মাঝিসহ কালাবগীর ট্রলার ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বনদস্যুরা

দাকোপ প্রতিনিধি : সুন্দরবনের পশর নদীর বগা খাল থেকে মাঝিসহ একটি ট্রলার বনদস্যুরা নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ভিকটিম পরিবারের পক্ষ থেকে দাকোপ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
জানা যায় চলমান গোলপাতা আহরন মৌসুমে নলিয়ান এলাকার বহর মালিক জুলু গাজী কালাবগী আফজাল সরদারের ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ভাড়া চুক্তিতে নেয় নৌকা টানার কাজে। গত ২ এপ্রিল আফজাল ট্রলার নিয়ে বনে যায়। পরের দিন ৩ এপ্রিল সুন্দরবনের পশর নদীর বগা খালে বহরের সাথে থাকা ট্রলারটি মাঝিসহ অজ্ঞাত দস্যুদল জোর পূর্বক নিয়ে যায়। এ সময় দস্যুদের হেফাজাতে থাকা অপর একটি ট্রলার সেখানে রেখে যায়। এ ঘটনায় ছেলেসহ ট্রলার ফিরে পাওয়ার আশায় আফজালের পিতা মুজিবর সরদার গতকাল বৃহস্পতিবার দাকোপ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।

দাকোপে অবাধে পাচার হচ্ছে সুন্দরবনের মুল্যবান সম্পদ

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : খুলনার দাকোপ অঞ্চলে অবাধে পাচার হচ্ছে বনজ সম্পদ। অভিযোগ উঠেছে কৈলাশগঞ্জ টহল ফাড়ীর বনরক্ষিরা সুতারখালী ষ্টেশনের সহায়তায় চুক্তি ভিত্তিক মুল্যবান কাঠ পাচার অব্যহত রেখেছে। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বনরক্ষিদের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় গড়ে উঠেছে কাঠ পাচারের একাধীক শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন খোজ নিয়ে জানা যায় দাকোপের সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রাম কৈলাশগঞ্জ শিংজোড়া, দাকোপ, কালীনগর, বানীশান্তা, বনলাউডোপ, সুতারখালী, কালাবগী সুতারখালী এলাকায় সংশ্লিষ্ট বনরক্ষিদের প্রত্যক্ষ মদদে গড়ে উঠেছে সুন্দরবনের মুল্যবন সুন্দরী কাকড়াসহ বিভিন্ন কাঠ ও অন্যান্য বনজ সম্পদ পাচারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। জানা যায় এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৪ মার্চ দাকোপ গেট এলাকা থেকে সুতারখালী ষ্টেশনের রক্ষিরা লক্ষাধীক টাকার কাকড়া কাঠসহ একটি ট্রলার জব্দ করে। অনুসন্ধানে জানা গেছে শিংজোড়া দাকোপ অঞ্চলের চিহ্নিত চোরাকারবারী সুরাজ মন্ডলসহ অপরাপর সদস্যরা ওই কাঠ বাজার জাতের উদ্দেশ্যে জড়ো করেছিল। তারা বনরক্ষিদের সহায়তায় ওই কাঠ মোকামে বিক্রির জন্য মজুদ করেছিল। বর্তমানে গোপন লেনদেনের মাধ্যমে জব্দকৃত ট্রলারটি ছাড়িয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া চলছে। গত ৪ ঠা মার্চ শিংজোড়া শশ্মান ঘাট নদীর পাড়ে লক্ষাধীক টাকার কাঠ স্থানীয় জনৈক ইমরানের নজরে আসে। তিনি বিষয়টি তাৎক্ষনিক সুতারখালীর ষ্টেশন কর্মকর্তা শফিউর রহমানকে মোবাইলে জানালে তিনি বলেন ওখানে কাঠ আছে তাতে আপনার সমস্যা কি ? অভিযোগ মতে তপন মন্ডল, বিপ্লব মন্ডল, খোকন মন্ডল, সনজিত মন্ডল, ছোট্র মন্ডল, শিশির রায় নামের কাঠুরিয়ারা কৈলাশগঞ্জ টহল ফাড়ীর ওসি তাহের রহমানের সাথে চুক্তি ভিত্তিক কাঠ পাচার করে থাকে। কাকড়া কাঠ ৩০ মনের নৌকা ৫০০ টাকা, ৬০ মনের ১৫০০ টাকা, সুন্দরী কাঠ ৬০ মনের নৌকা ২৬০০-৩০০০ টাকার চুক্তিতে কেটে এনে তারা লোকালয়ে গড়ে ওঠা পাচারকারী সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে থাকে। মাঝ পথের সুতারখালী ফরেষ্ট ষ্টেশন এবং ঢাংমারী ষ্টেশনের বন কর্মকর্তারা আয়ের একটি অংশ গ্রহন করে নৌকাগুলো নিরাপদ যাতায়াতে সহায়তা করে বলে জানা গেছে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন সুন্দরবন থেকে পাচার হচ্ছে মুল্যবান বনজ সম্পদ। অভিযুক্ত সুরাজ মন্ডল বলেন জব্দ হওয়া কাঠ কালীনগর এলাকার এক ব্যবসায়ীর, আর ট্রলারটি গৌরাঙ্গ নামের এক ব্যক্তির। এর সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্ঠতা নেই। কাঠুরিয়া বিপ্লব তপনসহ অন্যদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তাদের মোবাইল বন্দ পাওয়া যায়। কৈলাশগঞ্জ টহল ফাড়ীর ওসি তাহের রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উল্লেখিত ব্যক্তিদের আমি চিনিনা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুতারখালী ষ্টেশন কর্মকর্তা শফিউর রহমান বলেন, তথ্যদাতাকে এমন কথা বলার প্রশ্নই আসেনা, তবে শুনেছি আমাদের অনেকে এমন বলে। জব্দ হওয়া কাঠ ট্রলারের বিষয়ে তিনি বলেন বিষয়টি আমার উর্ধর্তন কর্ত্তৃপক্ষকে জানিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার সহযোগীতায় কাঠ পাচারের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। দায়িত্বশীলরা অস্বীকার করলেও সুন্দরবন থেকে নানা প্রক্রিয়ায় কাঠ পাচার হচ্ছে এ বিষয়টি নিশ্চিত। উপজেলার বিভিন্ন মোকাম ও স মিল গুলোতে অভিযান চালালে এর সত্যতা পাওয়া যাবে। এলাকার সচেতন মহল বনজ সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

