কেসিসিতে নৌকার মাঝি তালুকদার আব্দুল খালেক

বিএনপি’র প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

খুলনা : সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি। রবিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনীত করেন। বৈঠকে থাকা খুলনার একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে খুলনার নেতাদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, মহানগর সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এমপি, নগর সহ-সভাপতি শেখ হায়দার আলী, মল্লিক আবিদ হোসেন কবির ছাড়াও মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য ৭ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ মে খুলনা সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন একাধিক নেতা। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছ থেকে মনোনয়ন কিনেছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন, নগর আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন, সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. সাইফুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগর সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী ও নগর যুবলীগের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান পপলু। কিন্তু মেয়র পদে আগ্রহ না থাকায় মনোনয়নপত্র ক্রয় করেননি আলোচনার শীর্ষে থাকা সাবেক মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। তবে সব নাটকীয়তা শেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তে আবারও মেয়র পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এদিকে খুলনা সিটিতে মেয়র পদে বিএনপির দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গতকাল রবিবার রাতে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান মেয়র ও নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপি সভাপতি শফিকুল আলম মনা এবং দলের সিদ্ধান্তে মনোনয়ন কেনা নগর সভাপতি ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বৈঠকের থাকা একাধিক নেতা জানান, মনোনয়নের বিষয়ে প্রার্থীরা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কেন্দ্রী কমিটির কাছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক কে বহন করবেন তার ঘোষণা আজ সোমবার সকাল ১১টায় দেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সর্বশেষ কেসিসির সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছিলেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮ ভোট।

গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রসহ নিহত ২ : আহত-৩০

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজ ছাত্রসহ ২জন নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০জন। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের চন্দ্রদীঘলিয়া পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রোববার সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুরে এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। গুরুতর আহত মর্জিনা বেগম (৪০) ও মন্টু শেখকে (৬০) আশংকা জনক অবস্থায় খুলনা পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জের গোপীনাথপুর পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের ফুড টেকনোলজি বিভাগের ২য় পর্বের ১ম সেমিস্টারের ছাত্র কাশিয়ানী উপজেলার তিলছাড়া গ্রামের আনিচ মোল্লার ছেলে আশিকুর রহমান রেজা (১৭) ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের রুকু মোল্লা (৬২)। আহতদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, মুকসুদপুর উপজেলার মমতাজ বেগম (৫০), হাসিনা বেগম (৫০), পারভেজ (২৫), ময়না (২৮), রীতা বেগম (৪২), কাশিয়ানীর রুনা বেগম (৩৫), মানতাসা বেগম (২০), কেরামত আলী সরদার (৪০), ফজর আলী (৬০), পটু (৩২), ছফেদা বেগম (৫৫), তন্দ্রা মনি (২১), সদর উপজেলার জামিরুর মোল্লা (৩৫), আলীম (৩৬), রিপন কাজী (২৫), মফিজুর রহমান (২৫), মর্জিনা (৪৫), লিটন মোল্লা (২৫), বাগেরহাটের ইসরাত (৩০) ও অজ্ঞাত (৪২)। আহত অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর গোপালগঞ্জ পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রথমে ওই সড়কের চন্দ্রদীঘলিয়ায় সড়ক অবরোধ করে। পরে তারা গোপীনাথপুরে সড়ক অবরোধ করে এবং বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিআরসেল নিক্ষেপ করে। ঘটনার পর থেকে ওই সড়কের দু’পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুপুর ৩টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলছিলো।
অপর দিকে বাসে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে দুপুর ১টা থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পুলিশ লাইন্স মোড়ে আগুন জালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বাস শ্রমিকরা।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো: মনিরুল ইসলাম জানান, ব্যাসপুর থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জগামী একটি লোকাল বাসের সাথে গোপীনাথপুরে ইট ভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি রাস্তার উপর উল্টে যায়। ঘটনাস্থলে বাসযাত্রী কলেজ ছাত্র রেজা মারা যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর রুকু মোল্লাকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দিতে পুলিশ চেষ্টা করছে।
গোপালগঞ্জের এএসপি (সার্কেল) মোঃ সানোয়ার হোসেন জানান, মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য বিক্ষুদ্ধ ছাত্র ও জনতার সাথে কথা বলছি। শ্রমিকদের সাথেও আলোাচনা চলছে। খুব দ্রুতই অবরোধ প্রত্যাহার হবে এবং যানবহন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।

পাবনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

ফারুক হোসেন,পাবনাঃ পাবনায় এক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আ’লীগ নেতার ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বিকেলে বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানাধীন জাতসাকীনি ইউনিয়নের নান্দিয়ারা গ্রামে। এ ব্যাপারে রোববার বিকেলে কমান্ডার মতিউর রহমান বাদী হয়ে আমিনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আমিনপুর থানা দেয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, এলাকায় ছোট স্কুল পড়–য়া বাচ্চাদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দের মিমাংসা করতে স্থানীয় সংসদ আজিজুর রহমান আরজু এমপি দায়িত্ব নেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার নগরবাড়ী বনিক সমিতির অফিসে উভয় পক্ষকে নিয়ে এক সালিশী বৈঠক ডাকেন। এদের এক পক্ষে থাকেন মুক্তিযোদ্ধ্া কমান্ডার মতিউর রহমান অপর পক্ষে থাকেন জাতসাকিনী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি রওশন আলম। সালীশে অপরাধীদের কান ধরে ক্ষমা চাওয়া ও ভবিষ্যতে এরকম না করার অঙ্গীকার করা হয়। কমান্ডার মতিউর রহমান তার অভিযোগে বলেন, নগরবাড়ী বনিক সমিতি অফিসে সালিশী বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে নগরবাড়ী মহ্সাড়কের পাশেই অবস্থিত তার বসত বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জাতসাকীনি ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি রওশন আলীর বড় ছেলে আল-আমিনের নেতৃত্বে তার দলবল নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায় । এ সময় বাড়িতে মহিলারা ব্যাতিত কেহ না থাকায় তারা হাসুয়া,রাম দা দিয়ে আমার ঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কমান্ডার মতিউর রহমানকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। এমনকি ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও তার মেয়ের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অপরদিকে ঐ একই সময়ে পার্শ্ববর্তী সবারতের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেন। এ সময় ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাংচুরসহ সবারতের স্ত্রী মাহেলা খাতুন এবং পুত্রবধু লাভলী খাতুনকে মারপিট করে আলমারী থেকে স্বর্ণের অলংকার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে আমিনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে রোববার কমান্ডার মতিউর রহমান বাদী হয়ে রওশনের ছেলে আল আমিনকে প্রধান আসামী করে ২২জনের বিরুদ্ধে আমিন পুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জাতসাকিনী ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি ফজলুল হক সাংবাদিকদের,ছোট বাচ্চাদের বিষয় নিয়ে এ ধরনের কর্মকান্ড কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না। বিষয়টি নিয়ে এমপি সাহেব মিমাংসা করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তারপরেও কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটল আমি জানি না।
এ ব্যাপারে আমিনপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ডুমুরিয়ায় অগ্নিকান্ডে ২ দোকান ভস্মিভুত

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ায় মশার কয়েল থেকে আগুন লেগে ২ দোকানের মালামাল পুড়ে আড়াই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে রোববার দিবাগত রাতে উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মোড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা মোড়ে দুইটি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে। ঘটনার রাতে ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম তার দোকান ঘরে মশার কয়েল জ্বালিয়ে রেখেছিল। ওই কয়েল থেকেই আগুন লেগে তার ব্যবসা প্রতিষ্টানসহ পাশের পার্থ ফার্মেসী নামে একটি ঔষধের দোকানও পুড়ে গেছে। আগুনে রফিকুলের দোকানে থাকা ভ্যান ও সাইকেলের পার্টসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা ও পার্থ ফার্মেসীর ঔষধ পুড়ে ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ নেয়।

