খুলনায় ২৫শ’ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

খুলনা : খুলনায় ২৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিপ্লব @ বিক্রম শেখ (৫৫) ও মোকাররম হোসেন রিপন (৩৬) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বাড়ী বাগেরহাটের মংলা ও কচুয়া এলাকায়। সোমবার বিকালে খালিশপুর থানাধীন বাস্তুহারা কলোনী থেকে তাদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
কেএমপি’র অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ, এম কামরুল ইসলাম পিপিএম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যবসায়ী চক্রকে অনুসরণ করে আসছি। এই চক্রটি মহানগরীর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন কৌশলে বিভিন্ন রুটে ইয়াবা ট্যাবলেট এনে খুলনা এলাকায় পাইকারী ও খুচরাদরে বিক্রি করে থাকে। গত কয়েকদিন যাবৎ নানা কৌশলে এই চক্রটির গতিবিধি নজরদারী করা হচ্ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার সারাদিন অপেক্ষার পর এই চক্রের দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তারা মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তারা খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় মাদকদ্রব্য সরবরাহসহ বিক্রয় করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত আছে। তাদের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

মনি নয়, কেসিসিতে বিএনপি’রমেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

খুলনা : নানা নাটকীয়তা শেষে আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের নগর শাখার সভাপতি ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বেছে নিয়েছে। এর ফলে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন বর্তমান মেয়র ও দলের নগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি। এ নিয়ে খোদ দলের নেতাকর্মীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।সোমবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর আগে রোববার দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আসন্ন দুই সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপি। মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুধুমাত্র ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। বাকি নির্বাচনগুলোতে বরাবরই বিএনপি সমর্থিত মেয়র নির্বাচিত হয়ে আসছেন। সর্বশেষ ২০১৩ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেককে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির নগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি। এবারও ভাবা হচ্ছিল তিনিই ধানের শীষের মনোনয়ন পাচ্ছেন।
সূত্র আরও জানায়, গত নির্বাচনে ছাড় দিলেও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নগরে মেয়র প্রার্থী দাবি করে প্রচারণা করে আসছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রভাবশালী প্রার্থীর নাম ঘোষণা ও দলের নেতাকর্মীদের দ্বিধা বিভক্তির কথা চিন্তা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি কেসিসিতে মেয়র পদে লড়তে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নাম উত্থাপন করেন। বরাবরের মতোই মঞ্জু মেয়র পদে আগ্রহী নন বলে মনিকে সমর্থন দেন। তবুও শেষ মুহুর্তে নানা নাটকীয়তা শেষে নির্বাচনে জয়লাভ করতে বিএনপি তাদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেয়।
এ বিষয়ে বিএনপির নগর শাখার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এহতেশামুল হক শাওন বলেন, খুলনার বিএনপি নেতাকর্মীরা মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনিরুজ্জামান মনিকে চেয়েছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মোকাবেলার জন্য বিএনপি তাদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বেছে নিয়েছে। দলের সিদ্ধান্তে কর্মীরা সন্তুষ্ট। ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা কাজ করবো।
প্রসঙ্গত, নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনাঞ্চলের বিএনপির নিয়ন্ত্রক বলে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে লড়াই করে তিনি ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় তিনি এমপি পদে লড়তে পারেননি। ফলে প্রায় ৫ বছর ধরে তিনি দলের মতোই ক্ষমতার বাইরে রয়েছেন। বিএনপির একটি অংশ বলছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচন হওয়ায় বিএনপি তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে।

ফুলতলায় মাদক ব্যবসায়ী রাজা’র পায়ুপথ থেকে ইয়াবা উদ্ধারঃ ১ বছরের জেল

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ সোমবার রাত ৮টায় ফুলতলা বাজারের ভিআইপি মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজা (৪২) এর পায়ুপথ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের পর তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত । সে ফুলতলা হাজী মার্কেটের সত্ত্বাধিকারী আঃ গনি মোড়লের পুত্র ও মাদকের ৫ মামলার আসামী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার রাতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান ও এপিবিএন’র নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান আদালত ফুলতলা বাজারস্থ জনতা মোবাইল লিঙ্কে অভিযান চালায়। এ সময় আঃ গনি মোড়লের উপস্থিতিতে তার মাদক ব্যবসায়ী পুত্র মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজা’র দেহ তল্লাসীর এক পর্যায়ে তার পায়ুপথ থেকে ৫ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হলে ভ্রাম্যমান আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। প্রসংগতঃ আঃ রাজ্জাক রাজা মাদকের ৫ মামলার আসামী। ভ্রাম্যমান আদালত তাকে একাধিকবার সাজা প্রদান করলেও আদালত থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসে। অভিযানকালে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আবুল হোসেন, পরিদর্শক সাইফুর রহমান রানা, পারভীন আক্তার, এপিবিএস’র এসআই জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খুলনায় আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ইউপি সদস্য নিহত