কয়রায় পুলিশের অভিযানে ১৪ জন আটক

কয়রা(খুলনা) প্রতিনিধি : কয়রা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ১৪ জন আসামীকে আটক করেছে। পুলিশ জানায়, বুধবার দিন ব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন আবুল জোয়ারদার(৪৫)সুভাষ মন্ডল(৩৫) মোহাম্মাদ আলী মোল্যা(৩২)ইব্রাহিম গাজী(৪৮)কবির সরদার(৩৫)বাবুল সরদার(৩২) খোকন বাউলিয়া(৩৬) শামিম(২৮)আফসার সানা(৩৪) ইয়াছিন সানা(৩২) মফিজুল ইসলাম(৪২)রেজাউল করিম(৪৪) আনন্দ সরকার(২৭) ও আবু মুছা গাজী(৫৫)। কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এনামুল হক জানান,আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় সিআর ও জিআর মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তাদেরকে কোর্ট হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

খুলনায় প্রার্থী হতে বিএনপি’র মনোনয়ন নিলেন মনি ও মনা

খুলনা : আসন্ন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছেন ২ জন। বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনি ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা মনোয়নপত্র কিনেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই মনোনয়নপত্র বিক্রি করে বিএনপি। খুলনা ও গাজীপুর সিটির নেতারা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছ থেকে দল নির্ধারিত ১০ হাজার টাকা জমা দিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
দুপুর পৌনে ১২টায় খুলনার বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনির পক্ষে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রুবায়েত হাসান খান রানা এবং বিকেল তিনটার দিকে শফিকুল আলম মনা নিজে এসে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
জানা গেছে, দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার আগামী ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সন্ধ্যা সাতটায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার হবে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে অফেরতযোগ্য জামানত বাবদ ২৫ হাজার টাকাসহ মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপরই তারা সাক্ষাৎকারের জন্য বিবেচিত হবেন।

