খুলনায় ২শ’ শয্যা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র হচ্ছে

কামরুল হোসেন মনি : খুলনায় মাদকাসক্ত বাড়লেও, বাড়েনি সরকারিভাবে পরিচালিত নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা। রয়েছে জনবল ও অর্থ সঙ্কট। এই সুযোগে বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোয় যথেচ্ছভাবে সেবা দেওয়া হয়। নিরাময় নামে রোগীদের মারধর, আটকে রেখে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যায় এদের বিরুদ্ধে। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে খুলনায় ২ একর জমির ওপর ২শ’ শয্যা মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আবুল হোসেন বলেন, খুলনায় ২ একর জমির ওপর ২শ’ শয্যা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই খুলনায় ২ একর একটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই জমির কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় থেকে আরও ২ একর জমি দেখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। নিরাময় কেন্দ্রের পাশাপাশি পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছেন। জমির বিষয়টি চূড়ান্ত হলেই একনেকে পাস হওয়ার অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেন, বেসরকারিভাবে পরিচালিত মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যে সব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চিকিৎসক থাকছে না, সেসব প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হচ্ছে।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, খুলনার খুলনা-সাতক্ষীরা রোডে বটিয়াঘাটা মৌজায় প্রাথমিকভাবে ২ একর জমি সিলেকশন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জমিটি পছন্দ হলেই জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বলেন, ওই জমির ওপর ২শ’ শয্যা ও চিকিৎসকদের আবাসিক ভবনসহ নানা পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে খুলনায় সরকারি নিরাময় কেন্দ্রটি ৫ বেড থেকে ২৫ বেডে উন্নীত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মাদকাসক্তরা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অভাবে আলোর পথে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন না। তারা পথ হারিয়ে জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধে।
খুলনায় সরকারিভাবে পরিচালিত নিরাময় কেন্দ্র এর চিকিৎসক ডাঃ তড়িৎ কান্তি ঘোষ সোমবার এ প্রতিবেদককে বলেন, দুইটি পেইং বেড ও তিনটি সাধারণ বেড নিয়ে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে। দিনকে দিন রোগীর চাপও বেড়েছে, সে হিসেবে বাড়েনি শয্যা সংখ্যা। এসব দিক বিবেচনা করেই সরকার খুলনায় ২৫ বেড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি ৪ একর জমির ওপরে ৫০ শয্যা নিরাময় কেন্দ্র হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার এমন সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরেছি। ইতোমধ্যে নগরীর সিটি কর্পোরেশন এলাকার জিরোপয়েন্ট এর আশপাশে ২ একর জমির সিলেকশন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন আরও ২ একর জায়াগা দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে রোগীদের ভর্তির ক্ষেত্রে পেইং বেডের জন্য প্রতিদিন ৭২ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া সাধারণ বেডের রোগীদের জন্য কোন টাকা পয়সা নেওয়া হয় না। শুধু ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫শ’ টাকা ও চুল-দাড়ি কাটানোর জন্য মাসিক ২শ’ টাকা নেওয়া হচ্ছে। রোগীর দ্বারা কোন ক্ষতিসাধন না হলে যাওয়ার সময় ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। ২৫ বেডের জন্য আপাতত বাড়ি খোঁজাখুঁজি চলছে, অনেকে ভাড়া দিতে চায় না। আবার পেলেও ভাড়া বেশি হওয়ায় তা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, ১৯৯০ সালে ভাড়া বাসাতে সরকারিভাবে ৫ শয্যার খুলনায় আঞ্চলিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে চিকিৎসক না থাকায় এ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করা হয়। বর্তমানে জনবল সঙ্কটের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি। মাত্র ২১ জনের বিপরীতে জনবল রয়েছে মাত্র ১১ জন। এর মধ্যে চিকিৎসক একজন, তিনজন নার্স, ওয়ার্ড বয় ২ জন, সহকারী বাবুর্চি ১ জন ও পরিচ্ছন্ন কর্মী ১ জন।
সূত্র মতে, খুলনায় সরকার অনুমোদিত বেসরকারিভাবে ৬টি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আরও ৩টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছেন। ওই সব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকা, নিরাময় নামে রোগীদের মারধর, আটক রেখে টাকা আদায়সহ নানান অভিযোগের বিষয় শোনা যায়।