মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ গাড়াখোলা হাই স্কুলের সভাপতি নির্বাচিতঃ অভিনন্দন

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ফুলতলার গাড়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পুণঃরায় নির্বাচিত হওয়ায় এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ গাজী মারুফুল কবির, সম্পাদক বিমান নন্দী, ফুলতলা রি-ইউনিয়ন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী, প্রধান শিক্ষক প্রেমচাঁদ দাস, তাপস কুমার বিশ্বাস, প্রেস ক্লাব ফুলতলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেকেন্দার আলী রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সম্পাদক প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম, গাড়াখোলা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য লুৎফর রহমান গাজী, দাতা সদস্য আজহার আলী মোড়ল, সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ আবুল হোসেন, মোঃ মুজিবার রহমান মোল্যা, মোঃ হুমায়ুন কবির মোল্যা, মহিলা সদস্য ফিরোজা খাতুন, শিক্ষক নুরুল ইসলাম, নীলরতন মন্ডল, মাসুমা খাতুন প্রমুখ। প্রসঙ্গতঃ মঙ্গলবার সকালে প্রিজাইডিং অফিসার আফরুজ্জামানের সভাপতিত্বে গাড়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বর্তমান সভাপতি মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে পুণঃরায় সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।

ফুলতলার জামিরায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় পরিবারের প্রতি ষড়যন্ত্র ও হুমকি

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ ফুলতলার জামিরাার ৫নং পিপরাইল ওয়ার্ডের ইউপিও সদস্য মোঃ ওলিয়ার বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেছেন সরকার যখন দেশব্যাপী মাদক নির্মূলে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে ঠিক সেই সময়ে জামিরা এলাকায় মৃত তৈয়েব আলী আকুঞ্জীর স্ত্রী মেহেরুন্নেছা, তার পুত্র হিমেল আকুঞ্জী ও পার্শ্ববর্তী হামোদ আলী আকুঞ্জীর পুত্র আহাদ আলী আকুঞ্জী তাদের পোষ্য ক্যাডারদের দিয়ে মাদক ব্যবসা, চুরি ও ছিনতাই কাজে লিপ্ত। তাদের অসামাজিক কর্মকান্ডে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য ও সুনাম ক্ষুন্ন করতে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার, মামলা , হামলাসহ নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমার ভাইপো আল মামুন বিশ্বাসকে জড়িয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য সরবরাহ করে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব ফুলতলায় অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতাকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তার ভাইপো মোঃ মাসুদ বিশ্বাস ও মারুফুল ইসলাম মিঠু উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন গত ২৭ জুলাই/ ২০১৪ দিবাগত রাতে সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়েব আলী আকুঞ্জী দুর্বৃত্তদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা বাদি হয়ে একই গ্রামের নায়েক ওরফে নাজিম, মোঃ আরিফ মোল্যা, আব্দুল কুদ্দুস ও জাহাঙ্গীর সরদারকে আসামী করে ফুলতলায় থানায় মামলা (নং -১০, তারিখ ২৮ জুলাই২০১৪ইং) দায়ের করেন। কারণ হিসেবে তিনি আরিফ মোল্যার সাথে অর্থের লেনদেন এবং কুদ্দসের সাথে ঘেরের মাছ লুট সংক্রান্ত বিরোধের জের উল্লেখ করেন। পরে চার আসামী আটক ও বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। পরবর্তীতে আদালতে মামলার চার্জশীটে আল মামুন বিশ্বাসকে জড়ানো হয়। যদিও বিষয়টি অবিশ্বাস্য ও অগ্রহনযোগ্য উল্লেখ করে মামলার বাদি মেহেরেুন্নেছা তদন্তকারী সংস্থা (সিআইডি) পুলিশ সুপার মহোদেয়ের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। এদিকে বিচারাধীন এ মামলার বাদির সাক্ষ্য গ্রহনের তারিখ আগামী ২৫ জুন / ২০১৮ আদালত ধার্য্য করেছেন। বাদি মেহেরুন্নেছা আমার ভাইপো মামুনের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দিবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আমার বড় ভাই মোঃ মকবুল বিশ্বাসের কাছে ২লাখ টাকার দাবি করেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতের কার্যক্রমের উপর আস্থা রেখে তার দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। প্রসংগতঃ গত ১৩ এপ্রিল /২০১২ মেহেরুন্নেছার স্কুল পড়–য়া কন্যা মোঃ সুরাইয়া খাতুন প্রেমের টানে প্রতিবেশী মুকুল বিশ্বাসের সাথে চলে গেলে মুকুল বিশ্বাস, মাহমুদ কলি, স্কুল শিক্ষক বিএম রফিকুল ইসলাম ও বিজিবি সদস্য জসিম বিশ্বাসকে আসামী কে থানায় মামলা (নং-০৮, ১৪ এপ্রিল/২০১২) করেন। যদিও পরবর্তীতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ষড়যন্ত্রমূলক ঐ মামলা থেকে স্কুল শিক্ষক বিএম রফিকুল ইসলাম ও বিজিবি সদস্য জসিম বিশ্বাসকে অব্যাহতি দেয়া হয় বলে তাদের দাবি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয় মৃত তৈয়েব আলী আকুঞ্জীর পুত্র হিমেল আকুঞ্জীর নেতৃত্বে পিপরাইল গ্রামে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। গত ২০ নভেম্বর/ ২০১৭ তারিখ সন্ধ্যায় পিপরাইল হাসপাতালে সামনে জনৈক আমিরুল ইসলাম লিচুর ওপর হামলা করে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করা হয়। এ ব্যাপারে হিমেল সহ ঐ চক্রের ১০ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ফুলতলা থানায় মামল্ া(নং-১১, তারিখ ২১নভেম্বর/২০১৭) দায়ের করা হয়। এদিকে গ্রামের আহাদ আলী আকুঞ্জী, হিমেল ও মেহেরুন্নেছা সিন্ডিকেট করে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এর প্রতিবাদ করায় প্রতিনিয়ত হুমকির শিকার হচ্ছে বলে তার দাবি । তিনি অবিলম্বে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন এবং পরিবারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও হামলা থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

