বটিয়াঘাটায় আইন-শৃংঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটা উপজেলা মাসিক আইন-শৃংঙ্খলা কমিটির এক সভা সোমবার বেলা ১১ টায় পরিষদ সম্মেলন কক্ষে কমিটি সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জিয়াউর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন, থানার ওসি মোঃ রবিউল কবীর,স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রামপদ চন্দ্র সাহা, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ, ভারপ্রাপ্ত আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সামছুন্নাহার, বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ আফজাল হোসেন,ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হাদি উজ-জামান হাদী, ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাবু, অধ্যাঃ মনোরঞ্জন মন্ডল, অধ্যাঃ ফিরোজুর রহমান, সুপার বোরহান উদ্দিন,লবনচরা থানার প্রতিনিধি এসআই রাতেশ্বর, হরিণটানা থানার প্রতিনিধি এসআই দেবব্রত, সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রতিনিধি এস,এম ওলিউল্লাহ, সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি বিউটি বিশ্বাস প্রমূখ। সভায় রোহিঙ্গা আতংঙ্ক, মাদক, মহাসড়কের উপর নির্মাণ সামগ্রী রাখা, বালুবাহী ডাম্পার বেপরোয়া চলাচল, খাস জমি অবৈধভাবে দখল, ভুমিদুস্য, ভিপি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বাল্য বিবাহ হেলমেট বিহীন মটরসাইকেল চলাচল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থানে মেয়েদের ইভটিজিং, খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও মালামালে ওজন কম দেওয়া সহ উপজেলার সার্বিক আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিষদ আলোচনা করা হয়।

ঝালকাঠিতে মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষিত : গ্রেফতার ২

মোঃনজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজাপুরে ৮ম শ্রেণি পড়ূয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বিকেলে বাবা রাজাপুর থানায় মামলা করেছেন।

রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের বোর্ড অফিস এলাকায় সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হল- উপজেলার নৈকাঠি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী গাজীর ছেলে কর্ভাড ভ্যানের সহকারি মূল ধর্ষক নূরে আলম (২৪) ও উপজেলার সাতুরিয়া বোর্ড অফিসে এলাকার মাহে আলমের ছেলে ধর্ষণে সহায়তাকারী রাকিব হাওলাদার (১৯)। পুলিশ জানান, সকালে ওই মাদ্রাসা ছাত্রী এক বান্ধবীর বাসা থেকে ফেরার পথে নূরে আলম ও রাকিব মুখে রুমাল চেপে ধরে নিয়ে রাকিবের ঘরে নূরে আলম ধর্ষণ করে।

এ ব্যাপারে এএসপি, রাজাপুর সার্কেল, ঝালকাঠি ,মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান,ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে এবং আসামীদের ঝালকাঠি আদালতে প্রেরণরে প্রস্তুতি চলছে।

বটিয়াঘাটায় দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ শুরু

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীর আত্মকর্মসংস্থাণের লক্ষ্যে বটিয়াঘাটায় দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ শুরু। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আজ সোমবার বটিয়াঘাটা টেকনিক্যাল এ্যান্ড বি এম কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ জিয়াউর রহমান। লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ মো: হাদি-উজ-জামান হাদী এবং বটিয়াঘাটা টেকনিক্যাল এ্যান্ড বি এম কলেজের অধ্যক্ষ মো: রেজাউল করিম।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত নারীর আত্মকর্মসংস্থাণে লক্ষ্যে দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণটি ০৬ মাস ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। প্রশিক্ষণটিতে বটিয়াঘাটা উপজেলার ছয়টি গ্রামের ২২ জন নারী অংশগ্রহণ করবেন।

মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে চলে গেলেন নমিতা : বাড়িতেই পড়ে আছে লাশ