খুলনা : খুলনার তেরখাদা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গোলাম মওলা (৫০) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত গোলাম মওলা তেরখাদা সদর ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন গোলাম মওলার দলের সমর্থক লিপি বেগম (৪৫), সোহেল শেখ (২৫), সাবিনা ইয়াসমিন (৪০) ও গোলাম মওলার মেঝ ছেলে খালিদ শেখ (২৫)। আহতরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আটালিয়া গ্রামের খামার বিল এলাকায় কৃষকলীগ নেতা ঝিলু মিয়া মুন্সী ও গোলাম মওলার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তাদের সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়াপাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেকুজ্জামান।
নিহত গোলাম মওলার মেঝ ছেলে খালিদ শেখ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কৃষকলীগ নেতা ঝিলু মিয়া মুন্সী ও আমার বাবার মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোমবার সকালে ঝিলু মিয়া মুন্সী রামদাসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার লোকজন নিয়ে আমার বাবাকে কুপিয়ে জখম করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

কেসিসিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত

খুলনা : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামও চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা ওয়ার্ড- ০১ শাহাদাৎ মিনা, ওয়ার্ড- ০২ মো. সাকিল আহমেদ, মাষ্টার আব্দুস সালাম, ওয়ার্ড- ০৪ মো. গোলাম রাব্বানী, ওয়ার্ড- ০৫ মো. হারুন অর রশিদ, ওয়ার্ড- ০৬ এস এম ওয়াজেদ আলী মজনু, ওয়ার্ড- ০৭ শেখ সেলিম আহমেদ, ওয়ার্ড- ০৮ মো. সাহিদুর রহমান, ওয়ার্ড- ০৯ মোল্লা হায়দার আলী, ওয়ার্ড- ১০ ডা. এস এম সায়েম মিয়া, ওয়ার্ড- ১১ মুন্সি আব্দুল ওয়াদুদ, ওয়ার্ড- ১২ মো. আসলাম খান মুরাদ, ওয়ার্ড- ১৩ এস এম খুরশীদ আলম টোনা, ওয়ার্ড- ১৪ (খালিশপুর) মো. শাহজাহান জমাদ্দার, ওয়ার্ড- ১৫ মো. আমিনুল ইসলাম মুনড়বা, ওয়ার্ড- ১৬ শেখ আবিদ উল্লাহ, ওয়ার্ড- ১৭ এস এম মনিরুজ্জামান সাগর, ওয়ার্ড- ১৮ টি এম আরিফ, ওয়ার্ড- ১৯ হাজী মো. মোতালেব মিয়া, ওয়ার্ড- ২০. চ. ম. মুজিবর রহমান, ওয়ার্ড নং-২১ শামছুজ্জামান মিয়া স্বপন, ওয়ার্ড নং-২২ কাজী আবুল কালাম আজাদ বিকু, ওয়ার্ড নং-২৩ বিরেন্দ্র নাথ ঘোষ, ওয়ার্ড নং-২৪ এ এন এম মাঈনুল ইসলাম নাসির, ওয়ার্ড- ২৫ আলী আকবর টিপু, ওয়ার্ড- ২৬ শেখ আব্দুল আজিজ, ওয়ার্ড নং-২৭ জেড এ মাহমুদ ডন, ওয়ার্ড নং-২৮ আজমল আহমেদ তপন, ওয়ার্ড নং-২৯ মো. সাইফুল ইসলাম, ওয়ার্ড নং-৩০ এস এম মোজ্জাফফ রশিদী রেজা, ওয়ার্ড নং-৩১ এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল।
সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা: সংরক্ষিত আসন- ০১ (ওয়ার্ড- ০১, ০২ ও ০৩) ফাতেমা তুজ জোহরা, সংরক্ষিত আসন- ০২ (ওয়ার্ড-০৪, ০৫ ও ১৬) সাহিদা বেগম, সংরক্ষিত আসন- ০৩ (ওয়ার্ড- ০৭, ০৮ ও ১০) রেহানা গাজী, সংরক্ষিত আসন- ০৪ (ওয়ার্ড ১১, ১২ ও ১৩) μমিক প্রার্থীর নাম ১ পারভীন আক্তার, সংরক্ষিত আসন- ০৫ (ওয়ার্ড- ০৯, ১৪ ও ১৫) তাসলিমা আক্তার লিমা, সংরক্ষিত আসন- ০৬ (ওয়ার্ড- ১৬, ১৭ ও ১৮) আমেনা হালিম বেবী, সংরক্ষিত আসন- ০৭ (ওয়ার্ড- ১৯, ২০, ২৫ ও ২৬) মাহমুদা বেগম, সংরক্ষিত আসন ০৮ (ওয়ার্ড- ২১, ২২, ২৩) হালিমা ইসলাম, সংরক্ষিত আসন- ০৯ (ওয়ার্ড ২৪, ২৭, ২৮) নিভানা পারভীন, সংরক্ষিত আসন- ১০ (ওয়ার্ড- ২৯, ৩০, ৩১) লুৎফুন নেছা লুৎফা।