আবু নাসের হাসপাতালে সিরিয়ালে রোগীর মরণদশা : ফের সক্রিয় ওষুধ প্রতিনিধি ও দালাল চক্র

বাথরুমের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগীরা

কামরুল হোসেন মনি : আলমগীর ও পুতুল দাস দু’জনই কার্ডিওলোজি চিকিৎসককে দেখানোর জন্য শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের আউটডোর থেকে তারা টিকিট কেটে চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে বসে থাকা এক ব্যক্তির কাছে টিকিটটি জমা দিতে গেলেই এক কথায় উত্তর প্রেসার মেপে আসেন। দুইজনই প্রেসার মেপে পুনরায় আসলে বলে আজ হবে না। এতেই ওই দুইজন রোগী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। শুরু হয় দুইজনের মধ্যে তর্র্ক। চিল্লাপাল্লা শুনে ডিউটিরত পুলিশ এসে উপস্থিত। রোগীদের অভিযোগ টাকার বিনিময়ে অন্য রোগীদের সিরিয়াল দিয়ে, এখন বলছে ৪০ জন রোগীর সিরিয়াল হয়ে গেছে আগামীকাল আসতে হবে।
সোমবার নগরীর গোয়ালখালীতে অবস্থিত শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে আউটডোরের ১১২নং রুমে চিকিৎসার নিতে আসা দুর্ভোগে পড়া রোগীদের চিত্র এ প্রতিবেদকের নজরে আসে। শুধু কার্ডিওলোজি বিভাগের নয়, নিউরোলজি বিভাগেরও একই অবস্থা। তখন ৯টা বেজে ১৫ মিনিট ঘড়ির কাঁটায়। চিকিৎসকরা কখন আসবেন এমন প্রশ্ন করা হলে শানু নামে এক মহিলা বলে ওঠেন ১১টার পর আসবে। এটি কি প্রতিদিনের নিয়ম এমন প্রশ্নে বলেন, স্যাররা (ডাক্তাররা) ওই সময়ই আসেন। আবার আড়াইটার আগেই চলে যান। সাড়ে ১০টা পর্যন্তও চিকিৎসকের খোঁজ মেলেনি। ১০ টা ৫৮ মিনিটে চেম্বারে ঢোকেন চিকিৎসক। রোগীদের অভিযোগ, ভোর ৫টার পর থেকে এখানে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, আগে সিরিয়াল নেওয়ার জন্য। একজনকে টিকিট কাটাতে পাঠানো হয়, আরেকজন এখানে দাঁড়িয়ে থাকি। আর ডাক্তার আসেন ১১টার পর। আবার বলেন, ৪০ জনের বেশি সিরিয়াল নেওয়া হবে না।
নিউরোলজি বিভাগের ডাক্তারের চেম্বারের দীর্ঘ লাইন পড়ে আছে। অনেকেই এসে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে মেঝেতেও বসে পড়ছেন। কেউ একবার উঠছেন আর বসছেন। চিকিৎসকের নেই কোনো খোঁজ। ওই দিন নিউঃ সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রুহুল কুদ্দুস দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার পরিবর্তে দেখছেন সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আব্দুস সালাম। সেখানেও একই অবস্থা। আলট্রাসনোগ্রাফি বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদর দীর্ঘ লাইন। সকাল ৯টার পর থেকে রোগীরা চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপসন অনুযায়ী আলট্রাসোনো করাতে আসেন। একটু পর পর রোগীরা জানতে চাচ্ছেন, কখন ডাক্তার আসবেন? ১১টার পর। এতক্ষণ পর আসবে! এত সময় থাকলে তো কাপড় নষ্ট হয়ে যাবে, প্রস্রাবের বেগ বেশি আসছে। এক রোগী অপেক্ষা করতে করতে সামনে মেঝেতে অসুস্থ হয়ে শুয়ে পড়েছেন। কথা হয় রোগী তানিয়া সুলতানা ওরফে রেনুর বাবা আঃ মান্নানের সাথে। তিনি বলেন, দৌলতপুর দেয়ানা থেকে ওই হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে আসেন। ঘন্টা দুই ডাক্তারের অপেক্ষায় থাকার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই আলট্রাসনোগ্রাফি রুমে চিকিৎসক আসেন ১১টার পর।
আউটডোরের বাথরুমে গিয়ে দেখা যায়, ময়লা উপুড় হয়ে পড়ে আছে। নেই বাথরুমের লাইট। আগত রোগীর স্বজনরা জানান, রাতের বেলায় বাথরুমে লাইট না থাকায় বিপদে পড়তে হয় রোগীদের নিয়ে। কার্ডিওলোজি বিভাগের ইনডোরের বাথরুমের অবস্থাও একই রকম। বেলা একটার পর পরই গিয়ে দেখা গেছে, ডাক্তারের চেম্বারে রোগীর বদলে ওষুধ প্রতিনিধিদের ভিড়। এর মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসক চেম্বার ত্যাগ করেন। এর আগে ওই সব ওষুধ প্রতিনিধিরা ডাক্তারের দেওয়া রোগীদের ওষুধের ব্যবস্থাপত্র মোবাইলফোনে ছবি তোলার জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন।
এমআরআইওতে আছে অনিয়মের অভিযোগ। এমআইআরও কোনো রোগী করাতে আসলে তাকে রিপোর্ট ও সিরিয়াল মিলে এক মাস অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় সিরিয়ালের তোয়াক্কা না করে হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে এমআরআইএর সিরিয়াল পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। স্ট্রোক করা এক রোগীর স্বজনরা জানান, কোনো হাসপাতালে এমআরআইয়ের জন্য সিরিয়াল নিয়ে যদি এক থেকে দেড় মাস অপেক্ষা করতে হয়, তবে আর ওই পরীক্ষার দরকার আছে কি? ততদিন রোগী বাঁচবে কি মরবে কিংবা অন্য কী অবস্থা হবে, সেই দায় কে নেবে!’
শহীদ আবু নাসের হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী সার্বিক বিষয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, রোজার মধ্যে তাদের চিকিৎসার সিডিউল পরিবর্তন হয়নি। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আউটডোরে কোনো মেডিকেল অফিসার নিয়োগ না থাকায়, কনসালট্যান্ট ডাক্তাররা ইনডোরের রোগী দেখে তারপর আউটডোরে যাচ্ছেন। অন্যসব সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে মেডিকেল অফিসার থাকলেও এই হাসপাতালে নেই। দালালদের বিরুদ্ধে তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে দালালদের আটক করছেন। আমরাও তাদেরকে সহযোগিতা করছি।