তালা প্রতিনিধি : ইউপি নির্বাচনে বিরোধিতার জের হিসেবে শ্লীলতাহানি ও মারপিটের ঘটনায় গুরুতর আহত সাতক্ষীরা তালার মেশারডাঙ্গা এলাকার কার্ত্তিক ব্যাণার্জীর স্ত্রী নমিতা ব্যানার্জী মারা গেছেন। প্রায় ৩ বছর চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। তবে মামলা জটিলতায় ময়নাতদন্ত ও সৎকার ছাড়াই শুক্রবার থেকে বাড়িতেই তার লাশ পড়ে রয়েছে। গত ৩ বছরে মামলার পাশাপাশি তার চিকিৎসায় প্রায় নিঃস্ব পরিবারটি লাশের সৎকারের অনুমতি চেয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। কিন্তু আইনি জটিলতায় লাশের সৎকারে অপেক্ষা করতে হবে আজ রোববার আদালতের অনুমতি মেলা পর্যন্ত। অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৬ সালের অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে এক নম্বর মেশারডাঙ্গা ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করেছিলেন কুলপোতা গ্রামের মৃত করুণাময় সানার ছেলে নিমাই পদ সানা। নির্বাচনে সেবার তিনি বিজয়ী হলেও মেশারডাঙ্গার মৃত প্রফুল্ল ব্যাণার্জীর ছেলে কার্ত্তিকসহ পরিবারের অন্যান্যরা অপর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। বিপত্তিটা সেখানেই। নির্বাচনের পরের দিন ২৩ মার্চ দুপুর ১২ টার দিকে নিমাই সানার নেতৃত্বে তার ভাই শিবপদসহ সত্যজিৎ মন্ডল, অভিজিৎ মন্ডল, প্রদীপ সরকার, কামনাশীষ মন্ডল, সুভাশীষ সরকার, বিশ্বদেব ব্যানার্জীসহ অন্তত ৩৫/৪০ জন দা, শাবল, কুড়াল ও লাঠিসোটা নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা কার্ত্তিককে না পেয়ে তার স্ত্রী নমিতা ব্যাণার্জী (৪০) কে শাবল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তারা নমিতার পরণের শাড়ি ছিড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায়। নমিতার চিৎকারে কার্ত্তিকের ভাই আদিত্য ব্যাণার্জী, নমিতার মেয়ে মুক্তি ব্যাণার্জী (১৫) তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদেরকেও মারপিট ও শ্লীলতাহানি করে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে লুটপাট শুরু করে। এ সময় তারা বাড়িঘর ভাঙচুর করে ঘরে থাকা ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে তালা ও পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনায় পরের দিন ২৪ মার্চ কার্ত্তিকের ভাই আদিত্য ব্যাণার্জী বাদী হয়ে নিমাই পদ সানাকে প্রধান করে ২০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরো ১৫/২০ জনের নামে তালা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট প্রদান করে। এদিকে আহত নমিতার অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সর্বশেষ ভারত থেকে এনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৯ মে তাকে সেখান থেকে মেশারডাঙ্গা বাড়িতে নিয়ে আসলে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সর্বশেষ মামলা জটিলতায় এখন পর্যন্ত নমিতার লাশ বাড়িতেই পড়ে রয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত কিংবা সৎকারের অনুমতি দিতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। আদালতের অনুমতি ছাড়া লাশের সৎকারের ব্যবস্থা করতে না পারায় প্রশাসনও বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে এএসপি (সার্কেল) হুমায়ুন কবিরের নিকট জানতে চাইলে তিনি মামলা জটিলতা থাকায় আদালতের অনুমতিতে সৎকার কিংবা ময়নাতদন্তের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে শুধুমাত্র নির্বাচনে সমর্থন না করায় মারপিট ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে প্রায় ৩ বছরেরও বেশি সময় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকেই আলীঙ্গন করতে হলো নমিতা ব্যানার্জীকে। মৃতের পরিবারের দাবি, এবার আর জীবন ফিরে পাবার আকুতি নয়, অন্তত লাশটি সৎকারের অনুমতি চান তারা। এ ব্যাপারে মামলার প্রধান আসামি স্থানীয় ইউপি সদস্য নিমাই পদ সানার নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের লাশের বাড়িতে যাওয়ার কৈফিয়ৎ তলব করে এলাকা থেকে বেরিয়ে যেতে হুমকি প্রদান করেন। সর্বশেষ নমিতার নিথর দেহটি শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রবিবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টা পজন্ত মেশার ডাঙ্গা বাড়িতেই পড়ে ছিল।

