময়করভাবে মোবাইলফোনে ফ্লেক্সিলোড, বিকাশ, ডাচবাংলা প্রভৃতি অনলাইনমাধ্যমে গ্রাহকসেবা দিয়ে জীবিকানির্বাহ করছে। ফলে রাশেদ এখন আর কারো অনুগ্রহের পাত্র কিংবা পরিবারে বোঝা না । তার রোজগারেই সংসার চলে।

জানা যায়, এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরাফাত আহমেদ রাশেদ (৩২) সাঁথিয়া উপজেলার পুরানচরগ্রামের মজিদ আহমেদের ছেলে। মজিদ আহমেদ স্বাস্থ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারি। তিনভাই বোনের মধ্যে রাশেদ বড়। নানা প্রতিকুলতাসত্ত্ব্ওে সে এইচএসসি পাশ করেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় প্রতিবন্ধী কোঠায় তার চাকরি হয়নি। তাতে কি? থেমে নেই তার জীবনসংগ্রাম। কাজ শিখে সাঁথিয়া বাজারে ব্যবসা খুলে সে এখন আয়-রোজগার করছে। শিরিন আক্তার নামে একটি মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করছে। তার রাকা,কনক নামে দুটি কন্যাসন্তান্ও রয়েছে।তবে বড় মেয়ে রাকা তার মতোই দৃষ্টিহীন।তার পাশের টেলিকমব্যবসায়ী রুহুল আমিন জানান, রাশেদ অনেক মেধাবী।যেকোন বিষয় একবার শোনার পর তার মুখস্থ হয়ে যায়।আমরা তো প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাইনি যে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মোবাইলফোনে রির্চাজ, বিকাশ গ্রাহকসেবা দিতে পারবে।রাশেদের বাবা মজিদ আহমেদ জানান, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী একমাত্র ছেলেকে নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছি। একটা সরকারী চাকরি না হ্ওয়ায় হতাশ তিনি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাশেদ জানায়, অনেক কষ্ট করে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে এইচএসসি পাশ করে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন কর্ওে একটি চাকরি হয়নি। তদবির এবং টাকাÑপয়সা ছাড়া সরকারি চাকরি হয়না বলে সে জানায়।

মুখে আগুন দিয়ে যুবক-যুবতীদের চিকিৎসা !!!!

