চোখের জলে আরেকবার সুযোগ চাইলেন তালুকদার আঃ খালেক

খুলনা : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের আগের দিন অশ্রুনয়নে মেয়র পদে আরেকবার জনগণের সমর্থন চেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। ২০০৮ সাল থেকে পাঁচ বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করে ২০১৩ সালে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে হেরেছিলেন খালেক। তবে এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ভোটের আগের দিন গতকাল সোমবার মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন দক্ষিণাঞ্চলের বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতা।

৬৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিক বলেন, আমি পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করে হেরেছি। আমি আর নির্বাচন করব না ভেবেছি। আমার দল, আমার নেত্রী আমাকে ভালো লাগায় (মনোনয়ন) দিয়েছেন। আমি চাই, সারাজীবন এই খুলনার উন্নতি করতে চাই। খুলনার মানুষের সঙ্গে আমার শেষ জীবন আমি থাকতে চাই। বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন খালেক; এবারও সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে খুলনার মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

তালুকদার খালেক বলেন, আপনারা দেখছেন, যে এলাকার সংসদ সদস্য আমি, মোংলা বন্দর এলাকা কত সুন্দর এলাকা। সেই এলাকা ছেড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন খুলনার উন্নয়নের জন্য। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আপনাদের সেবায় যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে পারি।

সংবাদ সম্মেলনে তালুকদার খালেক অভিযোগ করেন, পাঁচ বছর ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করলেও সিটি করপোরেশনে জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাঘাট ঠিক করার মতো সেবামূলক কাজ বিএনপির মনি করতে পারেননি। আমার এই নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথম যেই সমস্যার কথা বলেছি, সেটা হচ্ছে জলাবদ্ধতা দূর করে খুলনার মানুষকে মুক্ত করার জন্য। খুলনার উন্নয়নের জন্য প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। যে কেউ আসুক সেটা বাস্তবায়ন করবে।

নির্বাচনকে ঘিরে ৩১টি ওয়ার্ডে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলেন, মানুষ ভোট দিতে যাবে এবং তাদের ভোট প্রয়োগ করে তাদের মেয়র নির্বাচিত করবেন। এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য অনেকে বিভিন্ন অভিযোগ করছেন।

২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কথা তুলে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুর বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছোড়েন তালুকদার খালেক। সেবার মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক হিসেবেও মঞ্জু নির্বাচনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবারের মতোই অভিযোগ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভোটগ্রহণ বন্ধ হওয়া পর্যন্ত এসব কথা বলেছেন। ভোটে তো আপনারা দেখেছেন, আমি হাজার কোটি টাকা এনে কাজ করানোর পরেও হেরেছি; অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কারণে। তখনও আমার দল ক্ষমতায় ছিল। তখন কারচুপি হয় নাই।

বিএনপিকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের হোতা আখ্যায়িত করে তালুকদার খালেক বলেন, আমার আহ্বান থাকবে, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদীদের গ্রেপ্তার করে ভোটের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার জন্য।

ভোট কারচুপির চক্রান্ত চলছে বলে বিএনপির অভিযোগের পাল্টায় তিনি বলেন, ভোট হইল আগামীকাল, এখন কীভাবে বলে মারামারি হবে! এটা হল একটি দুরভিসন্ধি তাদের। ওনারা বলছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং হবে। আওয়ামী লীগ কখনও ইঞ্জিনিয়ারিং করে না।

গণগ্রেপ্তারের অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নে তালুকদার খালেক বলেন, আপনারা থানায় খোঁজ নিন, কাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাদের নামে কোনো মামলা আছে কি না, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে গেলে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অবৈধ অস্ত্রধারী যেন শহরে যেন না থাকতে পারে, সেটা নির্বাচনের শর্ত। সেটা যদি নির্বাচন কমিশন করে এক্ষেত্রে কারও আপত্তি থাকা উচিত না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হওয়ায় তার আগে আপত্তি জানিয়েছিলেন। নির্বাচন পরিচালনায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিও বি এল কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবির করতেন বলে দাবি খালেকের।