শিশু হাসপাতালে বেড সংকট, তাপদাহে শিশুর ত্রাহি অবস্থা : বাড়ছে রোগ-বালাই

কামরুল হোসেন মনি : ঘূর্ণিঝড় ফনীর বিপদ দূর হতেই গরম শুরু। এখন রীতিমতো দাবদাহ পরিণত হতে চলেছে। ভ্যাপসা গরমে কাহিল সবাই। শিশুদের ত্রাহি অবস্থা। এ পর্যন্ত পুরো মাস খুলনা জেলায় তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ড্রিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করছে। খুলনা বিভাগের তাপমাত্রা বিরাজ করে ৩৮-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। অসহনীয় গরমে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ভাইরাসজনিত রোগে। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ঠে আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। শিশু হাসপাতালে পানিবাহিত শিশু রোগী বিগত কয়েক দিনে কয়েকগুন বেড়েছে। ডায়ারিয়া, টাইফয়েড ও ফুসফুস জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা বেশি।
খুলনা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ রোববার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, পুরো মে মাস জুওে খুলনায় তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করছে। আর খুলনা বিভাগের মধ্যে ছিলো ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। গতকাল রোববার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোনিম্ন ছিলো ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দির শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে বলে তিনি ওই আবহাওয়াবিদ জানান।
গতকাল রোববার নগরীর শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশুর রোগীর সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে কোন বেড খালি নেই। এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪১-৪৮ জন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিদিন বহিঃ বিভাগে ৪২৪-৫০০ শিশু রোগীদের সেবা নিচ্ছেন।
শিশু কন্যা নিলা ৮ মাস বয়স। গত কয়েকদিন ধরে কাশির সাথে সাথে জ্বরও আসছে। শনিবার কাশির তিব্রতা বেড়ে যায়। ওই দিন রাত ১২ টায় শিশু হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়। শিশুর মা শারমিন বলেন, খুশখুশি কাশি হচ্ছিল গত কয়েকদিনে। গতকাল কাশির সাথে বমি চলে আসায় ভয় পেয়ে যাই। দেরি না করে শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
খুলনা শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, গরমে শিশুদের ডায়ারিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া রোগ বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে পানিবাহিত ডায়ারিয়া, টাইফছেরি রয়েছে। ২-৩ বছরের নিচের বয়সী শিশুরা বেশির ভাগে ফুসফুস ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। ৩ বছরের উপরে বয়সী শিশুরা শ্বাসকষ্টো, ডায়ানিয়া ও টাইফয়েড এ আক্রান্ত বেশি হচ্ছেন। এই ভাইরস জনিত রোগের কারণে সুস্থ হতে ৫-৭ দিন সময় লাগছে। এমন অবস্থায় পরামর্শ হিসেবে ডাঃ সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, শিশুরা ঘেমে গেলে ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগেই মুছে দিতে হবে। মশার কয়েল যতদুর সম্বভ না জ্বালানো ভালো, জ্বর না থাকলে গোসল নিয়মতি করাতে হবে। গরমে শিশুদের ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়। এ জন্য প্রচুর পানি পনা করাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন বিশুদ্ধ হয়। বাসার তৈরি শরবত ছাড়াও ডাবের পারি খাওয়াতে হবে। খাওয়ার আগে শিশুদের সাবান অথবা হ্যান্ডওয়ায়ে অভ্যস্ত করতে হবে। ৬ মাসে নিচের শিশুদের মায়ের বুকের দুধ নিয়মিত খাওয়াতে হবে। ৬ মাসে ওপরে শিশুদের বুকের দুধের পাশাপশি বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রচন্ড গরম আর ধুলাবালিতে শিশুদের ইনফুয়েঞ্জা বেশি হচ্ছে। এ কারণে শিশুদের এ সময়ে বেশি একটা বাইরে না নেওয়া ও বাইরে খাবার থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
খুলনা শিশু হাসপাতাল সূত্র মতে, গতকাল রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বহি:বিভাগের শিশুরা রোগীর সংখ্যা ছিলো ৪২৪ জন। এ সময়ের মধ্যে ভর্তি করানো হয় ৪১ শিশুকে। হাসপাতালে মোট ২৬০ বেড সংখ্যার মধ্যে একটি সিট খালি নেই। অনেকে বেড সংকট থাকার কারণে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

বন্ধ ঘরে মা আর ছেলে-মেয়ের মরদেহ, পাশে চিরকুট

ঢাকা অফিস : রাজধানীর উত্তরখানে একটি বাসা থেকে মা ও তার ছেলে-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘরে পাওয়া গেছে একটি চিরকুট। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা- তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে, বলছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, চলতি মাসের শুরুতে উত্তরখানের ময়নারটেক মহল্লার একতলার ভাড়া বাড়িটিতে ওঠেন জাহানারা বেগম ও তার ছেলে মহিব হাসান ও মেয়ে আতিয়া সুলতানা মিম।

জাহানারা বেগমের স্বামী বেশ আগেই মারা গেছেন। গেল শুক্রবার রাতে স্বজনদের সাথে শেষ কথা হয় পরিবারটির। যাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। এরপর থেকে স্বজনদের সাথে আর যোগাযোগ হয়নি তাদের।

প্রতিবেশিরা জানান দু’দিন আগে পরিবারটিকে শেষবারের মত দেখেছিল তারা। এরপর থেকে ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধই দেখা গেছে।

রবিবার ইফতারের পর প্রতিবেশীরা ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পায়। পরে দরজা ভেঙে বাসার ভেতরে ঢোকে পুলিশ। শয়নকক্ষের মেঝেতে ছেলে মহিব হাসানের মরদেহ এবং বিছানায় মা জাহানারা বেগম ও মেয়ে আফিয়া সুলতানা মিমের মরদেহ পড়ে ছিল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিন-চার দিন আগেই মৃত্যু হয়েছে তাদের।

তবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। তদন্তের পরই এ ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। এখন পর্যন্ত আলামত হিসেবে জাহানারা বেগমের একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। মরদেহ দেখে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি দু’দিন আগে ঘটতে পারে।

উত্তরা জোন ডিসি নাভিদ কামাল শৈবাল জানান, ‘ভেতরে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। একটি চিরকুট পাওয়া গেছে জাহানারা বেগমের নামে সাক্ষর করা এবং নিচে নিচে তাঁর নাম লিখা। সেখানে লিখা আছে যে আত্মীয়স্বজনের অসহযোগিতা এবং তাদের প্রতি অবহেলাই হলো তাদের মৃত্যুর কারণ। আমরা এখনও মোটিভ বুঝতে পারিনি, এটা তদন্ত সাপেক্ষ। আমরা পরবর্তিতে আরও তদন্ত করবো।’