মেয়র পদে তালুকদার খালেকের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

খুলনা : খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (কেসিসি) আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এমপির পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন-২০১৮ এর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলীর কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তালুকদার আব্দুল খালেকের ছোট ভাই আব্দুল জলিল তালুকদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সুজন আহমেদ। এই নিয়ে কেসিসির মেয়র পদে ছয়জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন।
এর আগে রোববার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তালুকদার আব্দুল খালেককে কেসিসি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে।
এর আগে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির পক্ষে বর্তমান মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, সিপিবি’র মিজানুর রহমান বাবু, জাতীয় পার্টির মোল্যা শওকত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক এবং জাতীয় পার্টির এসএম মুশফিকুর রহমান মুশফিক।

কেসিসি নির্বাচন নিয়ে কঠোর শেখ হাসিনা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে গেলে আজীবনের জন্য বহিষ্কার

খুলনা : আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কেউ যদি দলের প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কাজ করে তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার কঠোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন দলীয় প্রধান। রবিবার রাতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীর হিসেবে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি’র নাম ঘোষণার পর তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান। বৈঠকে অংশ নেওয়া নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মল্লিক আবিদ হোসেন কবির মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেককে বিজয়ী করতে হবে। কেউ যদি নৌকার বিপক্ষে কাজ করে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল টিম’র মাধ্যমে দল থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হবে। নির্বাচন মনিটরিং এর জন্য কেন্দ্র থেকে একাধিক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি সব কিছু দেখভাল করবে। প্রতিটি থানায় পৃথক কমিটি করে কাজ করতে হবে। যদি কারও বিরুদ্ধে বিরোধীতার অভিযোগ শোনা যায়, সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র জানায়, ১৯৫২ সালের ১ জুন বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার মল্লিকের বেড় গ্রামে জন্ম নেওয়া তালুকদার আবদুল খালেক ছাত্র অবস্থায় সম্পৃক্ত হন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। পরবর্তী সময়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সভাপতি তিনি। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত খুলনা পৌরসভার মহসিনাবাদ ইউনিয়নের কমিশনার হিসেবে জনপ্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বাগেরহাট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৬ সালে। ২০০৮ সালে কেসিসি নির্বাচনে অংশ নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৩ সালের নির্বাচনে ফের তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে প্রায় ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তালুকদার আব্দুল খালেক। ওই সময় বিভিন্ন ইস্যুর সাথে যুক্ত হয় দলীয় কোন্দলের বিষয়টি। এই পরাজয়ে কিছুটা সংক্ষুব্ধ হন তালুকদার আব্দুল খালেক। আর এ কারণেই মেয়র পদে নির্বাচনে অনিচ্ছা জন্ম নেয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাগেরহাট-৩ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি।
মূলত ওই সময় দলের কোন্দলে তালুকদার আব্দুল খালেকের পরাজিত হওয়ার বিষয়টি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসে। যার জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবছর কেসিসি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য সকল নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এমপি, নগর সহ-সভাপতি শেখ হায়দার আলী, মল্লিক আবিদ হোসেন কবিরসহ অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