ফুলতলা ও দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ খুলনার ফুলতলা ও দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট-২০১৮-১৯ এর খসড়া বাজেট সভা সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদ অডিটোরিয়ামে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনও মাশরুবা ফেরদৌস। খসড়া বাজেট পেশ করেন ইউপি সচিব তানভীন আক্তার ডলি। বেলা সাড়ে ১১টায় দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভা ইউনিয়ন পরিষদ অডিটোরিয়ামে ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মাদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেস ইউএনও মাশরুবা ফেরদৌস, সনাক খুলনার সভাপতি আনোয়ারুল কাদির, প্রফেসর অচিন্ত্য কুমার ভৌমিক। বাজেট পেশ করেন সচিব মোঃ রাজিবুল ইসলাম। স্বাগত বক্তৃতা করেন ইউপি সদস্য সরদার আঃ রহমান। মোঃ ইমরান হোসেনর পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন টিআইবি’র প্রোগাম ম্যানেজার রাজেশ অধিকারী, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী নজির হোসেন, চামেলী মল্লিক, ইউপি সদস্য মিসেস কেয়া, বেগম শামসুন্নাহার, আলী আযম মোহন, আকলিমা বেগম, হাসিনা বেগম হাসি, সোনালী বেগম, কবিতা খানম, মহিউদ্দিন শেখ, রবিউল ইসলাম, বকতিয়ার হোসেন, শেখ আঃ রশিদ, মাসুদ পারভেজ মুক্ত, ইব্রাহিম গাজী, আলমগীর হোসেন গাজী, মহাসিন বিশ্বাস, শেখ নজরুল ইসলাম, মোঃ মাজেদ শেখ, ইবাদ আলী মোড়ল, মোঃ ইয়াছিন, শাহাজাহান মোল্যা, জসিম ফরাজী, মোমেনা বেগম, রুপা বেগম, জেসমিন বেগম, এস এম মাসুদ করিম, নবেরা বিবি প্রমুখ।

ফুলতলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিঠুর মৃত্যু বার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিরোধী দলকে নেতৃত্ব শুন্য করতে একের পর এক জনপ্রিয় নেতাদের হত্যা করছে। যে কারণে জনপ্রতিনিধিদের হত্যাকারীদের আটক ও তাদের কোন বিচার করছে না। মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূলের নামে বিচার বহির্ভূতভাবে মানুষ খুন করা হচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভোট ডাকাতির নির্বাচনে প্রমান হয়েছে যে, এ সরকারের অধীনেকোন সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।
শুক্রবার বিকালে ফুলতলার নতুন হাট এতিমখানা চত্বরে অনুষ্ঠিত ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাংগঠিনক সম্পাদক সরদার আলাউদ্দিন মিঠু’র প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালন উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি নেতা সেলিম সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, সহ-সভাপতি ডাঃ গাজী আব্দুল হক, বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপি নেতা ফকরুল আলম, জুলফিকার আলী জুলু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, বেগ আমজাদ আলী, মুরশিদুর রহমান লিটন, ওয়াহিদুজ্জামান রানা, শামীম কবির, ইবাদুল হক, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ ফিরোজ জমাদ্দার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান মোল্যা নান্না, আহসানুল হক লড্ডন, শেখ লুৎফর রহমান, সৈয়দ ফজলুল আলম সেলিম, জি এম শফিকুল ইসলাম, শেখ আঃ সালাম, গাজী ফজলুল হক, আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ, জামাল হোসেন ভুইয়া, সরদার তাহেরুল ইসলাম, মহিউদ্দিন শেখ, শেখ আঃ হালিম, সৈয়দ আল শাকিল, হালিম সরদার, জুয়েল ভুইয়া প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাফেজ মাওঃ শেখ সাফায়েত করিম।

ফুলতলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন মিঠু’র ১ম মৃত্যুবাষিকী আজ