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার ডুমুরিয়ায় আমভিটা ঘোনা এলাকায় কথিত জ্বীনের বাবা অশোক কবিরাজ যুবক-যুবতী ছেলে মেয়েদের হাত-পা বেধেঁ লাঠি পিটা,মুখো মন্ডলে ভিজা গামছা পেচিয়ে ও মুখে আগুন দিয়ে জ্বীন -ভুতের চিকিৎসা করে আসছেন। শুধু তাই নয় মনের মানূষকে খুঁজে পেতে, স্বামী বিরাহ রোধ, বাড়ি বন্ধনাসহ ক্যানসার থেকে শুরু করে সকল রোগের চিকিৎসার নামে সাধারন মানূষের নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। কে এই কথিত জ্বীন-ভুতের বাবা? আর কোথায় বা পেলেন তিনি আলাদীনের চেরাগ? আর কি বা তার শিক্ষাগতা যোগ্যতা? এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজতে রোগী বেসে অবস্থান নেয়া হয় ভন্ড বাবার দরবারে। সে দিন ছিল গত মঙ্গলবার দুপুর বেলা।ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখা যায় প্রায় দেড় শতাধিক মধ্য বয়সী হিন্দু, মুসলিম মহিলাসহ কলেজ পড়–য়া মেয়েরা অপেক্ষায় আছে জ্বীন বাবার সাক্ষাৎ পেতে।পালা ক্রমে দেখা হচ্ছে রোগী। এর মধ্যে এক যুবককে দেখা যায় মাটির সাথে শুয়ে কান্না-কাটাসহ চিৎকার করতে।ভন্ড বাবা এলেন ওই যুবকের পাশে।তখন বাবার সহযোগীরা একটি বড় ব্যাগ নিয়ে আসেন বাবার কাছে। এরপর বাবা ওই যুবকের হাত-পা দড়ি দিয়ে বেধেঁ নিলেন।পরে ব্যাগ থেকে একটি বড় লাঠি বের করে ওই যুবকে বেপরোয়া ভাবে পিটাতে থাকেন। এরপর একটি ভিজা গামছা ওই যুবকের মুখো মন্ডলে বেধেঁ মুখে আগুন দিতে থাকেন।যন্ত্রনায় চিৎকার করতে থাকে ওই যুবক।অশোক কবিরাজ নিজেকে জ্বীন ভুতের বাবা দাবি করে বলতে থাকেন, “এর ঘাড় থেকে যাবি কি না বল?” এক পর্যায়ে প্রায় ৩০ মিনিট নির্যাতন শেষে যুবক বলেন আমি এর ঘাড় থেকে চলে যাব। এমন প্রতিশ্রুতির পর বাঁধন খুলে তাকে মুক্ত করা হয়। লোম হর্ষক এই কাহিনী দেখে উপস্থিত সকলে হতবাক।এরপর ১হাজার টাকা দিয়ে বিদায় নেন যুবক। কথা হয় ওই যুবকের সাথে। তিনি জানান নাম তার কমলেশ ঢালী,পিতা- ধীরেন ঢালী, সাং-ফুলবাড়ি গেট এলাকার তেলিগাতি গ্রাম। জ্বীন ভুত লেগেছিল তার ঘাড়ে এমনটি জানালেন তিনি।কথা হয় খুলনার রোগী রুনার সাথে তিনি জানান বলা যাবে না এমন কিছু সমস্য নিয়ে এসেছি। এখানে চিকিৎসায় কেমন খরচ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনিসহ অনেকেই জানান ৫’শ/হাজার দিলেই চলে। এরপর দীর্ঘক্ষণ প্রতিক্ষার পর কথা হয় জ্বীন বাবার সাথে। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আশোক মল্লিক(৫৫) ফকির/ কবিরাজ/ জ্বীন বাবাসহ যে যে নামে ডাকে। পিতা মৃত্যু শিশির মল্লিক,সাং আমভিটা ঘোনা। শিক্ষাগতা যোগ্যতা অষ্টমশ্রেনী। তাও আবার সার্টিফিকেট নেই। যুবক-যুবতী ছেলে মেয়েদের হাত-পা বেধেঁ লাঠি পিটা, মুখো মন্ডলে ভিজা গামছা পেচিয়ে ও মুখে আগুন দিয়ে জ্বীন -ভুতের চিকিৎসা বিদ্যা আপনি কোথায় পেয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জ্বীনের বাবা দাবি করে বলেন এটি আমার পাকিস্তান আমলে আয়ত্ব করা। এছাড়া মনের মানূষকে খুঁজে পেতে, স্বামী বিরাহ রোধ,বাড়ি বন্ধনাসহ ক্যানসার থেকে শুরু করে সকল রোগী চিকিৎসায় পারদর্শী দাবি করে তিনি বলেন ঝাড়, ফুক, গাছ, গাছড়া, ড্রাগ ও কবিরাজি সিরাপও তিনি ব্যবহার করে আসছেন। এত অল্প বিদ্যায় এতকিছু কি ভাবে সম্ভব? এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি আরো বলেন কাজ না হলে কি আর শতশত রোগী আসতো। এ প্রসংগে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এএসএম মারুফ হাসানের সাথে।এমন চিকিৎসার বর্ননা শুনে তিনি জানান আধুনিক যুগের মানূষ যদি নির্বোধের মত ঘরের টাকা পরকে দেয় তাহলে কি করার আছে।তবে প্রশাসনিক ভাবে এসব ভন্ডদের আটক করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন না করলে সাধারন মানূষেরা যেভাবে ঠকছে, এভাবে ঠকেই যাবে, আশু প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মার্চ মাসে কোস্ট গার্ডের অভিযানে২২০ কোটি টাকার মালামাল জব্দ