তিনি বলেন, একজন অফিসার হিসাবে যে বাস্তবতাকে মেনে নিতে পারে না, এখনও পুরনো সংগঠনের সাথে জড়িত, তাদের দ্বারা সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তারপরও নির্বাচন কমিশন তাদেরকে এখানে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা আপত্তি দিয়ে রাখছি, কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরায় নাই। তারপরেও আমরা কিন্তু বলি নাই। আমরা বলছি, ঠিক আছে, তারা যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। কারণ তারা তো একা না, এখানে সরকার আছে, নির্বাচন কমিশন আছে, তারা উনাদের উপর নজর রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান জামাল, আকতারুজ্জামান বাবু, মকবুল হোসেন মিন্টু, মোঃ মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, এ্যাড. ফরিদ আহমেদ, জোবয়ের আহমেদ খান জবা, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান, জাহাঙ্গীর হোসেন খান, মফিদুল ইসলাম টুটুল, শেখ মোশাররফ হোসেন, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, মুজিবুর রহমান শামীম, জিএম মহাসিন রেজা, ম্ঃো রশিদুজ্জামান মোড়ল, অসিত বরণ বিশ^াস, বদিউজ্জামান সোহাগ, রনজিত কুমার ঘোষ, শফিকুর রহমান পলাশ, জামিল খান, ইমরান হোসেন, সৌমেন বোস, সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট, হোসেনুজ্জামান হোসেন, কামরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান দুলাল, মাহফুজুর রহমান সোহাগসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

কেসিসিতে ভোট কাল : শেষ হাসি হাসবে কে?

খুলনা : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ আজ। নগরীর প্রায় ৫ লাখ ভোটার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন নবম নগর পিতা। ৩১ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের ১০ মহিলা কাউন্সিলরকে। প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল) ও সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)। মেয়র পদে পাঁচজন প্রার্থী হলেও মূলত লড়াইটা হবে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে। এবারই প্রথম কেসিসি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার হওয়ায় নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ২৮৯ টি কেন্দ্রে এ ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটারদের সুবিধার্থে এক হাজার ৪২৮টি স্থায়ী বুথ ছাড়াও ৩৩ টি অস্থায়ী বুথ নির্মাণ করা হয়েছে। এবার ২০২টি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৬টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, আনসার ব্যাটেলিয়ান ও আনসার ভিডিপির মোট ২৪ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৪ হাজার ৯৭২ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন।

এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নগর জুড়ে নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশনও এই নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে নগরীতে পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি গত সোমবার সকাল থেকেই বিজিবি টহল দেয়া শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, কেসিসি নির্বাচনে গত ২৪ এপ্রিল থেকে ৫ জন মেয়র, ১৪৮ জন সাধারণ ও ৩৮ মহিলা সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীসহ মোট ১৯১ জন প্রতীক পেয়েই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। ভোট গ্রহণের ৩২ ঘন্টা আগে সকল প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ হওয়ায় রোববার রাত ১২টায় সকল প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগসহ সকল প্রকার প্রচারণা বন্ধ হয়ে যায়।

র‌্যাব-৬ এর পরিচালক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম ও কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন জানান, নির্বাচনে তিন হাজার ৪৩৭ জন পুলিশ, ১৬ প্লাটুন বিজিবি ও ৩০০ এপিবিএন সদস্য এবং আনসারের চার হাজার ৮৪৫ জন দায়িত্ব পালন করছে।

এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ান আনসারের সমন্বয়ে ৩১টি মোবাইল ফোর্স, ১১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ৩২টি সেক্টর পার্টি, ৪টি স্ট্রাইকিং ফোস আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্রানুযায়ী, কেসিসি নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। ২৪ নং ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্রে ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে মোট ১০টি ইভিএম থাকবে।

