আল্পনার কাজে শিল্পী ফারিন বুশরার ব্যস্ত সময় পার

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : দীর্ঘ একটি বছর পেরিয়ে আমাদের মাঝে আবার আসছে প্রাণের উৎসব, রঙের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আগামী শনিবার পুরনো সব পিছনে ফেলে নতুন কেতন উড়িয়ে শুরু হবে আরেকটি বছর। গত বারের মতই নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা ভোজ, গ্রামীন খেলাধূলা, ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা। বর্ষবরণ উৎসবকে রঙিন করতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত কর্মসূচিতে এবার যোগ হয়েছে আল্পনা অঙ্কন। যা এর আগে কখনো ছিল না। আল্পনার মাধ্যমে পহেলা বৈশাখের এবারের বর্ষবরণ উৎসব বিগত যে কোন বছরের চেয়ে রঙিন করে তুলবে বলে ধারণা করছেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ। আল্পনার এ দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে নর্থওয়ের্ষ্টান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্রী ফারিন বুশরাকে। দায়িত্ব অর্পনের পর হতে আল্পনার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে অঙ্কন শিল্পী ফারিন। পহেলা বৈশাখের প্রতিটি জিনিসপত্র নিপুন কারুকাজ করার মাধ্যমে বাঙালীর ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলতে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আল্পনার কাজ করছে ফারিন। ফারিন বুশরা পাইকগাছা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড বাতিখালী গ্রামের খায়রুল আলম এর মেয়ে, মা আফরা নাজলীন। দুই ভাই বোনের মধ্যে ফারিন বড়। সে ২০১৪ সালে পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৬ সালে পাইকগাছা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বর্তমানে খুলনা নর্থওয়ের্ষ্টান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে অধ্যায়নরত রয়েছে। ফারিন কোন প্রশিক্ষণ ছাড়ায় শিশু বয়স থেকেই অঙ্কনের কাজ করে আসছে। এখনো সে শখ হিসাবে অঙ্কনের কাজ অব্যাহত রেখেছে। তবে ভবিষ্যতে নিজের তৈরি জিনিস দিয়ে একটি বুটিক্স হাউস করার তার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে হাতের সেলাই, ব্লক বটিক্স, কাপড়ে রং, জামার ডিজাইন ও ব্যাগের কাজ সহ তার তৈরি ও কাজ করার জিনিসপত্র ইতোমধ্যে দুহিতা ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিক্রি করা শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে এলাকার শিক্ষিত বেকার নারীদের আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সাবলম্বী করে তুলতে চাই বলে জানিয়েছেন অঙ্কন শিল্পী ফারিন।

ডুমুরিয়ায় ঘের ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ার পল্লীতে ঘের ব্যবসায়ী আজিজ মোড়লের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। থানা পুলিশ গত সোমবার রাতে উপজেলার পশ্চিম শোভনার একটি বিলের ভিতরে থেকে মৃত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধোর করে মর্গে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার খর্ণিয়া গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী আজিজ মোড়ল (৪৮) প্রতি দিনের ন্যায় গত সোমবার বিকেলে পশ্চিম শোভনা গ্রামের মোল্যা বাড়ির নিচে তার মৎস্য ঘেরে যান। এরপর সন্ধ্যায় ঘেরের ভিতরে ধান ক্ষেতে স্থানীয় লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার ও সুরোতহাল রির্পোট শেষে মর্গে প্রেরণ করে। খর্ণিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার জানান, লোকে বলাবলি করছে আজিজ মোড়ল বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মারা গেছে। কিন্তু ধান ক্ষেতের ভিতরে লাশটি যেখানে পড়ে ছিল, তার আশপাশ কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ দেখা যায়নি। মৃত্যুর এ ঘটনাটি রহস্যজনক। ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ হাবিল হোসেন জানান, লাশের সুরোতহাল রির্পোটে তার দুই হাত পুড়ে গেছে বলে মনে হয়েছে। তবে কি কারণে মারা গেছে মেডিক্যাল রির্পোট না পাওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

হিলি রেলস্টেশন পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিদর্শক

সোহেল রানা,হিলি (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় হিলি রেলষ্টেশন ক্লোজিং ডাউন প্রত্যাহরের বিষয়ে স্টেশন পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিদর্শক (জিআই বি আর) খন্দকার শহিদুল ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ৩ টায় তিনি হিলি রেল স্টেশন পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে তার সাথে ছিলেন রেলওয়ের্র রাজশাহী বিভাগীয় বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ সমন্বয়ে ৪০ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