খুলনা অফিসঃ ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আলাউদ্দিন মিঠু’র ১ম মৃত্যুবাষিকী  আজ (শুক্রবার) । মিঠু হত্যা ঘটনায়  দীর্ঘ ১ বছর হলেও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। আদালতে এখনও চার্জশীট দাখিল হয়নি। অপরদিকে হত্যা মামলায় আটককৃতদের জবানবনন্দি অনুযায়ী অন্য আসামীদের আটক ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার  প্রচেষ্টা চলছে এবং হত্যার সাথে সম্পৃক্তদের সনাক্তকরণের পর চার্জশীট প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা । এদিকে মিঠু’র১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কুরআনখানি, ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
গত ২৫ মে দিবাগত রাত দশটায় ফুলতলার নতুনহাটস্থ  এলাকাস্থ নিজ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দেহরক্ষী নওশের আলীসহ ঘটনাস্থলেই নিহত হন জনপ্রিয় সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠু। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই রাজ সরদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে ফুলতলা থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মিঠুর দেহরক্ষী  শিমুল হাওলাদার, বিএনপি নেতা হাসনাত রেজভী মার্শাল, দামোদর গ্রামের রিফাত ভূইয়া ও রনি মোড়লকে আটক করে । এদের মধ্যে শিমুল হাওলাদার, বিএনপি নেতা হাসনাত রেজভী মার্শাল, রিফাত ভূইয়া আদালতে স্বীকাররোক্তি মোতাবেক জবানবন্দি প্রদানের পর তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়। যদিও পরে আটককৃত সকল আসামী জামিনে বেরিয়ে আসে। আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে মিঠু হত্যায় সংগঠক, অর্থদাতা ও কিলিং মিশনে অংশ নেয়া দুর্বৃত্তদের নাম প্রকাশ করা হয়। হত্যা ঘটনায় ব্যবহৃত একটি দেশীয় শার্টারগান রনি মোড়লের বাড়ি থেকে এবং রিফাত ভূইয়ার বাড়ি থেকে একটি কালো জ্যাকেট উদ্ধারের দাবি পুলিশের।
নিহত মিঠুর ভাই সেলিম সরদার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১ বছরেও মূল আসামী ও তাদের গডফাদারদের আটক ও আদালতে চার্জশীট প্রদান করা হয়নি। ফলে সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। মিঠু’র স্ত্রী জোবায়দা মিঠু সুরভী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন মহলে জানিয়েও কাক্ষিত কোন ফল পাওয়া যায়নি। ফলে মিঠু হত্যা বিচার নিয়ে আমরা  সন্ধিহান। প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে আমরা বিচার বঞ্চিত হলেও আল্লাহ বিচার ঠিকই করবেন। ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শেখ আবুল বাশার অবিলম্বে মিঠু হত্যা ঘটনায় জড়িতদের আটক ও আদালতে চার্জশীট প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।  এ ব্যাপাওে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি মোঃ আসাদুজ্জামান মুন্সী বলেন, ক্লুলেস মামলায় চার আসামীকে আটক ও তাদের মধ্যে তিনজনের আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি গ্রহন, হত্যা ঘটনায় ব্যবহৃত একটি দেশীয় শার্টারগান ও  একটি কালো জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। জবানবন্দি অনুযায়ী কিলিং মিশনে অংশ নেয়া বাকি ৪/৫ আসামী ও নেপথ্যে জড়িত থাকা গডফাদারদেও আটক  এবং ঐ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে। প্রচেষ্টা সফল হলেই চার্জশীট প্রদান করা হবে। এদিকে আলাউদ্দিন মিঠুর ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় পরিবারের  পক্ষ থেকে নতুনহাটস্থ এতিমখানা চত্ত্বরে কুরআনখানি ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

বাগেরহাট-০৩ আসনের উপ-নির্বাচনে একমাত্র আ’লীগের প্রার্থী হাবিবুন নাহারে মনোনয়নপত্র দাখিল