নির্বাচনের আগে সহিংসতা বন্ধে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য শনিবার মধ্যরাতের মধ্যে বহিরাগতদের নগরী ত্যাগ করার এবং ইঞ্জিন যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নগরীর প্রবেশদ্বারে পুলিশের বাড়তি চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা টহল শুরু করেছে। ভোট গ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নগরীতে ২৪ ঘন্টা সাত প্লাটুন বিজিবি’র টহল জোরদার থাকবে। গত শুক্রবার থেকে অনুমোদনহীন সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির পিপিএম বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সকল পুলিশ ফোর্সদের ইতিমধ্যে সকল প্রকার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। গত রোববার মধ্যরাত থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে দাবি করে তিনি বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সব শ্রেণী পেশার মানুষ সহযোগিতা করছেন। মঙ্গলবার সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্নের মাধ্যমে খুলনাবাসীকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সুন্দরবনে হরিণের মাংস ফাঁদসহ ৫ শিকারী ২জেলে কার্গো জাহাজ আটক

বাগেরহাট অফিস : বাগেরহাটে পূর্ব সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে হরিণ শিকার ও কাঁকড়া আহরণের দায়ে ৭জনকে আটক করেছে বনবিভাগ। এদের মধ্যে পাঁচ জন হরিণ শিকারী এবং দুই জন কাঁকড়া জেলে। শনিবার সন্ধ্যা ও গভীর রাতে (১২ মে) শরণখোলা রেঞ্জের স্মার্ট টিমের টহল দল ও জ্ঞানপাড়া টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীরা শ্যালার চরের মানিকখারী খাল ও চরদুয়ানির বলেশ্বর নদীতে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে। রবিবার সকালে তাদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটক শিকারীরা চিংড়ি হ্যাচারীর জন্য সুন্দরবনের লবন পানি সংগ্রহের নামে কৌশলে হরিণ শিকার করছিলো বলে বনবিভাগ জানিয়েছে।

এসময় হরিণ শিকারের কাজে ব্যবহৃত এমভি আল মদিনা-১ নামের একটি কার্গো জাহাজ, ২৩০টি হরিণ ধরা ফাঁদ, ৩০ কেজি হরিণের মাংস, একটি নৌকা, তিনটি দা, একটি কুড়ালসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া জেলেদের কাছ থেকে ১৫টি কাঁকড়া ধরা বাঁশের চাই, ৩০ মিটার কারেন্ট জাল, ১০০মিটার চরপাটা জাল, একিট নৌকা ও একটি সোলার প্যানেল জব্দ করা হয়।

আটক হরিণ শিকারীরা হলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার আমতলা গ্রামের প্রভাস মৃধার ছেলে বিশ্বজিৎ মৃধা (৪২), পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের আ. রহমানের ছেলে আলামীন (২৩), একই জেলার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাসান (২৪), ওই উপজেলার ছোট চরকাজল গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সুমন (২২) ও সাতক্ষীরার আশাসুনি উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সহিদ সরদারের ছেলে সাইদ সরদার (১৮)। অপরদিকে, শ্যালার চর এলাকার নীলবাড়িয়া খালে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে কাঁকড়া ও মাছ ধরার সময় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কুমলাই গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে রবিউল শেখ (২৯) ও একই গ্রামের মৃত ইমানউদ্দিনের ছেলে সহিদ শেখকে (৬০) আটক করে স্মার্ট টিম।

শরণখোলা স্মার্ট টিম-১ এর টিম লিডার মো. ফারুকুল ইসলাম  জানান, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চরের মানিকখালী খালে অভিযান চালিয়ে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে একটি কার্গো জাহাজ ও ২০০টি নাইলনের ফাঁদসহ ওই ৫হরিণ শিকারীকে আটক করা হয়।

অপরদিকে, বনবিভাগের জ্ঞানপাড়া টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরুল আমীন  জানান, শনিবার দিনগত রাত ১টার দিকে বলেশ্বর নদীতে নিয়মিত টহলকালে একিট নৌকা দেখতে পেয়ে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এসময় নৌকায় থাকা ৪-৫ জন লোক নৌকাটি চরদুয়ানী নামক স্থানের লোকালয়ে ভিড়িয়ে পালিয়ে যায়। পরে নৌকা তল্লাশি করে ৩০ কেজি হরিণরে মাংস, ৩০টি নাইলনের হরিণ ধরা ফাঁদ, ৩টি দা ও একটি কুড়াল জব্দ করা হয়।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মোহাম্মদ হোসেন  জানান, জব্দকৃত কার্গো জাহাজটি ঢাকার উত্তরা এলাকার গালফ ফুড লিমিটেড কোম্পানীর সিইও এসএম আব্দুলাহ আল মামুন নামের এক ব্যক্তির বলে জানা গেছে। তার মোংলা পোর্ট এলাকায় অবস্থিত চিংড়ি হ্যাচারী রয়েছে। ওই হ্যাচারীর জন্য সুন্দরবন থেকে লবন পানি সংগ্রহের নামে কৌশলে তার লোকেরা হরিণ শিকার করছিলো। আটকদের বিরুদ্ধে বন ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে মামলা দিয়ে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সুন্দরবনে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ২ দস্যু আটক