খুলনা : গত মার্চ মাসে বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১৯ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য মালামাল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। বুধবার কোস্ট গার্ড কর্তৃক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৭৯ কোটি ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ১৫,৮৭,১৪০ পিস ইয়াবা, ৪৫৪ বোতল বিদেশী মদ ও বিয়ার,৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যর ৮৪,০০০ ষ্টিকস বিদেশী সিগারেট। তাছাড়া বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়। অন্যান্য জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১৬০২ পিছ বিদেশী শাড়ী, ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের ৩৪১ পিছ বিদেশী থ্রি পিছ, ৯৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের ২,৬৯,২৫,২০০ মিটার কারেন্ট জাল, ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের ৩৭,৫১২ কেজি জাটকা, ৫ কোটি ২৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের ২,৫৩,৭২,০৮০ পিছ চিংড়ি পোণা। এছাড়াও অবৈধভাবে জাটকা আহরণ এর জন্য ২০৭ জন জেলেকে আটক করা হয়। এছাড়াও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে ১৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা মূল্যের ১৮৯৩ ঘনফুট বিভিন্ন কাঠ, ২টি হরিণের মাথা, ৫০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে জেলেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ৯ জন বনদস্যু আটক এবং ডাকাত কর্তৃক অপহৃত ৭১ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

কেসিসি নির্বাচনের জন্য বিএনপির ৮ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড গঠন

খুলনা : খুলনা মহানগর বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদ প্রার্থীদের দলীয় সমর্থনের জন্য ৮ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মহানগর বিএনপি’র সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। অন্য সদস্যরা হলেন- শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, সিরাজুল ইসলাম মেঝোভাই, মোঃ ফকরুল আলম ও অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম। গতকাল বুধবার দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খুলনা মহানগর বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
৫ ও ৬ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিকট হতে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়নে একক প্রার্থী দেবার ব্যাপারে সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ৭, ৮ ও ৯ এপ্রিল দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা সংগঠনের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে দলের সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী সপ্তাহের মধ্যে নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ভোট কেন্দ্র কমিটি এবং কেন্দ্রের এজেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হবে।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কেসিসি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। মেয়র প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারনী ফোরাম থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে; সে আলোকেই দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও খুলনাবাসীকে সাথে নিয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে কাজ করবে। কেসিসি নির্বাচনের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে অবহিত করতে সংবাদ সম্মেলন, বিভাগীয় কমিশনার-জেলা প্রশাসক-কেএমপি কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকতা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করবে বিএনপি।
সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কেসিসি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, মীর কায়সেদ আলী, মোঃ মোশাররফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, আবুল কালাম আজাদ, খায়রুজ্জামান খোকা, সিরাজুল ইসলাম মেঝোভাই, এ্যাড. বজলার রহমান, এ্যাড. এসআর ফারুক, শাহ জালাল বাবলু, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, স ম আব্দুর রহমান, ইকবাল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, মোঃ ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মোঃ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু প্রমুখ।