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা : মোংলা-রামপাল (বাগেরহাট-০৩) আসনের উপ-নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমার শেষ দিনে শুধুমাত্র একটি মাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর আগে দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও বৃহস্পতিবার একমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুন নাহার তার মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা নির্বাচন অফিসে রিটানিং কর্মকর্তা ও ফরিদপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো: নূরুজ্জামান তালুকদারের কাছে মনোয়নয় পত্র জমা দেন হাবিবুন নাহার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যিনি মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন তিনি তার মনোনয়ন পত্র জমা দেননি। মনোনয়নপত্র জমার দুইদিন আগেই চিত্র নায়ক শাকিল খান ঘোষণার মধ্যদিয়ে সরে দাড়িয়েছেন নির্বাচন থেকে। সুতরাং বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত ঘোষিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও এই এলাকারই সাবেক সাংসদ হাবিবুন নাহার।
মনোনয়নপত্র জমাকালে সাবেক সাংসদ হাবিবুন নাহারের সাথে ছিলেন তার স্বামী খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজ্জাম্মেল হোসেন এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুজ্জামান টুকু, মীর শওকাত আলী বাদশা এমপি, বাগেরহাট পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ,এম বদিউজ্জামান সোহাগ, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ নেত্রী তালুকদার রিনা সুলতানাসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও মোংলা-রামপালের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা।
খুলনা সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এর আগেও একবার সিটি মেয়র ছিলেন। তাছাড়া ১৯৯১ সাল থেকে মোংলা-রামপাল আসনে ধারাবাহিকভাবেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন তিনি। এর ফাকে যে দুইবার তিনি খুলনায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন সেই দুইবারই তার স্ত্রী হাবিবুন নাহার তার ছেড়ে যাওয়া আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগের বার বিপুল ভোটে হাবিবুন নাহার এমপি নির্বাচিত হলেও এবার হয়তো আর ভোটের প্রয়োজন হবে না। কারণ প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী না থাকায় তিনিই বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করতে গিয়ে এ আসনের এমপি আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করায় গত ১০ এপ্রিল এ আসনটি শূণ্য হয়ে পড়ে। সেই শুণ্য হওয়া আসনে তারই সহধর্মিনী হাবিবুন নাহারকে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। মোংলা-রামপাল আসনের উপ-নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ছিল ২৪ মে। আগামী ২৭ মে মনোনয়নপত্র ঝাচাই-বাছাই ও ৩ জনু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য্য রয়েছে। এছাড়া ২৬ জুন ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে শুধুমাত্র একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় ভোট গ্রহণ ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় একমাত্র মনোনয়ন জমাকারী হাবিবুন নাহারের নাম ঘোষণার অপেক্ষা এখন মাত্র।

থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

কামরুল হোসেন মনি : শিশুকন্যা জান্নাতিন বয়স এক বছর। ৪ মাস বয়সে এর রক্তে ধরা পড়ে থ্যালাসেমিয়া রোগ। সেই থেকে তাকে প্রতিমাসে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হচ্ছে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সর্ময়ের মধ্যে রক্ত সঞ্চালন না করলে তার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়ে না। শিশুটির মা লিমা বেগম জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী দুইজনই এই জীবাণু বহন করায় তার শিশুকন্যা এ রোগে আক্রান্ত। কিন্তু তাদের এ রোগ নেই। শিশুকন্যাকে সদর হাসপাতালে রক্ত সঞ্চালন দিতে আসলে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয়।
