ফুলতলায় জাতীয় শ্রমিক পার্টির আহবায়ক হাফিজ ও সদস্য সচিব শফিকে অভিনন্দন

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ জাতীয় শ্রমিক পার্টি ফুলতলা উপজেলা শাখার নব নির্বাচিত আহবায়ক মোঃ হাফিজুর রহমান বিশ্বাস ও সদস্য সচিব মোঃ শফি বিশ্বাসকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন উপজেলা জাতীয় শ্রমিক পাটির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক এম সাঈদ আলম মোড়ল, শ্রমিক পার্টির যুগ্ন আহবায়ক আঃ রহমান মোল্যা, মোঃ মিন্টু মুন্সী, আঃ রহিম লস্কর, সদস্য সচিব মোঃ হাবিব বিশ্বাস, মোঃ ইসলাম শেখ, আজিজুর রহমান বিশ্বাস, ইমন বিশ্বাস, মামুন বিশ্বাস, সিরাজুল বিশ্বাস, বাপ্পি বিশ্বাস, সুজন কুন্ডু, বাপ্পি শেখ, রিক কুন্ডু, আরমান গাজী, মিঠু মুন্সী, তাহের শেখ, খায়রুল ইসলাম প্রমুখ।

আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়; দাকোপে সাবেক সাংসদ

গোলাম মোস্তফা খান,দাকোপ(খুলনা) : আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল। তিনি বলেছেন, ‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। এজন্য সব বিভেদ ভুলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। মানুষের জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে জয়ী করার আহবান জানান তিনি। কামারখোলা ইউনিয়নের কালীনগর শিবনগর গেটের পাশে মাঠ প্রাঙ্গনে আ’লীগের জনসভায় এ আহবান জানান সাবেক সাংসদ।
খুলনার দাকোপ উপজেলায় গতকাল শুক্রবার (০৬ মার্চ) বিকাল ৪টায় কামারখোলা ইউনিয়ন সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভা মঞ্চে খুলনা জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মোস্তফা রশিদী সুজার রোগ মুক্তি এবং দেশে ফেরা উপলক্ষে অভিনন্দন জানানো হয়।
ননীগোপাল মন্ডল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসলে ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের খুনি, ধর্ষণকারী, রাজাকার ও ১৯৭৫ সালের খুনি-পাপিদের সরকারে এনেছিলেন জিয়াউর রহমান। আর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে সে সব পাপিদের বিদায় করেছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসি দিয়ে পাপমোচন করা হয়েছে বলেই আজ দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।
সাবেক সাংসদ বলেন, এতিমের টাকা চুরির দায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শাস্তি ভোগ করছে। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা বলে বেড়াচ্ছে, এ সরকার সাজানো মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে। অথচ এ মামলা হয়েছে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। আওয়ামী লীগ কোনও মামলা করেনি।
তিনি বলেন, দেশে মাদকের ভয়াবতা রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ মাদক সেবন ও মাদক বেচা-কেনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হবে। মাদকের ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা না করা গেলে দেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মেধাশূন্য হয়ে যাবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কামারখোলা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সমরেশ রায়। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আ’লীগের সদস্য নূরে আলম জোয়াদ্দার, উপজেলা আ’লীগ নেতা অসিত বরণ সাহা, এ্যাড. জিএম কামরুজ্জামান, যতীন্দ্রনাথ গাইন, গোলাম মোস্তফা খান ও শেখ যুবরাজ। সভায় বক্তারা আ’লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সোনার বাংলা এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ’লীগ সরকারকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। আর সেই কাংখিত বিজয়ের জন্য দলীয় নেতা কর্মীদের এখন থেকেই নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে হবে। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য করেন, আ’লীগ নেতা অধ্যক্ষ ড. অচিন্ত্য মন্ডল, সঞ্জয় কুমার মোড়ল, ছাব্বির হোসেন, সমরেশ রায়, গাজী সাহাবুদ্দিন, শিবেন্দ্র প্রসাদ রায়, আফজাল হোসেন খান, অচিন্ত্য সাহা, শেখ বাবুল আক্তার, দীপংকর বৈদ্য, গাজী সরোয়ার, শচীন্দ্রনাথ মন্ডল, তন্ময় সরকার, বাসুদেব মন্ডল, অমিত সাহা, হরষিত রায়, ছাত্রলীগ নেতা পলাশ রায়সহ আরো অনেকে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আ’লীগ নেতা প্রসেনজিৎ রায়।

খালেদা জিয়া খুব শীঘ্রই সবার সামনে আসবেন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: বিএনপির কেদ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওর বীর উত্তম বলেছেন, মিথ্যা দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ায় বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুদকের মামলাটিকে ঠুনকো এবং ষড়যন্ত্রমূলক দাবী করে তিনি আরও বলেন এতে বিএনপি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে উল্লেখ করে ব্যারিষ্টার ওমর বলেন, এসব ঠুনকো মামলা টিকবে না, খালেদা জিয়া খুব শীঘ্রই সবার সামনে আসবেন।
বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এ সিনিয়র নেতা এসব কথা বলেন।

সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন : স্বামী ও ভাসুর আটক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার দহাকুলায় এক গৃহবধুকে গাছের সাথে বেঁধে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার দহাকুলা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ স্বামী কাবিদ ওরফে কাবিল ও ভাসুর হাবিদ ওরফে হাবিলকে আটক করেছে । আহত গৃহবধূ আনোয়ারা খাতুনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, যৌতুকের দাবীসহ নানা কারনে স্বামী কাবিদ তার স্ত্রী আনোয়ারাকে প্রায়ই মারধর করতো। আজ সকালে ভাত খাওয়া নিয়ে আবারও তার সাথে ঝগড়া হয়। এ সময় স্বামী ও ভাসুর তাকে বকাবকি করে। আনোয়ারা এর প্রতিবাদে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার হুমকি দেন। পরে স্বামী কাবিদ ও তার ভাই হাবিদ আনোয়ারাকে বাড়ির উঠোনে একটি আমগাছে বেঁধে লোহার রড, লাঠি ও ঝাঁটা দিয়ে নৃশংসভাবে মারধর শুরু করে। আনোয়ারার চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে এলেও তারা তাকে কাবিদ হাবিদের হুমকির মুখে উদ্ধার করার সাহস পায়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে পৌছে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে কামরুল ইসলাম আনোয়ারার বাঁধন খুলে তাকে মুক্ত করেন। এরপরই তাকে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, গৃহবধূ আনোয়ারা খাতুনের দাবী ভাসুর হাবিলের কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে ব্রম্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারি পরিদর্শক অচিন্ত্য কুমার জানান, দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার, এখন দেখা যাক কি করা যায়’। এ ব্যাপারে সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, গৃহবধূর স্বামী ও ভাসুরকে আটক করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে । তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যশোরে গাছ থেকে পড়ে পিডিবির লাইন ম্যান নিহত

যশোর : যশোর পিডিবির লাইনম্যান জহুরুল উদ্দিন গাজী গাছের ডাল কাটতে গিয়ে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। তিনি ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার আমিন উদ্দিন গাজীর ছেলে। শুক্রবার সকালে শহরের ঢাকা রোডের বারান্দীপাড়া মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের ভাগ্নে আবু বক্কর সিদ্দিক জানান,অফিসিয়াল ভাবে শুক্রবার সকালে শহরের ঢাকা রোড বারান্দীপাড়া এলাকায় বটগাছের ডাল কাটতে যায়। বটগাছের ডাল কাটার সময় মই লাগিয়ে উপরে উঠলে তার মই সরে যায়। এসময় তিনি পড়ে গেলে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। জরুরী বিভাগের ডাক্তার কাজল মল্লিক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কোতয়ালি থানার এসআই খবির উদ্দিন ও এসআই কাউম মুন্সি মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ঝালকাঠিতে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুরে বিষখালী নদী থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের বস্তাবর্তি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল সারে ১০টার দিকে রাজাপুর উপজেলার উপজেলার চল্লিশকাহনিয়া এলাকার বিষখালী নদীর চর থেকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে চল্লিশকাহনিয়া এলাকার বিষখালী নদীর চরে বস্তার মধ্যে কিছু অংশ বের হওয়া লাশটি দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। লাশের হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় একটি চটের বস্তার ভেতরে ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

অপরদিকে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা উপপরিদর্শক (এসআই) সিদ্দিকুর রহমান জানান, মৃতদেহের চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাঁর হাত পেছন দিকে বাঁধা অবস্থায় ছিল। মৃতদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে পুলিশ লাশের পরিচয় পেতে বিভিন্ন থানায় বার্তা প্রেরণ করেছে। তবে দ্রুত পরিচয় না পেলেবে-ওয়ারিশ লাম হিসাবে দাপন করা হবে বলে পুলিশ সুত্রে জানা যায়।

রাজাপুর থানা ওসি মো. শামসুল আরেফিন বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের পরিচয় উদঘাটনের জন্য আশপাশের সব থানায় বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরে করবেন প্রস্তুতি চলছে। প্রথামিক ভাবে ধারনা করা হয়েছে ওই যুবকের বয়স ২৫থেকে ৩০ হবে। তাকে কেউ হত্যা করে লাশ বস্তায় বেধে নদীতেফেলে দিয়েছে।

খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে পিস্তল ও গুলিসহ আটক-২

খুলনা : নগরীতে র‌্যাব-৬ এর অভিযানে অস্ত্র ব্যবসায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ দুইজন কে আটক করেছেন। আটকৃতরা হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসায়ী মোঃ মিরাজ মোল্লা (২৮) ও মো ঃ মাসুম সরদার (৩০)। এ সময় অপর আসামি আকাশ (২২) পালিয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর হাজী মহাসিন রোডে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করেন।
র‌্যাব-৬ জানায়, র‌্যাবের সিপিসি লেঃ কমান্ডার উপ-পরিচালক এ এমএম জাহিদুল কবীরের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি টিম উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তেরখাদা উপজেলা হাড়িখালি গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মোল্লার পুত্র মোঃ মিরাজ মোল্লা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মাসুম সরদারকে বিদেশী পিস্তল ম্যাগজিনসহ এক রাউন্ডগুলিসহ তাদেরকে হাতে নাতে আটক করেন। এছাড়া নগরীর পিটিআই মডার্ন ফার্ণিচার মোড়ে এলাকার বাসিন্দা আকাশ পালিয়ে যায়।
র‌্যাব-৬ জানায়, আসামি মোঃ মিরাজ মোল্লার নামে খুলনা সদর থানায় তিনটি মামলা রয়েছে যার মধ্যে একটি মামলায় তার ১৭ বছর সাজা হয়েছে। অপর আসামির বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় একাধিক মামলা আছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

খুলনা : নগরীতের র‌্যাব-৬ এর একটি টিম অভিযান চালিয়ে ১০৩ পিস ইয়াবাসহ দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে মোঃ ফিরোজ দেওয়ান (২৪) এবং মোঃ কবির দফাদার (৩২)। বৃহস্পতিবার দুপুরে আড়ংঘাটাথানাধীন আবু নাসের বাইপাস সড়কে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন।
র‌্যাব -৬ জানায়, র‌্যাবের সিপিসি স্পেশাল কমান্ডার মোঃ এনায়েত হোসেন মান্নান নেতৃত্বে একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় যশোর নাঠোর পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ বশির দেওয়ানের পুত্র মোঃ ফিরোজ দেওয়ান এবং একই জেলার ভগলপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত জব্বার দফাদারের পুত্র মোঃ কবির দফাদারকে ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় আটক করেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঝালকাঠিতে সুগন্ধা-বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশেহারা বাসীন্ধারা !

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর ভাঙনের মুখে পড়ে দিশেহারা ঝালকাঠি জেলার নদীর তীরভর্তি বাসীন্ধারা। আতংকেই কাটাচ্ছে দিনরাত। বর্ষার আগেই তীব্র নদী ভাঙ্গনে হতাশায় তারা ইতিমধ্যেই মাথা গোজার ঠাই খুচছে দরিদ্র পরিবার গুলো। গত কয়েকদিনে ঝালকাঠি সদর উপজেলার দিয়াকুলসহ নলছিটি পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া ও পুরানবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ভাঙ্গলের কবলে পরে।। গত কয়েক বছরে এখানকার অর্ধেকেরও বেশি অংশ নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। যার ফলে অনেক পরিবার সহায়সম্বল হারিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। আবার কেউ সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। এখন নতুন করে ভাঙনের আতংকে নদীর পাড়ে বসবাস করছেন আরও অনেক পরিবার। অপরদিকে রাজাপুর উপজেলার পালট, চল্লিশ কাওনিয়াসহবেশ কয়েকটি বিষখালী নদীর তীরভর্তি এলকায়দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন ।

এদিকে নলছিটি-দপদপিয়া রাস্তার মল্লিকপুর থেকে খোঁজাখালি এলাকার অংশটুকু নদীতে হারাতে চলছে। এখানে তীব্র ভাঙ্গন অব্যহত থাকায় নদী এখন রাস্তার কাছে চলে এসেছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে সিকদার পাড়ার ঐতিহ্যবাহী কাজী বাড়ির মসজিদটিও।

এ ব্যাপারে নলছিটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন আলো জানান, শিল্পমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কিছু এলাকায় ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিলো। তবে ভাঙনের তীব্রতা অনেক জায়গায় বেড়ে যায়। আসন্ন বর্ষার আগেই ভাঙন রোধে নতুন করে পদক্ষেপ প্রয়োজন । অনেকগুলো পরিবার আতংকের মধ্যে ঝুকি নিয়ে বসবাস করছে বলেন তিনি। অন্যদিকে রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির বলেন, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে উপজেলা পরিষদের কোন কার্যক্রম নাই । নদী ভাঙ্গলে কবলিত মানুষ খুব অসহায় তাদের আমারা যতটুক সম্ভাব সাহয্য করে আসছি। দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের এমপি সাহেব একটি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্ধেগ নিয়েছিলেন তা আর আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে পুণরায় ডিউ লেটার পাঠিয়েছে এবং সংসদে উপস্থান করবেন বলে এমপি মহোদয় বলছেন। আমরা দ্রুত নদী ভাঙ্গন রক্ষায় সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