পরিদর্শনে এসে তিনি হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময়কালে তিনি হিলি রেলস্টেশন ক্লোজিং ডাউন প্রত্যাহরসহ দ্রুত স্টেশন মাস্টার ও লোকবল নিয়োগ দিয়ে স্টেশনটি চালু করার ব্যাপারে তিনি আশ্বস্থ করেন।

কোটা সংস্কারের দাবিতে খুলনায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

খুলনা : সরকারি চাকুরীতে কোটা প্রথা সংস্কারের দাবিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও সমাবেশের পর নগরীর শিববাড়ি মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিববাড়ি মোড় এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কুয়েটের শিক্ষার্থীরা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে বেলা দেড়টা থেকে এবং খুবির শিক্ষার্থীরা বেলা আড়াইটা থেকে তাদের ক্যাম্পাসের হাদি চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করছে। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিকাল ৫টা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি পালনের পর নগরীর শিববাড়ি মোড়ে অবস্থান নেয়।
আন্দোলনরত কুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মাহমুদুল আল মাসুদ বলেন, সোমবার সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। যে কারণে আমরা রাজপথে নেমেছি।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মো. মমতাজুল হক বলেন, আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালনের জন্য বলেছি। পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

এমপি পদ ছাড়লেন তালুকদার খালেক

খুলনা : আসন্ন খুলনা সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তালুকদার আবদুল খালেক। মঙ্গলবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে পত্রযোগে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। সংসদকে এ কথা জানিয়েছেন স্পিকার নিজেই।
স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক সংবিধানের ৬৭ (২) অনুচ্ছেদের অনুযায়ী ১০ এপ্রিল বিকেলে আমার কাছে তার স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি। তাই আজ ১০ এপ্রিল বিকেল থেকে তার আসনটি শূন্য হয়েছে। আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টি কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৮ (৩) উপবিধি অনুযায়ী এই সংসদকে অবহিত করা হলো।
এর আগে সোমবার স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে দু’একদিনের মধ্যে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছিলেন তালুকদার আব্দুল খালেক। তালুকদার আব্দুল খালেক ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালে বাগেরহাট-৩ থেকে পুনরায় নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে খুলনা সিটি করপোরেশনে মেয়র হিসেবে জয় লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে তাকে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলাম, এজন্য আমাকে ভোট দিবে

খুলনা : খুলনা শহরের মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলাম এবং নগরবাসী সবসময় দেখেছেন এজন্যই জনগন আমাকে ভোট দিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত করবেন বলে মন্তব্য করেছেন নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আসন্ন কেসিসি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর মঙ্গলবার এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন।
সাবেক এমপি মঞ্জু বলেন, আমি নির্বাচিত হলে বিদ্যমান ও দৃশ্যমান সমস্যা নিয়ে কাজ করবো। সরকারি অর্থায়ন ছাড়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অসম্ভব। আর তাই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করার পর তা করতে না পারা কেউ ভালোভাবে নেয় না। নাগরিক তাদের দেওয়া অর্থের নিশ্চিত ব্যবহার দেখতে চান। তাই নগরবাসীর অর্থে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান জরুরি।
তিনি আরও বলেন, খুলনা বাংলাদেশের একটি বৃহত্তর শহর এবং একটি শিল্প বন্দর। এ শহরের মানুষ নাগরিক সুবিধা চান। রাস্তাঘাট উন্নয়নের পাশাপাশি বসতির উন্নয়ন, ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতার উন্নয়ন চান নগরবাসী। আর সেটির জন্য তারা হোল্ডিং ট্যাক্স এবং বিভিন্ন ধরনের উৎস থেকে অর্থ দিয়ে থাকেন। এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার ও নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হলো কিনা সেটি দেখতে চান নগরবাসী। আমি মনে করি এ কাজটি মুখ্য। আকাশকুসুম কোনও কিছু না দেখিয়ে খুব বেশি উচ্চাশা প্রকাশ না করে নগরের বিদ্যমান সমস্যা নিয়েই কাজ করতে হবে এবং সে ব্যাপারেই আমার আগ্রহ। আমি আমার নির্বাচনি প্রচারণায় এগুলোকেই সামনে নিয়ে আসবো।
নগর বিএনপি সভাপতি বলেন, যানজটমুক্ত শহর দরকার, নিরাপত্তা দরকার, সড়ক ব্যবস্থা যাতে ভালো থাকে, মানুষের যেন কষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাবো। এছাড়া রাস্তাঘাটের আবর্জনা পরিষ্কার করা মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা সরিয়ে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা, রাস্তাঘাটে বাতি আছে কিনা তা, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা এসব বিষয়কে আমি সামনে নিয়ে আসবো। এসব বিষয় নিয়েই ভাবছি। সবশেষ তিনি বলেন, এ শহরের মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলাম এবং নগরবাসী সবসময় দেখেছেন আমি তাদের নিয়েই ভাবি। বিভিন্ন সঙ্কটে মানুষের সেবায় এগিয়ে গিয়েছি। আর সে কারণেই মানুষ আমাকে নির্বাচিত করবে।
প্রসঙ্গত, খুলনা বিএনপিতে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেকের মুখোমুখি হননি। ২০০৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলের ভরাডুবি হলেও তিনি খুলনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বয়কট করলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। মেয়র পদে আগ্রহ না থাকার পরও তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে এবছর নির্বাচন করছেন।