নগরীর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সূত্র মতে, এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। চলতি মাসে ২১ মে পর্যন্ত ৫০ জন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ত সঞ্চালন করতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ হিসেবে গড়ে ২ জনের বেশি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগে ওই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোনো পরিসংখ্যান নেই।
খুলনা সদর হাসপাতালে নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ শরাফাত হোসাইন বলেন, মামাতো-খালাতো ভাই-বোনদের সাথে বিয়ে হলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শিশু বা কোনো ব্যক্তিদের শরীর ফ্যাকাসে হয়ে গা সাদা হয়ে যায়, শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, জন্ডিস হলে আর সারতে চায় না ইত্যাদি থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ। থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা বলতে রক্ত পরিসঞ্চালন। আর মাঝে মাঝে অতিরিক্ত পরিসঞ্চালনজনিত আয়রন উদ্ধৃতি ঠেকাতে আয়রন চিলেশন থেরাপী, সাধারণত ডেসফেরিঅক্সামিন দেওয়া হয়। ওষুধের চিকিৎসা বলতে এটুকুই। প্লীহা বড় হয়ে গেলে অপারেশন করে সেটা ছোট করে দেওয়া হয়। এতে রক্তগ্রহণের হারটা কমে আসে কিছুটা। মূলত বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন হলো এর স্থায়ী চিকিৎসা। এটা খুবই ব্যয়বহুল। দেশের বাইরে বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনে খরচ পড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রক্ত দেওয়া লাগবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে ৩ থেকে ৫ সপ্তাহ এর মধ্যে রক্ত দেওয়া লাগে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স নিলুফা ইয়াসমিন জানান, বিগত বছরের তুলনায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো জায়গা থেকে ওই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা রক্ত সঞ্চালন করার জন্য আসছেন।
খুলনা সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রি খাতায় অন্তর্ভুক্ত চলতি বছরের ১ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত মে পর্যন্ত থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়ে রক্ত সঞ্চালন করেছেন এমন রোগীর সংখ্যা ৫০ জন। এর মধ্যে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রক্ত সঞ্চালন করার জন্য ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১ মে ১ জন, ৩ মে ৪ জন, ৬ মে ৩ জন, ৭ মে ১ জন, ৮ মে ৮ জন, ৯ মে ৪ জন, ১০ মে ২ জন, ১২ মে ৪ জন, ১৩ মে ১১ জন, ১৪ মে ৪ জন, ১৬ মে ৩ জন, ১৭ মে ২ জন, ১৯ মে ও ২০ মে ১ জন করে এবং ২১ মে ৩ জন ভর্তি হয়ে রক্ত সঞ্চালন করানো হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের বয়স ২ মাস থেকে বয়স্করা পর্যন্ত রক্ত সঞ্চালন করেছেন।
থ্যালাসেমিয়ায় কি হয় :
রক্তের লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল তিন মাস। লোহিত কণিকা অস্থিমজ্জায় অনবরত তৈরি হচ্ছে এবং তিন মাস শেষ হলেই প্লীহা এ লোহিত কণিকাকে রক্ত থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল অনেক কমে যায়। তাদের হিমোগ্লোবিন ঠিকমতো তৈরি না হওয়ায় লোহিত কণিকাগুলো সহজেই ভেঙে যায় এবং অস্থিমজ্জার পক্ষে একই হারে লোহিত কণিকা তৈরি সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে একদিকে যেমন রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে প্লীহা আয়তনে বড় হতে থাকে। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত আয়রন জমা হয়ে হৃদপি-, প্যানক্রিয়াস, যকৃত, অ-কোষ ইত্যাদি অঙ্গের কার্যক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়।