তালার ইউপি সদস্য’র সহয়োগীতায় সরকারী গাছ কাটার অভিযোগ

সেলিম হায়দার, তালা: তালা উপজেলার খুলনা-পাইকগাছা সড়কের পাশের সরকারী গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। তবে, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে,তালা সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুল ইসলাম সহযোগীতায় একটি বাবলা গাছ কেটে বিক্রি করে দেয় যার মূল্য প্রায় ৪ হাজার টাকা। এছাড়া ৭ এপ্রিল ইউপি সদস্য’র ছত্রছায়ায় ভায়ড়া এলাকার আব্দুস সাত্তার গোলদার সরকারী রাস্তার ৭টি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা।এর আগে সরকারী রাস্তার গাছ কাটার অপরাধে আব্দুস সাত্তারকে আটক করে তালা থানা পুলিশ। প্রশাসনের সাথে দফারফা করে তাকে ছাড়িয়ে নেয় ঐ মেম্বর বলে জানান স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রবিবার (৮এপ্রিল) সকালে উপজেলার ভায়ড়া-শাহাপুর এলাকার খুলনা পাইকগাছা সড়কের রাস্তার পাশে লাগানো সরকারি একটি বাবলা গাছ কাটার কার্যক্রম চলছিল। রাস্তার পাশে গাছটি দুই শ্রমিক দিয়ে কাটা হচ্ছে। শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন,ইউপি মেম্বর ও তহশীলদার গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে। শ্রমিকরা জানান,গাছটি স্থানীয় ব্যাপারী রবিউল ইসলাম ৪ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেছে ভায়ড়া গ্রামের হায়দার আলীর কাছ থেকে।
এসময় স্থানীয় এক ব্যক্তি ইউপি সদস্য আসাদুলের কাছে মুঠো ফোনে ধরিয়ে দিলে তিনি বলেন,ভাই বিষয়টি চেপে যান। গাছ কাটার সময়ে তালা সদর ইউনিয়ন অফিসের তহশীলদার আব্দুল মজিদ বলেন,গাছ কাটার কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ঝালকাঠিতে অবৈধ ইটের পাঁজায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে অবৈধ ইটের পাজাঁর ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের টনক নড়েছে। শনিবার বিকাল থেকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো: হামিদুল হক এর নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের বিকনা এলকায় দুইটি ইটের পাঁজায় অভিযান চালিয়ে প্রায় লক্ষটাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিট্রেট মো: বশির গাজী। এরপর ঐ অসাধু অবৈধ ইটপাঁজা ব্যবসায়ীরা রাতেই পুর্নরায় ঐ ইটের পাঁজায় জ্বালানি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো শুরু করে। খবর পেয়ে রবিবার সকাল ১০টার দিকে পূর্ণরায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: বশির গাজী ঝালকাঠি ফায়ার র্সাভিস নিয়ে ঐ দুটি ইটের পাঁজায় পূর্নরায় অভিযান চালায় এসময় ঐ অসাধু ব্যবসায়ীদের না পেলেও ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ম্যানদের দিয়ে পানি দিয়ে ঐ অবৈধ পাঁজা দুটি ধ্বংস করে। এসময় দুটি ইটের পাঁজায় সংরক্ষিত মালামাল ও ঐ পাঁজায় কোনরকম প্রবেশ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমান আদালত। উল্লেখ্য চলতি মৌসুমে ঝালকাঠি জেলা জুড়ে প্রায় অর্ধশত অবৈধ ইটের পাঁজা ও ইটবাটা রয়েছে। ঐ ইটের বাটা ও পাঁজা গুলোতে হাজার হাজার মন জ্বালানি কাঠ দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইট। এতে চরম ভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। পাশা পাশী ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। রয়েছে পৌর এলাকা ও ঘনবসতি এলাকায়ও চলছে এ অবৈধ ইটের বাটা ও পাঁজা। এর নেপথ্যে রয়েছে,কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও ক্ষমতাশিন দলের সাইনবোর্ডধারী কয়েক নেতা। এ নেতারা ও অসাধু কর্মকর্তারা ঐ অবৈধ বাটা ও পাঁজা থেকে এল আর ফান্ড নামে ও নিজেদের পকেটভারী করতে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এক পর্যায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভে ফুঁেস উঠে প্রতিবাদ শুরু করে ও বেশ কয়েকটি মিডিয়ায় ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করায় জেলা প্রশাসনের কানে পানি যায়। এরপর শুরু হয় লোক দেখানো অভিযান। দুইটি পাঁজায় কঠোর অভিযান করলেও জেলা জুরে অবৈধ ইট বাটা ও পাঁজায় প্রাকাশ্যেই জ্বলছে আগুন।
এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা কারি বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: বশির গাজী বলেন,আমরা প্রতিনিয়তই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আসছি। ইভটিজিং ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরিকরা প্রতিষ্ঠান গুলোতে অভিযান চালাচ্ছি পাশা পাশী জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে অবৈধ ইট বাটা ও পাঁজায় অভিযান পরিচালনা করেছি। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরপর দুইদিন একই ইটের পাঁজায় অভিযান করলেও অন্য অবৈধ ইটের বাটা ও পাঁজায় কেন অভিযান হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন,পর্যায় ক্রমে প্রতিটা অবৈধ ইটের বাটা ও পাঁজায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কেশবপুরে হোসেন আলী আজ সাবলম্বি

