সুন্দরবনের শুকরের হামলায় দুই কৃষক গুরুতর জখম

বাগেরহাট অফিস: সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সুন্দরবনের শুকরের হামলায় দুই কৃষক গুরুতর জখম হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আমরবুনিয়া গ্রামে এ ঘটন ঘটে। আহত কৃষক মোতালেব শেখের ছেলে প্রতিবন্ধী খোকন শেখ(২৫) ও হাসান শেখকে(২২) রাত ২টায় মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মোরেলগঞ্জ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, শুকরের কামড়ে খোকনের শরীরের গভীর ক্ষত হয়েছে। তাই দ্রæত খুলনায় পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, মধ্যরাতে সুন্দরবনের শতাধীক শুকর দলবেধে খাবারের সন্ধানে বন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার লোকালয় আমরবুনিয়া গ্রামে ঢুকে পড়ে। দলটি মোতালেব শেখের আলু খেতে হানা দেয়। এসময় পাহারায় থাকা খোকন ও তার ভাই বাঁধা দিলে শুকরগুলো তাদের ওপর চড়াও হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আমরবুনিয়া টহল ফাঁড়ি এলাকাটি আদৌ সংরক্ষিত নয়। ভোলা নদী ভরাট হয়ে গেছে। বন সীমানায় গড়া-বেড়া নেই। তাই প্রতিদিন বাঘ, শুকরসহ নানা ভয়ংকর বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে জান-মালের ক্ষতি করছে।

এ বিষয়ে গুলিশাখালী টহল ফাঁড়ির স্টেশন কর্মকর্তা(এসও) মো. মনিরুল হক বলেন, শুকরের হামলায় দু’জন আহত হবার ঘটনা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে জানানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নিবেন।

এ সম্পর্কে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, গুলিশাখালী টহল ফাঁড়ি এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি অগ্রাধীকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। ওই এলাকায় বন্য প্রানীর হামলায় এ পর্যন্ত যারা আহত হয়েছে তাদেরকে আর্থিক সহযোগীতা করা হবে বলেও এ কর্মকর্তা জানান।

প্রসংগত, গত ২৩ জানুয়ারি একটি বাঘ এই একই ফাড়ি এলাকা থেকে লোকালয়ে ঢুকে ৫জনকে আহত করে। আত্মরক্ষার্থে এদিন স্থানীয়রা বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

তালা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি গঠন

সেলিম হায়দার, তালা : সাতক্ষীরার তালা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার বিকালে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আলোচনার মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়।
তালা বাজারের ব্যবসায়ী সরদার মশিয়ার রহমানকে আহবায়ক ও কাজী লিয়াকত হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৩৩ সদস্যের এ কার্যকারী কমিটি ঘোষনা করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসেন উপরোক্ত কমিটির অনুমোদন দেন। তালা উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারকে প্রধান উপদেষ্টা তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেনকে উপদেষ্টা করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাজারের প্রধান পৃষ্টপোষক মো. ফরিদ হোসেন বলেন, তালা বাজারের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ, সুরক্ষা ও বাজারের নিরাপত্তা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন, আহবায়ক সরদার মশিয়ার রহমান ও সদস্য সচীব কাজী লিয়াকত হোসেন,সদস্যবৃন্দ শেখ শওকাত হোসেন,শ্যামল কুমার হরি,শেখ জামাল উদ্দীন,বাপ্পি সাধু,নূরুল ইসলাম সরদার,বাসুদেব দত্ত,মহাদেব দত্ত,হোসেন সরদার,শেখ শাহিন,কাজী আরিফুল হক ভুলু,রফিকুল ইসলাম,শফিকুল ইসলাম,সব্যসাচী বাপ্পী,মতিয়ার রহমান,মহিদুল ইসলাম,নুর উদ্দীন মোড়ল,আয়ুব সরদার,মহাদেব ঘোষ,লিয়াকত আলী সরদার, শওকাত হোসেন খাঁ,আসাদুল ইসলাম আসাদ,শফিউর রহমান ডানলাপ,জাহাঙ্গীর হোসেন,মাধব কুমার দে,গোবিন্দ চৌধুরী,দেবাশীষ সাধু,ফারুখ হোসেন গোলদার,জাহাঙ্গীর হোসেন ফটিক,ফারুক হোসেন সরদার,বিশ্বজিৎ দে,আজমল হোসেন।