খুলনায় হিট লিস্টে মহিলাসহ ২৬ মাদক বিক্রেতা

জেলা মাদকদ্রব্য’র বিশেষ অভিযান শুরু

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা মহানগর ও জেলায় তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে ২৬ মাদক বিক্রেতা গোয়েন্দার হিটলিস্টে রয়েছে। এর মধ্যে মহিলার সংখ্যা ১০ জনের মতো। এরা মূলত পাইকারি মাদক বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। এদের পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিকরা গোয়েন্দাদের নজরদারিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যেই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে র‌্যাব।
অপরদিকে খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১৫ দিনব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। তাদের সংস্থা ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক তালিকা থেকে সমন্বয় করে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার থেকে জানানো হয়।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এ প্রতিবেদককে বলেন, তার তত্ত্বাবধানে ২১ মে থেকে আগামী ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনব্যাপী মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। ‘ক’ ও ‘খ’ সার্কেল ও গোয়েন্দা শাখা মিলে পৃথক তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ৫ সদস্য নিয়ে দিন-রাতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। সাথে রয়েছে এপিবিএন নিয়ে গঠিত বিশেষ টাস্ক ফোর্স। এতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্ব দেবেন।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্র মতে, ‘ক’ ও ‘খ’ সার্কেলে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা মিলে মোট ২৩০ থেকে ২৫০ জন মাদক বিক্রেতার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর সাথে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাদক বিক্রেতাদের তালিকাও রয়েছে। এর মধ্যে খালিশপুর, দৌলতপুর, আড়ংঘাটা, খানজাহান আলী থানা ও উপজেলা ফুলতলা, ডুমুরিয়া, তেরখাদা ও দিঘলিয়া নিয়ে গঠিত ‘খ’ সার্কেলের তালিকাভুক্ত পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতা ১০১ জন রয়েছে। এছাড়া সদর, লবণচরা, হরিণটানা, সোনাডাঙ্গা ও উপজেলা রূপসা, পাইকগাছা, কয়রা, বটিয়াঘাটা ও দাকোপ থানা নিয়ে গঠিত ‘ক’ সার্কেলে তালিকাভুক্ত পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতা রয়েছে আরও ১৪০ জনের মতো।
গোয়েন্দা সূত্র মতে, খুলনায় ২৫০ পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতার মধ্যে ২৬ জন হিটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জনের মতো মহিলা মাদক বিক্রেতা রয়েছে। এদের মধ্যে জাহানারা ওরফে জানু, হোসনে আরা ও লুৎফার নাহার লুতু এই তিন বোন মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় এলাকায় এরা থ্রি সিস্টার নামে প্রশাসনসহ এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ইয়াবা-ফেনসিডিলসহ নানা মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এছাড়া হিটলিস্টের মধ্যে রয়েছে মহিলা মাদক বিক্রেতা শিউলি বেগম, মায়া, রেখা বেগম, বেনু, আসমা, লিপি ও বুবলী। বিদেশি ও দেশি পাইকারি ও খুচরা অবৈধভাবে মদ বিক্রেতাদের নামও রয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক মোঃ সাইফুর রহমান রানা এ প্রতিবেদককে বলেন, একজন মাদকসহ একাধিকবার আটক হচ্ছেন। এদেরকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হচ্ছে। আবার আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার এই ব্যবসায় ফিরে যাচ্ছেন।
গোয়েন্দা সূত্র মতে, ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল সরবরাহকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এরকম নির্দেশনার পর থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছেন। তিন ধরনের তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই তালিকার মধ্যে “টপ লিস্ট” তালিকায় রয়েছে পাচারকারীদের নাম, “টপ টু” তালিকা, “টপ থ্রি” তালিকা” ও “টপ টেন” তালিকায় রয়েছে ডিলাররা। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে পাঠানো তালিকার সমন্বয়ে ওই তালিকাগুলো করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে র‌্যাবের অভিযানে ১৯ মে গভীর রাতে যশোরের নওয়াপাড়ায় অভিযানকালে ক্রসফায়ারে ৩ জন মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