খুলন সিটি নির্বাচনে আ’লীগের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত রবিবার

খুলনা : আসন্ন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে আগামী ৮ এপ্রিল (রবিবার)। ওইদিন দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা।
এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে দুই সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে আওয়ামী লীগ। শুক্রবার ও শনিবার (৬ ও ৭ এপ্রিল) পর্যন্ত এই মনোনয়ন ফরম বেচা হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়র পদের জন্য কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেনি বলে আওয়ামী লীগের দফতর সূত্রে জানা গেছে।

খুলনায় নিখোঁজ বিএনপি নেতা নজরুল রামু থেকে উদ্ধার

খুলনা : প্রায় ১৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর খুলনা জেলা বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম মোড়লকে (৪৫) কক্সবাজারের রামু উপজেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ১৮ মার্চ খুলনা জেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তার স্ত্রী তানজিলা বেগম সেখানকার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সে সূত্র ধরে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রামুর তুলাবাগান এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আনোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকার কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু কী কারণে তিনি আত্মগোপন করেন, সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে খুলনায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান আফরুজুল হক টুটুল।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, নজরুলকে প্রথমে রামু থানায় হাজির করা হয়। স্বেচ্ছায় নিখোঁজ থাকা এ বিএনপি নেতাকে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে যে ব্যক্তির বাড়ি থেকে নজরুলকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার সঙ্গে বিএনপির এ নেতার কী সম্পর্ক বা তার ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এসব বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি পুলিশ কর্মকর্তারা। এদিকে, রামুতে উদ্ধারের পর নজরুলকে সেখান থেকে আনতে রওয়ানা হয়েছে খুলনার ডুমুরিয়া থানা পুলিশের একটি দল।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিল হোসেন জানান, নজরুল ইসলাম কক্সবাজারের রামুতে রয়েছেন এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল তাকে আনার জন্য রওনা দিয়েছে।
নজরুল ইসলামের ছেলে ওহেদুজ্জামান বাবলা বলেন, বাবা জীবিত রয়েছেন এবং তিনি রামুতে অবস্থান করছেন বলে ওসি আমাদের জানিয়েছেন। আমরা এখন তার ফিরে আসার অপেক্ষায় আছি।
গত ১৭ মার্চ বিকেলে নজরুল ডুমুরিয়ার মাগুরঘোনা ইউনিয়নের বেতাগ্রামের বাড়ি থেকে আঠারো মাইল বাজারে যান। সেখান থেকে একটি মোটরসাইকেল ভাড়া করে তিনি যশোরের কেশবপুরের মঙ্গলকোট এলাকায় ডাক্তার দেখাতে যান। সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ডুমুরিয়ার আটালিয়া এলাকায় একটি ভাড়া করা মোটরসাইকেল, চাবি ও টুপি পড়ে থাকতে দেখেন। মোটরসাইকেলের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, ওই মোটরসাইকেলটি নজরুল ভাড়া নিয়েছিলেন। নজরুলের সন্ধানে পরিবারের পক্ষ থেকে তার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও নজরুলের সন্ধান না পাওয়ায় তার স্ত্রী তানজিলা বেগম ডুমুিরয়া থানায় ওই জিডি করেন।
পরিবার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ ছিলো, তাকে গুম করা হয়েছে, যার সঙ্গে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে পুলিশ নিখোঁজের সন্ধানে অভিযান চালায়।