রামপালে পবিত্র পাড়ের বিরুদ্ধে সরকারি ইট আত্মসাতের অভিযোগ

সুব্র ঢালী, রামপাল (বাগেরহাট) : রামপাল উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও হুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য পবিত্র পাড়ের বিরুদ্ধে সরকারী রাস্তার কাজে রাখা একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ইট রাতের অন্ধকারে নিজ বাড়ীতে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ইট আত্মসাতের ঘটনা তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে ২ এপ্রিল গভীর রাতে চাড়াখালী রাস্তার কাজে রাখা খান ব্রিক্স এর ইট মারুফের নসিমনে করে প্রায় দেড় হাজার ইট নিয়ে এসে বাড়ীতে রাখেন। বাড়ীতে এনে ওই ইট তিনি পুরাতন ইট দিয়ে ঢেকে রাখেন। এলাকাবাসী চোরাই ইট খুজতে গিয়ে পবিত্র মেম্বরের বাড়ীর বাগানের ভিতরে পুরাতন ইট দিয়ে নতুন ইট ঢেকে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান, সরকারী রাস্তার কাজের নতুন ইট মেম্বর না জানিয়ে আত্মসাত করেছেন। নসিমন চালক মারুফ রাতের বেলা মেম্বরের নির্দেশে ইট এনে মেম্বরের বাড়ীতে রাখেন বলে জন সম্মুখে স্বীকার করেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হায়দার আলী মেম্বরের বাড়িতে রাখা ইট তাদের বলে শনাক্ত করেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারি কর্মকর্তা শিরু খান ব্রীকস এর ওই ইট তাদের বলে দাবি করেন। অভিযোগ ওঠা ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা পবিত্র পাড়ের মুঠোফোনে ইট চুরির বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি গোনা বাজার ব্রীজ এলাকায় আছি। আপনাদের সাথে একটু কথা বলতে চাই, এই বলেই তিনি তার ব্যবহৃত ০১৯২৪-২১৬৯০১ মুঠোফোন বন্ধ করে রাখেন। এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদার জানান, বিষয়টি তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। ঘটনার বিষয় রামপাল থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়ে বলেন, বিষয়টি খোজ নিয়ে দেখছি।

ডুমুরিয়ার সাজিয়াড়া (মডেল) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে সাফল্য

ডুমুরিয়া(খুলনা)প্রতিনিধিঃ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ পাশের সাফল্যের পর সদ্য প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফলে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সাজিয়াড়া (মডেল) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১০জন ছাত্র- ছাত্রী ট্যালেন্টপুল ও সাধারন গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের সাজিয়াড়া (মডেল) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফলে ১৪ জন ছাত্র/ছাত্রী জিপিএ ৫, ২০ জন এ গ্রেড সহ পরীক্ষায় অংশ
গ্রহনকারী ৫৭ জন ছাত্র/ছাত্রী সকলেই পাশ করে শতভাগ পাশের সফলতা অর্জন করে। গত ৩ এপ্রিল ঘোষিত বৃত্তির ফলাফলে জিপিএ ৫ পাওয়া ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে ৭ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৩ জন সাধারন গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া ছাত্র/ছাত্রীরা হলো শেখ আশরাফুল,জি,এম মাসুদ রানা,মোঃ এহসানুল হক আবির,রশনী তরফদার,শ্রাবনী হালদার,মহুয়া রায় ও প্রমা রাহা। সাধারন গ্রেডে বৃত্তি প্রাপ্তরা হলো নয়ন কুন্ডু,তিশা রায় ও সানজিদা সিদ্দিকা স্বর্না। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ১৯৪২ সালে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া বাস স্ট্যান্ড হতে উত্তর দিকে আনুমানিক তিন শত গজ দূরে ফুটবল খেলার মাঠের পূর্বপাশে বিদ্যালয়টি অব¯িহত। বলতে গেলে তৎকালীন অজপাড়া গাঁয়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির শিক্ষার মান উন্নয়নে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রী করনের ফলে আশির দশকে উপজেলা পরিষদ গঠিত হওয়ার পর এবং বিদ্যালয়টি উপজেলা পরিষদের সন্নিকটে হওয়ায় বিদ্যালয়টির গুরুত্ব বেড়ে গেছে অনেক। শুরুতে বিদ্যালয়টি এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টির জন্যে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টির চিত্র ভিন্ন। উপজেলা সদরে বহিরাগত হিসেবে বসবাসকারি, সরকারি-বেসরকারি সহ বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ীদের ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়টিতে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা করছে। দক্ষ শিক্ষক দ্বারা পাঠদান ব্যব¯হাপনা, পরীক্ষার ফলাফল সহ সার্বিক ব্যব¯হাপনায় সরকারি ভাবে বিদ্যালয়টি ‘মডেল স্কুল’ হিসেবে স্বীকৃতি। শিক্ষার মান্নোনয়ে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে শিক্ষার্থীদের জন্যে যা যা উপকরন প্রয়োজন তার সব কিছু প্রায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমিতে চারিপাশে পাচিল দ্বারা পরিবেষ্টিত একতলা ভবনে পাঠ দানের জন্যে বেশ কয়েকটি শ্রেনি কক্ষ, প্রধান ও সহকারি শিক্ষকদের জন্যে রয়েছে আলাদা রুম। এছাড়া লাইব্রেরী, স্টোর রুম, ক¤িপউটর ল্যাব সহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্যে রয়েছে আলাদা পয়: নিষ্কাষন ব্যব¯হা। সামনে রয়েছে খেলার মাঠ। বিদ্যয়লয়ের সু-সজ্জিত কক্ষে শোভা পাচ্ছে আসবাবপত্র ও দেয়ালে লেখা রয়েছে নৈতিকতা ও উপদেশ মূলক বানী যা শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। রয়েছে বিভিন্ন রকমের দেয়ালিকা যা শিশু শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে। রয়েছে দু¯হ অসহায় মানুষের সহযোগিতার জন্যে মহানুভবতার দেয়াল। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সততা শিক্ষার জন্যে খোলা হয়েছে ‘সততা স্টোর। কোন পরিচালক ছাড়া পরিচালিত ওই স্টোর থেকে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরন নির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করে টাকা একটি নির্দিষ্ট বক্সে পরিশোধ করে নিজেদের মধ্যে সততা শিক্ষা গ্রহন করে। জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম মোড়ল তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিদ্যালয়টি মডেল স্কুল ঘোষিত হওয়ার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো তেমন বাড়েনি।যার ফলে আশির দশকে নির্মিত টিনশেড ঘরেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিদারুন কষ্টে ক্লাস চালাতে হয়। ক্লাস রুমের সংকটের সমাধানের পাশাপাশি স্কুলে সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে মিড ডে মিল চালু সহ শিক্ষার মান্নোনয়নে তারা আরো গুরুত্ব পূর্ন রাখতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সব শেষে তিনি স্কুল পরিচালনায় সহযোগিতার জন্যে শিক্ষা বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন,স্কুলের শিক্ষক মন্ডলী,ম্যানেজিং কমিটি ও সাধারন অভিভাবক,কোমল মতি শিশু শিক্ষার্থী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