মোংলা প্রতিনিধি : সুন্দরবনের কালাবগি খাল এলাকায় কোস্ট গার্ড ও বনদস্যু বাহিনীর মধ্যে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বন্দুক যুদ্ধের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ দুই দস্যুকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। অস্ত্র-গুলিসহ আটক দস্যুদেরকে থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন’র (মোংলা) অপারেশন অফিসার লে: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, বনদস্যু আসাবুর বাহিনীর সদস্যরা পশ্চিম সুন্দরবনের কালাবগি খালে অবস্থান নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন খবরের ভিত্তিতে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। খালের মধ্যে অভিযানকারীদের প্রবেশ করতে দেখা মাত্রই পূর্ব থেকে ওই খালে অবস্থান নিয়ে থাকা দস্যুরা গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। উভয়ের মধ্যে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে থেমে থেমে চলা বন্দুক যুদ্ধের এক পর্যায়ে পরাস্থ হয়ে দস্যুরা বনের গহীনে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাহিনীর দুই সদস্য তাজেল (৩২) ও জাকির (৩০) কোস্ট গার্ডের হাতে ধরা পড়ে। পরে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১টি দুইনালা বিদেশী বন্দুক, ২টি পাইপগান, ৪টি পাইপগানের ব্যারেল ও ১২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক দস্যুদের বাড়ী খুলনার কয়রা এলাকায় বলে জানায় কোস্ট গার্ড। সোমবার দুপুরে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র-গুলিসহ আটক দস্যুদের খুলনার দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মোংলায় ফিল্মি ষ্টাইলে একটি বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর : আহত ৩

মোংলা প্রতিনিধি : মোংলায় একটি বাড়ী জবর-দখলে নেয়ার জন্য ফিল্মি ষ্টাইলে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুরসহ ৩ নারী-পুরুষকে বেদম মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করা হলেও রহস্যজনক কারণে তাদেরকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় লোকজন ও মোংলা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন হাসপাতাল রোড এলাকার মো: জাহাঙ্গীর হোসেন ও লিটন শিকারীর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল দুর্বৃত্ত সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মোংলা বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ সংলগ্ন পশু হাসপাতাল সড়কের মো: তারিকুল মৃধা ও আঃ কুদ্দুসের বাড়ি দখলে নেয়ার চেষ্টায় হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তারিকুলের বাড়ীতে প্রবেশ করে বসত ঘরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। হামলাকারীরা শুধু ভাংচুর করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, বেপরোয়া মারধর করে আহত করেছে বাড়ীর মালিক তারিকুলের বড় ভগ্নিপতি আঃ কুদ্দুস, ছোট ভগ্নিপতি মো: ইব্রাহিম হোসেন ও তার বোন স্কুল শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে। সন্ত্রাসীদের হামলায় আঃ কুদ্দুসের হাত ও পা ভেঙ্গে যায়। আহতদেরকে উদ্ধার করে তাৎক্ষনিকভাবে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও উন্নত চিকিৎসার কুদ্দুসকে সকালেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ইব্রাহিম ও সাবিনা। হামলা-ভাংচুরের বিষয়ে তারিকুল মৃধা বলেন, জাহাঙ্গীর ও লিটনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে একটি ঘর পুরোপুরি ও অপর আরেকটি ঘরের আংশিক ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলে। এতে বাধা দিতে গেলে তার বোন ও ভগ্নিপতিকে বেদম মারপিট করে সন্ত্রাসীরা। তিনি আরো বলেন, মুলত আমার বাড়ীটি দখল করে নেয়ার জন্যই জাহাঙ্গীর ও লিটন এই হামলা এবং ভাংচুর চালিয়েছে। এ বিষয়ে মোংলা থানার সেকেন্ড অফিসার মো: আকরাম হোসেন বলেন, এটা তেমন কোন কিছু না, যাদেরকে ধরে আনা হয়েছিল তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