সাঁথিয়ায় আ’লীগের দুগ্রুপের পাল্টাপাল্টি সভায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন

ফারুক হোসেন, সাঁথিয়া(পাবনা): একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশয় আ’লীগের দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সভা-সমাবেশকে কেন্দ্র করে পাবনার সাঁথিয়ায় আ’লীগের রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। চলছে নানামূখী সমীকরণ। আ’লীগের একদিকে রয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান প্রনয়ণ কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যাপক ড.আবু সাঈয়িদ। অপরদিকে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ্যাড. শামসুল হক টুকু এমপি। অধ্যাপক সাঈয়িদ “বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা মঞ্চর”মাধ্যমে জঙ্গীবাদ,সন্ত্রাস,দুর্নীতি, মাদক ও স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে রুখে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে দেশরতœ শেখ হাসিনার কর্মকান্ডকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ৫ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত ৬৮,পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া ) আসনে ১৬টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে জনসভা করেন। এদিকে একই ভাবে জঙ্গীবাদ,সন্ত্রাস,দুর্নীতি, মাদক ও স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে রুখে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে দেশরতœ শেখ হাসিনার কর্মকান্ডকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষে এ্যাড শামসুল হক টুকু তার জনসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।এরই মধ্যে তিনি উপজেলার পাইকরহাটিতে শহীদ নগর ডাব বাগান দিবস পালন উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করে বিশাল জনসভা করেছেন। আবার সোমবার (১৪মে) উপজেলার বাউশগাড়িতে গণহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে বিশাল জনসভার আয়োজন করেছেন।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি ও বিশেষ অথিতি শামীম ওসমান এমপি থাকার কথা রয়েছে । কর্মসূচি পালনকালে উভয় নেতার সাথে থাকে মটর সাইকেল ও মাইক্রোবাসের বহর। কার নেতা বড় ও কত শক্তিশালী এ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে বাহাস ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। সাধারন জনগনের ভাষ্য সামনের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য এটি আ’লীগের দুই নেতার মাঠ পর্যায়ে শক্তির মহড়া। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন সংঘর্ষ হয়নি। অধ্যাপক সাঈয়িদ অভিযোগ করেন প্রশাসনের পূর্বানুমতি নেয়া সত্ত্বেও ধুলাউড়ি বাজারে, জোড়গাছা ঈদগাহ মাঠে ও সাঁথিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সভা করতে পারেনী। তিনি বলেন, আমার সভা ভন্ডুল করার জন্য ৮মে দুপুরে প্রতিপক্ষ ধুলাউড়ি বাজারে আমার নির্ধারিত জায়গায় পরিকল্পিত ভাবে সভা করেছে। ১০ মে বিকেলে জোড়গাছায় ১৪৪ধারা জারি করা হয়েছে । পরের দিন ১১ মে আবারও ১৪৪ধারা জারি করে সাঁথিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আমাকে জনসভা করতে দেয়া হয়নি। আ’লীগের দু’গ্রুপের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন কালে জামাতের সাবেক আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার মাওলানা নজিবুর রহমান মোমেনের ছবি সম্বলিত পোস্টারে সারা উপজেলা ছেয়ে গেছে । এতে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা ও সালাম জানানো হয়েছে। আ’লীগের দু’গ্রুপের এই কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়িতে জামাত বেশ খোশ মেজাজে আছে। এ নিয়েই সুধীমহল থেকে শুরু করে চায়ের টেবিলে দোকানে বাজারে চলছে নানামুখী সমীকরণ।

সীমান্ত থেকে ৩ বালাদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে গিয়েছে বিএসএফ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ঠাকুরগাঁও সীমান্ত থেকে ৩ বাংলাদেশী নাগরিককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। রবিবার ভোর রাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া সীমান্ত থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।
বিজিবি জানায়, ওই উপজেলার তারানজুবাড়ি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম (৩৫), হরিনমারি নয়াবস্তি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আবু সাঈদ (২৪), নয়াবাড়ি গ্রামের তফারুল ইসলামের ছেলে পবারুল হোসেন (২৬) পড়িয়া সীমান্তের ৩৮৫ পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এসময় ভারতের ১৭১ সাতভিটা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটকের পর ধরে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ হোসেন জানান, তারা ৩ জনেই গরু ব্যাবসায়ী। যেহেতু তারা আমাদের বাংলাদেশী নাগরিক তাদের ফেরত চেয়ে আমরা বিজিবি’র পক্ষ থেকে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহবান জানিয়েছি।