গাড়ী আমদানী করে বিশেষ অবদান রাখায় রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সম্মাননা পেলেন হক্স বে অটোমোবাইলস লি:

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা : ৯০ দশনের পর থেকে মৃত প্রায় ও লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া বর্তমানে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য মোংলা বন্দরের গতি ফিরেছিল মুলত গাড়ী আমদানীর মধ্যদিয়ে। সে সময়ে ধারাবাহিকভাবে লোকসান গুনতে গুনতে পুরোপুরি বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়া এ বন্দরের গতিশীলতার পালে হাওয়া ধরিয়ে ক্রমান্বয়ে কর্মমুখর করে তুলেছিল একমাত্র রিকন্ডিশন গাড়ী আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান হক্স বে অটোমোবাইলস লি:। আর এ বন্দর ব্যবহার করে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরুপ সেই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধর হক্স বে অটোমোবাইলস লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হককে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেয়া হলো বিশেষ সম্মননা। গত বুধবার মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৬৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আবদুল হকের হাতে এ সম্মাননতা তুলে দেন। এ সময় নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান উপস্থিত ছিলেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান বলেন, বন্দরের উন্নয়নে যে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিশেষ কোন ভূমিকা পালন করলে তার প্রতিদান স্বরুপ বন্দরও তাদেরকে বিভিন্নভাবে সম্মানিত করা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে। এতে বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি আমদানী-রপ্তানীকারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও উৎসাহিত হবেন। হক্স বে অটোমোবাইলস লি:এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হক বলেন, রাষ্ট্র কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে যে কোন ধরণের স্বীকৃতি সর্বসাধারণের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। এ ধরণের সম্মাননা ও স্বীকৃতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যৎতে ব্যবসায়ীরা সৃষ্টিশীল কাজে এগিয়ে আসবেন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিশেষ করে ৯০ এর দশকে এসে মোংলা বন্দর কর্মহীন ও অচল হয়ে পড়ে। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলের নৌ মন্ত্রী এ বন্দরকে মৃত ঘোড়া বলে আখ্যায়িত করে এ বন্দরের সকল উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে দেন। এরপর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোংলা বন্দরকে গতিশীল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বন্দরের জট কমাতে মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ী আমদানীর উদ্যোগ নেয়া হয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবাণে সাড়া দিয়ে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকা সত্বেও হক্স বে অটোমোবাইলস মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ী আমদানীর সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০৯ সালের ৩ জুন জাপান থেকে আমদানী করা ২৫৬টি গাড়ী নিয়ে বিদেশী জাহাজ এম,ভি এস্ট্রেলা এর্টানা মোংলা বন্দরে ভিড়ে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছরে মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ী আমদানী হয়েছে ৯২ হাজার ৫শ ৫৭টি। এ খাত থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১শ ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ৭শ ৬৬টাকা। আর এ কৃতিত্বের অংশীদার হক্স বে অটোমোবাইলস লি:।