খুলনায় পিস্তল ও গুলিসহ ২ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক

খুলনা : খুলনায় নাইন এমএম পিস্তল ও গুলিসহ বিভিন্ন মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নগরীর হাজী মহসিন রোড এলাকা থেকে র‌্যাব-৬’র সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন ও ১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- নগরীর লবণচরাস্থ মোক্তার হোসেন সড়কের ফারুক মোল্লার ছেলে মো. মিরাজ মোল্লা (২৮)। তার বাড়ি খুলনার তেরখাদা উপজেলার হাড়িখালি গ্রামে। তার বিরুদ্ধে খুলনা থানায় মারামারি ও ডাকাতির ঘটনায় তিনটি মামলা রয়েছে। অপর আসামি মো. মাসুম সরদার (৩০) নগরীর গল্লামারি এলাকার নূর ইসলাম সরদারের ছেলে। তার বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামে।
র‌্যাব-৬’র কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-১) লে. কমান্ডার এএমএম জাহিদুল কবীর জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল নগরীর হাজী মহসিন রোড এলাকায় অভিযান চালায়। প্রথমে অস্ত্র ব্যবসায়ী মাসুম সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অপর অস্ত্র ব্যবসায়ী মিরাজ মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।
মিরাজ মোল্লা ডাকাতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত এবং মাসুমের বিরুদ্ধেও মাদকের মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় খুলনা থানায় অস্ত্র মামলার প্রস্তুতি চলছে।

খুলনায় ইয়াবা-গাজাসহ আটক ৩

খুলনা : খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর ‘ক’ ও ‘খ’ সার্কেলের পৃথক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাজা সহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে মোঃ জামির শেখ (৫০), মোঃ মুন্না (৪৮) ও মোঃ আকরাম ব্যাপারী (৩০)। এদের কাছ থেকে ইয়াবা, গাজা ও হিরোইন উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার নগরীর সোনাডাঙ্গা, খানাজাহানআলী থানা ও দিঘলিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্র মতে, সংস্থার উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামানের তত্ত্বাবধায়নে ‘ক’ ও ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক মোঃ আহসান হাবিবেব নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর সোনডাঙ্গা ময়লাপোতা ১৪নং রোডে বিকেলে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ওই এলাকার বাসিন্দা কাশেম ব্যাপারীর পুত্র মোঃ আকরাম ব্যাপারীকে ১শ’ গ্রাম গাজাসহ আটক করেন। অপর অভিযানে ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক মোঃ সাইফুর রহমার রানার নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিঘলিয়া উপজেলা ৫নং ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত ইলিয়াস হোসেনের পুত্র মোঃ জামির শেখকে ২০পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। একই পরিদর্শক অপর অভিযান চালিয়ে খানজাহানআলী থানাধীন এলাকার বাসিন্দা মৃত আরশাদ মোল্লার পুত্র মোঃ মুন্নাকে ১৮ পুড়িয়া হিরোইনসহ আটক করেন। এ ব্যাপারে আটক মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক ভাবে মামলা দায়ের করেন।

ফুলতলায় ডাঃ হ্যানিম্যানের জন্মবার্ষিকীতে হোমিও সেমিনার ও সনদপত্র প্রদান

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ হোমিওপ্যাথির জনক মহাত্মা ডা: ফ্রেডারিক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান এর ২৬৩ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী হোমিও শিক্ষামূলক এক সেমিনার বৃহস্পতিবার সকালে ফুলতলার গাজী হোমিওপ্যাথিক প্যারামেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত হয়। ডাঃ ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পপতি হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। কিডনী ও মুত্রপাথরী রোগে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উপর কম্পিউটার ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে স্বচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব ডা: গাজী আব্দুল আজীজ । বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা হোমিও রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক আলহাজ্ব ডা: সেলিম হুসাইন, ব্যবসায়ী শেখ মতলেব হোসেন, ডাঃ মোঃ হায়দার আলী। প্রভাষক গাজী এনামুল হক ফারুকের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন ডাঃ জি. এম. এ. খালেক, ডাঃ বিধান চন্দ্র সরকার, প্রভাষক ডাঃ এম.এ. হাই, প্রভাষক ডাঃ পারুল পারভীন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ সুলতানা ফারুক । পরে কোর্স উত্তীর্ণ কলেজের ২৮ জন শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক প্যারামেডিকেল বোর্ড কর্তৃক সার্টিফিটেক ও রেজিঃ সনদ প্রদান করা হয়।