খুলনায় বিআরটিসি বাসচাপায় মেয়ে নিহত, মা আহত

খুলনা : খুলনার খালিশপুরে বিআরটিসির বাসচাপায় মেয়ে তন্নি (৫) নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন মা শিমুল আক্তার (৩৫)। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহানগরীর খালিশপুরের আলমনগর নূরানীয়া জামে মসজিদের অদূরে বিআইডিসি সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তন্বী স্থানীয় দারুল কোরআন প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক দুলাল শেখ’র মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আলমনগর এলাকার নিজ বাড়ির পাশে বিআইডিসি রোড পার হওয়ার জন্য ফুটপাতে দাড়িয়ে ছিল প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক দুলাল মিয়ার স্ত্রী শিমুল আক্তার ও তার মেয়ে তন্বী। এসময় খালিশপুর থেকে বরিশালগামী বিআরটিসির একটি দ্রুতগামী বাস ওভারটেক করতে যেয়ে মেয়ে ও মাকে ফুটপাতের উপরে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। আহত শিমুলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পর এলাকাবাসী রাস্তার যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। উত্তেজিত এলাকাবাসী একই সড়ক দিয়ে যাওয়া বিআরটিসির ঢাকাগামী অপর একটি বাস ভাঙচুর করে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বাসটি উদ্ধার করে খালিশপুর থানায় নিয়ে আসে।
খলিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরদার মোশরফ হোসেন বলেন, প্রথমে শুনেছিলাম মা-মেয়ে দু’জনই মারা গেছে। পরে জানতে পারলাম তথ্য ভুল ছিল। মেয়ে তন্বী মারা গেছে আর মা শিমুল আকতারকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কয়রার ফাতেমা জাতীয় পর্যায়ে চ্যম্পিয়ন

ইমতিয়াজ উদ্দিন, কয়রা : আন্তঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০১৮ তে ১০০ মিটার দৌড়ে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কয়রা উপজেলার জিনাত ফাতেমা আক্তার (১১)। তার কৃতিত্ত্বের স্বীকৃতি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সিজার তাকে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার প্রদান করেন। কয়রা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এস ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জিনাত ফাতেমা আক্তার বাগালী ইউনিয়নের ইসলামপুর নিবাসী মোঃ মফিজুল ইসলাম মোল্যা ও আয়েশা বেগমের কনিষ্ঠ কন্যা। সে এবারের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে চাম্পিয়ন হয়ে কয়রা উপজেলা, এস ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিতা মাতার মুখ উজ্জ্বল করায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারদের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হয় ও ধন্যবাদ জানানো হয়। ফাতেমা ভবিষ্যতে একজন ক্রীড়াবিদ হতে চায়। সে ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভবিষ্যৎ সফলতার জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে ত্রুটি: ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার আদেশ