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) : যশোরের কেশবপুরে সবজী ও সমলা জাতীয় মিশ্রচাষ করে উচ্চশিক্ষিত যুবক হোসেন আলী এখন সাবলম্বি হয়েছে।
জানাগেছে, উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আনছার আলী শেখের পূত্র হোসেন আলী শেখ ২০১৪ সালে এমএ পাশ করে চুকরীর জন্য চেষ্টা করেছে দীর্ঘদিন। সুবিধাজনক চাকুরী না পেয়ে হতাসার মধ্যদিয়ে অভিশপ্ত বেকার জীবন-যাপন করছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। সুন্দর অবিষ্যতের আশায় চুকুরীর পিছনে ঘুরে সময় নষ্ট না করে তিনি চাঁষের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কৃষি অফিস এবং এলাকার সফল কৃষকদের পরামর্শ নিয়ে তার পৈত্রিক ২৩ শতক জমিতে সবজী ও সমলা জাতীয় মিশ্রচাষ চাষ শুরু করেন। উত্তম রূপে চাষ দিয়ে ঐ ২৩ শতক জমিতে গত বছর মরিচ, হলুদ ও ওলের চাকির চাষ শুরু করেন। ভালোভাবে পরিচর্যা করে ঐ জমিতে ৫০ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ হলেও তিনি সবজীর আশানুরুপ ফলন পান। চলতি মৌসুমে ঐ জমি থেকে উৎপাদিত হলুদ বিক্রি করেছে ৬৩ হাজার টাকা ও ওলের চাকি বিক্রি করেছে ৮ হাজার টাকা। মরিচের ফলন অব্যহত রয়েছে এবং মরিচ ফলেছে থোকায় থোকায়। হোসেন আলী শেখের হিসাব মতে গতকাল পর্যন্ত ৮৮ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন তিনি এবং আগামীতে আনুমানিক আরো ৭০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সবজী ও সমলা জাতীয় মিশ্রচাষ করে অবিষ্যতে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে তিনি আশাবাদি। অধিক লাভের আশায় এই পদ্ধতিতে আরো জমিতে চাষের আওতায় আনতে আগ্রহী তিনি ।
এব্যাপরে হোসেন আলী শেখ জানান, লেখা-পড়া শিখে শুধু চাকরীর পিছনে ছুটে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে আমার মত সবজী ও সমলা জাতীয় মিশ্রচাষ করে সাবলম্বি হওয়ার জন্য বেকার যুবকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পেলেন সাড়ে ৪ শতাধিক মানুষ