বিশেষ সাক্ষাৎকারে আ’লীগ প্রার্থী তালুকদার আ: খালেক

উন্নয়নের জন্য মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে

খুলনা : খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাকে আরও তরান্বিত করতে খুলনার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে আমি কতটা কাজ করেছিলাম, আর পরের মেয়র কী করেছেন, সেটি এখন তুলনা করতে পারবে মানুষ। মঙ্গলবার এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ প্রতিবেদককে কথাগুলো বলেন তিনি।
এর প্রশ্নের জবাবে তালুকদার খালেক বলেন, পাঁচ বছর আগের পরিণতি হবে না বলে তিনি আশাবাদী। বলেন, আমি শতভাগ আশাবাদী। কারণ, খুলনার মানুষ এখন তুলনা করতে পারবে। আমি পাঁচ বছর মেয়র ছিলাম। আমার পরে আরেকজন মেয়র হয়েছিলেন। তিনি কতটুকু কাজ করছেন তা এখন মানুষ জানে। আমি মনে করি মানুষ উন্নয়নের পক্ষে। উন্নয়নের জন্য তাঁরা আমাকে ভোট দেবে।
নগর আ’লীগ সভাপতি বলেন, নেত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশী ও মহানগর এবং জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত সকলেই আমাকে সমর্থন করেন। নেত্রী তখন বললেন, সবাই যখন একজনকে সমর্থন দিয়েছেন তখন মনোনয়ন বোর্ড তাকেই মনোনয়ন দেব।
পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে দলের ভেতরে একাংশের বিরোধিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রার্থী যতই জনপ্রিয় থাকুন না কেন, কিন্তু দলীয় কোন্দল থাকলে, নেতাকর্মীরা ঠিকমতো কাজ না করলে প্রার্থীর বিজয় নাও হতে পারে। কিন্তু এবার সকলেই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। নেত্রীর সামনেই তাঁরা কথা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, খুলনা সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে গত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন তালুকদার আব্দুল খালেক। ২০০৮ সালে মহানগরে মেয়র নির্বাচিত হলেও ২০১৩ সালে তিনি হেরে যান বড় ব্যবধানে। তবে মেয়র থাকাকালে পাঁচ বছরে তিনি খুলনার চেহারাই অনেকটা পাল্টে দিয়েছিলেন। উন্নয়ন নিয়ে তেমন ক্ষোভ না থাকলেও অন্যান্য নানা সমীকরণ আর দলের একাংশের বিরোধিতায় হারতে হয় তাকে। ওই নির্বাচনে হারার পর ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ (মংলা-রামপাল) আসনে সহজ জয় পান খালেক। সেই সদস্যপদ ছাড়িয়ে তাকে মেয়র পদে ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। পাঁচ বছর আগে ৬০ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন। এখন কোন ভরসায় সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে খুলনায় আবার নির্বাচন করতে আসছেন-সেই একটি বড় প্রশ্ন।
২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খুলনার মেয়র হিসেবে মহানগরে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বড় কোনো অভিযোগ না থাকলেও দলের একটি অংশের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। আর ২০১৩ সালের নির্বাচনে দলের ওই অংশের নীরব বিরোধিতায় খালেক হেরে গিয়েছিলেন বলে প্রচার আছে। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। খুলনা আওয়ামী লীগ সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে খালেককে মনোনয়ন দেয়ার প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠায়। আর দলের মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দেয়া নেতাদের বেশিরভাগই মত দেন, খুলনায় জিততে হলে তালুকদার আব্দুল খালেককেই দরকার।