খুলনায় স্কুল-কলেজর ছাত্ররা মাদক বিষে আক্রান্ত

কামরুল হোসেন মনি: মহানগরী খুলনার চাঁনমারী এলাকার বাসিন্দা মোঃ শরীফ (ছদ্মনাম)। তার প্রাইমারী স্কুল পড়ুয়া ছেলে সাব্বির (৯)। ছেলেকে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত বাবা-মা। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা ছেলেটি যেন আগের মতো নেই। সন্ধ্যা পেরিয়ে বাসায় ফেরে। ছেলের এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণ দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ নিয়ে শরীফ যা জানতে পারেন, রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো। ছেলে তার মাদকের মরণ নেশায় আসক্ত। প্রথমে সে ইয়াবা বহন করে এক জায়গায় পৌঁছে দিতো। এখন সে নিজেই ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। ছেলেকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে দেওয়া হয় মাদকাসক্ত চিকিৎসা কেন্দ্রে।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের অধীনে মহানগরীতে বেসরকারিভাবে ৬টি মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিরাময় কেন্দ্রে রয়েছে। এর বাইরে সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে একটি। একাধিক মাদকসক্ত চিকিৎসা নিরাময় প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে মাদকাসক্তদের মাদক গ্রহণের বিষয়ে নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। যারা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন তার ৮০ শতাংশই ইয়াবা আসক্ত। বাকীরা অন্যান্য মাদক সেবনে আসক্ত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনায় প্রায় ৪০ হাজারের ওপরে মাদকাসক্ত রয়েছে। এর মধ্যে মহানগরীতে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার। এখন নতুন করে ইয়াবা আসক্ত হচ্ছে প্রাইমারী স্কুল পড়–য়া ছাত্ররা। মাদকের বাজার ধরে রাখতে বিক্রেতারা এখন স্কুল-কলেজকে বেছে নিয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের স্কুলব্যাগে করে মাদক বহন ও বিক্রি করতে পারে। যে কারণে মাদক বিক্রেতাদের এখন প্রধান টার্গেট শিক্ষার্থীরা। মাদকের মধ্যে ইয়াবার সংখ্যা বেশি। এরপর রয়েছে ফেনসিডিল। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, চাকরিজীবী মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েছেন। একাধিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এ খবর জানা গেছে।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, ইয়াবা বিক্রেতা ধরতে খুব বেগ পেতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইয়াবা কাছে থাকার আলামত অভিযানে যাওয়ার আগেই ড্রেনে বাথরুমের ভেতর ফেলে দিচ্ছে। যার কারণে আলামত সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। অনেক ইয়াবা বিক্রেতা দোষ স্বীকার করায় তাদেরকেব ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বেসরকারিভাবে ৬টি লাইসেন্সধারী মাদকাসক্ত নিরাময় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া ৩টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছেন। এছাড়া সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে একটি।
কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এ এম কামরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের নজর এড়াতে মাদক বিক্রেতারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। আমাদের নগর ডিবির টিম দিন-রাত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন।
নগরীর শিপইয়ার্ড সানমুন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, দিনকে দিন মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অভিভাবকরা মাদকাসক্ত ছেলেকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে এখানে চিকিৎসা করাচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন তার মধ্যে ৮০ শতাংশই ইয়াবা আসক্ত। চিকিৎসা নিতে আসা স্কুলছাত্র, কলেজছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ রয়েছে। যারা আসক্ত হচ্ছেন তাদের মধ্যে নি¤œ ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা বেশি রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ জামাই রাজু ওরফে মাস্টার, ছোট রাজু, আউলিয়া সাগর, হামিদা (পলাতক), সরোয়ার, থ্রি স্টার নামে পরিচিতি জাহানারা, হোসনেয়ারা ও লুতু। এদের বিরুদ্ধে ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি করে। এরা একাধিকবার আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় এ ব্যবসায় ফিরে যান। উল্লেখ্য, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় ২০১৭ সালে ‘ক’ ও ‘খ’ এবং গোয়েন্দা বিভাগ মিলে ৯০৩টি অভিযান পরিচালনা করেন। যার মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় ৯২টি। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাদক থাকার অভিযোগে ২৮৫ জন মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। যার মধ্যে নিয়মিত মামলার সংখ্যা রয়েছে ১৯৩টি। গত এক বছরে ইয়াবা ৭ হাজার ৭৫৮ পিস, ফেনসিডিল ৩১৪ বোতল, গাঁজা ২৮ কেজি ৭৫০ গ্রাম, বিয়ার ১৪ ক্যান, হেরোইন ১১ দশমিক ৫ গ্রাম, চোলাই মদসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করেন। এছাড়া মাদক বিক্রির ৪১ হাজার টাকা জব্দ করেন।