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা : ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের আর্থিক সহযোগীতায় চোখের চিকিৎসা করিয়ে অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পেলেন সমাজের সুবিধা বঞ্চিত সাড়ে ৪ শতাধিক মানুষ। ঢাকা লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল ও খুলনা দিশা আই কেয়ার’র মাধ্যমে ৮ জানুয়ারী থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন, লেন্স সরবরাহ, ওষুধ ও সেবা দেয়ার পর শিশু হতে শুরু করে শত বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও এখন চোখে দেখতে পাচ্ছেন। ‘অন্ধত্ব প্রতিরোধ করুন’ শ্লোগানে গত ৩০ ডিসেম্বর বাগেরহাটে রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে দিনব্যাপী চক্ষু শিবির আয়োজন করেছিল ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। ওই চক্ষু শিবিরে মোংলা, রামপাল, ফকিরহাট, বাগেরহাট, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও দাকোপসহ আশপাশ উপজেলার ৫ হাজার ৩ শ রোগীকে চোখের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। চক্ষু শিবির থেকে ছানি, নেত্রনালী, মাংসবৃদ্ধি ও ট্যারিজম অপারেশনের জন্য প্রাথমিক ভাবে ৬শ ৬জন রোগীকে বাঁছাই করা হয়। বাঁছাইকৃত রোগীদের মধ্যদিয়ে ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের আর্থিক সহযোগীতায় ৪ শ ৫৬ জন রোগীকে ঢাকা লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল ও খুলনা দিশা আই কেয়ার’র মাধ্যমে ৮ জানুয়ারী হতে ৬ এপ্রিল’১৮ পর্যন্ত বিনামূল্যে অপারেশন, লেন্স সরবরাহ, ঔষধ ও সেবা দিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ্য করে রবিবার তাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বিএনপি নেতা ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে প্রতি বছর বাগেরহাট অঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য নিজস্ব অর্থায়ানে চক্ষ শিবিরের আয়োজন করে আসছি। আমার ব্যক্তি উদ্যোগের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি চক্ষু রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি ৪ হাজার ২শ রোগীর ছানি, নেত্রনালী, মাংসবৃদ্ধি ও ট্যারিজম অপারেশনের মাধ্যমে সুস্থ্য এবং অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। সেবাপ্রাপ্ত শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্মক্ষম নারী-পুরুষ রোগীরা তাদের সংসারে আয়-রোজগার করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারছেন। আর বৃদ্ধরাও আমৃত্যু চোখের আলোতে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, হত-দরিদ্র মানুষের পক্ষে ব্যয় বহুল চক্ষু চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। একটি ক্লাব কিংবা একজন ব্যক্তির পক্ষেও এত রোগীর প্রতি বছর অপারেশন করানো অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই সমাজের বৃত্তশালী মানুষের কাছে আমার অনুরোধ এই সেবা কার্যক্রমে আমাদের পাশে দাঁড়ান। এছাড়া অন্যান্য লায়ন্স এবং রোটারী কøাবের কাছেও আমার আবেদন বাগেরহাটের রামপাল-মোংলার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য কয়েকটি চক্ষু ক্যাম্প করার জন্য এগিয়ে আসবেন এবং যে যার অবস্থান থেকে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন।

বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ ব্যবসায়ী আটক

বাগেরহাট : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৬ কেজি গাঁজাসহ বাদশা মোল্লা(৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা(ডিবি) পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে রবিবার বেলা ১১টায় সেলমবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে আটক করেন। আটক বাদশা ছাপড়াখালী গ্রামের আহম্মদ মোল্লার ছেলে।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারি ডিবি পুলিশের এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক ব্যবসায়ী বাদশা চিটাগং থেকে গাঁজা’র একটি বড় চালান নিয়ে সড়ক পথে মোরেলগঞ্জে আসছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল ভোররাত থেকে কয়েকটি ঘাটে অবস্থান নেয়। আজ রবিবার বেলা  ১১টার দিকে সোলমবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওই চালানটি হাতবদলের প্রস্তুতিকালে বাদশাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তার কাছে পাওয়া যায় ৬ কেজি গাঁজা। যার স্থানীয় মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা।

বাদশা একজন পেশাদার ও পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে আরো মাদক মামলা রয়েছে। এই ঘটনায়ও মামলা দায়ের করা হয়েছে  বলে ডিবি পুলিশের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

খুলনায় ইয়াবাসহ আটক ১

খুলনা : খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় এর ‘খ’ সার্কেলের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবাসহ মোঃ হারুন অর রশিদ (৪৬) নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেন। রোববার রাত ৮টার দিকে খুলনার রূপসা উপজেলা নন্দনপুর ৮নং ওয়ার্ড থেকে তাকে আটক করেন।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্র মতে, সংস্থার উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামানের তত্ত্বাবধায়নে ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক মোঃ সাইফুর রহমান রানার নেতৃত্বে একটি টিম উক্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত জালাল উদ্দিন মোড়লের পুত্র হারুনুর অর রশিদকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।