ঢাকা অফিস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় গ্রেফতার ১১ বিমান কর্মকর্তার মধ্যে তিন জনের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে নতুন করে মামলার আদেশ দিয়েছে আদালত। ওই ঘটনায় করা রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার মামলা থেকে ১১ আসামির সবাইকে অব্যাহতি দিয়ে বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা এই আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌসুঁলি তাপস পাল জানিয়েছেন। নতুন মামলায় আসামি হবেন- বিমানের প্রকৌশলী নাজমুল হক, টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান, জুনিয়ার টেকনিশিয়ান শাহ আলম। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার মামলা থেকে ১১ আসামির সবার অব্যাহতির আবেদন গ্রহণ করে এই তিনজনের বিরুদ্ধে দ-বিধির ২৮৭ ধারায় মামলা করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে অনুমতি দিয়েছে আদালত। ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিমানবন্দর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখায় ১১ আসামির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিসিটি) ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুল আলম। পাশাপাশি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সিদ্দিকুর, নাজমুল ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে দ-বিধি ২৮৭ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলার অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা। দন্ডবিধির ২৮৭ ধারায় যন্ত্রপাতি নিয়ে অবহেলামূলক আচরণের সাজার কথা বলা হয়েছে। অআমলযোগ্য এ অপরাধে আসামি দোষী সাব্যস্ত হলে ছয়মাস পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদ- বা একহাজার টাকা পর্যন্ত যে কোনো পরিমাণ অর্থদ- অথবা উভয় দন্ডে দন্তডিত হতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার মামলার সব আসামি জামিনে রয়েছেন। এদের মধ্যে নাজমুল হাই কোর্ট থেকে এবং বাকি ১০ জন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এই মামলায় গতকাল বুধবার অব্যাহতি পাওয়া বাকি ৮ জন হলেন- বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এসএ সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস ও জাকির হোসাইন। দেবেশ চৌধুরীর প্রধান আইনজীবী পরিমল বিশ্বাস বলেন, গতকাল বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানির সময় মামলার আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে জরুরি অবতরণ করে। ত্রুটি মেরামত করে সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্টে পৌঁছান। ওই বছরের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর বরখাস্ত হন বিমানের তিন প্রকৌশলীও। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়, যাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে বলা হয়। এরপর ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলীসহ নয়জনকে আসামি করে ওই মামলা করেন বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়েল ম্যানেজমেন্ট) উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামান। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (গ) ধারায় করা ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, বিভাগীয় তদন্তে এই কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে “পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি নিয়া অবহেলামূলক আচরণ করতঃ অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে গত বছর ৭ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রমের অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে সবার অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছিল। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে নিয়োজিত উড়োজাহাজটির অয়েল প্রেসার সেন্সর পরিবর্তনের কাজটি করেন সিদ্দিকুর রহমান এবং সহযোগিতা করেন মেকানিক শাহ আলম। ওই সময় প্রকৌশলী নাজমুল হক পরীক্ষার জন্য তিনবার ভেতরে প্রবেশ করেন। তবে তিনি তদন্ত কমিটির কাছে একবার ভেতরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। ফলে নাজমুল হকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। তবে তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদনের আলোকে মামলার ঘটনায় নাশকতা, আত্মঘাতী ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি। উড়োজাহাজে শত শত মানুষ ভ্রমণ করে বলে এর রক্ষাণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিতদের বেশি মনোযোগী ও সতর্ক থাকা উচিত ছিল উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ত। মামলার সার্বিক তদন্তে এজাহারনামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে নাশকতা, আত্মঘাতী ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাই মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতি প্রার্থনা করছি, বলা হয় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে।

ঝালকাঠিতে ৩৮৫ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে ডিবির অভিযানে বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার ও এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
বুধবার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেষ প্রান্ত বর্ডার এলাকার গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কাঁচাবালিয়ায় ডিবি এ অভিযান চালায়। জানাগেছে, বিডির পরিদর্শক শফিউল্লা খানের নেতৃত্তে গোপন সংবাদের বৃত্তিতে ঐ ইউনিয়নের চিহৃীত মাদক স¤্রাট শিমুল ডাকুয়া (২৮) এর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩৮৫পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক ব্যাবসায়ী শিমুল পালিয়ে গেলেও তার সহযোগী মেহেদী হাসান সুমন (২২) নামের এক যুবককে আটক করা হয় বলে পুলিশ সুপার কার্য্যালয়ের হল রুমে এক প্রেস ব্রিফিং করে জানানো হয়। ডিবির পরিদর্শক শফিউল্লা খানের নেতৃত্তে অভিযানে ডিরি উপপরিদর্শক জাকির,এস আই শিমুল,সহ একটি টিম এ সফল অভিযান পরিচালনা করেন।

জানাগেছে,পলাতক চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী মাদক স¤্রাট শিমুল ডাকুয়া দীর্ঘদিন যাবত ঐ এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। শিমুলের বিরুদ্ধে একাধীক মাদক মামলা রয়েছে সে ঐ ইউনিয়নের শামসুল হক ডাকুয়ার ছেলে। আটক কৃত মেহেদী হাসান ভাউকাঠি এলাকার ফজলুল হকের ছেলে,সে ভাড়ায় ম্যাজিক গাড়ি চালায় ও মাদক বহন করে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে । ডিবির পরিদর্শক শফিউল্লা খান বলেন,ঝালকাঠি থানায় ডিবি বাদী হয়ে মাদক আইনে মামলা দায়ের করবে। পলাতক আসামী চিহৃীত মাদক স¤্রাট শিমুল ডাকুয়াকে গ্রেফতার অভিযান অব্যহত আছে।