খুলনায় ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

খুলনা : সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নিরাপত্তায় ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিজিবি সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় টহলসহ নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিষয়টি বিজিবি খুলনা সেক্টরের টুআইসি মেজর হান্নান খান নিশ্চিত করেছেন। মেজর হান্নান খান জানান, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ১৬ প্লাটুন অর্থাৎ ৬৪০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা টহল ও স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।

কেসিসি নির্বাচন উপলক্ষে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

খুলনা : সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন উপলক্ষে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ৮৮ ধারার বিধান বলে খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিন উল আহসান কেসিসি এলাকায় কতিপয় যান্ত্রিক যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

১৪ মে দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৫ মে দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, বেবিট্যাক্সি/অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক এবং টেম্পো ইত্যাদি চলাচল করতে পারবে না। তাছাড়া ১৩ মে দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৬ মে সকাল ছয়টা পর্যন্ত সকল ধরণের মোটর সাইকেল চলাচল করতে পারবে না। নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত যানবাহন, জরুরী চিকিৎসা, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদান কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাভূক্ত হবে না। এ আদেশ অমান্য করা হলে তা দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

খুলনা সিটি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি’র প্রার্থী অপপ্রচারে লিপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রধান সমন্বয়কারী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন বলেন, বিএনপি মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে শুরু থেকে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। মঞ্জুর নির্বাচনে একজন ব্যবসায়ী কালো টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছে। বিভিন্ন বস্তিতে কালো টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা ও অপপ্রচার করছেন। গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এস এম কামাল আরও বলেন, বিএনপি প্রার্থী মঞ্জু সাধারণ জনগণকে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত খুলনা ছিলো সন্ত্রাসীর জনপদ। আর ওই সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এছাড়া কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র প্রার্থী মঞ্জু নিজেকে জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মঞ্জু বলেন, আমার জঙ্গি চেহারা কেউ দেখেননি। আমি কি করতে পারি সে সম্পর্কে আপনাদের কোনো ধারণাই নেই।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত মানে জঙ্গি। আর জঙ্গি মানেই জামায়াত। যারা জামায়াত-বিএনপি’র সাথে জড়িত তাদের প্রেফতার করা হোক। নজরুল ইসলাম মঞ্জু জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক। খুলনার মানুষ তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। খুলনায় নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নৌকার এ গণজোয়ার দেখে মঞ্জু কেসিসি নির্বাচনে তার পরাজয়ের গ্লানি মেনে না নিতে পাগলের প্রলাপ করছেন।
গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে কামাল বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মাঠে নামবে; কি নামবে না, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। এ ব্যাপারে সরকারের কোনো হাত নেই।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শেখ হারুনুর রশীদ, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কাজি আমিনুল হক, এড. সুজিত অধিকারী, কামরুজ্জামান জামাল, এড. ফরিদ আহমেদ, মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, অধ্যাপক মিজানুর রহমান মিজান, এড. নব কুমার চক্রবর্তী, জাহাঙ্গীর হোসেন খান, এড. অলোকা নন্দ দাস, জোবায়ের আহমেদ খান জবা, মফিদুল ইসলাম টুটুল, এড. সরদার আনিছুর রহমান পপলু, শেখ ফারুক হাসান হিটলু, সফিকুর রহমান পলাশ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেকের নৌকা প্রতিকের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে দুপুর ১টায় দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছে সম্মিলিত নাগরিক সমাজ, খুলনা ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সম্মিলিত নাগরিক সমাজ, খুলনার আহ্বায়ক এড. মোঃ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক একজন যোগ্য, সৎ ও কর্মঠ লোক। তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে খুলনার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। পাল্টে যাবে খুলনার চেহারা। তিনি বলেন, খুলনার সামগ্রিক উন্নয়নে তালুকদার আব্দুল খালেকের বিকল্প নেই। খুলনার মানুষ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা চায়। দলবাজী নয় খুলনাবাসীকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এসময় সিরাজুল আলম জুয়েল, এ কে এম শাহজাহান কচি উপস্থিত ছিলেন।

অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে আসলেন চার মাদক ব্যবসায়ী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় পুলিশের উদ্যোগে অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর পথে ফিরলেন চার মাদক ব্যবসায়ী। এদের দু’জন নারী ও দু’জন পুরুষ। এরা হলেন, কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মাঝিগাতি গ্রামের মো: মিজানুর রহমান (৬০), রুবিয়া বেগম (২৮), মো: সোহেল সেখ (৩০) ও সোহাগী বেগম (২২)। শনিবার থেকে তারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে বাকী জীবনে সময় ধর্ম-কর্ম পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চার জন দীর্ঘ দিন যাবত এলাকায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। কাশিয়ানী থানা পুলিশ একাধিকবার তাদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই তারা আবারও শুরু করত মাদক ব্যবসা।
মাদক ব্যবসায়ী মো: মিজানুর রহমান (৬০) বলেন, পেটের দায়ে এতো দিন খারাপ কাজ করেছি। কাশিয়ানী থানার ওসি সাহেবের উদ্যোগে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর এ খারাপ ব্যবসা করবো না। বাকী জীবন ধর্ম-কর্ম করবো। এতে আর কেউ আমাদের খারাপ চোখে দেখবে না। যারা এ ব্যবসায় জড়িত তাদেরকেও ব্যবসা ছেড়ে ভাল পথে আসার আহবান জানান তিনি।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আজিজুর রহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে উদ্যোগ গ্রহন করি এদের মাদক ব্যবসা ছাড়ানোর জন্য। এরপর এদের সাথে যোগাযোগ করি ও কাউন্সিলিং করি। আমার কথায় তারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিতে রাজি হন। তিনি আরো বলেন, শুক্রবার রাতে ওই চার মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলোচনায় বসি। তারা সকলের সামনে তওবা করে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্তের কথা উপস্থিত সকলকে জানান। পরে তাদের জায়নামাজ, টুপি, পাঞ্জাবি, তসবিহ, লুঙ্গি, শাড়ি ও কিছু নগদ টাকা দেওয়া হয়।
এ সময় মহেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মোংলায় কলেজ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা : আটক ৩

মোংলা প্রতিনিধি : মোংলায় কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টার ঘটনায় ৩ লম্পট যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের গিয়াস উদ্দিন সড়কের বাসিন্দা মো: হারুন খানের মেয়ে শিল্পি আক্তার (২০) মোংলা কলেজে লেখা পড়া করে আসছিল। কলেজে যাওয়া আসার পথে শিল্পিকে একই ওয়ার্ডের মাদ্রাসা রোডের বাসিন্দা মৃত মোকারম হোসেনে ছেলে মো: সোহেবের (২০) নেতৃত্বে মো: অলিয়ার হোসেনের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক ওরফে আবির ও মো: সেলিম তালুকদারের ছেলে মো: শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্তসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিল্পিকে বিভিন্ন সময়ে বিরক্ত করার পাশাপাশি তুলে নেয়ার/অপহরণের হুমকিও দেয় সোহেব ও তার সহযোগীরা। বিষয়টি শিল্পি তার পরিবারকে জানালে পরিবারের অভিভাবক সোহেব, আবির ও শফিকুলের অভিভাবকদের জানিয়ে সতর্ক করেন। এতে আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেব তার সহযোগী আবির ও শফিকুলকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিল্পির বাড়ীতে গিয়ে ঘরে ঢুকে সোহেব শিল্পির শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। এ সময় শিল্পির ডাক চিৎকারে পরিবারসহ আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে ঘটনাস্থল থেকেই দুই সহযোগীসহ সোহেবকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার সকালে শিল্পির বড় বোন শিউলী (২৩) বাদী হয়ে থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় সোহেব, আবির ও শফিকুলকে দুুপুরেই বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এদিকে শহরের মাদ্রাসা রোডের জনৈক এক ব্যক্তি লম্পট চক্রের পক্ষ হয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বাদী পক্ষকে হুমকি-ধামকিসহ ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।