খুলনায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি : কামড়ের শিকার শিশুসহ বয়স্করা

কামরুল হোসেন মনি : মোঃ হোসেন। সাড়ে ৩ বছর বয়স। গত মঙ্গলবার খেলার ছলে রাস্তায় আসামাত্রই একটি বেওয়ারিশ কুকুর তার ডান হাতে কামড় দিয়ে খাবলে নিয়ে যায়। নগরীর লবণচরা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বেওয়ারিশ কুকুর তার ওপর এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুকুরের উৎপাতে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভুক্তভোগী। স্কুলগামী শিশুরা নির্বিঘ্নে পথ চলতে ভয় পায়। প্রতিদিনই নগরীতে ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে কুকুরে কামড়ের শিকার ব্যক্তিরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মে মাসে ১২ তারিখ পর্যন্ত শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ মোট ১৯৫ জন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন। এছাড়া পূর্বে কুকুরের আক্রমণের শিকার ৩৪৫ জন ব্যক্তি ওই তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত দিনে (ভ্যাকসিন) টিকার ডোজ নিচ্ছেন।
হোসেন এর পিতা মোসলেম শিকদার বলেন, মঙ্গলবার তার শিশুপুত্র হোসেন খেলা করছিল। এ সময় সে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে রাস্তায় বের হলে এক বেওয়ারিশ কুকুর তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি বলেন, দিনকে দিন বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে।
রূপসা ঘাটভোগ ইউনিয়নের বাসিন্দা সুধাং বৈরাগী। স্কুলে পড়াশোনা করে। শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কুকুড় তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আঁচড় দেয়। বাবা সুকুমার বৈরাগী বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে দিনের বেলায় যেমন তেমন রাতের বেলায় চলাটাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, পথেঘাটে কুকুরের হামলায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। খুলনা ও এর আশপাশে যত মানুষকে কুকুরে কামড়ায়, তারা নগরীর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ হাসপাতালের তথ্যনুযায়ী কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার এ পরিসংখ্যান আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে ভ্যাকসিন রুমে দেখা যায়, কুকুরে কামড়ানো ব্যক্তিরা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। ওইখানে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সাথী ম-ল এ প্রতিবেদককে বলেন, কুকুরে কামড়ানোর রোগীর চাপ গত কয়েক বছরের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার থেকে হাসপাতাল থেকে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ১ হাজার অ্যাম্পল সরবরাহ করা হয়েছে। একটি অ্যাম্পল ৪ জনের শরীরে দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসে এ পর্যন্ত নতুন করে ১৯৫ জন ব্যক্তি কুকুরে কামড়ের জন্য প্রতিশোধক টিকা নিয়েছেন। এছাড়া পূর্বে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন পর্যায়ক্রমে এ পর্যন্ত ৩৪৫ জনকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, কুকুরে কামড়ের শিকার ব্যক্তিদের ২৮ দিনের মধ্যে তাদের ৪টি (ডোজ) টিকা সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে প্রথম দিন একটি ডোজ, তার তিন দিনের মাথায় ২য় (ভ্যাকসিন) ডোজ, ৭ দিনের মাথায় আরেকটি ডোজ ও ২৮ দিনে আরও একটি ভ্যাকসিন দিতে হয়।
চিকিৎসকদের মতে, কুকুর কামড়ালে প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। এই কাজগুলো করা হলে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
কুকুরের কামড়ালে প্রথমে একটি পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ক্ষতস্থানটি চেপে ধরুন। তারপর কুকুরের কামড় দেওয়া স্থানে বেশি করে সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা ভাল। এটি ব্যবহারে ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু দূরে থাকে। তবে ক্ষত পরিষ্কার করার সময় খুব বেশি ঘষাঘষি করা যাবে না।