কুয়েট শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দিনে ক্লাস বর্জনঃ বিক্ষোভ মিছিল

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা) প্রতিনিধিঃ সরকারি চাকরিতে কোটা সংষ্কার ও শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী আন্দোলন কর্মসুচির অংশ হিসাবে  মঙ্গলবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুয়েট) শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনে ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলে ও সমাবেশ করেছে। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাহিরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ প্রধান ফটকে তালা দিয়ে তাদেকে আটকে দেয়।
সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ১০টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েল ফেয়ার সেন্টারের সামনে জড়ো হতে থাকে । পরে সকাল সোয়া ১০ টায় কয়েকশত ছাত্র হাতে দাবী সম্বলিত প্লাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে প্রশাসনিক ভবন হয়ে দুর্বার বাংলার সামনে এসে শেষ করে বেলা ১১টা পর্যন্ত তারা মানববন্ধন করে। পরে স্টুডেন্ট ওয়েল ফেয়ার সেন্টারের সামনে ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত এক ঘন্টা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তৃতা করেন জামাল. রুবেল, নিবিড়. আকিবসহ শিক্ষার্থীরা । এ সয়ম শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তাদের দাবী মেনে নেওয়া না হলে তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন রেখে ঢাকা চলো কর্মসুচিতে অংশ নিবেন। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা মিছিল সহকারে ক্যাম্পাসের বাহিরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ প্রধান ফটকে তালা দিয়ে তাদেরকে আটকে দেয়। পরে তারা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরের এসে জমায়েত হয়।

ফুলতলায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ইসলামী ব্যাংকের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ফুলতলা শাখা পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের সদস্যদের মেধাবী সন্তানদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ২০১৮ মঙ্গলবার বিকালে শাখা কার্যালয়ে ব্যাবস্থাপক মোঃ ইফতেখার হোসেন আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন ম্যানেজার অপারেশনস মোঃ আলমগীর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ গোলাম কিবরিয়া। আব্দুল্লাহ আল মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন আরডিএস প্রোজেক্ট ইনচার্জ মোঃ জহুরুল ইসলাম, অভিভাবক লিপি কর, শেখ জাহাঙ্গীর আলম, মেধাবী শিক্ষার্থী তিন্নী খাতুন ও মোঃ জাকারিয়া। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামসুল আলম খোকন, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ আবু জাফর, মুতাসিম বিল্লাহ, মোঃ সাইফুল ইসলাম, রাবেয়া খাতুন, সুমাইয়া খাতুন প্রমুখ। প্রধান অতিথি ইসলামী ব্যাংকের সামাজিক কল্যাণকর কর্মকান্ড ও শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, মেধা বিকাশে দারিদ্রতা কোন সমস্যা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আত্মপ্রত্যয় নিয়েই কাঙিত লক্ষ্যে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির মেধাবী ১৪৬ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল,ছাতাসহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

দাকোপে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বারলিপি প্রদান

দাকোপ প্রতিনিধি : দাকোপ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ৩০ ভাগ কোটা পদ্ধতি বহাল রাখার দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাওলাদ হোসেনের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধারা দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলমের মাধ্যমে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের গনস্বাক্ষরকৃত স্বারকলিপিতে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, আপনার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র কন্যা নাতী নাতনী পৌত্র পৌত্রীদের জন্য সংরক্ষিত ৩০% কোটা বরাদ্দ করেছেন। যে কারনে মুক্তিযোদ্ধারা আপনার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। বর্তমানে কিছু অপশক্তি সেই কোটা বাতিলের দাবীতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বারকলিপিতে সকল অপচেষ্টা প্রতিহত করে বরাদ্দকৃত কোটা বহাল রাখার দাবী জানানো হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা বিধান রায়, আব্দুল ওয়াহেদ গাজী, ইউছুফ সানা, মোজাম্মেল হক, পিযুষ কান্তি মন্ডল, দেবানন্দ মন্ডল প্রমুখ।