মোংলায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ২৫ জন আহত

মোংলা প্রতিনিধি : মোংলার কানাইনগর এলাকায় এক যুবককে মাদক (গাজা) সেবনে বাধা দেয়ায় স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নারী ও পুরুষসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসীরা জানান, উপজেলার চাদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা আলমগীরের বাড়িতে ঢুকে সাগর নামক স্থানীয় এক যুবক তার দলবল নিয়ে মাদক (গাজা) সেবন করছিল। বাড়ীর লোকজন ঘরের আঙ্গিনায় দাড়িয়ে বখাটেদের গাজা সেবনে বাধা দেয়ায় এতে ক্ষুদ্ধ হয় সাগরসহ তার সহযোগীরা। সাগরকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়ায় ঘটনাটি শুনতে পেরে তার দাদা স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বর সুলতান ও চাচা জাকিরের নেতৃত্বে একদল লোকজন লাঠিসোঠা নিয়ে ওই বাড়ীর মালিক আলমগীর ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়। এরপর আলমগীরের শ্বশুর মজিদ ও সুলতান-জাকির গ্রুপ পুনরায় সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে। সোমবার সকালের এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আলমগীর ও বিলকিসকে আশংকাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে পারুল (৩৬) ,কমলা বেগম (৩৪), আনোয়ার (৩৮), অহিদুল (৩৮), মুনসুর (৫০), খোকন (৪০), মিনি বেগম (৩০), আখি বেগম (২৬), সুমন (১৫), নয়ন (২৭), নজরুল (৩৫), নোনা (২৬), বেল্লাল (৩৬), রাজু (২৬), মোস্তাক (৩৫),অহিদুল (৩০), রিনাবেগম (২৮), ইয়াছমিন (২৬), ছাহেরা বেগম (৬৭), বেবি বেগম (৪০), নুরজাহান (৭০), নয়ন মুন্সি (৩৫), বাবলু হাওলাদার (৩৮)। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বর মো: সেলিম বলেন, মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় সুলতান মেম্বর ও জাকির গ্রুপের লোকজন গ্রামের নিরীহ লোকজনের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে মজিদের জামাই ও মেয়েসহ অনেকেই গুরুতর জখম হয়েছে, কারো হাত ভেঙ্গেছে কারো মাথা ফেটেছে। এ ঘটনায় থানায় পরস্পর বিরোধী অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।